• প্রথম পাতা

July 13, 2017 11:37 am

প্রকাশকঃ

15

 

মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রীর সাথে বিএমএ’র আজকের সভায় চিকিৎসক সমাজের প্রিয় নেতা মহাসচিব ডাঃ ইহতেশামুল হক চৌধুরী এর বক্তব্যঃ

মাননীয় মন্ত্রী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় জনাব মোহাম্মদ নাসিম এমপি মহোদয়, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব জাহিদ মালেক এমপি মহোদয়, সম্মানিত সচিব স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, সম্মানিত সচিব স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ ও প্রিয় সহকর্মীবৃন্দ। আস্সালামু আলাইকুম। বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন এর পক্ষ থেকে সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিবাদন।

আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, বেশ কিছুদিন থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ‘চিকিৎসা অবহেলায় রোগীর মৃত্যু’ নামে চিকিৎসক ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের উপর হামলা এবং পরবর্তীতে চিকিৎসক হয়রানীর মামলা বেড়েই চলেছে। বিগত কয়েক বছরে এধরনের প্রায় ৭৩টি হামলা-মামলার ঘটনা আমাদের গোচরীভূত হয়েছে। এছাড়াও এধরনের অসংখ্য ঘটনা অহরহ ঘটছে এবং চিকিৎসকরা হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। প্রতিটি ঘটনায় চিকিৎসকদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন তড়িৎ পদক্ষেপ গ্রহন করে বিষয়গুলোর তদন্ত, চিকিৎসকদের শান্ত রাখা, রোগীদের ভোগান্তি না হওয়া এবং সরকারের ভাবমূর্তি যাতে ক্ষুন্ন না হয় সে ব্যাপারে ভূমিকা রেখেছে। বিগত ১৮ই মে ঢাকাস্থ সেন্ট্রাল হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উক্ত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র নামধারী কিছু সন্ত্রাসীর হামলা, ভাংচুর, চিকিৎসকদের মারধর ও তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসক গ্রেফতারের ঘটনা অনভিপ্রেত, দুঃখজনক এবং তা আমাদের সংক্ষুব্ধ করে তুলেছে।

কর্মস্থলে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা প্রদান এবং নাগরিক হিসাবে সকলের কর্মস্থল নিরাপদ রাখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ অর্থাৎ স্বাস্থ্য কিংবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করছেনা বলে আমরা মনে করি। অন্যদিকে গুটিকয়েক সংবাদপত্র, ঘটনা ঘটামাত্রই ‘চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু’ ফলাও করে প্রচার করে প্রতিনিয়তই জনগণ ও চিকিৎসকদের মধ্যে আস্থাহীনতার দেওয়াল তুলে দিচ্ছে। কৌশলে এই অবিশ^াস সৃষ্টির একমাত্র কারণ এদেশের ঈর্ষণীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্থ করে এদেশের রোগীকে বিদেশে ঠেলে দিয়ে মুনাফা অর্জন। বিগত বছর সমূহে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়া বাংলাদেশীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় এই ব্যবসার মুনাফাভোগীরা কৌশলে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে ব্যস্ত। এই বিষয়টুকু আনুধাবন করা কারো পক্ষেই কঠিন নয়।

সংবিধানের দৃষ্টিতে সকল নাগরিক সমান, কর্মক্ষেত্রের ঝুঁকি অনুসারে সম-নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে রাষ্ট্র। চিকিৎসা ঝুঁকিপূর্ণ বিজ্ঞান, চিকিৎসকরা এই বিজ্ঞান চর্চার মাধ্যমে মানুষের জীবন নিয়ে কাজ করেন। মানুষের জন্ম, মৃত্যু ও বেঁচে থাকা সর্বক্ষেত্রেই চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রয়োগ প্রয়োজন হয়। মানুষের বেঁচে থাকা কোন অবস্থাতেই কেউই নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রয়োগের ক্ষেত্রে কিছু অনিবার্য দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। দুর্ঘটনার পরমুহূর্তে চিকিৎসককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেই রোগীর স্বজনরা সংক্ষুব্ধতা প্রকাশ করেন। প্রায়শই বিভিন্ন জায়গায় কর্মস্থলে হামলা ও লাঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ। এ হেন পরিস্থিতিতে কোন নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাষ্ট্র ও তার নির্বাহী বিভাগ রাখেনি, অথচ সংবিধানে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য রাষ্ট্র অঙ্গীকারাবদ্ধ।

