• চিকিৎসা সহায়ক

June 20, 2016 10:59 pm

প্রকাশকঃ

তথ্য ও ছবি  :  বিএসএমএমইউ এর ফেইসবুক অফিসিয়াল পেইজ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অপূর্ণাঙ্গ জোড়া শিশুর (অপূর্ণাঙ্গ যমজ-চধৎধংরঃরপ ঞরিহ) অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিন ব্লকের ৯ তলায় (লিফটের ৮) আধুনিক অপারেশন থিয়েটার কমপ্লেক্সে আজ সোমবার ২০ জুন ২০১৬ইং তারিখে সকাল ৯টায় শুরু হওয়া অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয় আড়াই ঘণ্টায় অর্থাৎ সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে। অপূর্ণাঙ্গ এ জোড়া শিশুর অস্ত্রোপচার লক্ষ্যে গঠিত ১৮ সদস্য বিশিষ্ট মেডিক্যাল টিম অস্ত্রোপচারে অংশ নেন। ১৮ সদস্য বিশিষ্ট মেডিক্যাল টিমের নেতৃত্বে ছিলেন পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ রুহুল আমিন। প্রযুক্তির সহায়তায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে অস্ত্রোপচারের ঘটনাটি স্ক্রিনে সরাসরি দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়।

13490766_1791880511048292_2915908106918886312_o

অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার পর পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ রুহুল আমিন জানান, অপূর্ণাঙ্গ জোড়া শিশুর অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ শিশুটি শঙ্কা মুক্ত আছে। তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টা পোস্ট আপারেটিভ রুমে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকবে।
এনেসথেশিয়া, এনালজেসিয়া এন্ড ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. দেবব্রত বনিক জানান, অস্ত্রোপচারের পর পূর্ণাঙ্গ শিশুটি ভালো আছে। শিশুটির জ্ঞান ফিরেছে। প্রয়োজনে শিশুটি তাঁর মায়ের বুকের দুধও পান করতে পারবে।
13427869_1791880607714949_7262858296221680299_n

অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার পর পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ রুহুল আমিন জানান, অপূর্ণাঙ্গ জোড়া শিশুর অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ শিশুটি শঙ্কা মুক্ত আছে। তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টা পোস্ট আপারেটিভ রুমে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকবে।
এনেসথেশিয়া, এনালজেসিয়া এন্ড ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. দেবব্রত বনিক জানান, অস্ত্রোপচারের পর পূর্ণাঙ্গ শিশুটি ভালো আছে। শিশুটির জ্ঞান ফিরেছে। প্রয়োজনে শিশুটি তাঁর মায়ের বুকের দুধও পান করতে পারবে।

