রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩, ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮
Sponsored
▶
ADVERTISEMENT
Image • Video • Banner Demo Area
সংবাদ

প্রশ্নের জবাব: ইসলাম কি সংক্রামক ব্যাধি সাপোর্ট করে?

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ১৫ এপ্রিল ২০২০:

ডা. ইসমাইল আজহারি

হযরত আবু হুরাইরা রাঃ থেকে বোখারী শরিফে একটি হাদীস এসেছে, “রাসুল কারীম (সাঃ) বলেন, (লা আদওয়া) অর্থাৎ, সংক্রামক ব্যাধি বলতে কিছুই নাই।” (বোখারী শরীফ ৫৩১৬)

এখানে এই হাদীস নিয়ে বিভিন্ন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। যদি কোনো আলেম মেডিকেল সাইন্স ও Theory of disease causation (রোগ সৃষ্টির তত্ত্ব) এর আলোকে ব্যাখ্যা করতেন, তাহলে এই হাদীস নিয়ে কারো প্রশ্ন করার কোনো সুযোগ থাকতো না।

এবার আসি, এই পবিত্র হাদীসে মূলত রাসূল কারীম কি বুঝিয়েছেন। রাসূল কারীম (সাঃ) আজ থেকে প্রায় সাড়ে চোদ্দশ বছর আগে, যখন আরবের মাঝে শত শত কুসংস্কারাপূর্ণ বিশ্বাস প্রচলিত ছিলো, তখন এইসব কুসংস্কার দূর করার জন্য এই হাদীস বলেন। আরবের যেসব কুসংস্কার এই হাদীসে উল্লেখ হয়েছিল, তা ছিলো মোটামুটি নিম্নরুপ,

১. তারা বিশ্বাস করতো, কোন একজন মানুষের যে কোনো রোগ হলে তা তার আশে পাশের সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়বে। তাই তারা কারো রোগ হলে তাকে সামাজিক ভাবে বয়কট করে দিতো। পেটে ব্যথা হলেও তারা এমন আচরণ করতো, জ্বর হলেও তারা এমন আচরণ করতো। কোনো কারণে কারো মাথা ব্যথা হলেও তারা ভাবতো, এটা পুরো কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়বে। তাই তারা যে কোনো রোগীকে সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দিতো। আর ভাবতো, যে কোনো রোগ হচ্ছে স্রষ্টার পক্ষ থেকে শাস্তি। তাদের ধারণা এমন পর্যন্ত ছিলো যে, কেউ যদি কোনো ফলের ঘ্রাণ নিতো, তার মাঝেও রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকতো।

কমিউনিটি মেডিসিন যারা পড়েছেন, তারা অবশ্যই জানবেন, Theory of Disease Causation এর old concept গুলি ছিলো পরিপূর্ণ অজ্ঞতাপূর্ণ। আমি এখানে কয়েকটি old concept উল্লেখ করছি।

১। Demonic theory:

একে devil theory ও বলা হয়। প্রাচীনকালে এই থিওরীর প্রচলণ ছিলো। এই থিওরি অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির আত্মা কিংবা কোনো আধ্যাত্মিক শক্তি কিংবা কোন দৈত্য যে কোনো রোগের জন্য দায়ী। তাই তাদের বিশ্বাস ছিলো, কারো রোগ হলে আধ্যাত্মিকভাবে তা অন্যের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ে।

২। Punitive theory:

এই থিওরি অনুযায়ী রোগ হয়ে থাকে স্রষ্টার পক্ষ থেকে শাস্তি হিসাবে। তাই কেউ অসুস্থ হলে তারা মনে করতো তার উপর স্রষ্টার অসন্তুষ্টি রয়েছে। তাই তার সাথে থাকলে রোগ আমাদের মাঝেও চলে আসবে। যে কোনো রোগকে তারা divine punishment হিসাবে চিহ্নিত করতো।

৩। Miasmatic Theory

এই থিওরি হিসাবে বিশ্বাস করা হতো যে, কোনো গন্ধ যুক্ত বাতাস থেকে রোগ ছড়ায়। এমন কি তারা মনে করতো, ফলের ঘ্রাণ নিলে স্থূলতা হতে পারে।

এর পর আসে আধুনিক Germ Theory, যেখানে রোগের জন্য জীবাণুকে দায়ী করা হয়ে থাকে।

মানুষের বিশ্বাস ছিলো, রোগ হচ্ছে স্রষ্টার শাস্তি কিংবা রোগ ছড়ায় কোনো দৈত্যের মাধ্যমে। তাদের বিশ্বাস ছিলো পরিপূর্ণ ভ্রান্ত। তাদের মতে, দৈত্য দিয়ে কিংবা মৃত মানুষের আত্মা দিয়ে একজনের রোগ অন্যের মাঝে সংক্রমিত হয়ে পড়ে। তখন এই কুসংস্কার দূর করণের জন্য রাসুল কারীম (সাঃ) বলেন, “কোনো সংক্রমণ ব্যাধির থিওরি ইসলামে নাই।” অর্থাৎ সকল রোগ সংক্রমিত নয়।(Not every disease is contagious)

এই হাদীসে রাসূল কারীম সাঃ Contagious disease কে বা সংক্রমণ ব্যাধিকে অস্বীকার করেন নাই। বরং রাসুল কারীম সাঃ তাদের অন্ধ বিশ্বাস কে ভেঙে দিতে এই ঘোষনা দিয়েছেন যে, রোগ সংক্রমণের ব্যাপারে তোমাদের যেই ধারনা, তা পরিত্যাজ্য। তখন এক সাহাবী জিজ্ঞাস করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল, তাহলে আপনি আমাদের উটের পাল সম্পর্কে কি বলবেন, যেই উট গুলি মরুভুমিতে থাকে, এবং তাদের একটি উটে itching বা চুলকানি দেখা দিলে ধাপে ধাপে তা অন্য উটদের কে সংক্রমিত করে দেয়?” তখন রাসূল সাঃ বললেন, “তাহলে প্রথম যে উট আক্রান্ত হয়েছে, তাকে কে সংক্রমিত করেছে?”

