• অভিজ্ঞতা

February 12, 2015 12:21 am

প্রকাশকঃ

চিন্তা করুন, একজন সচিব মহোদয়কে বা একজন মন্ত্রীকে যিনি একটা ভাঙ্গা চেয়ার আর ঘুনে ধরা একপায়া ভাঙ্গা টেবিল নিয়ে অফিস করছেন। আমাদের সমাজব্যবস্থায় সাধারন জনগনের কাছে তারা কি খুব সম্মান পাবেন? বা একজন ইউএনও স্যার ফিল্ড ভিজিটে যাচ্ছেন রিক্সায় চড়ে? অথবা, রিক্সায় চড়ে ম্যাজিস্ট্রেট ভাই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন? পিছনে সাপোর্ট হিসেবে এক রিক্সায় দুজন পুলিশ? হাস্যকর বা বেমানান শোনাচ্ছে? বলতে পারেন এগুলো প্রোফেশন ডিমান্ড। প্রোফেশন ডিমান্ড হলেও বিসিএস স্বাস্থ্য প্রশাসনের থানা প্রধান আমাদের ইউএইচএফপিও স্যার কিন্তু রিক্সাতে চড়েই ২০/২৫ কিলোমিটার ফিল্ড ভিজিট করেন।

কর্মে গতিশীলতার জন্য বা সুন্দর মন নিয়ে সুষ্টুভাবে নিজ কর্মসম্পাদনের জন্য নিজ কর্মপরিবেশ ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা অন্যতম বড় একটি ফ্যাক্টর।

একজন BCS Officer হিসেবে পর্যাপ্ত “নিরাপত্তার” ও সম্মানের কর্মপরিবেশ পাওয়ার দাবী করলে আমরা ডাক্তাররা কি খুব বেশি কিছু চেয়ে ফেলি? হয়তো অনেকেই বলবেন ডাক্তাররা রোগী দেখবেন। এখানে নিরাপত্তার প্রশ্ন আসলো কোথা থেকে? তাদের জন্যে একটাই উত্তর, পেশাজীবীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন ডাক্তাররাই।

দাবী ছিলো, সদর দপ্তর থেকে দূরবর্তী অফিসে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হোক। খুব বেশি কি চাওয়া হয়? প্রত্যেকটা উপজেলায় মাত্র একটি করে গাড়ি সরবরাহের ক্ষেত্রেই কি সরকারের বাজেট ঘাটতি শুরু হয়ে যায়? কই, প্রত্যেক উপজেলায় ইউএনও স্যারদের গাড়ি সরবরাহের ক্ষেত্রে তো কোন ঘাটতি দেখা যায় না! প্রত্যেকটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অফিসারদের পরিবহনের জন্য একটি করে মানসম্মত বাস সরবরাহ করা হোক। আকাশ কুসুম কল্পনার মত চাওয়া হয়ে গেলো নাকি?
এছাড়া কোনো কিছু চাইলেই বলা হয় এটার জন্য বরাদ্দ নেই। ওটার জন্য বাজেট নেই। সেক্রেটারীয়েট এর জন্য কিভাবে তাহলে একজন সহকারী সচিব থেকে সচিব পর্যন্ত কে কোন ফার্নিচার কয়টা করে পাবেন তা ঠিক করে নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়! অন্যদিকে ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিবেশের চিত্র তো আমাদের সবারই জানা। এখানে একমাত্র ফার্নিচার হিসেবে ভাঙ্গাচোড়া চেয়ার ও ঘুনে ধরা টেবিল যা পাওয়া যায় তা কোনো নিলামেও বিক্রি হবে কিনা সন্দেহ। তৃতীয় শ্রেনীরও পদায়নের অযোগ্য স্থানগুলোতে পদায়ন করা হয় বিসিএস (স্বাস্থ্য) অফিসারদের। উপজেলা হাসপাতাল থেকে শুরু করে সরকারী হাসপাতালগুলোর সবগুলোর চিত্র চোখের সামনে।

সবসময় শুনতে হয়, স্বাস্থ্য খাত নাকি সরকারের ব্যায় খাত। তাই বরাদ্দ কম। তাই যারা সরকারকে উপার্জন করে দেয় (অথবা, যারা সরকারকে গদি ঠিক রাখার নিয়ামক), তাদেরকে বেশি সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়। তাহলে ডাক্তারদের সেবার আর্থিক মূল্যটাও ঠিক করে ফেলা হোক। তা নাহলে স্বাস্থ্য ‍খাতে কেন্দ্রীয় বীমা চালু করে উপার্জনকারী খাতে পরিণত করা হোক। ল্যাঠা চুকে যায়।

