মূল অংশে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের সঙ্গে থাকুন
সাবস্ক্রাইব করুন
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬৮ কার্তিক ১৪৩৩ · ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
sticky

শেবাচিমহা, বরিশালে রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হামলা (প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা)

প্ল্যাটফর্ম কনট্রিবিউটরপ্রকাশ: ১০ জুন ২০১৫, ১২:৫৭ · ২ মিনিটে পড়ুন
শেবাচিমহা, বরিশালে রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হামলা (প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা)
লেখার আকার

ডাক্তার হিসেবে একটা ভয়ংকর অভিজ্ঞতার দ্বারপ্রান্তে ছিলাম আজ….
কাগজে কলমে আজকেই আমার মেডিসিনের প্রথম ডিউটি ছিল। সন্ধার আগে আগে ওয়ার্ডে যখন পেশেন্ট দেখছিলাম তখন হঠাৎ প্রচুর চিতকার চেঁচামিচি কানে আসলো। বাইরে বের হয়ে দেখি মেডিসিন ফোর ইউনিটের বারান্দায় আর সামনে প্রায় শ খানেক মানুষ জমে গেছে। ওখানে আজকে এডমিশন ছিল। এগুতে এগুতেই শুনলাম পাশের কেডিসি এলাকার একজন মারা গেছে। কিছু মানুষের প্রচন্ড উত্তেজনা দেখে বুঝলাম ঘটনা স্বাভাবিক না, ঘাপলা আছে। দূর থেকেই দেখলাম একজন মিডলেভেল ডাক্তার আর একজন ইন্টার্ন রোগী দেখছে আর আশেপাশে মানুষজন ঘিরে ধরে প্রচুর চিল্লাপাল্লা করছে। অবস্থা বেগতিক, নিজের পীঠ বাঁচানো ফরজ। তাই কাঁধ থেকে স্টেথো আর বিপি নামিয়ে পাশে একজনের কাছে দিলাম। তারপর ভীড় ঠেলে ডাক্তারদের কাছে গেলাম। সম্ভবত হার্ট ফেইলিউরের রোগী, ডায়াগনসিস সম্ভব ছিল না, অলরেডী মারা গেছে অনেকক্ষণ হল। রোগীর লোকদের অভিযোগ, রোগী উপরে আনতে আনতে মারা গেছে, নীচেই ট্রীটমেন্ট দেয়া হল না কেন। ওদিকে ইমারজেন্সীতে ডাক্তার নামাজ পড়ছিল, রোগীর অবস্থা খারাপ দেখে অথবা মারা গেছে সেটা বুঝতে না পেরে ব্রাদার দ্রুত উপরে পাঠিয়ে
দিয়েছে। অবস্থা বুঝে শুনে রোগীর উত্তেজিত লোকদের কাউন্সেলিং করার চেষ্টা করলাম, আর চিতকার করে আশেপাশের মানুষদের সড়িয়ে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ণ্ত্রনে আনার চেষ্টা করা হল। এরি মধ্যে দেখি কিছু যুবক বয়সীরা ফোনটোন করে আরো মানুষ আসতে বলছে। তারমানে কাহিনী আরো বাকী আছে। মোটামুটি বাইরের পার্ট চুকিয়ে ভেতরে গিয়েই ফোন করলাম বরিশাল পুলিশের ডেপুটী কমিশনারকে, আগে থেকেই তার সাথে বেশ ভাল সম্পর্ক ছিল। দ্রুত ফোর্স পাঠারনোর আশ্বাস পেলাম।
কিছুক্ষন পরে শুনলাম রোগীর লোকজন নীচে নেমে সাথে সাথেই তান্ডব শুরু করে দিয়েছে, এক ব্রাদারকে ধরে মারধোর করেছে। সৌভাজ্ঞক্রমে ডাক্তার অক্ষত রয়েছেন। পুলিশ এসে দুইজন হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। এই হল পরিস্থিতি।
আজকে হয়তো আমাদের কারো কোন কিছু হয় নি, কিন্তু কালকে??? কেউ মারা গেলে বা পান থেকে চুন খসলেই যেভাবে মানুষজন চড়াও হয় তাতে সত্যি খুব অসহায় লাগে। মানুষ ভুলে যায় ডাক্তারও একজন মানুষ।
ডাক্তারী জীবন শুরু করার শুরুতেই যেসব ভয়ংকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছি তাতে অসহায় লাগাটাই স্বাভাবিক

পাঠিয়েছেন : ডা. মোঃ আসিফ উদ্দিন খান

খবরটি শেয়ার করুন

সম্পর্কিত খবর

রেসিডেন্ট শিক্ষার্থীদের ভাতা বৃদ্ধি পেল ও চালু হলো পরিবহণ সুবিধা বিএসএমএমইউ তে

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে গেল আজ বেসরকারি রেসিডেন্টদের পারিতোষিক বৃদ্ধি ও পরিবহন চালু - এর উদ্বোধনি অনুষ্ঠান। আমাদের দেশের তুলনায় বিভিন্ন দেশে রেসিডেন্ট শিক্ষার্থীদের ভাতা অনেক বেশি। পূর্বে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ কালে ভাতা প্রাপ্তি হবে বিষয়টা অভাবনীয় ছিল। ভাতা…

২২ নভেম্বর ২০১৭বিস্তারিত পড়ুন

মুক্তামনির হাতে চামড়া লাগানোর কাজ সমাপ্ত

পুরো হাতে চামড়া লাগলো মুক্তামনির মুক্তামনির পুরো হাতে চামড়া লাগানোর কাজ শেষ করেছেন চিকিৎসকরা। সোমবার (৬ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে মুক্তামনিকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয় এবং দেড় ঘণ্টা পর তাকে বের করা হয়। বর্তমানে তাকে আইসিইউ বা ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে…

৭ নভেম্বর ২০১৭বিস্তারিত পড়ুন

৬১ তম সিএমসি ডেঃ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ- আমার গর্ব

২৬ মার্চ, ১৯৭১। স্বাধীনতার ঘোষণা চট্টগ্রামে এসে পৌঁছেছে। চট্টগ্রাম মহানগরীর তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে তখন চাঞ্চল্য, দ্বিধা, উত্তেজনা। রাস্তায় রাস্তায় ব্যারিকেড, কেউ কেউ নিচ্ছেন সশস্ত্র সংগ্রামের প্রস্তুতি। তখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে চলছে অন্য এক প্রস্তুতি। ইতিহাসে কল্পনা চলে না, তিনটি…

২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭বিস্তারিত পড়ুন

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘর পূরণ করা জরুরি।

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।
নোটিফিকেশন বর্তমানে বন্ধ।