গত এক সপ্তাহ ধরে সারা দেশে বিভিন্ন স্থানে একের পর এক চিকিৎসক হামলা ও অবমাননার ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। গতরাতে রোগীর লোক কর্তৃক ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক এর উপরে হামলার ঘটনার ২৪ ঘণ্টার পার না হতেই আজ রাত ৯টার দিকে গাজিপুরের কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়।
গাজিপুরের কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সারা বাংলাদেশে ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বিখ্যাত। এখানে যথেস্ট পরিমান চিকিৎসক ও অন্যান্য সেবাদানকারীর সমন্বয়ে প্রতিটি রোগীর ডিজিটার ডাটা রেকর্ড করা হয় “Shared Health Record” প্রজেক্টের আওতায়। রোগীর সকল তথ্য সংগৃহিত হওয়ায় তা হারিয়ে যাবার আশংকা থাকে না এবং পরবর্তীতে রোগীর চিকিৎসায় সুবিধা হয়। চিকিৎসকেরা রোগী দেখার পাশাপাশি ডেস্কটপ কম্পিউটারে এসকল তথ্য জমা করেন। এ ধরনের আধুনিক সেবা দেবার পরেও স্থানীয় লোকজন কতৃক প্রহৃত হলের উপজেলার অন্যতম কর্মঠ চিকিৎসক ডাঃ আশীষ ও ডাঃ মহিউদ্দিন।
কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানবিদ সাইফুল জানান রাত আজ সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় এক রোগী জরুরী বিভাগে আসে হৃদরোগের সমস্যা নিয়ে। কর্তব্যরত ডা. আশীষ রোগীর অবস্থা গুরুতর এবং উপজেলায় চিকিৎসা সম্ভব নয় বুঝতে পেরে রোগীর জীবন বাচাতে রেফার করে উচ্চতর হাসপাতালে। কিন্তু রোগীর আত্নীয় স্বজন রোগী নিতে কয়েক ঘন্টার ও বেশি দেরি করে সিদ্ধান্তহীনতার অভাবে। এমতাবস্থায় রোগী মৃত্যূবরণ করলে রোগীর সাথে আসা স্থানীয় ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী প্রায় ২০-২৫ জন লোক জরুরী বিভাগ ভাংচুর করে। এতে কর্মরত ডা. আশীষ ও ডা. মহিউদ্দিন আহত হন। জরুরী বিভাগে কম্পিউটার সহ মূল্যবান সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পরবর্তীতে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছে।
সাবাস এখন ও আমাদের টনক নড়বে না