রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬
নাটোরে সদ্য ভুমিষ্ট এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নাটোর মা ও শিশু সদনের চিকিৎসকের ওপর হামলা ও ভাঙচুর করেছে রোগীর স্বজনরা। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নাটোর পৌর শহরের আলাইপুর এলাকায় মা ও শিশু সদনে এই ঘটনা হয়।পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

প্রসূতি রুমি জানান, শনিবার পেটে ব্যথা নিয়ে মেটারনিটি হাসপাতালে এলে তারা আলটাসনোগ্রাফি এবং অন্যান্য পরীক্ষা করে জানান, রোগীর সিজারিয়ান অপারেশন দরকার। কিন্তু তারা সিজারিয়ান অপারেশন করতে অপারগতা প্রকাশ করে বাড়ি ফিরে যান। এরমধ্যে বাড়ি গিয়ে পেটের ব্যথা বাড়লে রবিবার (১২ জুলাই) সকালে বৃষ্টির মধ্যেই তারা মেটারনিটি হাসপাতালে আসেন। সেখানে তাদের জোরাজোরিতে নরমালে বাচ্চা প্রসব করানো হয়।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমানের বরাতে জানা যায়, রবিবার সকাল ৭টার দিকে আগদিঘা পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাবু হোসেনের অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী রুমি বেগমকে নাটোর মা ও শিশু সদনে ভর্তি করা হয়। পরে রুমি বেগমের প্রসব যন্ত্রণা শুরু হলে চিকিৎসক জানান শিশুটি অপরিপক্ক এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পেটের মধ্যে রয়েছে। পরে দ্রুত স্বাভাবিক প্রসব করানো হয়। ভুমিষ্ট নবজাতকের শরীরে অক্সিজেন সমস্যা থাকায় নাটোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে রোগীর স্বজনরা নাটোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন। এই সংবাদ পেয়ে নবজাতকের স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে মা ও শিশু সদনে গিয়ে কর্তব্যরত এক চিকিৎসকের ওপর হামলা করার পাশাপাশি জানালার ও টেবিলের কাঁচ ভাঙচুর করে।
মেটারনিটি হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মিজানুর রহমান জানান, তিনি হাসপাতালে ছিলেন। যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। রোগীর স্বজনদের জোরাজোরিতে নরমাল ডেলিভারি করানো হয়েছিল। প্রসূতির স্বজনদের অভিযোগ সঠিক নয়।
প্ল্যাটফর্ম টুডে/
