বম্বে ব্লাড গ্রুপঃ এক বিরল ব্লাড গ্রুপের কথা

লিখেছেন : ডাঃ রজত দাশগুপ্ত
ব্লাড গ্রুপ হল কার রক্ত কাকে দান করা যাবে তার উপর নির্ভর করে করা রক্তের প্রকারভেদ। এটি আসলে নির্ভর করে রক্ত কোষগুলির কোষপর্দায় উপস্থিত এন্টিজেনগুলির ধরণের উপর। রক্তের মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যায় লোহিত রক্ত কণিকা থাকে বলে তাদের কোষপর্দায় কি কি এন্টিজেন আছে তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেক ব্লাডগ্রুপ এন্টিজেনই নানা কোষের কোষপর্দায় থাকে বা অনেকসময় শ্লেষ্মা ইত্যাদির মধ্যে ক্ষরণপদার্থ হিসাবেও থাকে।

একটি লোকাসে (ক্রোমোজোমের উপর জিন গত অবস্থান) বস্থিত সবকটি সাম্ভাব্য অ্যালিলকে নিয়ে হয় এক একটি ব্লাড গ্রুপ সিস্টেম এ-বি-ও ব্লাড গ্রুপ সিস্টেম এবং আরএইচ ডি (Rh D) ব্লাড গ্রুপ সিস্টেম এই দুটি সবচেয়ে বিখ্যাত ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলেও মানুষের বেলায় এরকম ২৯টি ব্লাড গ্রুপ সিস্টেমকে আই এস বি টি (International Society of Blood Transfusion) অনুযায়ী মানা যেতে পারে। এই ২৯টি সিস্টেমে মোট ৬০০রও বেশী অ্যান্টিজেন আছে। তবে এই ৬০০টির অনেকই খুব দুষ্প্রাপ্য বা কোনো বিশেষ জাতির বাইরে দেখা যায় না।
1069279_10200466207601321_657628875_n
এই তো গেল থিউরিটিকাল কথাবার্তা। এবার এক বিরল ব্লাড গ্রুপের কথা বলি আপনাদের। এক নাম বম্বে গ্রুপ। কারণ ১৯৫২ সালে ভারতের বম্বে (বর্তমানে মুম্বাই) শহরে এই ব্লাড গ্রুপ প্রথম আবিষ্কৃত হয়। এটি আবিষ্কার করেন ডা ওয়াই এম বেন্দে। এর আরেক নাম Hh antigen system বা Oh ব্লাড গ্রুপ। এটি পূর্ব ভারতীয়দের ছাড়াও ককেসিয়ান এবং জাপানিদের ভিতর পাওয়া গিয়েছে।[2]
969939_10200466200041132_735222703_n
এদের লোহিত রক্তকণিকায় এ,বি এবং এইচ এন্টিজেন থাকে না এবং কার্ল ল্যান্ডস্টেইনারের সূত্র অনুযায়ী তাদের রক্তরসে  এন্টি এ,এন্টি বি এবং এন্টি এইচ এন্টিবডি থাকে। এন্টি এইচ সাধারণ এবিও ব্লাড গ্রুপ সিস্টেমে শনাক্ত করা হয় না। এই ব্লাড গ্রুপের সদস্যরা সাধারণত ও ব্লাড গ্রুপের মত থাকে ব্লাড গ্রুপ পরীক্ষা করার সময়। সমস্যা হয় রক্ত নেওয়ার সময়। আমরা এখন জানি যে যেই প্রোটিন থেকে ব্লাড গ্রুপ এন্টিজেন তৈরি হয় তার নাম এইচ এন্টিজেন। এই এইচ এন্টিজেন  এ এন্টিজেনে রূপান্তর হতে পারে ( এ ব্লাড গ্রুপে), বি এন্টিজেনে রূপান্তর হতে পারে ( বি ব্লাড গ্রুপে),এ এবং বি উভয় এন্টিজেনে রূপান্তর হতে পারে ( এবি ব্লাড গ্রুপে), কিংবা এইচ এন্টিজেনে রয়ে যেতে পারে ( ও ব্লাড গ্রুপে)।  এই এইচ এন্টিজেনই খেল খেলে বম্বে ব্লাড গ্রুপের ব্যক্তি যখন ও ব্লাড গ্রুপের রক্ত গ্রহণ করবে।[3]

