আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ভিডিও কনফারেন্সে (বিভাগীয় পরিচালক ও সিভিল সার্জন এবং সংশ্লিষ্ট অফিসে উপস্থিত UH&FPO মহোদয়দের সাথে) উপস্থিত হয়েছিলেন বিএমডিসি সভাপতি, সহসভাপতি সহ প্রতিনিধি দল। তারা সকলের উদ্দেশ্যে নিম্নোক্ত বক্তব্য প্রদান করেন এবং ব্যবস্থা গ্রহন করতে অনুরোধ করেন।
১) ডিগ্রী ব্যবহারঃ বিএমডিসি থেকে বার বার পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে বিএমডিসি স্বীকৃত ডিগ্রী ছাড়া অন্য কোন ডিগ্রী (যেমন FACP, CCD, CMU ইত্যাদি) এবং আংশিক ডিগ্রী যেমন (এফসিপিএস-শেষ পর্ব, এমডি-থিসিস ইত্যাদি) ইত্যাদি নামের শেষে লেখা যাবে না। চিকিৎসকদের জন্য MBBS ডিগ্রী যথেস্ট মর্যাদা সম্পন্ন ডিগ্রী, এর সাথে অঅনুমোদিত ডিগ্রী ব্যবহার করে এর মানহানী করার কোন মানে নেই। আমরা নিজেরা যদি আইন না মানি তাহলে অন্যদের ও মানানো সম্ভব নয়। যারা এমনটি করছেন তারা বিরত থাকুন। বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), সিভিল সার্জন ও UHFPO মহোদয়দের বিষয়টি তদারকি করার জন্য অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। এছাড়াও প্রেসক্রিপশন প্যাড ও ভিজিটিং কার্ডে বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নাম্বার লেখাও বাধ্যতামূলক। এর ব্যতয় ঘটলে বিএমডিসি প্রশাসনের সহায়তায় প্রয়োজনে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে। কেউ আইন অমান্য করলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাকে সতর্ক করবেন, এরপরেও কাজ না হলে বিএমডিসিকে জানাবেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা নেবেন।
২) ডা. পদবী ব্যবহারঃ এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রীধারী যাদের বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন আছে শুধুমাত্র তারা ব্যাতীত অন্য কেউ ডা. পদবী ব্যবহার করতে পারবে না, না এবং স্ট্রেইট না! তবে অল্টারনেটিভ মেডিকেল কেয়ার এর আওতাধীন যারা যেমন হোমিওপ্যাথি বা আয়ুর্বেদ তারা বিএমডিসি আওতাভুক্ত না হওয়ায় তাদের ব্যাপারে বিএমডিসি সিদ্ধান্ত দিতে পারছেনা। এ ব্যাপারে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা চলছে। তারা যেন হেকিম/কবিরাজ এ ধরনের পদবী ব্যবহার করেন সেটি সুপারিশ করা হয়েছে।
তবে এলোপ্যাথি চিকিৎসা সেবার আওতাভুক্ত সকলেই বিএমডিসি আইন মানতে বাধ্য। সে হিসেবে ম্যাটস থেকে পাশ করা ডিপ্লোমা চিকিৎসকেরা নামের আগে ডা. লিখতে পারবেন না। তারা নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের ভিত্তিতে প্র্যাকটিস করতে পারবেন, সে তালিকা বিএমডিসিতে আছে। বিএমডিসি এর নিজস্ব আইনজীবী এ বিষয়ে সকল আইনগত জটিলতা দূর করবেন এবং বিএমডিসি আইনের সাথে সাংঘর্ষিক অন্য যেকোন রায় বাতিল ঘোষিত হবে। ম্যাটস থেকে পাশ করা চিকিতসা সহকারীগণ প্রায়শই আদালত থেকে হয়রানি না করার কাগজ বের করে বিএমডিসির দৃষ্টিগোচরে, তবে এখন সেটার কোন সুযোগ নেই। তাই সকল স্বাস্থ্য অফিসের কর্মকর্তাদের অনুরোধ করা হচ্ছে কেউ এই আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা নিন এবং বিএমডিসি কে জানান।
