“বলতে শিখি নাই-রোগী দেখতে শিখেছি”-মাইক্রোফোন হাতে অকপট স্বীকারোক্তি ডাঃ শম্পা বিশ্বাসের । আজ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের কনফারেন্স হলে “ক্যান্সার আক্রান্ত ডাঃ শম্পা বিশ্বাসের চিকিৎসার তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠান” আয়োজন করে গাইনী ও অবস বিভাগ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল । নিজ বক্তব্যের শুরুতে মানব সেবায় ব্রতী একজন চিকিৎসকের প্রতিশ্রুতি স্মরণ করে ডাঃ শম্পা বিশ্বাস এই আয়োজনের প্রতি সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং পরবর্তি চিকিৎসা শেষে তিনি যেন ক্যান্সার সারভাইভর্স হিসেবে সবার মাঝে ফিরে আসতে পারেন-সকলের কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেন । অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে গাইনী ও অবস বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ ফাতেমা আশরাফ ডাঃ শম্পা বিশ্বাসের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে কিভাবে চিকিৎসক সমাজ একতাবদ্ধ হয়েছে, কিভাবে অল্প কিছু দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় অর্থের সিংহভাগ যোগার করা সম্ভব হয়েছে বিস্তারিত বর্ণনা করেন । অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন গাইনী অবস বিভাগের প্রধান ডাঃ ফারহানা দেওয়ান, হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ মজিবর রহমান, সার্জারী বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডাঃ মাহমুদ হাসান,শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সুফিয়া, বিএমএ’র সাংগঠনিক সম্পাদক এবং হাসপাতালের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ উত্তম কুমার বড়ুয়া,ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক এম এ রশিদ,রেনেটা লিমিটেডের হেড অফ মার্কেটিং জনাব মনোয়ার হোসেন । ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের সার্জারী বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডাঃ সেলিম মোস্তাঞ্জির তাঁর বক্তব্যে চিকিৎসকদের জন্য কল্যাণ তহবিল গঠন করার প্রস্তাব করেন । তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য চালু হওয়া কর্পোরেট ইনস্যুরেন্সের মত চিকিৎসকদের জন্য অনুরূপ ব্যবস্থা নেয়া যায় কিনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন । বিএমএ’র সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ডাঃ উত্তম কুমার বড়ুয়া তাঁর বক্তব্যের শুরুতে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিএমএ মহাসচিব অধ্যাপক ডাঃ এম ইকবাল আর্সেনাল স্যারের অনুপস্থিতির জন্য উপস্থিত সুধীর কাছে আন্তরিক ক্ষমা প্রার্থনা করেন । চিকিৎসকদের কল্যাণ তহবিল সম্পর্কে তিনি বলেন, গত দু মাসে বিএমএর পক্ষ থেকে চিকিৎসকদের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে ৭-৮টি চিঠি সাধারণ চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে । ডাঃ শম্পা বিশ্বাসের জন্য বিএমএ মহাসচিব অধ্যাপক এম ইকবাল আর্সেনাল স্বাক্ষরিত চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সকল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউট, বিএসএমএমইউসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পোস্টার টানানো হয়েছে এবং বিএসএমএমইউ’র ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্তের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডাঃ শম্পা বিশ্বাসের জন্য সাহায্য চেয়ে চিঠি পৌঁছানো হয়েছে । অধ্যাপক উত্তম কুমার বড়ুয়া আরো বলেন, বর্তমানে চিকিৎসকদের জন্য একটি ট্রাস্ট গঠন সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন আছে । অনুষ্ঠানে আগত চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত অনুদানের পাশাপাশি সবশেষে রেনেটা লিমিটেডের পক্ষ থেকে হেড অফ মার্কেটিং জনাব মনোয়ার হোসেন ডাঃ শম্পা বিশ্বাসের হাতে “দশ লক্ষ টাকা”র একটি চেক হস্তান্তর করেন । উল্লেখ্য যে ইতিপূর্বে রেনেটা লিমিটেড আরেকজন চিকিৎসক সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ মিজানুর রহমান মুনের উচ্চতর চিকিৎসার্থে পঁয়ষট্টি লক্ষ টাকা অনুদান দেয় চিকিৎসকদের কল্যাণে তাঁদের কৃতজ্ঞতা এবং দায়বদ্ধতার নিদর্শন হিসেবে । ডাঃ শম্পা বিশ্বাসের বক্তব্য দিয়ে আমি ডাঃ মোহিব নীরব, “প্ল্যাটফর্ম” এর পক্ষে শেষ করছি-“আপনারা আজ যেভাবে আমার পাশে দাঁড়ালেন, পূনর্জন্মে আমি আবার চিকিৎসক হতে চাই, আশীর্বাদ করবেন যেন সারা জীবন মানুষের
সেবা করতে পারি” ।
৩০ এপ্রিল, ২০১৪, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ।
আমরাও একটা ভালো খবরের আশায় রইলাম!
প্রতিবেদককে ধন্যবাদ, অনুষ্ঠানের সুন্দর বর্ণনার জন্য।