বাবা এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনীতে চাকরী করেন। আর্মির বিভিন্ন বিষয় মানতে না পারলেও জীবনের ২৮ টা বছর ক্যান্টনমেন্টে থাকার সুবাদে জানি কতখানি সুশৃঙ্খল বাহিনী এটি। র‌্যাঙ্ক অর্ডারের কোনো ঝামেলা নেই। চেইন অব কমান্ডে নেই কোনো জটিলতা। একজন নবীন ক্যাডেট সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট এ ঢুকলে বা একজন ডাক্তার ক্যাপ্টেন র‌্যাঙ্কে ঢুকে নির্দিষ্ট সময় পর পর ধাপে ধাপে সে মেজর, লেঃ কর্নেল, কর্নেল, ব্রিগেডিয়ার, মেজর জেনারেল সব কিছুই হতে পারে।
এখানে ‍শর্ট কোর্সের মাধ্যমে যে ডাক্তার ক্যাপ্টেন র‌্যাঙ্কে ঢোকে বা লং কোর্সের ঢোকার মাধ্যমে প্রোমোশন পেয়ে হওয়া ক্যাপ্টেন এর মধ্যে র‌্যাঙ্ক অর্ডারে নেই কোনো ভিন্নতা। বরঞ্চ ডাক্তাররা তিন বছরের পশ্চাৎ প্রবীনতা নিয়ে আর্মিতে জয়েন করে।

অন্যদিকে বিসিএস ক্যাডারের প্রতি ক্যাডারে ক্যাডারে বৈষম্য আকাশ পাতাল। এখানে কিছু ব্রাহ্মন গোত্রীয় ও কিছু শূদ্র গোত্রীয় ক্যাডার (বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা) বিদ্যমান। ব্রাহ্মন গ্রোত্রীয় ক্যাডাররা শূদ্র গোত্রীয় ক্যাডারদের কিভাবে চলতে হবে তা মন্ত্রনালয় নামক আরশ থেকে ঠিক করে দেয়। সচিব হয়ে নিজ মন্ত্রনালয় চালানোর মত যোগ্যতা আজ পর্যন্ত কোনো ডাক্তার অর্জন করেননি! অথবা করলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ে বিসিএস (স্বাস্থ্য) অফিসারদের অনুবীক্ষন যন্ত্র দিয়েও খুঁজে বের করা কষ্ট হয়ে যায়। তাদের দৌড় একদম শেষ বয়সে গিয়ে বড়জোর ডিজি (হেল্থ) এর মহাপরিচালক পর্যন্ত (পুরো বাংলাদেশে একটাই পদ)।

সঠিক নীতি না থাকার কারনে পদে পদে এখানে শূদ্র শ্রেনীর ডাক্তারদের মার খাওয়ার চিত্র পাওয়া যায় প্রতিনিয়ত। সেটা প্রশাসন যন্ত্র দ্বারাই হোক বা রাষ্ট্রযন্ত্রের মূলে অবস্থানকারী আমজনতা দ্বারাই হোক।

কয়েকদিন আগে একজন ম্যাজিস্ট্রেট ভাই সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয়েছিলেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের স্যার পর্যন্ত তাকে দেখতে গিয়েছিলেন। জুনিয়রদের প্রতি সিনিয়রদের এই কর্ডিয়ালিটির বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক। এতে ‍জুনিয়র অফিসারটিও স্বাভাবিকভাবেই অত্যন্ত অনুপ্রানিত হবেন এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে কি পরিমান খুশি হয়েছিলাম তা হয়তো আমাদের ডাক্তার সমাজের সবাই অনুভব করবেন। কারন একটাই, আমরা জুনিয়র ডাক্তাররা প্রতিনিয়ত আক্রান্ত হলেও কখনই আমাদের পাশে কোনো সিনিয়রকে পেয়েছি বলে খেয়াল পড়ে না। আমাদের মন্ত্রনালয়ের সচিব স্যার তো বহু বহুউউউ দূরের বিষয়, পাশের ওয়ার্ডের কতজন প্রফেসরও আক্রান্ত হওয়া ডাক্তারের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন তা আমরা জুনিয়ররা খুব ভালোই জানি। ইউএইচএফপিও স্যারদের কাছে একজন বিসিএস (স্বাস্থ) অফিসারের চেয়ে তৃতীয় শ্রেনীর সাকমো বা কেরানী অধিক সম্মান পায়। ডিজিতে বা মেডিকেল কলেজের ডিরেক্টরের কাছে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনীর দাম সম্ভবত একজন প্রফেসরের চেয়ে বেশি।
এই শূদ্র শ্রেনীর মূল ধারার প্রশাসনে নেই কোনো দখল। নেই জেনারেল ক্যাডারদের অনুরুপ নির্দিষ্ট কোনো র‌্যাঙ্ক অর্ডার। এখানে অনেক ডাক্তার তার নিয়োগকালীন যোগ্যতায় মেডিকেল অফিসার হিসেবে নিয়োগ পেয়ে আজীবন মেডিকেল অফিসার পদেই জীবন শেষ করে দেয়। মেডিকেল অফিসার হিসেবেই চাকরীর শুরু, মেডিকেল অফিসার হিসেবেই চাকরীর শেষ। রিসেন্টলি মেডিকেল অফিসার থেকে প্রোমোশন পাওয়া আমাদের ইউএইচএফপিও স্যার আমার চেয়ে ২৬ বছরের বড়। তার বয়স এই মূহুর্তে ন্যূনতম ৫৫। জীবনের শেষ বয়সে এসে উনি একটি থানার হেড। অন্যদিকে আমাদের থানার ইউএনও স্যার এর বয়স আমার চেয়ে ৯ বছর বড়। গত ৬ বছর থেকে উনি একটি থানার নির্বাহী বিভাগের সর্বেসর্বা। পার্থক্যটা নিজেই বুঝে দেখবেন। ইউএনও স্যার গাড়ি পেলেও ইউএইচএফপিও স্যাররা গাড়ি পান না। Cadre discrimination এর ছোট্ট একটি উদাহরন দিলাম মাত্র। পদে পদেই এরকম বহু discrimination.