চিকিৎসকরা কিভাবে কোন পদ্ধতিতে ও কি রকম ব্যবস্থাপনায় রোগীদের চিকিৎসা দিবেন এই নির্দেশ দেওয়ার এখতিয়ার কারো আছে বলে আমরা মনে করি না। শাস্ত্র ও জ্ঞান অনুসারে চিকিৎসকরা নির্ধারণ করবে রোগীর জন্য ব্যবস্থাপনা কিরূপ হবে। সে ব্যবস্থাপনায় রোগ নির্ণয়, চিকিৎসার যন্ত্রপাতি ও ঔষধপত্র, উপকরণ ইত্যাদি নির্ধারণ করবেন চিকিৎসক। রাষ্ট্র কেবল নির্ধারণ করবে জনবল নিয়োগ, বেতন কাঠামো, অবকাশ, কর্মঘণ্টা, অবসর, পেনশন রোগী চিকিৎসকের নিরাপত্তা ইত্যাদি। অথচ রাষ্ট্র সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করার নামে নিরাপত্তাহীনতা ও অব্যবস্থাপনার জন্ম দিচ্ছে।
মাননীয় মন্ত্রী,

বিগত ১৮ই মে,২০১৭ ঢাকাস্থ সেন্ট্রাল হাসপাতালের ঘটনার পর সারা দেশে চিকিৎসকদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা ও মান মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে চিকিৎসকদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন ২মাস ব্যাপী বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য, যে মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের সার্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দেখাশুনার দাত্বিপ্রাপ্ত সেই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা এ ব্যাপারে কখনই চিকিৎসকদের জাতীয় সংগঠনের সাথে যোগাযোগ করার ন্যুনতম প্রয়োজন মনে করেননি। চিকিৎসকরা প্রশ্ন করছেন আমরা কি অপরাধ করেছি ? মাতৃ-মৃত্যু হার কমানো, শিশু মৃত্যুহার কমানো, পোলিও নির্মূল, সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ, মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি, সর্বোপরি গউএ বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখা কি আমাদের অপরাধ ? রাষ্ট্রের আর কয়টা মন্ত্রণালয় স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে এ ধরনের অর্জনের স্বীকৃতি পেয়েছে ? চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাহীনতার কারণে এদেশের সকল চিকিৎসক রাষ্ট্রের এধরনের উদাসীনতা ও নিষ্ক্রিয়তায় হতাশা ও উষ্মা প্রকাশ করেছেন। চিকিৎসকদের প্রতি অবজ্ঞা দেখে বিএমএ চিকিৎসকদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিগত ৩০ মে ২০১৭ খ্রিঃ তারিখে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে চিকিৎসকদের অবস্থান এদেশের জনগণকে অবগত করেছি। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের মত একটি বিশাল রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির একটি মন্তব্য সে দেশের চিকিৎসকদের যেভাবে অনুপ্রাণিত করেছে ঠিক তেমনিভাবে আমাদেরকে আরো অসহায় ভাবে ভাবার সুযোগ করে দিয়েছে যে, তাঁর মত গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি ভাবার মত কেউ কি আমাদের নেই ? তিনি যথাযথই অনুভব করেছেন “ ঝধাব ঃযব উড়পঃড়ৎং, ঝধাব ড়ঁৎংবষাবং” অর্থাৎ চিকিৎসকরা যদি নিরাপদ না থাকেন তাহলে জনগণ কি ভাবে স্বাস্থ্য সেবা পাবেন। দেশের একটি মেডিকেল কলেজের ছাত্রী নিবাসের একজন ছাত্রী হোস্টেলের সিট না পাওয়ার সংবাদটি ফেসবুকে দেখে সচিব মহোদয় যেভাবে নির্দেশনা দিয়ে বিষয়টি সুরাহার চেষ্টা করে প্রশংসিত হলেন, সারা দেশের চিকিৎসকরা যখন নিগৃহীত, তখন কি এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার কেউ থাকেন না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সরকারের সচিবদের সম্মেলনে সচিব মহোদয়গণ যেভাবে তাদের ব্যক্তিগত বিষয় উপস্থাপিত করলেন, চিকিৎসকদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা তার চেয়েও কি কম গুরুত্বপূর্ণ ?

মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়,

আপনার আহবানে সাড়া দিয়ে আজ চিকিৎসকদের দীর্ঘদিনের কিছু সমস্যা নিয়ে আলাপ আলোচনার জন্য আমরা আজ এখানে উপস্থিত হয়েছি। বিগত ১৮ই মে তারিখে সেন্ট্রাল হাসপাতালের অনাকাঙ্খিত ঘটনার দিন আপনার ভূমিকা চিকিৎসকগণ সকল সময় শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে। ইদানিং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সভায় সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশ পরিচালনায় কিছু সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছেন। যার মধ্যে আন্তঃক্যাডার বৈষম্যমূলক যে কোন কাজ পরিহার কিংবা পদোন্নতির ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি আনুগত্যকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

যাবতীয় বাস্তবতা বিচেনায় এনে বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন দেশের সকল চিকিৎসকদের সাথে আলোচনা করে আপনাদের সম্মুখে আজ আমাদের কিছু দাবী উপস্থাপন করছিঃ-

১. এদেশের ১৬ কোটি জনগণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বৃদ্ধি আজ সময়ের দাবী। শুধুমাত্র চিকিৎসকদের দোষারোপ না করে জনগোষ্ঠীর আনুপাতে স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ না করলে মানসম্মত স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

২. চিকিৎসক ও তাদের কর্মস্থলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত দাবীটি বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের ০৩-০৭-২০১৭ খ্রিঃ তারিখে দায়েরকৃত রীট মামলার প্রেক্ষিতে মহামান্য আদালতের সময় সীমার মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে। এবিষয়ে পার্শ্ববর্তীদেশ ভারতসহ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও অন্যান্য দেশের আইনের আদলে নির্দেশনা পাওয়ার জন্য আমরা মহামান্য আদালতের শরনাপন্ন হয়েছি (মহামান্য আদালতের রায় সংযুক্ত)। কোন চিকিৎসককে চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যাপারে কোন দূর্ঘটনা ঘটলে বিশেষজ্ঞ টিম দ্বারা তদন্ত ব্যতিত কোন চিকিৎসককে গ্রেফতার করা যাবে না, বরং অহেতুক কোন অভিযোগে চিকিৎসক ও চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানে হামলা করলে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে জরুরীভাবে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

৩. ইত্যবসরে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংগঠিত চিকিৎসক ও চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানের উপর হামলার বিষয়ে দায়েরকৃত মামলা মনিটরিং করার ও ভবিষ্যতে এধরনের কোন হামলা হলে তার বিষয়ে আইনী পদক্ষেপ গ্রহন করার জন্য মন্ত্রণালয়/অধিদপ্তরে একটি মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে।
৪. সরকারী চাকুরীতে অন্যান্য ক্যাডারে নির্দিষ্ট সময় সীমার পর যেভাবে সিনিয়র স্কেল প্রদানসহ পদোন্নতির ব্যবস্থা রয়েছে স্বাস্থ্য ক্যাডারের ক্ষেত্রেও অনুরুপ ব্যবস্থা নিতে হবে।

৫. বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারী হাসপাতালে যে সকল শুন্য পদ রয়েছে কিংবা যে সকল হাসপাতাল চালু আছে অথচ পদ সৃষ্টি হয় নাই বা কোন হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে কিন্তু প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি করা হয় নাই সেই সকল পদে “সুপারনিউমারী” পদায়ন করতে হবে।

