সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩, ২২ রবিউস সানি ১৪৪৮
Sponsored
▶
ADVERTISEMENT
Image • Video • Banner Demo Area
সংবাদ

একটি ডাক্তার শাসনের(পেটানোর) গল্প, কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নেত্রকোণা, বেলা সাড়ে ১১টা, ৭/২/১৬। ৮-১০জন ব্যক্তি মারধোর শুরু করলো ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসারকে। কর্তব্যরত স্যাকমো, ক্লিনার এগিয়ে আসলে তারাও রেহাই পেলেন না। হইচই শুনে আউটডোর থেকে মেডিকেল অফিসাররা এগিয়ে এলে একজন মেডিকেল অফিসারকে একা পেয়ে চোর পেটানোর মত পেটানো হল। উপায় না দেখে এবার তিনি জীবন বাঁচাতে ছুটলেন। দৌড়ে পালালেন ইউএইচএন্ডএফপিও এর অফিস কক্ষে। ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে রাখলেন।

ডাক্তার শাসন কেন?

ইলেক্ট্রিক শকের একটি বাচ্চাকে ইমার্জেন্সিতে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। তাৎক্ষনিক ইসিজি করে তাকে হাসপাতালে ভর্তির অথবা উচ্চতর চিকিৎসার্থে রেফার করা হচ্ছিল। বাচ্চাটির শক খাওয়ার ঘটনা জানতে পেরে তাঁর আত্মীয় অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এটেন্ডদের দাবি(আবদার) হাসপাতাল থেকে কর্তব্যরত চিকিৎসককেই অন কলে তাঁকে দেখতে যেতে হবে। তখন ঘড়িতে সময় বেলা ১২টার বেশি। আউটডোর তখনো খোলা, অফিস টাইম, ইমার্জেন্সি ২৪ ঘন্টা খোলা রাখতেই হবে তাই চিকিৎসক কলে যেতে রাজি হননি। শুরু হলো অশ্রাব্য গালাগালি, কিল ঘুষি (শাসন)। প্রথমে ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার, এরপর আকাঙ্ক্ষিত মেডিকেল অফিসার যিনি আউটডোরে ডিউটি করছিলেন।

শাসনের পর?
চিকিৎসকেরা স্থানীয় এবং উর্ধতন প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের তাৎক্ষনিক এ ঘটনা অবগত করেন। উত্তর আসে SHOW MUST GO ON, কোন অবস্থাতেই যেন আউটডোর বন্ধ রাখা না হয়। চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন জানানো হয়। কিন্তু ব্যবস্থা কার বিরুদ্ধে নেয়া হবে? শাসক যে স্থানীয় পর্যায়ের জন প্রতিনিধির আত্মীয়। এতো তাঁর মহানুভবতা যে জনপ্রতিনিধি হয়ে নিজ আত্মীয়ের কৃতকর্মের জন্য তিনি ক্ষমা চাইতে এসেছেন। আরেকটা নাটক মঞ্চস্থ হবার অপেক্ষায়, ৮-১০ জন ব্যক্তি হাসতে হাসতে ক্ষমা চাইবেন দু-এক দিনের ভেতরে।

একটি সরল অংকঃ

বাংলাদেশ সরকারের মোট ১৫২৭ ধরনের ছাপানো ফর্ম অনলাইনে পাওয়া যায়। এর মাঝে সবার উপরে-কর্মস্থলে ডাক্তারদের উপস্থিতি পরিবীক্ষণ ছক। সমমর্যাদার আর কোন কর্মকর্তাকে কি কর্মস্থলে হাজিরা খাতায় সই করতে হয়? সমপদ মর্যাদার আর কোন সরকারি কর্মকর্তাকে কখনোই কে এভাবে শারীরিক আঘাত করা হয়েছে? পেশাজীবী হিসেবে কেনই বা স্বাস্থ্য ক্যাডারের কর্মকর্তাগণ উপজেলা বা ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে থাকতে চান না? এই সরল অংকের সমাধান কেউ কি করেছে কখনো? কেউ দায়িত্ব নিয়েছে?

কেন্দুয়ায় এটাই প্রথম ঘটনা নয়। সাড়া বাংলাদেশে প্রতিদিনই এরকম ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনা কোন দুর্ঘটনা নয় বরং সাধারণ মানুষের মনে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, এর সাথে দানবদের ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর ঢালাও লাইসেন্স দেবার ফল।

আমার কাজ কি ঘটেছে সেটা ধামাচাপা পড়ার আগে জানিয়ে দেয়া। এ সবগুলোরই সম্ভাব্য সমাধান সম্ভব কিন্তু সে সুযোগ আমাকে কেউ দেবে না।

কেন্দুয়া উপজেলায় সাম্প্রতিক কালে এটি তৃতীয় ঘটনা। এর আগে আরেকজন মেডিকেল অফিসারের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাঁকে হাসপাতালের সামনে রাস্তায় এলোপাথাড়ি মারধোর করা হয়। স্থানীয় বখাটেরা নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে চাঁদা দাবি করে। এ ঘটনায় পরবর্তীতে মামলা হলে তিন দিনের মাথায় অভিযুক্তরা গ্রেফতার হয়। এরপর আর কোন আগ্রগতি নেই।

