বুধবারে বাংলাদেশেই যাত্রা শুরু করবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ বার্ন হাসপাতাল

বিশ্বের সর্ববৃহৎ বার্ন হাসপাতাল ‘শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট’ এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়। আগামী বুধবার রাজধানীর চাঁনখারপুলে স্থাপিত ১৮ তলাবিশিষ্ট এ ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়কারী সামন্ত লাল সেন বলেন, মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের পাশে অবস্থিত ১২ তলা এই ইনস্টিটিউটে পোড়া রোগীরা যেমন উন্নততর সেবা পাবেন, তেমনি চিকিৎসক ও নার্সরা তাঁদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ পাবেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম আশা প্রকাশ করেছেন, এই বিশেষায়িত হাসপাতাল থেকে পোড়া রোগীরা উন্নততর চিকিৎসা সেবা পাবেন। বাসসকে তিনি বলেন, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তিসংবলিত এই ইনস্টিটিউটটি চিকিৎসা, গবেষণা ও অধ্যয়নের কেন্দ্রে পরিণত হবে। ৫০০ শয্যা, ৫০টি ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট, ১২টি অপারেশন থিয়েটারবিশিষ্ট এই ইনস্টিটিউটটি বিশ্বের বৃহত্তম বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পরিণত হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর চাঁনখারপুলে ৯১২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় দুই একর জমিতে ১৮ তলাবিশিষ্ট এই ইনস্টিটিউট নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রথমে ৫২২ কোটি টাকা নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে ৯১২ কোটিতে দাঁড়ায়।

২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ ইনস্টিটিউটটি নির্মাণের অনুমোদন পায়। ২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাঁনখারপুলে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২৭ এপ্রিল বাংলদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর এর নির্মাণ কাজ শুরু করে।

আকাশছোঁয়া এ ভবনটি তিনটি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। একদিকে থাকবে বার্ন ইউনিট, অন্যদিকে প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট আর অন্য ব্লকটিতে করা হবে অ্যাকাডেমিক ভবন। দেশে প্রথমবারের মতো কোনো সরকারি হাসপাতালে হেলিপ্যাড সুবিধা রাখা হচ্ছে।

বার্ন বিশেষজ্ঞরা জানান, ১৯৮৬ সালের দিকে ঢাকা মেডিকেলে ছয়টি শয্যা নিয়ে প্রথম বার্ন ইউনিট চালু হয়। ১৯৯৬ সালে এটি ৫০ শয্যা করা হয় ১৯৯৬ সালে। এরপর ২০০৩ সালে এটি ১০০ শয়্যায় পরিণত হয়। বর্তমান পর্যন্ত ইউনিটটির জনবল ১০০ শয্যার। ফলে নতুন করে জনবল বাড়ানোর বিষয়টিও সামনে আসছে।

একপর্যায়ে সরকারের নির্দেশনায় রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতাল, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল, কুমিল্লা, সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, রংপুর, ফরিদপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া ও ময়মনসিংহ হাসপাতালে বার্ন ইউনিট চালু করা হয়।

জন্মগত ঠোঁটকাটা-তালুকাটা, আঙুল জোড়া লাগানো, পায়ের ত্রুটি, ক্যান্সার, দুর্ঘটনা, ট্রমা, হাত-পা সার্জারি রোগীদের একটা বড় অংশ ঢামেক বার্ন ইউনিটে আসে। দেশে প্লাস্টিক সার্জন দরকার ন্যূনতম ৪০০ জনের মতো। কিন্তু বাংলাদেশে এখন প্লাস্টিক সার্জন রয়েছেন ৬৫ জন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর চাঁনখাঁরপুল এলাকায় অবস্থিত এই হাসপাতালটি বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন বার্ন ইনস্টিটিউট উদ্বোধনের পরে আগের মতোই বাকি কার্যক্রম চলতে থাকে। তবে রোগী ভর্তি শুরু হবে আগামী জুন মাস থেকে। এছাড়া নতুন বার্ন ইনস্টিটিউট হেলিপ্যাড ও স্কিন ব্যাংকসহ রোগীদের চিকিৎসার সব অত্যাধুনিক সরঞ্জাম থাকবে।

ওয়েব টিম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

Next Post

চিকিৎসায় সফলতার গল্পঃ ডাক্তারদের উপর ভরসা এনে দিতে পারে অবিস্মরণীয় সাফল্য

Tue Oct 23 , 2018
এম,আব্দুর রহিম মেডিকেলে(সাবেক দিনাজপুর মেডিকেল) ২০ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে আহত অবস্থায় ভর্তি হয় ২৫বছরের এক যুবক। তার হিস্ট্রি ও এক্সামিনেশন করে ডাক্তাররা জানতে পারেন তার ব্রাকিয়াল আর্টারি,মিডিয়ান ও আলনার নার্ভ পুরোটাই কেটে গেছে(হাতের রগ)। অনেক রক্তক্ষরণের কারণে রোগী হাইপোভলিউমিক শকে চলে গিয়েছিল।হেমোডাইনামিক্যালি স্ট্যাবল করার পরে রোগী ও রোগীর আত্মীয় স্বজনকে […]

সাম্প্রতিক পোষ্ট