ডাক্তারদের মধ্যেও আছে প্রচুর ঝামেলা। এই জাতটা টাকা কামানোর ধান্দায় এতোটাই বুঁদ হয়ে থাকে যে স্বগোত্রীয় হওয়ার পরও এই জাতটার উপর চরমভাবে বিতৃষ্ণ সহকর্মী খুঁজে পাওয়া খুব কষ্ট হবে না। টাকা কামানোর ধান্দায় প্রাইভেট প্রাকটিস নিয়ে কামড়াকামড়ি ও নিজ ভাইয়ের মাংস খাওয়া এই গোত্রীয় প্রাণীদের অন্যতম একটি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। (মিলিটারী বাদে)। এই গোত্রীয় প্রাণীদের টাকা কামাই না হওয়ার বাবদ পাওয়া সময়ে কদাচিৎ আড্ডায় সম্ভবত শুধুই দুটো বিষয় প্রাধান্য পায়, রোগীসংখ্যা ও অন্য ডাক্তারের গীবত।
গত ৬ মাসের চাকরীর বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করছি, মিলিটারী সার্ভিসের স্ট্রাকটার ও চেইন অব কমান্ডের তুলনায় সিভিল সার্ভিসের স্ট্রাকচার ও চেইন অব কমান্ড অনেক অনেক নিচে অবস্থান করে।
Military service structure is far superior than civil service structure.
মিলিটারী সার্ভিসকে সিংহের সাথে তুলনা করলে সিভিল সার্ভিসের স্ট্রাকচার ছাগল সদৃশও হবে না।

ক্যাডার ডিসক্রিমিনেশন দূর করতে চাইলে তাই মিলিটারী সার্ভিসের স্ট্রাকচার এর অনুরূপ একমুখী পদবীক্রম তৈরী করা অত্যন্ত জরুরী। সব ক্যাডারের নিয়োগকালীন পদবী হবে অ্যাসিস্টেন্ট কমিশনার just like army.

আর্মিতে যেমন মেডিকেল কোর, এডুকেশন কোর, ইঞ্জিনিয়ার্স কোর ইত্যাদি বিভাগ বিদ্যমান সিভিল সার্ভিসেও সমরূপ সেক্টর বিদ্যমান। তাই যোগদানকালীন পদবীগুলোও হওয়া দরকার, অ্যাসিস্টেন্ট কমিশনার (হেল্থ), অ্যাসিস্টেন্ট কমিশনার (এডুকেশন), অ্যাসিস্টেন্ট কমিশনার (ইঞ্জিনিয়ারর্স) ইত্যাদি।

এছাড়া, সিভিল সার্ভিসে কর্মরতদেরও একটি নির্দিষ্ট ড্রেস কোড থাকা বাঞ্ছনীয়। প্রত্যেক বছর বছর ফাউন্ডেশন ট্রেইনিংটাও অত্যন্ত জরুরী। সরকারী কর্মকর্তাদের প্রাইভেট প্রাকটিসটাও নিয়োগের পরে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জন্য বন্ধ করে দেওয়াটাও অত্যন্ত জরুরী। অন্তত প্রথম দুই বছর।
শেষ কথাঃ
** মেডিসিন এ ক্যারিয়ার গড়লেও আমাদের অনেকের নিয়োগকালীন পদ অ্যাসিস্টেন্ট সার্জন।
** সিভিল সার্জন। নামে সার্জন হলেও তিনি পদবলে কখনো সার্জারী করেন না। বরঞ্চ জেনারেল ক্যাডারদের মত পদটির নাম ডেপুটি কমিশনার বা ডিসি (হেল্থ) হলেই বেশি মানানসই হতো। আমাদের ডেপুটি সিভিল সার্জন স্যার একজন শিশু রোগ বিশেজজ্ঞ। অথচ তার পদনাম সার্জনের। তার নামটাও হতে পারতো, এডিশনাল ডেপুটি কমিশনার বা এডিসি (হেল্থ)।