৬. অতি সম্প্রতি সরকার এক ঘোষণায় প্রশাসন ক্যাডারের উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাগণের প্রাধিকারসহ তাদের জন্য গাড়ী বরাদ্দ/ ০% সুদে ২৫ লক্ষ টাকা গাড়ী ক্রয়ের জন্য ঋণ এবং গাড়ী রক্ষণাবেক্ষনের জন্য মাসে ৪৫০০০ টাকা ভাতা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। একই মর্যাদায় কর্মরত চিকিৎসকদেরকে একই সরকারী সুবিধার আওতায় আনতে হবে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, স্বাস্থ্য ক্যাডারে যুগ্মসচিব পদমর্যাদায় কর্মরত কর্মকর্তাগণ উক্ত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

৭. মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নিয়োগকৃত ৬০০০ এডহক চিকিৎসকের ক্যাডারভুক্তিকরণ এর প্রক্রিয়া শুরু করে তা দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। কোনভাবেই এই সকল চিকিৎসকদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবন আমরা অনিশ্চিত রাখতে চাই না। এর পাশাপাশি এডহক থেকে ৩৩তম বিসিএস এ যোগদানকৃত প্রায় নয়শত জন চিকিৎসকের চধু চৎড়ঃবপঃরড়হ এর ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

৮. আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করার জন্য আলাদা দুই জন সচিব সহ অন্যান্য কর্মকর্তার পদ দ্রুত সৃষ্টি হয়ে কার্যকর হয়েছে, কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মৌখিক সম্মতির পরও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে একজন মহাপরিচালক (শিক্ষা) পদ সৃষ্টির কোন পদক্ষেপই নেওয়া হয় নাই।

৯. বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় ইন্টার্নী চিকিৎসকদের ভাতা ন্যুনতম বিশ হাজার টাকায় উন্নীত করতে হবে।

১০. ঐড়হড়ৎধৎু ঞৎধরহরহম এ চিকিৎসকদের ভাতার প্রচলন করতে হবে। ইঈচঝ এর মতে বিনা ভাতায় ঞৎধরহরহম এর বিধান পৃথিবীর কোথাও নাই।

১১. জরুরী ভিত্তিতে ইধংরপ ঝঁনলবপঃ ও এনেসথেশিয়া বিষয়ে শিক্ষক স্বল্পতার বিষয়টি সুরাহা করতে হবে। ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে কাজ করার জন্য আরো অধিক চিকিৎসক আকৃষ্ট করার কৌশল প্রণয়ন করতে হবে।

১২. ঈদ, পূজা ও অন্যান্য সরকারী ছুটির দিন এমন কি রাতের বেলায় চিকিৎসকদের বিরামহীনভাবে কর্তব্য স্থলে উপস্থিত থেকে কাজ করতে হয়। এ জন্য শৃংখলা বাহিনীসহ অন্যরা যারা এ ধরনের উঁঃু করেন তাদের মত করে চিকিৎসকদেরও অতিরিক্ত উঁঃু এর জন্য ভাতা দিতে হবে।

১৩. প্রতিটি জেলায় অফফরঃরড়হধষ ঈরারষ ঝঁৎমবড়হ এর পদ সৃষ্টি সহ যে সকল জেলায় উবঢ়ঁঃু ঈরারষ ঝঁৎমবড়হ এর পদ নাই সেই পদ দ্রুততম সময়ে করা প্রয়োজন। উপজেলা সমূহে দুইজন জগঙ এর পদ সৃষ্টি করা সময়ের দাবী।

১৪. উপজেলা সমূহে ৭দিন ২৪ ঘন্টা করে উঁঃু করতে হয় বিধায় স্বাস্থ্য বিভাগের জগঙ, পরিবার পরিকল্পনায় কর্মরত গঙ (ঈষরহরপ) এবং গঙ (গঈঐ) দের বাসা ভাড়া মওকুফ করে একটি ঋরীবফ অসড়ঁহঃ বাসা ভাড়া প্রদানের ব্যবস্থা করা অতি জরুরী।

১৫. পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে কর্মরত চিকিৎসকদের ক্যাডারভুক্তিকরণ দীর্ঘ দিনের দাবী। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

