শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩, ১৯ রবিউস সানি ১৪৪৮
Sponsored
▶
ADVERTISEMENT
Image • Video • Banner Demo Area
সংবাদ

বিশ্ব হার্ট দিবস: জর্দার গৌরব ও সিগারেটের সম্মান

হৃদরোগ এখন সারা বিশ্বের এক নম্বর মরণব্যাধি। অন্যান্য রোগের তুলনায় হঠাৎ মৃত্যুর সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি হৃদরোগে। বিনামেঘে বজ্রপাতের মত মুহূর্তে সবকিছু তছনছ হয়ে যেতে পারে। একটি মানুষের মৃত্যু শুধু নয়, গোটা পরিবারটির উপর নেমে আসে বিপর্যয়ের গভীর অমানিশা। বিশেষ করে মানুষটি যদি হয় পরিবারের আয়ের প্রধান ব্যক্তি। তাই আমাদের হাতে সময় থাকতে সচেতন হওয়া দরকার কীভাবে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

প্রায় প্রতিটি রোগের চিকিৎসার দুটো ধাপ থাকে। একটি হল রোগ প্রতিরোধ, যাতে রোগটি শরীরে বাসা বাঁধতে না পারে। আর দ্বিতীয়টি হল প্রতিকার, রোগটি দিয়ে আক্রান্ত হলে তা থেকে মুক্তির চেষ্টা। বলা বাহুল্য যে, রোগ প্রতিরোধই উত্তম। শারীরিক, মানসিক এবং আর্থিক- সবদিক থেকেই মঙ্গলজনক ।

১। প্রথমে আসি শারীরিক ব্যাপারে। ধরা যাক রাজধানী থেকে দূরে কারো হার্ট এ্যাটাক হল। প্রাথমিক চিকিৎসা এখন মোটামুটি সব জায়গাতেই আছে। সেটা না হয় দেয়া গেল। কিন্তু উন্নত আধুনিক চিকিৎসা তো রাজধানীসহ সামান্য কিছু কেন্দ্রে বিদ্যমান। তাই হার্ট এ্যাটাকে আক্রান্ত ব্যক্তিটি রাজধানীতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে স্বাভাবিকভাবেই বিলম্ব করবে। তাতে কী সমস্যা হবে? হার্ট এ্যাটাকে যত মৃত্যু হয় তার শতকরা ২৫ ভাগই ঘটে হাসপাতালে পৌঁছানোর পূর্বে। সুতরাং হার্ট এ্যাটাকে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রতি চারজনের একজন কখনোই হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেবার সুযোগ পাবেন না। বাকী তিনজন যখন কোন আধুনিক হাসপাতালে পৌঁছাবেন তখন যদি ১২ ঘন্টার বেশি দেরি হয়ে যায় তাহলে হৃদপিন্ডের মাংসপেশির অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে। কোটি টাকা ব্যয় করে এয়ার এ্যাম্বুলেন্সে বিদেশে নিয়ে গিয়েও চার পয়সার লাভ হবে না। কারণ হৃদপিন্ড ও মস্তিষ্কের কোষ বা টিসু যদি একবার ধ্বংস হয় তাহলে তা হয় অফেরতযোগ্য এবং অপরিবর্তনযোগ্য।অর্থাৎ সময়ই এখানে মুখ্য নিয়ামক। টাইম ইজ লাইফ!

যদি রোগীটি প্রাথমিক ধাক্কা সামলে বেঁচে যান তাহলেও তার জন্য অপেক্ষা করছে সারাজীবনের মত অসহায় দুর্বল এবং অন্যের উপর নির্ভরশীল সংক্ষিপ্ত এক জীবন।

২। এবার আসি মানসিক অভিঘাত বিষয়ে। হার্ট এ্যাটাক এমনই এক অকস্যাৎ আঘাত যে ,এর জন্য কেউই মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকে না। তাই যখন সেটি আসে তখন রোগী দিশেহারা হয়ে পড়ে। মৃত্যুভয় তাকে আঁকড়ে ধরে। রোগী আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এধরণের রোগীর হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হবার সম্ভাবনা বেশি। হার্ট ফেইল্যুর এবং হঠাৎ মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়। প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দিতে পারলেও দীর্ঘমেয়াদী হতাশা এবং অবসাদ রোগীকে ঘিরে ধরে। জীবন ও কাজের প্রতি অনীহা ও বিরাগ রোগীর মনকে আচ্ছন্ন করে রাখে। কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়, রোগীর আয় ইনকাম কমে সমগ্র পরিবারটিকে একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত করে।