লিখেছেন- ডাঃ তৌফিক আহমেদ।

শেয়ার করুনঃ Facebook Google LinkedIn Print Email
পোষ্টট্যাগঃ bcs, Health Cadre,

পাঠকদের মন্তব্যঃ ( 2)

  1. Moin Khanduker says:

    ডাঃ তৌফিক আহমেদকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার স্পিরিটের বিশেষ করে মৌলিক বিষয়গওলোর (নিরাপত্তা, যানবাহন, আবাসন কিংবা প্রমোশন ইত্যাদি) সাথে একমত হয়েই কিছু বিষয় শেয়ার করতে চাই। বিষয়টাকে পাল্টা যুক্তি হিসেবে না নেওয়ার জন্য সকলের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। এটা আমার একান্তই ব্যক্তিগত মতামত।
    চিন্তা করুন, একজন সচিব মহোদয়কে বা একজন মন্ত্রীকে যিনি একটা ভাঙ্গা চেয়ার আর ঘুনে ধরা একপায়া ভাঙ্গা টেবিল নিয়ে অফিস করছেন। আমাদের সমাজব্যবস্থায় সাধারন জনগনের কাছে তারা কি খুব সম্মান পাবেন? বা একজন ইউএনও স্যার ফিল্ড ভিজিটে যাচ্ছেন রিক্সায় চড়ে? অথবা, রিক্সায় চড়ে ম্যাজিস্ট্রেট ভাই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন? পিছনে সাপোর্ট হিসেবে এক রিক্সায় দুজন পুলিশ? হাস্যকর বা বেমানান শোনাচ্ছে? বলতে পারেন এগুলো প্রোফেশন ডিমান্ড। প্রোফেশন ডিমান্ড হলেও বিসিএস স্বাস্থ্য প্রশাসনের থানা প্রধান আমাদের ইউএইচএফপিও স্যার কিন্তু রিক্সাতে চড়েই ২০/২৫ কিলোমিটার ফিল্ড ভিজিট করেন।

     আপনার ডিজি থেকে সিভিল সার্জন মহোদয় কেউ কিন্তু ভাঙ্গা চেয়ার আর ঘুনে ধরা একপায়া ভাঙ্গা টেবিল নিয়ে অফিস করেন না। বরং সিভিল সার্জন বা ডিজি স্যার কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সচিব কিংবা মন্ত্রীর চেয়ে ভালো (দামী) গাড়ীতে চড়েন এবং ভালো রুমে অফিস করেন। তদ্রুপ পরিচালক মহোদয়েরাও সরকারের একজন যুগ্মসচিব বা কমিশনার স্যারদের চেয়েও ভালো গাড়ীতে এবং ভালো রুমে অফিস করেন। আর সরকারের উপসচিবগণের কথাতো বাদই দিলাম, কারণ তাঁহারা সরকারি পোস্টে বসেও গাড়ী পান না (প্রাধিকার নেই) এবং অনেক ক্ষেত্রে বাসা বরাদ্দও পান না।

     ইউএনও স্যারের গাড়ীটা অন্যান্য (প্রটোকল) কাজেও ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া ইউএনও পোস্টটি যদি সরকারের প্রতিনিধিত্ব না করতো এবং এসিদের গায়ে যদি ম্যাজিস্ট্রেট লেবাস না থাকতো, তবে তারাও গাড়ীর সুবিধা (সরকারী কাজে, সময়ে এবং অবশ্যই কোন অর্থপ্রাপ্তি ছাড়া) পেতেন কিনা সেটা একটি বড় প্রশ্ন হতো।

    দাবী ছিলো, সদর দপ্তর থেকে দূরবর্তী অফিসে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হোক। খুব বেশি কি চাওয়া হয়? প্রত্যেকটা উপজেলায় মাত্র একটি করে গাড়ি সরবরাহের ক্ষেত্রেই কি সরকারের বাজেট ঘাটতি শুরু হয়ে যায়? কই, প্রত্যেক উপজেলায় ইউএনও স্যারদের গাড়ি সরবরাহের ক্ষেত্রে তো কোন ঘাটতি দেখা যায় না! প্রত্যেকটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অফিসারদের পরিবহনের জন্য একটি করে মানসম্মত বাস সরবরাহ করা হোক। আকাশ কুসুম কল্পনার মত চাওয়া হয়ে গেলো নাকি?

