মূল অংশে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের সঙ্গে থাকুন
সাবস্ক্রাইব করুন
শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬২৩ কার্তিক ১৪৩৩ · ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
অতিথি লেখা

“রোগী, রোগীর এটেন্ডেন্ট ও চিকিৎসক” – কিছু অভিজ্ঞতার কথা

প্ল্যাটফর্ম কনট্রিবিউটরপ্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৪:১৪ · ৪ মিনিটে পড়ুন
“রোগী, রোগীর এটেন্ডেন্ট ও চিকিৎসক” – কিছু অভিজ্ঞতার কথা
লেখার আকার

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, বৃহস্পতিবার

ডা. অনুজ কান্তি দাশ
সহকারি রেজিস্ট্রার, সার্জারি,
সিওমেকহা।

উদ্দেশ্যহীন কথাবার্তা, পড়ে সময় নষ্ট না করলেই ভাল!

আমি যে ওয়ার্ডে গত ৪ দিন ধরে ডিউটি করতেছি সেখানে গতকাল সকাল ৮ টায় রোগী ছিল ১১৩ জন, সাথে কেবিনে ৫ জন এবং প্রিজন সেলে ৪ জন। এই যে ওয়ার্ড, এখানে সরকারি হিসাবে রোগীর জন্যে নির্ধারিত বেড ৪০টি। ঠেলাঠেলি আর প্রশাসনের বদান্যতায় এর বাইরে আরও ৪০টি বেড করা হয়েছে। প্রতিজন রোগীর সাথে গড়ে ৩জন করে এটেন্ডেন্ট। ইন্টার্নসহ চিকিৎসক ৮ জন, নার্সিং স্টাফ ৩জন, ওয়ার্ড বয় ৩ জন, আনসার ১ জন। মনে করেন এই রুমের ভেতরে এমনও হতে পারে যে করোনা ভাইরাস একজন আরেকজনের সাথে কলিশন করে রুম ছাড়া করে দেয়। কারণ অন্য সব প্রতিষ্ঠানে থার্মাল স্ক্যান, স্বাস্থ্য বিধি মানামানির বালাই থাকলেও, এই রুমের ভেতর কোন বিধি মানামানি কোন সুযোগ নাই।

যাইহোক সকাল সোয়া আটটায় সকল পূর্ব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ওয়ার্ডে ঢুকি। ঢুকে ওয়ার্ড বয় আর আনসারদের বলি রোগীর লোকজন রুমের বাইরে বের করে দিতে। এই ১৫-২০ মিনিট চলে হাউ কাউ। কেউ বের হতে চায় না। যাই হোক, ২০মিনিট পরে গিয়ে দেখি ৫০% ক্লিয়ার হয়েছে। তারপর এবার আমার পালা, যেসব রোগীর সাহায্য প্রয়োজন তাদের একজন লোক রেখে বাকি সব রোগীর লোক বের হতে বলি- আমরা বললে বেশি কাজে দেয়; তারপরেও এখান থেকে ৫-১০% থাকে যারা কিছুতেই বের হবেনা। এদের বেশিরভাগই হলে সমাজের শিক্ষিত, সচেতন, ক্ষমতাধর নাগরিক। গোসসা দেখিয়ে আবার ডেস্কে ফেরত আসি বা ঠায় দাঁড়িয়ে থাকি বা উনাদের শিক্ষিত এবং ক্ষমতাধর হওয়া নিয়ে টিটকারি মারি। তারপরেও ২-৩ রোগী লোক থেকেই যায়- যাদের দৌড় আমার অনেক উপরে, তাই নিজের পশ্চাত বাঁচাতে উনাদের রেখেই রাউন্ড শুরু করি। একটা হ্যান্ড মাইকের খুব অভাব বোধ করি। হাসপাতাল নাকি সেনসিটিভ জায়গা- এখানে মাইক ব্যবহার করা যাবে না। গলার উপর অনেক অত্যাচার যায় – তার উপর এন ৯৫ মাস্ক। নাকের কার্টিলেজ নষ্ট হয়ে নাকের হাড্ডিতে স্ট্রেস ফ্র্যাকচার হয়ে গেছে কি না এতো দিনে কে জানে। যাই হোক, ৯ টার দিকে রাউন্ড শুরু করি।

