• অভিজ্ঞতা

March 12, 2017 12:42 pm

প্রকাশকঃ

 

কিডনি প্রতিস্থাপন প্রসঙ্গে :

 

chronic kidney disease বা chronic renal failure এর হার বেড়েইই চলছে প্রতিনিয়ত। খুব কাছেথেকে দেখেছি রোগী আর তার পরিবারকে কত কষ্টের মধ্যে যেতে হয়।যার একমাএ চিকিংসা dialysis এবং kidney transplant বা কিডনি প্রতিস্থাপন।।

Dialysis এর অনেক পার্শ্ব প্রতিক্রীয়ার কারনে এক সময় কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়।কিডনি প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপুর্ণ বিষয় জানা জরুরী।

 

– কিডনি দাতা রক্ত সম্পর্কিত হওয়া জরুরী।

যদি সম্ভব না হয় “random or non related donor” দিতে পারে.!(যদিও সাংবাদিকদের কল্যানে বাংলাদেশে নন রিলেটেড দাতার কিডনি দান বনধ হয়ে গেছে আগেই,রোগীদের বাধ্য হয়েই যেতে হচ্ছে দেশের বাইরে.)

 

* non related দাতার ক্ষেত্রে যেসব বিষয় জানতে হবে*-

 

-রক্তের গ্রুপ গ্রহিতার গ্রপের সাথে মিল থাকবে।

 

– দাতার কিডনির function সহ যাবতীয় সকল পরীক্ষা নিরিক্ষায় দাতাকে fit হতে হবে।

 

-গ্রহিতা যদি পুরুষ হয়,দাতাও পুরুষ হওয়া উচিত।যেহেতু পুরুষ রোগী র organ নারীদের তুলনায় বড় হয় তাই পুরুষ রোগীর জন্য পুরুষ দাতাই হওয়া উচিত।

পুরুষ দাতা যদি পাওয়া না যায় নারীও দিতে পারে।তবে সে ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে দাতা যেন উচ্চতায় বেশী হয়। (অবশ্যই গ্রহিতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে)

 

-গ্রহিতা নারী হলে পুরুষ বা নারী উভয়েই দিতে পারবে।

 

-দাতার বয়স ২০-৩৫ এর মধ্যে হতে হবে।

 

-দাতা এবং গ্রহিতার মধ্যে “cross matcing” পরিক্ষাটি প্রাথমিক ভাবে মিলে গেলে এরপর “DSA or donor specific antibody”test করতে হয়।

এই পরীক্ষা নেগেটিভ হলেই শুধু কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য আগাতে হবে।

 

এই DSA পরিক্ষায় যদি CD4 T cell positive আসে তাহলে ওই দাতার কিডনি নেওয়া উচিত নয়।এতে অপারেশনের পরে কিডনি রিজেকশনের চান্স ৯০ শতাধিক।

যদি কোনো উপায় না থাকে গ্রহিতার শরীর থেকে plasma pheresis এর মাধ্যমে antibody বের করে নিয়ে তারপর operation এর প্রক্রিয়ায় যেতে হবে।।

 

*** – আরেক টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যে সব CKD রোগী দীর্ঘদিন যাবত এ রোগে ভুগছে, এবং ডায়ালাইসিস এর মধ্য দিয়ে যায় তাদের ক্ষেত্রে রক্তে হিমগ্লোবিন বা লোহিত রক্তকনিকার পরিমান কমতে থাকে,যার কারনে শরীরে রক্ত সঞ্চালন এর প্রয়োজন হয়।প্রতিবার এই রক্ত সঞ্চালন এ শরীরে antibody তৈরী হয়।এই অবস্থায় যখনই কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয় এর বিপরীতে ওই antibody গুলা তখন সক্রিয় হয়ে উঠে যার ফলে রিজেকশন বা কিডনি প্রতিস্থাপন অসফল হয়।

তাই সম্ভব হলে ডায়ালাইসিসএ যাওয়ার পর পর বা তার আগেই কিডনি প্রতিস্থাপন এর প্রক্রিয়া শুরু করে দেওয়া উচিত।***

 

** কিডনি প্রতিস্থাপন এর আগে গ্রহিতার শরীরে monoclonal antibody inject করা হয়।যেটা specific CD4 T CELL এবং B cell কেই মারে।শরীরের অন্যান্য immune সিস্টেম ইন্টেক্ট থাকে।যেটা প্রতিস্থাপিত কিডনিকে disturb করেনা।।তাই operation er পর infection er ঝুকি তুলনামুলকভাবে কম থাকে।

দেশের বাইরে এই ভুলটা অহরহ করে যাচ্ছে। তারা প্রথমেই polyclonal antibody ব্যবহার করে,পরে দরকার হলে monoclonal antibody..একবার যার শরীরে polyclonal antibody যায় তার শরীরে monoclonal তেমন একটা কাজ করেনা।monoclonal antibody injection যদিও ব্যয়বহুল কিনতু জীবন বাঁচাতে এটা করা উচিত।অন্যথায় অপারেশন পরবর্তী জটিলতা অনেক বেড়ে যায়।তাই এটা ও মাথায় রাখতে হবে।***(এই বিষয়টা চিকিৎসক রা বুঝতে পারবেন।)

 

এমন অনেক বিষয় আছে। যা জানা খুব ই জরুরী।নিজে ডাক্তার হয়ে ও অনেক হয়রানীর শিকার হয়েছি দেশের বাইরে বাবার কিডনি প্রতিস্থাপন করতে গিয়ে। ভুল চিকিৎসা পথে গিয়েছে তারা। ভুগতে হয়েছে আমাদের। কিছুই করার ছিলনা।দেশে নন রিলেটেড দাতা হলে প্রতিস্থাপন করা বন্ধ করে দিয়েছে সাংবাদিক সাহেবদে র কলমের অবদানে।ফলাফল রোগিরা দেশের বাইরে লাখ লাখ টাকা দিয়ে আসছে।কি যে অসহায়!

 

বারবার শুধু মনে হয়েছে আমাদের দেশের মানুষগুলা যদি বুঝতো কত সহজলভ্য আর আন্তরিকতায় পূর্ণ আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা। তাও কত অভিযোগ।।।।। কবে যে বদলাবে মানুষগুলা।।।।অপেক্ষায় রইলাম।।

 

ডাঃ তাজনীন সুরাত

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ

৩ য় ব্যাচ

 

লেকচারার, আর্মি মেডিকেল কলেজ

শেয়ার করুনঃ Facebook Google LinkedIn Print Email
পোষ্টট্যাগঃ

পাঠকদের মন্তব্যঃ ( 0)




Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

Advertisement
Advertisement
.