     আমি বিনয়ের সাথে বলছি এখানে ইউএনউ স্যারদের টার্গেট করা বোধ হয় যুক্তিসংগত হলো না। কারণ ইউএনওগণ স্থানীয় লেবেলে সরকারের প্রতিনিধি (বর্তমান ব্যবস্থায়)। মূলত একারণেই তিনি সকলের টার্গেট। তাঁকে যদি সরকার সেখানে সমন্বয়ের ভূমিকায় না দিত, তাহলে তাঁর অবস্থাও একই রকম হতো (উদাহরণসরূপ উপসচিব সরকারী পোস্ট তবুও গাড়ীও নেই, বাসাও নেই)।

    এছাড়া কোনো কিছু চাইলেই বলা হয় এটার জন্য বরাদ্দ নেই। ওটার জন্য বাজেট নেই। সেক্রেটারীয়েট এর জন্য কিভাবে তাহলে একজন সহকারী সচিব থেকে সচিব পর্যন্ত কে কোন ফার্নিচার কয়টা করে পাবেন তা ঠিক করে নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়! অন্যদিকে ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিবেশের চিত্র তো আমাদের সবারই জানা। এখানে একমাত্র ফার্নিচার হিসেবে ভাঙ্গাচোড়া চেয়ার ও ঘুনে ধরা টেবিল যা পাওয়া যায় তা কোনো নিলামেও বিক্রি হবে কিনা সন্দেহ। তৃতীয় শ্রেনীরও পদায়নের অযোগ্য স্থানগুলোতে পদায়ন করা হয় বিসিএস (স্বাস্থ্য) অফিসারদের।

     তৃতীয় শ্রেনীরও পদায়নের অযোগ্য স্থানগুলোতে ডাক্তার নিয়োগের পরিকল্পণা কেনো নেয়া হলো সেটা জানা খুব জরুরী। ইউনিয়ন পর্যায়ে ডাক্তার নিয়োগ দিয়ে বাহবা নেওয়ার জন্য কোন মহলের তাগাদা ছিল বেশী। তার চেয়ে বড় কথা আগে তো অবস্থান, তারপরে অবকাঠামো। চাকরিটাতো হলো, আশা করি উন্নতিও হবে।

     আরেকটা বিষয় মাথায় ঢুকছে না আপনি ফিল্ডে থেকে সেন্টারের সাথে তুলনা কেন করতে গেলেন। সকল বিভাগ/দপ্তরেই পোস্টিং কারণেও সুযোগ-সুবিধার অনেক পরিবর্তন হয়। আমরা যারা সহকারী কমিশনার হিসেবে জেলায় কাজ করছি। ম্যাজিস্ট্রেট তকমা (???) থাকার কারণে সরকারি কাজে গাড়ী ব্যবহার (???) করতে পারছি। যখন একটু সিনিয়র (এসিল্যান্ড) হবো তখন মটরসাইকেলই হবে ভরসা। এই সুবিধাটা জাস্ট অবস্থানভেদে।

    বাবা এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনীতে চাকরী করেন। আর্মির বিভিন্ন বিষয় মানতে না পারলেও জীবনের ২৮ টা বছর ক্যান্টনমেন্টে থাকার সুবাদে জানি কতখানি সুশৃঙ্খল বাহিনী এটি। র্যা ঙ্ক অর্ডারের কোনো ঝামেলা নেই। চেইন অব কমান্ডে নেই কোনো জটিলতা। একজন নবীন ক্যাডেট সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট এ ঢুকলে বা একজন ডাক্তার ক্যাপ্টেন র্যা ঙ্কে ঢুকে নির্দিষ্ট সময় পর পর ধাপে ধাপে সে মেজর, লেঃ কর্নেল, কর্নেল, ব্রিগেডিয়ার, মেজর জেনারেল সব কিছুই হতে পারে।

     র্যাং ক বৈষম্য নেই, তবে সেনাবাহিনীতে ক্রিম পোস্টগুলোতে যখন জেনারেল (সাধারণ ক্যাডেটরা) ডিভিশনের এন্ট্রিকৃত অফিসারদেরই বসানো হয়, তখন কিন্তু মেডিক্যাল/ইঞ্জিনিয়ার/আরভিএফসি/এডুকেশন কোরের অফিসারগণ আমাদের মত উপসচিবের কোঠা বা নিজ মন্ত্রণালয়ের সচিব হওয়ার আব্দার করেন না, আদালতে মামলাও করেন না। আর্মিতে কোন প্রকৃচি নেই যেখানে সেনাপ্রধান বা ডেপুটি চীফ বা পিএসও বা জিওসি কিংবা অন্য কোন প্রশাসনিক পোস্টে (টেকনিক্যাল ব্যতিত) একজন ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার বা শিক্ষক বা ভেটেরিনারিয়ান বা অন্য কোন কোরের কাউকে বসানোর জন্য।

