• অতিথি লেখা

February 28, 2019 10:45 pm

প্রকাশকঃ

আমি ১০০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল এর পরিচালক। প্রতিদিন খালি অভিযোগ শুনি। অভিযোগ হাসপাতালের সব স্টাফ এর বিরুদ্ধে।
৩১ বছর হয়েছে চাকুরী করছি। সিভিল সেক্টরে ৩ বছর ৪ মাস।

আজ একজন স্বনামধন্য চক্ষু বিশেষজ্ঞ স্যারের সাথে এপয়েন্টমেন্ট ছিল। সবচেয়ে অবাক লাগল পাঁচ জন ডাক্তার ওনাকে এসিস্ট করছে।আমি দুই ঘন্টা অপেক্ষা করেছি।সিরিয়াল নিয়ে।৭ দিন আগে সিরিয়াল নিয়েছি। চুপ চাপ বসে ছিলাম।সময় হতেই ডাক পরল। আমাকে ৩০ মিনিট দেখল। সব কাউন্সেলিং করে আমি সন্তুষ্ট হবার পর জিজ্ঞেস করলেন আমি কি করি। আমি ডাক্তার পরিচয় দিলাম। ছানির অপারেশন ৮০০০০(আশি হাজার) টাকা লাগবে।

উনি ভিজিট নেন নি। ভিজিট ৮০০ টাকা। লেন্সের দাম ৬০০০০ টাকা। বাকী হাসপাতালের খরচ। উনি নিজের চার্জ কোন ডাক্তার এর কাছে নেন না।

আমরা ওয়েস্টিন বা সোনারগাঁও হোটেলে বিল দেই প্রতিজনের ৫০০০ টাকা ভাল বা কোয়ালিটি ফুড বলে কথা। উকিল কে একটা রীটের প্রাথমিক খরচ দেই ১ লক্ষ টাকা।ওখানে সমস্যা নেই।

শুধু ডাক্তার এর ক্ষেত্রে সমস্যা। অথচ নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা খরচ করতে একটি পেশার লোকজন কে কসাই বলে ফেলি। আমার এক বন্ধুর আমেরিকায় হার্টের বাই পাস হলো।বাংলাদেশী টাকায় ৬০ লক্ষ টাকা।ইন্সিওরেন্স কাভার আছে।

আমি শ্রদ্ধেয় প্রফেসর কে কোনদিন দেখিনি। তিনি পরিচিত নন। ৩০ মিঃ ব্যায় করে ভিজিট নেন নি।উনি জানতেন না আমি ডাক্তার। আমি উনার কাছে কৃতজ্ঞ।
শিক্ষনীয় বিষয়ঃ

১। মানসন্মত চিকিৎসার জন্য টাকা খরচ হয়।

২। অবকাঠামো ও প্রশিক্ষিত জন শক্তি থাকতে হয়

৩। রোগী হিসেবে ধৈর্য্যশীল ও বিনয়ী হতে হয়।

৪। সাধারণত ডাক্তার তার পেশার স্বার্থেই ভাল ব্যবহার করে থাকেন।

৫। নির্দিষ্ট সংখ্যক রোগী দেখা উচিৎ।

সরকারি হাসপাতালের বাস্তবতাঃ
১। ধারন ক্ষমতার ৪/৬ গুন রোগী ভর্তি হয়।

২। দক্ষ ডাক্তার ও প্রশিক্ষিত প্যারামেডিক ও নার্সের অভাব।

৩। ৫০০ শয্যার হাসপাতাল এর জনবল দিয়ে ৩৪০০ ইনডোর রোগী ও ৫০০০ হাজার আউটডোর রোগী দেখা মানসন্মত ভাবে দেখা অসম্ভব।

৪। দায় ডাক্তার দের একার না। দায় সবার; মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রতিনিধি ও নাগরিকদের।.

★একটি যুগোপযোগী স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ইউজার ফি বাড়ানো উচিৎ।

★লিন (Lean) হাসপাতাল কনসেপ্ট এ যাওয়া উচিৎ।

★পেয়িং বেড ৫০% করা উচিৎ।

★গরীব রোগী দের জন্য ফ্রি থাকবে

★হাসপাতাল ফাউন্ডেশন এর মাধ্যমে আয়ের ব্যবস্থা করে সার্ভিস এর মান বাড়ানো উচিৎ

★রেফারেল সিস্টেম চালু করা উচিৎ।

★হেলথ আই ডি করা উচিৎ

★হেলথ ইন্সিউরেন্স চালু করা উচিৎ

★কোয়াকদের প্র্যাকটিস সমপুর্ন বন্ধ করা উচিৎ

★ প্রতি থানায় জি পি সেন্টার করা উচিৎ।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নাসির উদ্দিন আহমেদ
পরিচালক, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

শেয়ার করুনঃ Facebook Google LinkedIn Print Email
পোষ্টট্যাগঃ একজন, নাসির উদ্দিন আহমেদ, প্রফেসর,

পাঠকদের মন্তব্যঃ ( 0)




Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

Advertisement
Advertisement
Advertisement
.