13512220_1791880524381624_6213825628334766474_n
অপূর্ণাঙ্গ জোড়া শিশুর অস্ত্রোপচার সুন্দরভাবে সম্পন্ন ও সফল হওয়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, শিশু সার্জারি বিভাগ, এনেসথেশিয়া, এনালজেসিয়া এন্ড ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগ ও নবজাতক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের সম্মানিত চিকিসকবৃন্দ ও সহায়ক স্টাফদেরকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।
এদিকে অপূর্ণাঙ্গ জোড়া শিশুর মা হীরামনি ও বাবা মোঃ জাকারিয়া তাঁদের সন্তানের অস্ত্রোপচার সফল হওয়ায় তাঁরা অত্যন্ত খুশি। শিশুটির মা হীরামনি বলেন, এমন অপূর্ণাঙ্গ জোড়া বাচ্চার চিকিৎসা আছে তা ভাবতেই অবাক লাগে। অপারেশন সফল হওয়ায় মহান আল্লাহ্তালা-এর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। আমার ছেলে যাতে দ্রুত আরোগ্যলাভ করে সেজন্য মহান আল্লাহ্তায়ালা-এর কাছে এবং সকলের কাছে দোয়া কামনা করছি। একই সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানাই ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
উল্লেখ্য, অপূর্ণাঙ্গ জোড়া শিশুর চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের সকল ব্যয়ভার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করছে।
১৮ সদস্যের মেডিক্যাল টিমের মধ্যে উপদেষ্টা সার্জন হলেনÑপেডিয়াট্রিক বা শিশু সার্জারি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. শফিকুল হক, অধ্যাপক ডা. মোঃ মতিউর রহমান ও অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। সার্জিক্যাল টিমের চিকিৎসকরা হলেন- পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যানÑ অধ্যাপক ডা. মোঃ রুহুল আমিন, অধ্যাপক ডা. মোঃ তোসাদ্দেক হোসেন সিদ্দিকী, সহযোগী অধ্যাপক ডা. কে এম দিদারুল ইসলাম, ডা. দিনেস প্রসাদ কৈরালা, ডা. একেএম খায়রুল বাসার, ডা. নূর মোহাম্মদ ও ডা. মাফিয়া আফসিন লাজ। এ্যানেসথেসিয়া টিমের চিকিৎসকরা হলেনÑএনেসথেশিয়া, এনালজেসিয়া এন্ড ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. দেবব্রত বনিক, সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ আব্দুল হাই, সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মনজুরুল হক লস্কর, ডা. মোঃ আব্দুল আলীম ও ডা. সাফিনা সুলতানা সম্পা এবং নবজাতক বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মধ্যে রয়েছেন অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য ও নবজাতক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা, নবজাতক বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ আব্দুল মান্নান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. সঞ্জয় কুমার দে।
আরো উল্লেখ্য, আরেকটি শিশুর শরীরের প্রায় অর্ধেক অংশ নিয়ে জন্মানো মোহাম্মদ আলী নামের পূর্ণাঙ্গ শিশুটি জন্মায় ঐতিহাসিক ৭ মার্চ ২০১৬ইং তারিখে নতুন ইতিহাস নিয়ে। তা হলো সে একটি পূর্ণাঙ্গ শিশু কিন্তু তার উপর ভর করে আছে আর একটি শিশুর পেটের নিচের অর্ধেকসহ শরীরের নি¤œাঙ্গ। উর্ধাঙ্গর মাথা, বুক ও দু’ হাত নেই অর্থাৎ আংশিক বা অপূর্ণাঙ্গ শিশুটি তার আংশিক অস্তিত্ব নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ শিশুর উপর ভর করে বেঁচে আছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষা একে বলা হয়, প্যারাসাইটিক টুইন বা অপূর্ণাঙ্গ যমজ (চধৎধংরঃরপ ঞরিহ)। প্যারাসাইটিক টুইন সমস্যা নিয়ে জন্মানো এ ঐতিহাসিক শিশুটির স্বাভাবিক জন্ম দেন বাগেরহাটের হীরামনি। এর আগে শিশুটির মা হীরামনি তিনটি সুস্থ স্বাভাবিক কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। মোহাম্মদ আলী হলো তাঁর চতুর্থ সন্তান। শিশুটির বাবার নাম মোঃ জাকারিয়া। অপূর্ণাঙ্গ যমজ শিশুটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু সার্জারি বিভাগের সম্মানিত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ রুহুল আমিনের অধীনে ভর্তি রয়েছে। শিশুটিকে অধ্যাপক ডা. মোঃ রুহুল আমিনের অধীনে ভর্তি করানো হয়, শিশুটির জন্মের তৃতীয় দিন অর্থাৎ ১০ মার্চ ২০১৬ইং তারিখে। বর্তমানে সি ব্লকের ৫ম তলায় ৫ডি ওয়ার্ডে বিনা ভাড়ার ১৩নং বিছানায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, সেবিকাদের নিবিড় পরিচর্যায় শিশুটির চিকিৎসাসেবা চলছে। শিশুটির বয়স এখন ৩ মাস ১৩ দিন (২০-৬-২০১৬ইং পর্যন্ত)।