    এখানে শর্ট কোর্সের মাধ্যমে যে ডাক্তার ক্যাপ্টেন র্যা ঙ্কে ঢোকে বা লং কোর্সের ঢোকার মাধ্যমে প্রোমোশন পেয়ে হওয়া ক্যাপ্টেন এর মধ্যে র্যা ঙ্ক অর্ডারে নেই কোনো ভিন্নতা। বরঞ্চ ডাক্তাররা তিন বছরের পশ্চাৎ প্রবীনতা নিয়ে আর্মিতে জয়েন করে।

     এটা মূলত দেয়া হয় এডুকেশন লেবেলের কথা চিন্তা করে। কিন্তু বিসিএস এ ডিসিপ্লিন ভিন্ন হলেও তো সবার শিক্ষাগত যোগ্যতা একই।

    অন্যদিকে বিসিএস ক্যাডারের প্রতি ক্যাডারে ক্যাডারে বৈষম্য আকাশ পাতাল। এখানে কিছু ব্রাহ্মন গোত্রীয় ও কিছু শূদ্র গোত্রীয় ক্যাডার (বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা) বিদ্যমান। ব্রাহ্মন গ্রোত্রীয় ক্যাডাররা শূদ্র গোত্রীয় ক্যাডারদের কিভাবে চলতে হবে তা মন্ত্রনালয় নামক আরশ থেকে ঠিক করে দেয়। সচিব হয়ে নিজ মন্ত্রনালয় চালানোর মত যোগ্যতা আজ পর্যন্ত কোনো ডাক্তার অর্জন করেননি! অথবা করলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ে বিসিএস (স্বাস্থ্য) অফিসারদের অনুবীক্ষন যন্ত্র দিয়েও খুঁজে বের করা কষ্ট হয়ে যায়। তাদের দৌড় একদম শেষ বয়সে গিয়ে বড়জোর ডিজি (হেল্থ) এর মহাপরিচালক পর্যন্ত (পুরো বাংলাদেশে একটাই পদ)।

     আমরা নতুন জেনারেশনের সকলেই আমরা কথা বলছি বর্তমান ব্যবস্থায় দাড়িঁয়ে। যেকোন দপ্তরের সর্বোচ্চ পর্যায় (আরশ) থেকেই তো ওহী নাজিল হবে এবং এটাই স্বাভাবিক। আরশের প্রধান কে হবেন এটা পরিবর্তনের জন্য প্রশাসনিক সংস্কার ছাড়া বিকল্প নেই। বর্তমান ব্যবস্থায় সরকারের সচিবগণ সেটা ধারণ করেন।

    কয়েকদিন আগে একজন ম্যাজিস্ট্রেট ভাই সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয়েছিলেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের স্যার পর্যন্ত তাকে দেখতে গিয়েছিলেন। জুনিয়রদের প্রতি সিনিয়রদের এই কর্ডিয়ালিটির বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক। এতে জুনিয়র অফিসারটিও স্বাভাবিকভাবেই অত্যন্ত অনুপ্রানিত হবেন এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে কি পরিমান খুশি হয়েছিলাম তা হয়তো আমাদের ডাক্তার সমাজের সবাই অনুভব করবেন। কারন একটাই, আমরা জুনিয়র ডাক্তাররা প্রতিনিয়ত আক্রান্ত হলেও কখনই আমাদের পাশে কোনো সিনিয়রকে পেয়েছি বলে খেয়াল পড়ে না। আমাদের মন্ত্রনালয়ের সচিব স্যার তো বহু বহুউউউ দূরের বিষয়, পাশের ওয়ার্ডের কতজন প্রফেসরও আক্রান্ত হওয়া ডাক্তারের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন তা আমরা জুনিয়ররা খুব ভালোই জানি। ইউএইচএফপিও স্যারদের কাছে একজন বিসিএস (স্বাস্থ) অফিসারের চেয়ে তৃতীয় শ্রেনীর সাকমো বা কেরানী অধিক সম্মান পায়। ডিজিতে বা মেডিকেল কলেজের ডিরেক্টরের কাছে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনীর দাম সম্ভবত একজন প্রফেসরের চেয়ে বেশি।

     এটা বিভাগের আভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে এটুকু বলবো এটা বাংলাদেশে বিসিএস এ চাকুরিরত সকল ক্যাডারের (বাহিণীগুলো ছাড়া) আম(!) কর্মকর্তাদের জন্যই প্রযোজ্য। ব্যথা সবারই কম বেশী আছে। নিজ নিজ সার্ভিসকে ধারণ করা সিনিয়রগণের সংখ্যা খুবই নগণ্য।

