মূল অংশে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের সঙ্গে থাকুন
সাবস্ক্রাইব করুন
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬১২ কার্তিক ১৪৩৩ · ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ক্যাম্পাস নিউজ

শত বছরের গচ্ছিত গল্পঃ মিটফোর্ড ডে

প্ল্যাটফর্ম কনট্রিবিউটরপ্রকাশ: ২ মে ২০১৭, ৭:৩৮ · ৪ মিনিটে পড়ুন
শত বছরের গচ্ছিত গল্পঃ মিটফোর্ড ডে
লেখার আকার

আজকে আমরা যেই গল্পটি সম্পর্কে জানবো তার জন্যে আমাদের যেতে হবে ২৩৫ বছর পেছনে , ১৭৮৩ সাল । ইংল্যান্ডের এক ঐতিহ্যবাহী , সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেন রবার্ট মিটফোর্ড । তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্যের স্বরূপ হিসেবে ইংল্যান্ডের নর্দাম্বারল্যান্ডে আজও মিটফোর্ড দুর্গ ( Mitford Castle) দাঁড়িয়ে আছে সগর্বে । পিতা জন মিটফোর্ড তৎকালীন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন । লন্ডনে পড়ালেখা শেষ করে ১৭৯৮ সালে যোগ দেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে রাইটার হিসেবে যোগ দিয়ে ভারতবর্ষে পাড়ি জমান । বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন পদে চাকুরি করে তিনি ১৮১৬ সালে ঢাকা জেলার কালেক্টর ও প্রশাসক হিসেবে আসেন ।

তিনি যখন ঢাকায় আসেন তখন ঢাকার অবস্থা খুবই করুণ । আগের সব ঐতিহ্য বিলীন হয়ে গিয়েছে ততদিনে । জনজীবনে নেমে এসেছিলো চরম দুর্দশা । অনেকেই তখন ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে গিয়েছিলো । বিভিন্ন মহামারী , রোগ-শোক আর ক্ষুধা হাজার মানুষকে ঠেলে দিয়েছিলো মৃত্যুর মুখে । এই করুণ চিত্র রবার্ট মিটফোর্ডের মনে গভীর রেখাপাত করে । ১৮২১ সাল পর্যন্ত অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালনের পর ১৮২১ সালে তিনি ঢাকা প্রভিন্সিয়াল কোর্ট অব আপিল এন্ড সার্কিটের দ্বিতীয় জজ নিযুক্ত হন । ১৮২৮ সালে তিনি অবসরে যাওয়া পর্যন্ত এই পদেই ছিলেন । প্রায় ত্রিশ বছর ভারতবর্ষে অবস্থান করার পর অবশেষে তিনি স্বদেশভুমি ইংল্যান্ডে ফিরে যান ।

কিন্তু তাঁর পরবর্তী জীবন খুব একটা সুখকর ছিলো না । এমনি এক ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বেদনাদায়ক অবস্থার মধ্যে ১৮৩৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ২১ তারিখ তাঁর মৃত্যু হয় । কিন্তু মারা যাবার আগে মিটফোর্ড একটি উইল করে যান । উইলের কয়েকটি ধারায় মিটফোর্ড তাঁর সম্পত্তি বন্টনের কিছু নির্দেশ দিয়ে যান । উইলের অষ্টম ধারায় তিনি তাঁর ঘোড়াগুলি দেখাশোনার জন্যে বাৎসরিক একটি তহবিল করার নির্দেশ দেন । আর নবম ধারায় ঢাকা সংক্রান্ত বিখ্যাত নির্দেশ লিপিবদ্ধ করেন , ” উইলে উল্লেখিত সবাইকে দেওয়ার পর অবশিষ্ট যা থাকবে তা ঢাকার অসহায় মানুষদের উপকারে ব্যয় করা হবে ” কিন্তু রবার্টের এই উইল অনেকেই মেনে নিতে পারেননি । বিশেষ করে তাঁর স্ত্রী যার সাথে রবার্টের কখনোই খুব একটা সুসম্পর্ক ছিলো না তিনি লন্ডনে হাইকোর্টের চ্যান্সারি বিভাগে মামলা করেন । তাঁর কৌসুলি উইলের নবম ধারাকে বিপর্যয়ে ফেলার চেষ্টা করেন । ১৮৩৮ সালে ঢাকাবাসীর পক্ষে রায় আসলেও আপিলের কারণে মামলা আরও দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে । অবশেষে ১৮৫০ সালে চূড়ান্ত রায়ের পর প্রায় ১,৬০,০০০ টাকা বাংলা সরকারকে দেওয়ার জন্যে ভারত সরকারের কাছে পাঠানো হয় । তখনকার দিনের জন্যে এটি ছিলো চিন্তার বাইরে একটি টাকার অঙ্ক ।