ও গ্রুপে আছে এইচ এন্টিজেন,  রক্তরসে এ ও বি দুরকম এন্টিবডিই থাকে।

 

বম্বে ব্লাড গ্রুপে আছে রক্তরসে এন্টিবডিই থাকে এ, বি এবং এইচ।

 

বম্বে ব্লাড গ্রুপের ব্যক্তি যখন ও ব্লাড গ্রুপের রক্ত গ্রহণ করবে তখন এইচ এন্টিজেন এবং এইচ এন্টিবডির ভিতর ক্রস রিঅ্যাকশন ঘটবে এবং বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিবে।

তাই বম্বে ব্লাড গ্রুপের মানুষ কেবল বম্বে ব্লাড গ্রুপের রক্তই গ্রহণ করতে পারবে। তারা সার্বজনীন দাতা। তারা সবাইকে রক্তদান করতে পারবে।

ভারতীয়রা তাদের দেশে গবেষণা করে দেখে ১২৫ কোটি মানুষের ভিতর মাত্র ১৫৭ জনের এই বিরল ব্লাড গ্রুপ রয়েছে আর এদের ভিতর মাত্র ৪ জন আর এইচ নেগেটিভ।

বাংলাদেশে বম্বে ব্লাড গ্রুপ প্রথম শনাক্ত পড়ে ১৯৭৫ সালে। সোনারগাঁওতে এক অভিজাত মিয়াঁর পরিবারে। সেখানে ডাক্তাররা দেখেন ঐ পরিবারের ১৭ জন এই বিরল ব্লাড গ্রুপের অধিকারী। তাদের রক্তগ্রহণের দরকার পড়লে ভারত থেকে রক্ত আনা লাগত। এরপর তারা আমেরিকাতে চলে যান। পরে আরও কিছু বম্বে ব্লাড গ্রুপের সদস্য খুঁজে পাওয়া যায়।

 

কত যে বিস্ময় লুকিয়ে আছে এই পৃথিবীতে। বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে এই রহস্যগুলো আমাদের সামনে উন্মোচিত হচ্ছে।

 

সূত্রঃ
1. উইকিপিডিয়া

2.  http://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/2096814

3. http://www.thinkfoundation.org/kc_bombay_blood_groups.htm

Ishrat Jahan Mouri

Institution : University dental college Working as feature writer bdnews24.com Memeber at DOridro charity foundation

6 thoughts on “বম্বে ব্লাড গ্রুপঃ এক বিরল ব্লাড গ্রুপের কথা

  1. বোম্বে ব্লাড গ্রুপে অটোলোগাস ট্রান্সফিউশন করা যায়।
    সেল ও সিরাম গ্রুপিং করে সনাক্ত করা যায়।পরবর্তী পদক্ষেপ এন্টি এইচ দিয়ে কনফার্ম করা।
    শুধুমাত্র সেল গ্রুপিং এ ‘ ও’ মনে হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

Next Post

Life vs Dream: অস্ট্রেলিয়ায় চিকিৎসকদের পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি

Tue Jun 21 , 2016
তথ্য ঃ জাহিদ হাসান,প্ল্যাটফর্ম ক্যরিয়ার উইং স্বপ্নভাংগা-গড়ার দেশ, অনেক সম্ভাবনার দেশ অস্ট্রেলিয়া,বর্তমানে চিকিৎসকদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। অস্ট্রেলিয়ায় পারমানেন্ট রেসিডেন্ট হতে পারেন ৩টি উপায়েঃ ১। ক্লিনিক্যাল ২। নন-ক্লিনিক্যাল ৩। স্কিল মাইগ্রেশন ১। ক্লিনিক্যালঃ একজন ফিজিশিয়ান হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায়য় ক্যারিয়ার করতে চাইলে আপনাকে AMC-Australian Medical Council পরীক্ষায় পাশ করতে হবে। AMC এর ২টা পার্টঃ […]

সাম্প্রতিক পোষ্ট