ছবিঃ প্রতীকী

১২০ জন রোগী দেখি – দেখতে দেখতে এক থেকে দেড় ঘন্টা চলে যায়। কারও পেটে ব্যথা, কেউ আসছে এক্সিডেন্ট করে, কেউ মারামারি করে, কারও বুকে টেটা ঢুকছে, প্রস্রাব আটকে গেছে, পায়খানা দিয়ে রক্ত পরে, পায়ে আলসার, শরীরে চাকা, হার্নিয়া, এপেন্ডিসাইটিস – একেক রোগীর একেক সমস্যা আবার একেকজনের একেকরকম হিস্টরি। রোগের ইতিহাস নেয়া হল একটা আর্ট- এই আর্টসের চর্চা করাতে করাতেই মেডিকেল সায়েন্সের ৮০ ভাগ পড়ালেখা শেষ হয়। তবে বেডের অতিরিক্ত এতো রোগী থাকলে এসব সায়েন্স আর্টস না হয়ে কমার্স হয়ে যায়! যার যার লাগবে ইন্টার্নদের সবকিছু বুঝাই দিয়ে একটু চেঞ্জিং রুমে গিয়ে মাস্ক খুলে শ্বাস নিয়ে আসি। এরপর শুরু হয়ে স্যারদের রাউন্ড। এবার সব রোগীদের হিস্টরি, পেট টিপে কি পাইলাম অথবা তার পরীক্ষা নিরীক্ষার ফলাফল কি- মাঝে মাঝে কিছু ভুল হলে সেটা নিয়ে অনেক স্যার সুন্দর করে বুঝিয়ে বলেন কোন স্যার আবার টিপ্পনিও মারেন- আমি তো ট্রেনিং করে আসলে বুড়া হয়ে গেছি! তবে একটা বিষয় আমি হিসাব মিলাতে পারি না- যে আমি বাসার বাজার করতে গেলে লিস্ট নিয়ে যাই আর মোবাইলে লিখে নিয়ে যাই- যেভাবেই যাই না কেন এমন কোন দিন হয় না যে ২-৩ টা আইটেম ভুলে না নিয়ে বাসায় ফিরছি- সে আমিই কি অবলীলায় এতোগুলো রোগীর প্রয়োজনীয় সবকিছু কিভাবে মনে রাখি, এই হিসাবে ভুল খুব কমই হয়।

এর মাঝে অনেক রোগীকে অপারেশনে পাঠানো, ফ্রেশ অর্ডার করা, প্রশাসনিক অফিসে স্যারদের তলবে যাওয়া, ঔষধ ইন্ডেন্ট করা, লাইট- ফ্যান ঠিক করানো, ইন্ডেন্ট চেক করা, কালকে ছুটি দিয়েছিলাম ৩৬ জন রোগী- এদের ছাড়পত্রে সই করা, এসব শেষ করে দুপুরে খেতে বাজে ৩-সাড়ে ৩ টা। এরপর আবার সন্ধ্যার পর আবার রাউন্ড- অপারেশন- চলছেই।

এখন এই ৪টার সময় একটু রিলাক্স করতে গিয়ে আর সন্ধ্যার পর অপারেশন থিয়েটারে যাবার প্রস্তুতি নিতে নিতে এগুলো কেন মাথায় আসল জানিনা- তবে ৫ বছর ধরে এই কাজ প্রতিদিন করতেছি (করোনার কারণে গত ৬ মাসে অবশ্য মাঝে কোয়ারেন্টিন পেয়েছি)। চাকরি জীবনের ৮ বছর অতিবাহিত হল- একই গ্রেডে একই ব্যস্ততায় কাটিয়ে দিলাম। প্রমোশন, প্রণোদনা- এগুলোতে যোগ্যতা থাকার পরেও একই অবস্থায় – তারপরেও চলছে গাড়ি- শ্বাস থামলে গাড়িও থামবে।

খবরটি শেয়ার করুন

সম্পর্কিত খবর

সব বাবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা || ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ২০ জুন, ২০২২, সোমবার ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক। মা একটি বর্ণের আর দুটি বর্ণের খুব ছোট একটি শব্দ বাবা; কিন্তু বাস্তবতায় তার গভীরতা আর বিশালতা সীমাহীন। আদর-শাসন, স্নেহ-মায়া-মমতা, সন্তানকে ভালো রাখতে…

অবশেষে আবিষ্কার হলো ক্যান্সারের ঔষধ, সত্যি কি তাই? || ডা. মোঃ মারুফুর রহমান

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ৯ জুন, ২০২২, বৃহস্পতিবার ডা. মোঃ মারুফুর রহমান চিকিৎসক ও পিএইচডি গবেষক ডিপার্টমেন্ট অফ অনকোলজি এন্ড মেটাবলিজম ইউনিভার্সিটি অফ শেফিল্ড, যুক্তরাজ্য। গত কয়েকদিন ধরে নিউজফিডে ক্যান্সার চিকিৎসায় এক জাদুকরি ম্যাজিক বুলেট ধরনের ওষুধের অবিশ্বাস্য ফলাফলের খবর দেখতে পাচ্ছি।…

শিশুদের কথা বলা শেখানো || পর্ব-০১

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ২৫ মে, ২০২১, বুধবার ডা. সওকত আরা বীথি মিনেসোটা, ইউ এস এ। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে শিশুরা তো এমনিতেই কথা বলা শিখে যায়। এদের আবার কথা বলা শেখাবার প্রয়োজন কিসের? কথা তো বনের পাখিদের শেখাবার দরকার হয়। একথা…

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘর পূরণ করা জরুরি।

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।
নোটিফিকেশন বর্তমানে বন্ধ।