৩। উচ্চবিত্তের জন্য সমস্যা না হলেও দেশের বিপুল অধিকাংশ মানুষ সীমিত আয় দিয়ে সংসার নির্বাহ করে। তাদের জন্য হঠাৎ করে দেড় দুই লক্ষ টাকা যোগাড় করা সহজ নয়। ফলে বেশিরভাগ মানুষ গচ্ছিত সহায়সম্বল বিক্রি করে চিকিৎসা নিতে আসে। যারা নিম্ন আয়ের তারা কোনমতে সাধারণ হাসপাতালের চিকিৎসা গ্রহণ করে যা সবসময় মানসম্মত হয় না। যদি কখনো রোগীর লাইফ সাপোর্টের প্রয়োজন পড়ে তাহলে নিয়তির হাতে আত্মসমর্পণ করা ছাড়া আর কোন পথ থাকে না।

আর্থসামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বাস্তবতা:

গেল বছর রাজস্ব বোর্ডের হিসেব অনুযায়ী একটি জর্দা কোম্পানী দেশের সর্বোচ্চ করদাতার সম্মান ও গৌরব লাভ করেছে। আরেকটি জরিপের রিপোর্ট মতে দেশের পূর্ণবয়স্ক (১৮ থেকে তদোর্ধ্ব) পুরুষ জনসংখ্যার শতকরা ৪৩ জন ধূমপানে আসক্ত। দেশের সর্ববৃহৎ সিগারেট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং বিভাগ আগামী দু’বছরে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এই সংখ্যা ৫০-এ উন্নীত করার। এ লক্ষ্যে তারা টার্গেট হিসেবে মাধ্যমিক পাশ করা ছাত্রদের যারা উচ্চমাধ্যমিকে পড়তে যাবে তাদেরকে নির্ধারণ করেছে। এবং এলক্ষ্যে তারা কলেজে কলেজে বিভিন্ন ধরণের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যেমন- ব্যান্ড সংগীত, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ইত্যাদি ব্যাপকভাবে স্পন্সরশীপ করার পরুকল্পনা গ্রহণ করেছে।
এর বাইরে কেউ যদি মফস্বলে গ্রামে গঞ্জে নজর রাখেন তাহলে দেখতে পাবেন প্রতি বছর শত শত কোটি টাকার পানের চাষ, সুপারির উৎপাদন , তামাক চাষ এবং এগুলোকে ঘিরে হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজার সারা দেশব্যাপী আবর্তিত হতে থাকে।
এইযে দুটো ঘটনা-জর্দার গৌরব এবং সিগারেটের সম্মান , আমাদের জাতীয় জীবনে যে কলঙ্কের তিলক এঁকে দিল সেটা নিয়ে আমরা কী ভাবছি?

আমরা বলছি ধূমপান খারাপ, তামাক ক্ষতিকর। কিন্তু সমাজ ও রাষ্ট্র দু’টিকেই নানানভাবে উৎসাহ উদ্দীপনা দিয়ে যাচ্ছে। তামাক রাষ্ট্রকে কোটি কোটি টাকা কর দিচ্ছে। কিন্তু বিনিময়ে হাজার হাজার কোটি টাকা কেড়ে নিচ্ছে। অন্যভাবে। আমাদের শরীর ধ্বংস করে। হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যানসার, ব্রংকাইটিস, অ্যাজমা, গ্যাংগ্রীন আমাদের উপহার দিচ্ছে। আমাদের জীবনীশক্তি নিঃশেষ করছে। আবার এসবের চিকিৎসার জন্য বহুগুন টাকা খরচ করছি। তাহলে রাষ্ট্র এটিকে নিষিদ্ধ করছে না কেন? কোটি কোটি টাকার কর পাচ্ছি। কিন্তু হাজার হাজার কোটি টাকার ধ্বংস চোখে পড়ছে না। এই যে স্ববিরোধিতা , দ্বিমুখী নীতি , এটাই হল পূঁজিবাদের উদগ্র লোলুপ জিঘাংসা।

প্রতিরোধই মূল লক্ষ্য:

স্বাধীনতার পরে আমাদের স্বাস্থ্য খাতে যতটুকু উন্নতি হয়েছে তার সিংহভাগই হয়েছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায়। যে কারণে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ভ্যাকসিন প্রদান ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় সবার উপরে। এখন আমাদের হৃদরোগ সহ অন্যান্য রোগের প্রতিরোধের দিকে নজর দিতে হবে। এক্ষেত্রে জনসচেতনতাই প্রধান নিয়ামক। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একযোগে একলক্ষ্যে কাজ করে যেতে হবে। বিশ্ব হার্ট দিবসে তাই এবারের মূল প্রতিপাদ্য হল “ একজন হার্ট হিরো হন, প্রতিজ্ঞা করুন “।

ক। প্রতিজ্ঞা আমাদের পরিবারের প্রতি: স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে খাবার রান্না করব। সবাই স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাব।

খ। প্রতিজ্ঞা আমাদের সন্তানদের প্রতি: তাদেরকে ধূমপান পরিহারে এবং নিয়মিত ব্যায়ামে উদ্বুদ্ধ করব।

গ। প্রতিজ্ঞা আমাদের রোগীদের প্রতি: তাদের রক্তের কোলেষ্টেরল কমাতে, ব্যায়াম করতে এবং ধূমপান পরিহারে উদ্বুদ্ধ করব।

ঘ। প্রতিজ্ঞা নীতিনির্ধারকদের প্রতি: যারা আমাদের স্বাস্থ্যবিষয়ক নীতিনির্ধারক তাদেরকে হৃদরোগ প্রতিরোধে ধূমপান, তামাক চাষ নির্মূলে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করব।

 

ডা. মাহবুবর রহমান
DMC K40
Senior Consultant Cardiologist
Labaid Cardiac Hospital

সাম্প্রতিক সংবাদ

[bd_prayer_times]

সম্পর্কিত সংবাদ

World Health Organization

কলেরা, মেনিনজাইটিস ও প্লেগের সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রবণতা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

প্ল্যাটফর্ম প্রতিবেদক: এস এম এম মুসাব্বির উদ্দিন বিশ্ব  স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী কলেরায় মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে প্রতিবেদন করা কলেরা আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। সর্বশেষ Weekly Epidemiological Record-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কলেরায় মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে

বিস্তারিত পড়ুন
ফাইল ছবি
আন্দোলন

বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ করা ও নতুন পে-স্কেলের আলোকে ভাতা বৃদ্ধিসহ ৫ দফা দাবিতে চিকিৎসকদের মানববন্ধন

বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ নির্ধারণ করে ঘোষিত ৫১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সংশোধিত সার্কুলার জারি, নতুন পে-স্কেলের সমন্বয়পূর্বক রেসিডেন্সি, এফসিপিএস, ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের ভাতা বৃদ্ধিসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকগণ এবং ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিস (ডিএমজে)। আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে এ দাবি

বিস্তারিত পড়ুন
রোগ বিষয়ক তথ্য

বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট আমদানি বন্ধ, তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি গ্লাইফোসেট নিয়ে

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট গ্রুপের আমদানি, নতুন নিবন্ধন ও লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বালাইনাশক কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি। দেশে মজুত থাকা প্যারাকোয়াট গ্রুপের বালাইনাশক ছয় মাসের মধ্যে শূণ্য করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে গ্লাইফোসেট নিয়ে তেমন কোনো সিদ্ধান্ত আসি নি। চলুন আমরা জানি প্যারাকোয়াট নিষিদ্ধ

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিনামুল্যে ৬ টি সফল লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন, প্রস্তুত আরও ৪ টি

২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার, ২০২৬ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হস্পিটালে বিনামূল্যে ছয়টি লিভার (যকৃত) প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত এই জটিল অস্ত্রোপচার করা হবে। বছরে অন্তত ২৪টি লিভার প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এফ এম

বিস্তারিত পড়ুন
ডেঙ্গু

ঢাকা শহর ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত, মানুষ সচেতন হলে ঢাকা শহর সুস্থ হবে

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ঢাকা শহরে ডেঙ্গু এখন আর শুধু একটি মৌসুম নয়, এটি একটি জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা ও বর্ষা পরবর্তী সময়ে রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা ঘনত্ব বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগর পরিকল্পনা, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জমে থাকা পানিতে এডিস

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন করলো বিএমইউ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতার মাধ্যমে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ)। এর মধ্য দিয়ে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএমইউতে

বিস্তারিত পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।