মূল অংশে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের সঙ্গে থাকুন
সাবস্ক্রাইব করুন
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬১৩ কার্তিক ১৪৩৩ · ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
নির্বাচিত লেখা

ওষুধের ইতিহাস : পর্ব ২ অ্যাসপিরিন (আস্পিরিন)

প্ল্যাটফর্ম কনট্রিবিউটরপ্রকাশ: ৩ নভেম্বর ২০১৮, ৯:৪৫ · ৩ মিনিটে পড়ুন
ওষুধের ইতিহাস : পর্ব ২   অ্যাসপিরিন (আস্পিরিন)
লেখার আকার

রুদ্র মেহেরাব
সাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ
৪র্থ বর্ষ
১৩ তম ব্যাচ

অ্যাসপিরিন । এই শব্দটির সাথে পরিচিতি নেই কিংবা এই ওষুধটির নাম শোনে নি – এমন মানুষ পাওয়া বোধহয় দুষ্কর । মাথা ব্যাথা কিংবা জ্বর হলে আমরা হর-হামেশাই ফার্মেসি থেকে খরিদ করে নিয়ে আসি। তো চলুন জেনে নেয়া যাক ব্যাপক জনপ্রিয় এই ড্রাগটির জন্মকথা ।

খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ এর আগেকার কথা । প্রসবকালীন মায়েদের ব্যাথা প্রাচীন হিপোক্রিসদের মনে দাগ কাটলো । মায়েরা সন্তান ভূমিষ্ঠ করতে গিয়ে কি কষ্ট ই না সহ্য করতেন ! অনেকে সেই ধাক্কা সামলাতে পারতেন না । পরপারে চলে যেতেন । হিপোক্রিসরা মায়েদের মুক্তি দেবার পথ খুজতে লাগলেন । অবশেষে সন্ধান মিললো এক আশ্চার্য গাছের । নাম Willow Tree। এই গাছের বাকল সেবনে একে একে সমাধান হতে লাগলো জ্বর থেকে শুরু করে যাবতীয় সকল রকমের ব্যাথা । এমনকি প্রসবকালীন ব্যাথাতেও বেশ কার্যকারী ভূমিকা পাওয়া গেলো এই গাছের । এই কারনেই সেই সময় willow গাছের বাকল দিয়ে এক বিশেষ ধরনের চা বানানো হতো । কারো ব্যাথা কিংবা জ্বর এলে খাইয়ে দেয়া হতো । বিশেষকরে প্রসূতি মায়েদের । Willow এর বাকলে রয়েছে Salicylic Acid – যেটা Pain Killer হিসেবে কাজ করতো । তবে হিপোক্রিসরা হয়তো জানতো না যে তাদের ও আগে মেসোপটেমীয় যুগে প্রাচীন মিশরীয়রা Willow গাছের বাকলকে ব্যাথানাশক হিসেবে ব্যাবহার করে গিয়েছেন।

‘The Ebers Papyrus’ নামক এক Egyptian Medical বইতে Willow এর Anti Inflamatory Action এবং Pain Relieving এর কথা স্পষ্ট লিখা রয়েছে । তারমানে – এসপিরিন কেবল আধুনিক সভ্যতার ড্রাগ নয় । পরোক্ষভাবে বহুকাল আগে থেকেই এটির ব্যাবহার ছিলো ।

১৭৬৩ সালে এডওয়ার্ড স্টোন লন্ডনের রয়েল সোসাইটি থেকে একখানা গবেষনা পত্র বের করেন । তিনি তার গবেষণা পত্রে উল্লেখ করেন যে Willow বাকলের ড্রাই পাউডার Antiinflamatory Agent হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ Willow Bark জ্বর , ব্যাথা এমনকি Inflamation এর মেজর চারটি সাইনের( Redness, Swelling, Pain, Temperature) উপর ও কাজ করে। দীর্ঘ পাচ বছর হাজারখানেক মানুষের উপর পরিক্ষা চালিয়ে তিনি তার গবেষনা পত্র লিখেছিলেন ।

