শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩, ২০ রবিউস সানি ১৪৪৮
Sponsored
▶
ADVERTISEMENT
Image • Video • Banner Demo Area
সংবাদ

মেজর জেনারেল ডা. এম এ বাকী এক অনুপ্রেরণার নাম

অধ্যাপক মেজর জেনারেল ডা. এম এ বাকী (অবসরপ্রাপ্ত), বর্তমানে ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করা প্রথম ডাক্তার যিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এর মেজর জেনারেল পদে দায়িত্ব পালন করেন। আসুন সংক্্ষেপে শুনি এই প্রথিতযশা সার্জনের আত্মজীবনী।

“৭০ সালে এসএসসি দিয়ে যখন ঢাকা কলেজে ভর্তি হই তার কিছুদিন পরই শুরু হয়ে যায় মুক্তিযুদ্ধ। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। আমার বড়ভাই ৯ মাস যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি যুদ্ধ করেছিলেন। চারিদিকে যুদ্ধের ভয়াবহতা তখন চরমে। তাই যুদ্ধ শুরু হবার পর কিছুদিন পর বাবা মা আর আমি গ্রামে চলে যাই। তবে সেখানে আমি বসে থাকিনি, একজন সংগঠক হিসেবে কাজ করি। মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করি। গ্রামে আমাদের পাশের বাড়িটি ছিলো রাজাকারের। মুক্তিযোদ্ধারা অপারেশন শেষ করে যাওয়ার সময় আমাকে অন্ধকারে দেখতে পায় ,তারা গুলিও তাক করে ফায়ার করবে বলে। পরে আমাকে চিনতে পেরে রাইফেল নামিয়ে ফেলেছিলো , আর তাঁদের অপারেশনের বিভিন্ন গল্প আমার সাথে করেছিলো।

৭২ সালে ইন্টার পরীক্ষায় ফার্স্ট ডিভিসন পেয়ে পাশ করে চান্স পাই বুয়েটে কিন্তু মার ইচ্ছা ছিলো আমি যেনো ডাক্তার হই। তাই ৭৩ সালে ভর্তি হই স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে। তখন এই মেডিকেল কলেজ মাত্র যাত্রা শুরু করেছে। আমাদের হোস্টেলের সিট নিয়ে বেশ কষ্ট করতে হয়েছিলো। প্রথম দেড় বছর বিশাল কমনরুমে অনেকজন মিলে থাকতে হত। তারপর আমরা সিট পাই পক্স ওয়ার্ডে যার বর্তমান নাম আলাউদ্দিন হোস্টেল। কিন্তু সেখানে তখনো সব সুযোগ সুবিধা ছিলো না। তাই দুপুরে মেইন হোস্টেলে গিয়ে গোসল , খাওয়া-দাওয়া করে আমরা পড়তে যেতাম। আমরা যখন ইন্টার্নি করি তখন বাংলাদেশ আর্মি থেকে একটা টিম এসে আমাদের ব্রিফ করে। আমিও অনেক কিছু বিবেচনা করে আর্মিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই।৭৯ সালে আমি আর্মিতে জয়েনকরি।

প্রথমে মেডিকেল অফিসার হিসেবে ছিলাম আমি। তারপর আর্মিতে একটা পরীক্ষা দেই আমি। তারা আমাকে সার্জারীতে সিলেক্ট করলো। এরপর আমি হলাম Graded Specialist in Surgery। ৯৮ এ আমি সার্জারীতে এফসিপিএস কমপ্লিট করি। এর মাঝে আমাকে দেড় বছরের একটা ট্রেনিং এর মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিলো। খুব কঠিন ছিলো ট্রেনিংটা। সারাদিন হাসপাতালে কাজ করতে হত। এমনও হত পুরো হাসপাতালে সার্জারীতে আমিই ছিলাম একমাত্র ডাক্তার। রোগিদের ইনভেস্টিগেশন, ডায়াগনোসিস করে, অপারেশন করা,
প্রি-অপারেটিভ, পোস্ট-অপারেটিভ সব আমাকেই করতে হত। রাতে বাসায় গিয়ে আবার পরদিন ভোর ৬ টায় কাজে যেতাম। অমানসিক পরিশ্রম করতে হত। তবে রোগিদের ভালবাসাও পেয়েছি এইক্ষেত্রে , যা আমার প্রেরণা হয়ে কাজ করেছে সবসময়।

