• অতিথি লেখা

April 5, 2017 10:59 pm

প্রকাশকঃ

স্যামুয়েল হ্যানিম্যান সাহেবের হাত ধরে ১৭৯৬ সালে জন্ম নেয় চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক নতুন শাখা, হোমিওপ্যাথি। যাকে অনেক বিজ্ঞানী “pseudoscience”, Heroic medicine “, “Nonsense “, “Quackery” নামেও অভিহিত করাছেন। কিন্তু কেন?? এটা জানতে হলে আমাদেরকে আগে জানতে হবে হোমিওপ্যাথির ভিত্তি কিংবা ক্রিয়াকৌশল কি???

হ্যানিম্যান সাহেব দেখেন যেঃ যে বস্তু বা পদার্থ কোন সুস্থ মানুষের দেহে রোগ সৃষ্টি করে, সেই বস্তুুই অল্প পরিমানে রোগাক্রান্ত ব্যাক্তির উপর প্রয়োগ করলে রোগি সুস্থ হয়ে ওঠে। বিষয়টা অনেকটা “যাহাতে যাহার উৎপত্তি, তাহাতেই তাহার নিষ্পত্তি” এর মত ব্যাপার। তিনি আরো আরো একটা থিওরির প্রস্তাব করেনঃ ওষুধকে উচ্চ ঘনত্বে দ্রবণ হিসেবে প্রয়োগ করা হলে তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশি হয়। কিন্তু যদি পানি বা অ্যলকোহল মিশিয়ে আরো কম ঘন (Dilution) করা হলে ওষুধের শক্তি বৃদ্ধি পায় ও পার্শ্বপতিক্রিয়া হ্রাস পায়। এজন্য তিনি Centesimal scale বা “C scale ” প্রবর্তন করেন। কোন বস্তুর dilution “1C” বলতে বোঝায় ১০০ ভাগ দ্রবনে ১ ভাগ ওষুধ আছে। 2C বলতে বোঝায় ১০০০০ ভাগ দ্রবনে ১ ভাগ ওষুধ আছে। বাস্তব উদাহরন দিতে গেলেঃ এক চিমটি ওষুধ যদি সমগ্র উত্তর ও দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে মিশানো যায় তবে তার ক্ষমতা হবে 12C. সাধারন Flu (সর্দি-কাশির) জন্যে যে ওষুধ ব্যবহার করা হয় তার ক্ষমতা হলো 200C যা হাসের যকৃত থেকে তৈরি।

হ্যানিম্যান সাধারনত 300C এর ওষুধ বেশি পছন্দ করতেন। তার মতে C এর মান বৃদ্ধির সাথে ওষুধের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। যা আধুনিক পদার্থ ও রসায়ন এর মূলনীতির পরিপন্থী। কারন কোন পদার্থ কে Dilute করা হলে একক আয়তনের দ্রবনে দ্রব্যে পরিমান হ্রাস পায়। এভাবে dilute করতে করতে একসময় এমন অবস্থা আসবে যে একক আয়তনে অনুর সংখ্যা শূণ্যে নেমে আসবে। হ্যানিম্যানের মতে এটাই সর্বোচ্চ ক্ষমতার ওষুধ। কিন্তুআধুনিআধুনিক Nuclear magnetic imagine এর পরীক্ষায় এই অবস্থায় কোন “কার্যকর অনু” পাওয়া যায় নি, এবং Dose-response chart এ কোন ফলাফল ও পাওয়া যায় নি। বিভিন্নভাবে পরীক্ষা নীরিক্ষায়ও একই রেজাল্ট পাওয়া গেছে, যা হোমিওপ্যাথির ভিত্তিকেই নাড়িয়ে দেয়।

এমতাবস্থায় আধুনিক হোমিওপ্যাথি “Water memory” তত্ব প্রদান করে। এই তত্ব অনুযায়ী পানিতে কোন দ্রব মেশালে পানি ঐ দ্রব “মনে রাখে” এবং এই তা খাওয়ানোর পরে একই ইফেক্ট প্রদান করে। কিন্তু আধুনিক পরীক্ষা নিরীক্ষায় এটাও ভুল প্রমানিত হয়েছে, এবং দেখা গেছে সর্বোচ্চ ১ পিকো সেকেন্ড (১ সেকেন্ডের এক ট্রিলিওন ভাগের এক ভাগ!!!!) এই “water memory ” স্থায়ী হয়।

=> তাহলে?? মনে প্রশ্ন জাগছে যে, অনেক মানুষ খেয়ে সুস্থ হয় কিভাবে?? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে গেলে আগে আপনাদের জানতে হবে “Placebo” কি???