১৮২৮ সালে মিউনিখ ইউনিভার্সিটির প্রফেসর মিস্টার জোসেফ বাঙ্কার সর্বপ্রথম Willow Bark থেকে এর Active ingredient টা কে আলাদা করতে সক্ষম হয়েছিলেন । তিনি এর নাম রাখেন স্যালিসিন ( Salicin) . এই স্যালিসিনকে প্রথমবারের মতো ক্লিনিকাল ট্রায়ালে আনা হয় ১৮৫৮ সালে । তবে তার আগে ছোট একটি কাজ করা হয়েছিলো নিরীহ স্যালিসিনের উপর । এটির ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর জন্য এর সাথে একটি অ্যাসিটাইল গ্রুপ এড করা হয়েছিলো। ফলে এর চূড়ান্ত রূপ দাড়ায় অ্যাসিটাইল স্যালিসাইলিক এসিড (AcetylSalicylic Acid ) । এই কাজটি প্রথমে করেন চার্লস ফ্রেডরিখ এবং পরবর্তীতে আরো একটু পরিশোধিত করেন “বেয়ার” নামক একটি জার্মান ফার্মাসিউটিকাল কোম্পানি।
১৮৯৯ সালে বেয়ার এক ঐতিহাসিক কাজ করে ফেলে । তারা অ্যাসিটাইল স্যালিসাইলিক এসিড কে- ‘এসপিরিন(Aspirin)’ নাম দিয়ে ফেলে । যেখানে A For Acetyl , ‘spir’ For ‘Spiraea ulmaria’ (স্যালিসিন পাওয়া যায় এমন এক গাছ) ‘in’ হচ্ছে সেই সময়ে ড্রাগের নামকরনে ব্যবহৃত হওয়া একটি Suffix .

১৯৫০ সালে এসপিরিন সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া পেইন কিলার হিসেবে গিনিজ বুকে নাম লিখায়।

১৯৭১ জন ভেইন এসপিরিনের Mechanism Action আবিস্কারের জন্য নোবেল পেয়েছিলেন ।

সেই প্রাচীনকাল থেকে আজ অবধি চিকিৎসা শাস্ত্রের এক নির্ভরতার নাম Aspirin .

খবরটি শেয়ার করুন

সম্পর্কিত খবর

অনুদান নির্ভর নয়, স্বনির্ভর হোক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা – মুজিববর্ষে ‘হাসিখুশি’র দৃপ্ত উচ্চারণ

  প্ল্যাটফর্ম নিউজ, সোমবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৬ ডিসেম্বর ২০২১, বাংলাদেশের বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী। একই বছর স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকার বছরটিকে 'মুজিববর্ষ' ঘোষণা করেছেন।   এই বিশেষ দিনে 'হাসিখুশি' পালন করে ২য়…

২০ ডিসেম্বর ২০২১বিস্তারিত পড়ুন

ওমিক্রনঃ আতংক ও প্রতিরোধ

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ৬ ডিসেম্বর ২০২১, সোমবার করোনা ভাইরাস ২০১৯ এর ডিসেম্বর থেকে এখন অবধি তার রুপ দেখিয়ে চলেছে। সময়ের সাথে সাথে অন্য সব ভাইরাসের মতো করোনা ভাইরাসের পরিবর্তন বা মিউটেশন হয়েছে। WHO করোনার ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন (VOC) হিসেবে এখন পর্যন্ত…

৬ ডিসেম্বর ২০২১বিস্তারিত পড়ুন

শিশুর মানসিক বিকাশে চাই সুষম খাবার

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ২০ আগস্ট ২০২১, শুক্রবার ডা. মোহাম্মদ নেয়ামত হোসেন রিপন সহকারী অধ্যাপক (নিওনেটোলজী) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ, ফরিদপুর। #Early_Childhood_Development: আমাদের বাচ্চাদের ব্রেইনের ৯৫% গঠন হয় প্রথম ৫ বছরে। বাকি ৫% গঠন হয় পরের ৩ বছরে। তাই প্রথম ৮…

২০ আগস্ট ২০২১বিস্তারিত পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘর পূরণ করা জরুরি।

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।
নোটিফিকেশন বর্তমানে বন্ধ।