৩) আল্ট্রাসনোগ্রাফিঃ এমবিবিএস চিকিৎসক ব্যতীত কেউ আল্ট্রাসনোগ্রাফি প্র্যাকটিস করতে পারবেন না। যেসকল প্রতিষ্ঠান এমবিবিএস ব্যতীত অন্যান্যদের আল্ট্রাসনোগ্রাফি কোর্স করাচ্ছে এবং সার্টিফিকেট দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার জন্য বিএমডিসিকে সহযোগীতা করুন। বিস্তারিত সহ অভিযোগ করুন বিএমডিসিতে।
৪) প্রেসক্রিপশনে ক্যাপিটাল লেটারঃ যেহেতু এ বিষয়ে আদালতের রায় আছে তাই আমাদের উচিত আদালতের আদেশ মান্য করে চলা। বিএমডিসি আদালতের সাথে খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে আলোচনায় যাবে যেন ক্যাপিটাল লেটারের বাধ্যবাধকতা না রেখে স্পষ্ট অক্ষরে লেখার ব্যাপারটি উল্লেখ করা হয়। সে আলোচনার ফলাফল না আশা পর্যন্ত আমাদের উচিত আদালতের আদেশ মান্য করে চলা।
৫) এপ্রণ এর ব্যবহারঃ মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ স্যার জানিয়েছেন প্রতিটি চিকিৎসককে কর্তব্যরত অবস্থায় এপ্রণ পরিধান করতে হবে নিজেদের সুরক্ষা এবং পরিচয় রক্ষার স্বার্থে। এ বিষয়ে সকল হাসপাতালে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নার্স ও মিডওয়াইফদের জন্য আলাদা রঙ এর পোশাক নির্ধারিত আছে। হাসপাতালগুলোতে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া আছে।
৬) বিএমডিসি দীর্ঘদিন প্রায় নিষ্ক্রিয় অবস্থায় ছিল যার উত্তরণ শুরু হয় ২০১০ সাল থেকে। এখন বিএমডিসি তার সামর্থ্য বৃদ্ধি করছে। অচিরেই যুক্তরাজ্য কিংবা ভারতের রেগুলেটরি অথরিটির মত দেশের স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে বিএমডিসি। ভুল চিকিৎসার অভিযোগগুলো আমলে নেয়া হবে এবং নিয়মান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এর সমাধান করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে লাইসেন্স বাতিল বা অন্যান্য শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। খুব দ্রুতই এ ধরনের কয়েকটি অভিযোগের সিদ্ধান্ত জানানো হবে। এছাড়াও চিকিৎসকদের জন্য Code of Ethics তৈরি করা হয়েছে (http://bmdc.org.bd/…/uploads/2015/05/CodeOfMedicalEthics.pdf) এটির বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ নির্দেশনা নিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে ওয়ার্কশপ শুরু করা হবে শীঘ্রই।
৭) বিদেশী চিকিতসকদের এদেশে প্র্যাকটিসঃ বাংলাদেশে বেশ কিছুদিন ধরে অনেক বহিরাগত চিকিৎসক বিশেষ করে ভারতীয় চিকিৎসক এসে প্র্যাকটিস করছেন। বিএমডিসি শুধুমাত্র “টেকনোলজি ট্রান্সফার” এর উদ্দেশ্য ব্যাতীত এসকল চিকিৎসককে এদেশে প্র্যাকটিস করার অনুমতি দেয়না এবং যাদের অনুমতি দেয়া হয় তাদের উপর শর্ত আরোপ করা হয় যেন কোন আর্থিক লেনদেন সেখানে না হয়। সুতরাং এর বাইরে যারা এদেশে এসে প্র্যাকটিস করছেন তারা অবৈধভাবে করছেন। বিএমডিসি এ বিষয়ে বেশ কিছু তদন্ত করছে। আপনাদের কাউকে চোখে পড়লে বিএমডিসিকে জানান এবং স্থানীয় প্রশাসনের সাহায্য নিয়ে এদের প্রতিহত করুন।
৮) বিএমডিসিতে বিএমডিসি আইন এর লংঘন জনিত যেকোন পরামর্শ বা অভিযোগ এর জন্য ইমেইলঃ [email protected], [email protected],
ফোনঃ +88-02-9555236, +88-02-9586727
তথ্য ঃ ডা. মারুফুর রহমান অপু
ফ