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনের সহায়তায় শিশু সার্জারি বিভাগের সম্মানিত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ রুহুল আমিনের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকবৃন্দ শিশুটিকে ভারমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। অপূর্ণাঙ্গ শিশুটির একটি কিডনী, মূত্রাশয় ও পুঃলিঙ্গ ছিলÑ যা দিয়ে সে নিয়মিত প্রসাব করত। অপূর্ণাঙ্গ যমজ শিশুটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নীরিক্ষা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। অপূর্ণাঙ্গ শিশুটি সংযুক্ত ছিল পূর্ণাঙ্গ শিশুটির পেটের ডান দিকে এবং অপূর্ণাঙ্গ শিশুটির পিঠের হাড় পূর্ণাঙ্গ শিশুটির বুকের হাড়ের সাথে মিশানো ছিল। এছাড়া পূর্ণাঙ্গ শিশুটির নাভিও অসম্পূর্ণ যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় এক্সমফালোস (ঊীড়সঢ়যধষড়ং)। এর ভিতরের যকৃৎ ও খাদ্যনালী রয়েছে একটি পর্দা দিয়ে ঢাকা অবস্থায়। এটাকেও একটি জটিল অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে নাভির অসম্পূর্ণতা ঠিক করে দিতে হবে। আজ ২০ জুন এ পূর্ণাঙ্গ শিশুটির উপর ভর করা অপূর্ণাঙ্গ শিশুটিকে আলাদা করার জন্য অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। পূর্ণাঙ্গ শিশুটিকে অপূর্ণাঙ্গ শিশু থেকে আলাদা করার পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ শিশুটির নাভির অপূর্ণতাও ঠিক করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ জটিল অপারেশন ও চিকিৎসার সহযোগিতায় আছেন এ্যানালজেশিয়া, এ্যানেসথেশিয়া এ্যান্ড ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগ এবং নবজাতক বিভাগের সম্মানিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকবৃন্দ।
অপূর্ণাঙ্গ যমজ শিশুটির চিকিৎসকার বিষয়ে শিশু সার্জারি বিভাগের সম্মানিত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ রুহুল আমিন জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান প্যারাসাইটিক টুইন সমস্যা নিয়ে জন্মানো শিশুটির চিকিৎসার ব্যয়ভার অত্র বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করবে বলে আশ্বাস প্রদান করেছেন। মাননীয় উপাচার্য মহোদয়ের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে প্যারাসাইটিক টুইন সমস্যা নিয়ে জন্মানো শিশুটিকে অপূর্ণাঙ্গ শিশু থেকে আলাদা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিশু সার্জারি বিভাগ।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু সার্জারি বিভাগ অতীতেও এ ধরণের জটিল অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করে আসছে। গত ২০০৮ সালে বহুল আলোচিত বন্যা ও বর্ষাকে মাত্র তিন মাস বয়সে শিশু সার্জারি বিভাগের তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ শফিকুল হকের নেতৃত্বে দীর্ঘ ৮ ঘণ্টাব্যাপী সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আলাদা করা হয়েছিল। তবে বর্ষার হৃদযন্ত্র বন্যার উপরে নির্ভরশীল থাকায় আলাদা করার পর বর্ষাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বন্যা গত ২৪ মার্চ ২০১৬ইং তারিখে আট বছর পূর্ণ করেছে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু সার্জারি বিভাগে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আরও একটি শিশুর পেটের ভেতর থেকে তিনটি অসম্পূর্ণ শিশু বা প্যারাসাইটিক ট্রিপলেট (চধৎধংরঃরপ ঞৎরঢ়ষবঃ ) বের করে আনা হয় বা অপসারণ করা হয়। নিউজ: প্রশান্ত। ছবি: সোহেল।

শেয়ার করুনঃ Facebook Google LinkedIn Print Email
পোষ্টট্যাগঃ BSMMU, অপূর্ণাঙ্গ জোড়া শিশুর সফল অস্ত্রোপচার,

পাঠকদের মন্তব্যঃ ( 7)

  1. Congratulation to all . Alhamdulillah.

  2. Abu Imran says:

    thanks prof ruhul amin sir

  3. দারুণ ব্যাপার তো। এখন শিশুটা বেঁচে থাকলেই হয়। দোয়া করি!




Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

Advertisement
Advertisement
.