    আর্মিতে যেমন মেডিকেল কোর, এডুকেশন কোর, ইঞ্জিনিয়ার্স কোর ইত্যাদি বিভাগ বিদ্যমান সিভিল সার্ভিসেও সমরূপ সেক্টর বিদ্যমান। তাই যোগদানকালীন পদবীগুলোও হওয়া দরকার, অ্যাসিস্টেন্ট কমিশনার (হেল্থ), অ্যাসিস্টেন্ট কমিশনার (এডুকেশন), অ্যাসিস্টেন্ট কমিশনার (ইঞ্জিনিয়ারর্স) ইত্যাদি। এছাড়া, সিভিল সার্ভিসে কর্মরতদেরও একটি নির্দিষ্ট ড্রেস কোড থাকা বাঞ্ছনীয়। প্রত্যেক বছর বছর ফাউন্ডেশন ট্রেইনিংটাও অত্যন্ত জরুরী। সরকারী কর্মকর্তাদের প্রাইভেট প্রাকটিসটাও নিয়োগের পরে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জন্য বন্ধ করে দেওয়াটাও অত্যন্ত জরুরী। অন্তত প্রথম দুই বছর।
    শেষকথাঃ
    ** মেডিসিন এ ক্যারিয়ার গড়লেও আমাদের অনেকের নিয়োগকালীন পদ অ্যাসিস্টেন্ট সার্জন।
    ** সিভিল সার্জন। নামে সার্জন হলেও তিনি পদবলে কখনো সার্জারী করেন না। বরঞ্চ জেনারেল ক্যাডারদের মত পদটির নাম ডেপুটি কমিশনার বা ডিসি (হেল্থ) হলেই বেশি মানানসই হতো। আমাদের ডেপুটি সিভিল সার্জন স্যার একজন শিশু রোগ বিশেজজ্ঞ। অথচ তার পদনাম সার্জনের। তার নামটাও হতে পারতো, এডিশনাল ডেপুটি কমিশনার বা এডিসি (হেল্থ)।

     এ ধারণাটা চমৎকার।বহুত্ব ত্যাগ করে আমরা একত্ব লাভ করবো। প্রশাসনিক সংস্কার করে এ রকম করা যেতে পারে। সেই সংস্কারে বিসিএস (এডমিন) পোস্ট থাকবে কি??? থাকলে তবে সেখানেও এসি (এডমিন), ‍এসএসি (এডমিন), ডিসি (এডমিন), কমিশনার (এডমিন) কিংবা সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়া হবে কাদের??? আর্মির মতো চিন্তা করলে এডমিন ক্যাডারের অফিসারকে নিয়োগ দিতে হবে!!! আবার ক্যাডার অফিসারগণের (প্রকৌশলী, ডাক্তার, কৃষিবিদ) প্র্যাকটিস করার সুযোগও থাকবে না!!!

     আরেকটি বিষয় এখানে গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল ক্যাডারের (প্রকৌশলী, ডাক্তার, কৃষিবিদ) স্ট্রেংথ যেহেতু বেশী (পাবলিক সার্ভিস বিধায়) তাহলে আপনার ধারণার বাস্তবতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে (আর্মিতে নির্দিষ্ট সংখ্যক নেয়া হয়)। তাদেরটা পেশাজীবি বনাম সার্ভিসের লোকবল, আমাদেরটা পেশাজীবি বনাম জনগণ!!!

     এ ধারণা কার্যকর হলে কাকর্মচারীদের ইউনিয়ন করার অধিকার (? সবচেয়ে বিষাক্ত দিক) থাকবে না!!! সেটাকে কিভাবে ওভারকাম করা যাবে সেটাও ভাববার বিষয় বৈকি।
    শেষ কথা:
    একাডেমিকেলি আপনার সর্বশেষ দাওয়াটাই সর্ববিষের এন্টিডোট হিসেবে কাজ করতে পারে। তাহলে নিরাপত্তা, যানবাহন, প্রমোশন ইত্যাদি সমস্যাধান হতে পারে, যদিও এখানে আর্থিক বিষয়টা প্রশ্নবিদ্ধ। কিন্তু আমাদের মতো আম-কর্মকর্তাদের (সকল ক্যাডারের) কোন ধারণা নিয়ে আপনার কিংবা আমার সিনিয়রগণ (যাদের বেশীরভাগই সর্বদা ক্রিম পোস্টের আরসে আসীন হন) কখনও ভেবে দেখবেন কিনা সেটাই হচ্ছে দেখার বিষয়।
    আর্মির মডেল অনুসরণ না করে কোন সমৃদ্ধশালী গণতান্ত্রিক দেশের মডেলও ফলো করা যেতে পারে। সকল কথার শেষ কথা আমরা যদি সকলে আমাদের কাজটি ঠিকভাবে করতাম, তাহলে স্বাধীনতার এতদিন পরে এসে এ বিষয় নিয়ে অতটা ভাবতে হতো না। আমাদের সকলের সিকিউরিটি হতো জনগণ, অভিভাবক হতো রাজনীতিবিদেরা (!!!)। অতঃপর আমরা সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে থাকিতাম।