এতগুলো টাকা দিয়ে কি করা যায় তা নিয়ে টাকা আসার আগেই জল্পনা কল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছিলো । অবশেষে লর্ড ডালহৌসি নেন সিদ্ধান্ত । তখন ডালহৌসির চোখে নতুন ভারতবর্ষ গড়ার স্বপ্ন । ১৮৫২ সালের ৪ অক্টোবর তিনি এক চিঠি লিখেন যা আধুনিক বাংলাদেশের এক ঐতিহাসিক দলিল এবং মিটফোর্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দিক নির্দেশধারী । তিনি মিটফোর্ড হাসপাতালকে কেবল একটি হাসপাতাল হিসেবেই দেখেননি বরং এই অঞ্চলের সামাজিক ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের এক বিপ্লব সৃষ্টিকারী অনুঘটক হিসেবেও দেখতে চেয়েছিলেন । একটি মজার ব্যপার হলো তখন মিটফোর্ডের মাত্র দুটি ঘোড়া জীবিত ছিলো । কিছুদিনের মধ্যে ঐ ঘোড়া মারা যাবার পর বাংলা সরকার আরও প্রায় ১৮,৫০০ /- টাকা পায় । ১৮৫৪ থেকে ১৮৫৮ সাল । বুড়িগঙ্গার পাড়ে তৈরী হয়ে গেলো ১০০ মানুষকে সেবা দিতে পারার মত মূল হাসপাতাল ভবন । কিছুদিন পরে হাসপাতাল প্রাঙ্গণটিকে একটি বাগানের রূপ দেওয়া হয় । হাসপাতালের পুরো পরিবেশ তখন বেশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে । ১৮৫৮ সালের ১ মে , যখন সিভিল সার্জন এসে নতুন মিটফোর্ড হাসপাতাল ভবনে রোগীদের দেখাশোনা শুরু করলেন সেই সময় থেকে পূর্ববাংলার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের শুরু হলো ।

Courtesy: Humans of Mitford
https://www.facebook.com/humansofmitford/

খবরটি শেয়ার করুন

সম্পর্কিত খবর

ঢাকা মেডিকেল কলেজে “The Research Journey: From Idea to Publication” শীর্ষক গবেষণা পদ্ধতি কোর্সের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক/ প্ল্যাটফর্ম ২২ সপ্তাহব্যাপী সাপ্তাহিক লেকচারের এই সার্টিফায়েড কোর্সে গবেষণার ধারণা তৈরি থেকে শুরু করে গবেষণা সম্পাদন এবং প্রকাশনা পর্যন্ত ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। চিকিৎসক, শিক্ষক ও তরুণ গবেষকদের গবেষণা-দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মানসম্মত গবেষণা প্রকাশনায় উৎসাহিত করাই এর…

২৬ অক্টোবর ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন

নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হলো ‘ন্যাশনাল বায়োমেড হেলথ অ্যান্ড রিসার্চ কনফারেন্স-২০২৬’

প্ল্যাটফর্ম প্রতিবেদক/ঢাকা: “Bridging Knowledge, Building Futures: Collaborative Research for a Healthier Bangladesh” প্রতিপাদ্য নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে অনুষ্ঠিত হলো ‘ন্যাশনাল বায়োমেড হেলথ অ্যান্ড রিসার্চ কনফারেন্স ২০২৬’। ১৫ ও ১৬ অক্টোবর ঢাকা মেডিকেল কলেজের শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলন অডিটোরিয়ামে…

২০ অক্টোবর ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন

ঢাকা মেডিকেল কলেজে ইন্টারনাল মেডিসিন ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ অনুষ্ঠিত

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ “Inspiring the Future of Internal Medicine” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঢাকা মেডিকেল কলেজে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ইন্টারনাল মেডিসিন ফেস্টিভ্যাল ২০২৬। ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজের শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলন অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।…

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘর পূরণ করা জরুরি।

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।
নোটিফিকেশন বর্তমানে বন্ধ।