আমি তখন রংপুর সিএমএইচে। এক ছেলে আসলো অনেক কমপ্লিকেটেড কেস নিয়ে। সে ইন্ডিয়া গিয়ে ডাক্তার দেখিয়ে এসেছিলো কিন্তু সেখানকার ডাক্তাররা কিছু করতে পারেনি।অবশেষে আমি তার কেসটা নেই এবং অপারেশন করি । পরে সে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যায়। আমার এখনো মনে আছে তার নাম ছিলো সালেহ। এই ঘটনার পর আমি আত্মবিশ্বাস পাই এবং সার্জারীতে ক্যারিয়ার করার সিদ্ধান্ত নেই। কারণ সার্জন হওয়া বেশ কঠিন একটা বিষয়। এখানে শারীরিক ও মানসিক শক্তি যেমন দরকার, তেমনই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও থাকা দরকার। আর আমার ক্যারিয়ারে সবসময় আমার পাশে থেকে এগিয়ে যাবার অনুপ্রেরণা দিয়েছেন আমার স্ত্রী। উনার সহযোগিতা না থাকলে আমি হয়তবা এতদূর আসতে পারতাম না।

সরকার থেকে আমাকে সাংহাই, সিঙ্গাপুরে সার্জারীতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিতে পাঠানো হয়। বিদেশে অনেক ওয়ার্কশপেও অংশগ্রহণ করেছি আমি। বিভিন্ন জার্নালে আমার প্রায় ১৫/১৬ টি পাব্লিকেশন আছে। আমার মনে হয় প্রফেসনালিজম থাকা উচিত সব ডাক্তারের আর থাকতে হবে ডেডিকেশন। আর্মি হোক আর সিভিল হোক ডাক্তারের কাজ তো একই ,মানুষের সেবা করা। তাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাটা সবার মধ্যে থাকতে হবে।কারণ আমি মনে করি ওইটাই আমাদের বেসিক, দেশগড়ার অনুপ্রেরণা।”

আত্মজীবনী সংগ্রহ: হিউম্যানস অব মিটফোর্ড
সম্পাদনা: বনফুল

সাম্প্রতিক সংবাদ

[bd_prayer_times]

সম্পর্কিত সংবাদ

World Health Organization

কলেরা, মেনিনজাইটিস ও প্লেগের সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রবণতা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

প্ল্যাটফর্ম প্রতিবেদক: এস এম এম মুসাব্বির উদ্দিন বিশ্ব  স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী কলেরায় মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে প্রতিবেদন করা কলেরা আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। সর্বশেষ Weekly Epidemiological Record-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কলেরায় মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে

বিস্তারিত পড়ুন
ফাইল ছবি
আন্দোলন

বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ করা ও নতুন পে-স্কেলের আলোকে ভাতা বৃদ্ধিসহ ৫ দফা দাবিতে চিকিৎসকদের মানববন্ধন

বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ নির্ধারণ করে ঘোষিত ৫১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সংশোধিত সার্কুলার জারি, নতুন পে-স্কেলের সমন্বয়পূর্বক রেসিডেন্সি, এফসিপিএস, ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের ভাতা বৃদ্ধিসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকগণ এবং ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিস (ডিএমজে)। আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে এ দাবি

বিস্তারিত পড়ুন
রোগ বিষয়ক তথ্য

বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট আমদানি বন্ধ, তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি গ্লাইফোসেট নিয়ে

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট গ্রুপের আমদানি, নতুন নিবন্ধন ও লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বালাইনাশক কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি। দেশে মজুত থাকা প্যারাকোয়াট গ্রুপের বালাইনাশক ছয় মাসের মধ্যে শূণ্য করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে গ্লাইফোসেট নিয়ে তেমন কোনো সিদ্ধান্ত আসি নি। চলুন আমরা জানি প্যারাকোয়াট নিষিদ্ধ

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিনামুল্যে ৬ টি সফল লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন, প্রস্তুত আরও ৪ টি

২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার, ২০২৬ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হস্পিটালে বিনামূল্যে ছয়টি লিভার (যকৃত) প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত এই জটিল অস্ত্রোপচার করা হবে। বছরে অন্তত ২৪টি লিভার প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এফ এম

বিস্তারিত পড়ুন
ডেঙ্গু

ঢাকা শহর ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত, মানুষ সচেতন হলে ঢাকা শহর সুস্থ হবে

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ঢাকা শহরে ডেঙ্গু এখন আর শুধু একটি মৌসুম নয়, এটি একটি জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা ও বর্ষা পরবর্তী সময়ে রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা ঘনত্ব বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগর পরিকল্পনা, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জমে থাকা পানিতে এডিস

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন করলো বিএমইউ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতার মাধ্যমে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ)। এর মধ্য দিয়ে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএমইউতে

বিস্তারিত পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।