বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি, ২০২৫
সেপ্টেম্বরে ফাইনাল প্রফ (চূড়ান্ত পেশাগত পরীক্ষা; মে-২৫) পাশ করেও এখনো ইন্টার্ন শুরু না হওয়ায় বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। এমন ঘটনা ঘটেছে শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে।
ইন্টার্নশিপে অংশ নেওয়ার দাবিতে আজ (৮ ডিসেম্বর) শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষার্থীদের সাথে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারী, চিকিৎসকেরা। সকাল থেকে কলেজ সংলগ্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে তারা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।

বিক্ষোভকারীরা জানান, ফাইনাল পেশাগত এমবিবিএস মে–২০২৫ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৮৩ জন নব্য চিকিৎসক চার মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো ইন্টার্নশিপ শুরু করার সুযোগ পাচ্ছেন না। এ সময় শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)-এর বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ করেন।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, একই শিক্ষাবর্ষের অন্যান্য মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে ইন্টার্নশিপ শুরু করলেও তাদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম করা হচ্ছে। এতে তাদের পেশাগত ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দ্রুত ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম চালু না হলে আন্দোলন আরো জোরদার করার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
কলেজের চিকিৎসকরাও বিক্ষোভে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, সব একাডেমিক শর্ত পূরণ হওয়ার পরও শুধুমাত্র প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে, যা চরম বৈষম্যমূলক।
শিক্ষার্থীরা জানান, শহীদ মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ কেন্দ্র থেকে ফাইনাল পেশাগত এমবিবিএস মে–২০২৫ পরীক্ষার ফলাফল গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়। ওই ফলাফলের ভিত্তিতে ২০১৯–২০২০ শিক্ষাবর্ষের উত্তীর্ণ ৮৩ জন নব্য চিকিৎসক এখনো ইন্টার্নশিপ প্রশিক্ষণে যোগ দিতে পারেননি। ফল প্রকাশের পরও সাময়িক রেজিস্ট্রেশন না পাওয়ায় তারা দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তা ও হতাশার মধ্যে রয়েছেন।
তারা আরো জানান, গত ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বৈঠকে দেশের অন্যান্য ১৩টি মেডিকেল কলেজের স্বীকৃতি ও সদ্য এমবিবিএস পাসকৃত চিকিৎসকদের ইন্টার্নশিপের অনুমতি দেওয়া হলেও শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের ক্ষেত্রে তা দেওয়া হয়নি।
সব ধরনের একাডেমিক ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন থাকা সত্ত্বেও এই ৮৩ জন নব্য চিকিৎসকের ইন্টার্নশিপ শুরু না হওয়াকে তারা অমানবিক ও বৈষম্যমূলক বলে মনে করছেন।
প্ল্যাটফর্ম/