এর আগে তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সে অঞ্চলে চিকিৎসা ব্যবস্থার সুষ্ঠু পরিচালনার স্বার্থে একটি দাপ্তরিক চিঠি জারি করায় এর পেছনে দায়ী ব্যক্তি হিসেবে একজন মেডিকেল অফিসারকে চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয়। চিঠির বিষয় বস্তু ছিল-ডাক্তার পদবি ব্যবহার অবৈধযাদের জন্য তারা ডাঃ পদবি ব্যবহার করতে পারবেনা, লাইসেন্সবিহীন অননুমোদিত ওষুধের দোকানে বিনা প্রেস্ক্রিপশনে ওষুধ বিক্রি বন্ধ করা, মানহীন রেজিস্ট্রেশনবিহীন কৌটা কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ করা। এরফলে সে সময় ঐ অঞ্চলের সকল ফার্মেসি এক জোট হয়ে ওষুধ বিক্রি বন্ধ রেখেছিল, ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের সংগঠন, পল্লী চিকিৎসকদের চাপের মুখে ঐ চিঠি প্রত্যাহার এবং পরে পাল্টা চিঠি জারি করার ব্যবস্থা করা হয়। একজন চিকিৎসক কে দায়ী করে তাঁকে পেশাগতভাবে এবং সামাজিকভাবে হেয় করা হয়, ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে চিকিৎসা প্রদানের পরিবেশ ব্যহত করা হয়।

কেন্দুয়া কোন ব্যতিক্রম নয়। গোটা বাংলাদেশটাই কেন্দুয়ায় পরিণত হচ্ছে। পরিণত হচ্ছে না পরিণত করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সাফল্য নির্ভর করে তিনটি বিষয়ের উপরঃ স্বাস্থ্য সেবা দানকারী, স্বাস্থ্য সেবার বিদ্যমান সুযোগ সুবিধা, স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের পদ্ধতি। বিদেশি প্রেস্ক্রিপশনে তৈরি করা স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের পদ্ধতি নিয়ে মন্তব্য করছি না, স্বাস্থ্য সেবায় কি কি সুযোগ সুবিধা, ইনফ্রা স্ট্রাকচার, ইন্সট্রুমেন্ট আছে সেটাও আপনারা জানেন, কিন্তু যেটা সাধারণ মানুষ জানে না, পেশাগত ও নিরাপত্তার দিক থেকে স্বাস্থ্য সেবা দানকারীরা কী ভয়াবহ অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির মাঝে কাজ করেন সেখান থেকে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ নূন্যতম স্বাস্থ্য সেবা পাবে সেটা অলীক স্বপ্নই। বেতনের টাকায় অংকে কিছু যায় আসে না…

ডাঃ মোহিব নীরব
উন্নয়নকামী।

সাম্প্রতিক সংবাদ

[bd_prayer_times]

সম্পর্কিত সংবাদ

World Health Organization

কলেরা, মেনিনজাইটিস ও প্লেগের সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রবণতা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

প্ল্যাটফর্ম প্রতিবেদক: এস এম এম মুসাব্বির উদ্দিন বিশ্ব  স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী কলেরায় মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে প্রতিবেদন করা কলেরা আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। সর্বশেষ Weekly Epidemiological Record-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কলেরায় মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে

বিস্তারিত পড়ুন
ফাইল ছবি
আন্দোলন

বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ করা ও নতুন পে-স্কেলের আলোকে ভাতা বৃদ্ধিসহ ৫ দফা দাবিতে চিকিৎসকদের মানববন্ধন

বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ নির্ধারণ করে ঘোষিত ৫১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সংশোধিত সার্কুলার জারি, নতুন পে-স্কেলের সমন্বয়পূর্বক রেসিডেন্সি, এফসিপিএস, ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের ভাতা বৃদ্ধিসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকগণ এবং ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিস (ডিএমজে)। আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে এ দাবি

বিস্তারিত পড়ুন
রোগ বিষয়ক তথ্য

বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট আমদানি বন্ধ, তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি গ্লাইফোসেট নিয়ে

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট গ্রুপের আমদানি, নতুন নিবন্ধন ও লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বালাইনাশক কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি। দেশে মজুত থাকা প্যারাকোয়াট গ্রুপের বালাইনাশক ছয় মাসের মধ্যে শূণ্য করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে গ্লাইফোসেট নিয়ে তেমন কোনো সিদ্ধান্ত আসি নি। চলুন আমরা জানি প্যারাকোয়াট নিষিদ্ধ

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিনামুল্যে ৬ টি সফল লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন, প্রস্তুত আরও ৪ টি

২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার, ২০২৬ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হস্পিটালে বিনামূল্যে ছয়টি লিভার (যকৃত) প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত এই জটিল অস্ত্রোপচার করা হবে। বছরে অন্তত ২৪টি লিভার প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এফ এম

বিস্তারিত পড়ুন
ডেঙ্গু

ঢাকা শহর ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত, মানুষ সচেতন হলে ঢাকা শহর সুস্থ হবে

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ঢাকা শহরে ডেঙ্গু এখন আর শুধু একটি মৌসুম নয়, এটি একটি জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা ও বর্ষা পরবর্তী সময়ে রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা ঘনত্ব বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগর পরিকল্পনা, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জমে থাকা পানিতে এডিস

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন করলো বিএমইউ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতার মাধ্যমে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ)। এর মধ্য দিয়ে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএমইউতে

বিস্তারিত পড়ুন

3 thoughts on “একটি ডাক্তার শাসনের(পেটানোর) গল্প, কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।