এখানে লক্ষ করুন, আল্লাহর রাসূল ওই সাহাবির প্রশ্নের উত্তরে সংক্রমণ ব্যাধিকে অস্বীকার করেন নাই। বরং বোঝাতে চেয়েছেন যে, সংক্রমণ নিজে নিজে হয় না। প্রথম সংক্রমণ হয় আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর পরবর্তি সংক্রমণগুলি হয় সংস্পর্শে আসার কারণে।

এই হাদীসে রাসূল সাঃ মূলত তাদের অন্ধ বিশ্বাস ভেঙে দিয়েছেন, যারা মনে করতো, প্রতিটি রোগ সংক্রমণশীল। কারণ সব রোগ সংক্রমণশীল না, যেমন ডায়াবেটিস , হাইপারটেনশন ইত্যাদি। এইগুলি সংক্রমণ ব্যাধি না।

অন্য হাদীস থেকেও এ বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া যায়। রাসূল কারীম সাঃ বলেন, “তোমরা মহামারি (সংক্রমন ব্যাধি) থেকে এমন ভাবে ভাগো, যেমন ভাবে তোমরা সিংহ দেখলে পলায়ন করো।” (বোখারি:- ৫৭০৭) এই হাদীসে মুলত রাসুল কারীম সাঃ উম্মত কে basic personal protection শিক্ষা দিয়েছেন।

অন্য এক হাদীসে রাসূল কারীম (সাঃ) ইরশাদ করেন, “তোমরা যদি কোনো এলাকায় মহামারী দেখো, তাহলে সেখানে প্রবেশ করো না, আর তোমরা যদি পূর্ব থেকে ওই এলাকায় থাকো, তাহলে মহামারী শুরু হলে এলাকা থেকে বের হয়ো না।” (বোখারী ৫৩৯৬) অর্থাৎ, লক ডাউন মেনে চলো।

এই হাদীস থেকে সুস্পষ্টভাবে সংক্রমণ ব্যাধির অস্তিত্ব বোঝা যায়। তাই করোনা যেহেতু সংক্রমণ ব্যাধি, একজন সুস্থ ব্যক্তি অন্যজন আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসলে ভাইরাস (ক্ষুদ্র অনুজীব) আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে সুস্থ ব্যক্তির শরীরে পরিবাহিত হবে৷ তা হাঁচি, কাশি কিংবা আক্রান্ত ব্যক্তির ডাইরেক্ট সংস্পর্শেও হতে পারে, তাই ইসলাম এই ক্ষেত্রে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার জন্য নির্দেশ দিয়েছে।

সাম্প্রতিক সংবাদ

[bd_prayer_times]

সম্পর্কিত সংবাদ

World Health Organization

কলেরা, মেনিনজাইটিস ও প্লেগের সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রবণতা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

প্ল্যাটফর্ম প্রতিবেদক: এস এম এম মুসাব্বির উদ্দিন বিশ্ব  স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী কলেরায় মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে প্রতিবেদন করা কলেরা আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। সর্বশেষ Weekly Epidemiological Record-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কলেরায় মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে

বিস্তারিত পড়ুন
ফাইল ছবি
আন্দোলন

বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ করা ও নতুন পে-স্কেলের আলোকে ভাতা বৃদ্ধিসহ ৫ দফা দাবিতে চিকিৎসকদের মানববন্ধন

বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ নির্ধারণ করে ঘোষিত ৫১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সংশোধিত সার্কুলার জারি, নতুন পে-স্কেলের সমন্বয়পূর্বক রেসিডেন্সি, এফসিপিএস, ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের ভাতা বৃদ্ধিসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকগণ এবং ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিস (ডিএমজে)। আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে এ দাবি

বিস্তারিত পড়ুন
রোগ বিষয়ক তথ্য

বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট আমদানি বন্ধ, তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি গ্লাইফোসেট নিয়ে

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট গ্রুপের আমদানি, নতুন নিবন্ধন ও লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বালাইনাশক কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি। দেশে মজুত থাকা প্যারাকোয়াট গ্রুপের বালাইনাশক ছয় মাসের মধ্যে শূণ্য করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে গ্লাইফোসেট নিয়ে তেমন কোনো সিদ্ধান্ত আসি নি। চলুন আমরা জানি প্যারাকোয়াট নিষিদ্ধ

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিনামুল্যে ৬ টি সফল লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন, প্রস্তুত আরও ৪ টি

২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার, ২০২৬ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হস্পিটালে বিনামূল্যে ছয়টি লিভার (যকৃত) প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত এই জটিল অস্ত্রোপচার করা হবে। বছরে অন্তত ২৪টি লিভার প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এফ এম

বিস্তারিত পড়ুন
ডেঙ্গু

ঢাকা শহর ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত, মানুষ সচেতন হলে ঢাকা শহর সুস্থ হবে

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ঢাকা শহরে ডেঙ্গু এখন আর শুধু একটি মৌসুম নয়, এটি একটি জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা ও বর্ষা পরবর্তী সময়ে রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা ঘনত্ব বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগর পরিকল্পনা, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জমে থাকা পানিতে এডিস

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন করলো বিএমইউ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতার মাধ্যমে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ)। এর মধ্য দিয়ে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএমইউতে

বিস্তারিত পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।