  2. Sarwar says:

    আপনি অনেকগুলো প্রশ্ন রেখেছেন, প্রস্তাব রেখেছেন। এমন নয় যে আপনার আগে এগুলো নিয়ে কেউ ভাবে নাই। চাকুরিতে যোগদানের পর এ বিষয়গুলো সকলেরই চোখে কম বেশী লেগেছে। লেখকের ভাবার জন্য একান্তই ব্যক্তিগত কিছু মতামত দেই।

    আপনার পেশাটায় একই সাথে তিনটে জিনিষ করতে হয়। আপনাকে ট্যাকনিকাল কাজের সাথে সাথে সরকারী বিধি বিধান পরিপালন অর্থাৎ প্রশাসন ও অর্থ ব্যবস্থাপনা সম্পাদন করতে হয়। দুঃখের সাথে বলি এই বিষয়গুলোতে দক্ষ লোকের বড় অভাব ডাক্তারদের মধ্যে। আপনাদের পেশাগত জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন করছি না। প্রশ্ন করছি আপনাদের দাপ্তরিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, আথির্ক ব্যবস্থাপনাকে। শতভাগ ডাক্তারী দপ্তরগুলোর অফিস প্রধানরা নিতান্তই অন্ধের মত ভর করে চলেন প্রধান সহকারী, হিসাব রক্ষকদের উপর। বলতে গেলে উপজেলা, জেলা, বিভাগ আর কেন্দ্র সবই চলায় এরা। এটা দোষের কিছু না। দোষের হল অন্ধভাবে ওদের ক্রিড়ানকে পরিনত হওয়া। ফলে সিদ্ধান্ত প্রদান আর বাস্তবায়নের বিরাট ফাঁক থাকে। যেহেতু এসব বিষয়ে দুর্বলতা থাকে তাই অল্পতেই ভেঙ্গে পড়ার ভয়ে তটস্থ থাকেন আপনার বসেরা। মেরুদন্ড সোজা করে চাকুরি করলে চেয়ার হারানোর ভয় থাকে। ট্রান্সপার হবার ভয় থাকে। এই ভয়ে কেঁচো হয়ে থাকেন উনারা। যেদিন চেয়ারে লাথি মেরে নিজেরা সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করবেন তারা দেখবেন আপনাদের অবস্থাও পাল্টাতে শুরু করেছে।

    প্রমোশনের ক্ষেত্রে একমাত্র প্রশাসন ক্যাডার ছাড়া বাকী সবার অবস্থাই খারাপ। কারন একটাই। পদ খালি না থাকলেও প্রমোশন নেবার সুযোগ নেয় একমাত্র প্রশাসন ক্যাডারের লোকজনরাই। এক্ষেত্রে সরকারের নীতি পাল্টাতে হবে। ওটি করার সুযোগ কোন গনতান্ত্রিক সরকার তৈরী করবে না বলেই ধরে রাখুন। আর সত্যি বলতে সচিবালয় ক্যাডারকে যখন প্রশাসন ক্যাডার আত্তিকরন করল তখন থেকেই তারা এ সুযোগ নিতে থাকল। তবে আপনাদের সিনিয়দের কয়জন ঠিক সময়ে বিভাগীয় পরীক্ষা পাশ করেছে কিংবা সিনিয়র স্কেল নিয়মিত দিয়ে চলেছেন তার হিসেব করুন। দেখবেন সংখ্যাটা চমকে যাবার মত। এগুলো পাশ না করার কারনে অনেকের যোগ্যতাই হয় না প্রমোশন পাবার।

    সেনাবাহিনীর থেকে শৃৃঙ্খলায় সিভিল সাভির্স পিছিয়ে থাকতে পারে কিন্তু কাজের মানে পিছিয়ে েএটা মানতে পারছি না। সেনাবাহিনীর লোকবল আর অথের্র অভাব নাই । সরকার তাকে দেয় আর আপনাকে দেয় না। ধনীর বাড়ি সাজানোই থাকে, বস্তিতে ঝগড়া চলবে এটাই স্বাভাবিক।

    আপনাদের রাজনীতিটা আওয়ামী ও বিএনপির বাইরে আনেন। কেবল নিজেদের পেশাগত উৎকর্ষর জন্য কাজ করুন। নিজেদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করুন। দেখবেন আপনাদের নায্য আর যৌক্তিক দাবীগুলো আদায় হবে। মন্ত্রানালয় এর সচিব হবার জন্য দাবী না করে বরং চেষ্টা করুন যেসব কাজের জন্য আপনাদের মন্ত্রানালয় যেতে হয় তার ক্ষমতা যেন আপনাদের মহাপরিচালক অফিস পায়। ক্ষমতাটা যেন আমি কি হনুরে এর জন্য না হয়ে সত্যিকার কাজের জন্য প্রয়োগ করা হয় তার ব্যবস্থার জন্য চিন্তা করুন।




Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

Advertisement
Advertisement
Advertisement
.