১৬. বেসরকারী পর্যায়ে কর্মরত চিকিৎসকদের হজ্ব টিম, বিভিন্ন ঙঢ়বৎধঃরড়হ চষধহ এর আওতায় দেশের বাহিরে ঞৎধরহরহম চৎড়মৎধসসব এ অন্তর্ভূক্তি এবং দেশের সকল সরকারী স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ঈগঊ কর্মসূচীতে অংশগ্রহন নিশ্চিত করতে হবে।
১৭. পার্বত্য শান্তি চুক্তির পূর্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পার্বত্য অঞ্চলে ২৪ জন চিকিৎসক প্রকল্পের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছিলেন, তাদের চাকুরী নিয়মিত না হওয়ায় তারা হতাশায় ভূগছেন। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিধায় আমরা মাননীয় মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

১৮. যেখানে সরকার প্রধান পদোন্নতির ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের আনুগত্যের প্রতি জোর দিয়েছেন সেখানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের মত গুরুত্বপূর্ণ পদসহ সিভিল সার্জন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী মানসিকতার কর্মকর্তাদের কেন পদায়ন দেয়া হচ্ছে তা আমাদের বোধগম্য নহে। এই বিষয়টির গুরুত্ত্ব বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে তাদেরকে অপসারনের ব্যবস্থা নিতে হবে। এটা উদ্বেগের বিষয় যে বিগত দিনে দাতা সংস্থা কর্তৃক চিহ্নিত অর্থ কেলেংকারীর সাথে জড়িত ব্যক্তিকেও অধিদপ্তরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ক্যাডারের সকল পদোন্নতির ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি আনুগত্যকে আবশ্যিকভাবে বিবেচনায় আনতে হবে।

১৯. উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে যুগ্ম সচিব, উপসচিব পদমর্যাদার চিকিৎসক কর্মকর্তাদের কথায় কথায় ঙঝউ করা হচ্ছে। অন্যান্য ক্যাডারে এত বেশী সংখ্যক এই পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের এ ধরনের শাস্তিমূলক বদলী হওয়ার কোন নজির নাই। আমরা সংক্ষুব্ধ এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তদন্তের পূর্বে এধরনের শাস্তিমূলক বদলী আমরা আর মেনে নেবো না এবং যাদের বদলী করা হয়েছে সেই সকল নির্দোষ কর্মকর্তাদের অনতিবিলম্বে পদায়ন করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী কর্মকর্তাদের এভাবে বদলী করা অপমানজনক ও রহস্যজনক।

২০. নিরবিচ্ছিন্ন ও গণমূখী স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে “কৃত্য পেশা ভিত্তিক মন্ত্রণালয়” গঠন আজ সময়ের দাবী। সে কারনে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করতে হবে এবং ৮ম পে-স্কেলসহ পদমর্যাদা ও পদোন্নতির সকল অসঙ্গতির বিলুপ্তি ঘটাতে হবে।

মাননীয় মন্ত্রী,

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে গতিশীল করার লক্ষ্যে ১০হাজার চিকিৎসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহনের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আপনারা যে তড়িৎ উদ্যোগ ও তা বাস্তবায়নের প্রয়াস নিয়েছেন সেজন্য আপনি ও আপনার মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি “নিয়োগ বিধিমালা” এর জটিলতার কারনে ঐবধষঃয অষষরবফ কর্মী নিয়োগ না করায় সারাদেশে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় যে মারাতœক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে তা দ্রুত নিরসন করতে আমরা আপনার দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আশাকরি ভবিষ্যতের সকল সময়ে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এদেশের ১৬ কোটি মানুষের সুস্বাস্থ্যের নিশ্চয়তায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মানে ভূমিকা রাখবো।

আপনাদেরকে ধন্যবাদ। মহান সৃষ্টিকর্তা আপনাদের মঙ্গল করুন।

জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

11

 

 

12

13

 

 

 

14

ডা. মোঃ ইহতেশামুল হক চৌধুরী
মহাসচিব
বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন

অনুলিপি সদয় জ্ঞাতার্থে :
মুখ্যসচিবের একান্ত সচিব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ঢাকা।

তথ্য : কেন্দ্রীয় বিএমএ

শেয়ার করুনঃ Facebook Google LinkedIn Print Email
পোষ্টট্যাগঃ বিএমএ,

পাঠকদের মন্তব্যঃ ( 0)




Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

Advertisement
Advertisement
Advertisement
.