আপনাকে একটি ওষুধহীন ট্যাবলেট দিয়ে বলা হলো একটা অমুক রোগের ওষুধ, আপনি নিশ্চিন্ত মনে খেলেন। আপনার রোগের লক্ষণও উপশম ঘটলো। আপনি সুস্থ অনুভব করলেন। বিষয়টা অনেকটা সাইকোলজিকাল। কিন্ত আপনার রোগের কারন কোন পরিবর্তন হলো না। ফলে আপনার শরীর তখন বিষয়টা ধরে ফেলবে, এবং আপনার লক্ষণ আবার ফিরে আসবে।

=> এখন মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, তাহলে আপনি নিজ চোখে অনেককে তো হোমিওপ্যাথি ওষুধে পুরোপুরি সুম্থ হতে দেখেছেন। তার ব্যাখ্যা কি??

হ্যা, তার উত্তর ও আছে। অনেক রোগই আপনার শরীর নিজ থেকেই ভালো করে তোলে। আবার আপনার পারিপার্শ্বিকতা, খাদ্যাভ্যাস, অন্যান্য পথ্য আপনার সুস্থতার প্রধান কারন। হয়তোবা এমন সময় ওষুধ খাওয়া শুরু করেছেন যখন আপনার রোগ অলরেডি নির্মুল হওয়া শুরু করেছে।

=> প্রশ্ন জাগছে আমার এই উত্তরের প্রমান কি?

২০০৫ সালে সুইজারল্যান্ড সরকার পরিচালিত “Program for Evaluating
Complementary Medicine” , or PEK এর study এই বলে সমাপ্ত করে যে “its findings were compatible with the notion that the clinical effects of homeopathy are placebo effects”.
This was accompanied by an editorial pronouncing “The end of homoeopathy”,
যুক্তরাজ্যে ২০০৯ সালে “Medicine & Healthcare products regulatery agency ” বিভিন্ন study এর মাধ্যমে এই উপসংহারে পৌছানে হয়েছে যেঃ “they are not medicines, and that further clinical trials of homeopathy could not be justified. They recommended that funding of homeopathic hospitals should not continue, and NHS doctors should not refer patients to homeopaths.”

২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার National Health & Medical Council বিভিন্ন গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্তে পৌছে যেঃ
“there were no health conditions for which there was reliable evidence that homeopathy was effective. No good-quality, well-designed studies with enough participants for a meaningful result reported either that homeopathy caused greater health improvements than placebo, or caused health improvements equal to those of another treatment.”

বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য সংস্থা যেমন the American Medical Association,
the FASEB, এই বিবৃতি দেয় যেঃ
“no good-quality evidence that homeopathy is
effective as a treatment for any health condition”.

২০০৯ সালে, World Health Organization (WHO) কর্মকর্তা Mario
Raviglione যক্ষার চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথির সমালচনা করেন; একইভাবে WHO আরেক মুখপাত্ বলেন যেঃ
” there was no evidence homeopathy would be an effective treatment for diarrhea”

=> হোমিওপ্যাথির তো কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই?

যার অ্যাকশন নেই, তার রিএকশ্যান ও নেই, সহজ হিসাব। তবে আপনি যদি সঠিক রোগ ডায়াগনোসিস না করে বসে থাকেন তবে ঐ রোগ আরো বড় হয়ে দেখা দিতে পারে।
The American College of Medical Toxicology and the American Academy of Clinical Toxicology recommend
that no one use homeopathic treatment for disease
or as a preventive health measure. These
organizations report that no evidence exists that
homeopathic treatment is effective, but that there is
evidence that using these treatments produces
harm and can bring indirect health risks by delaying
conventional treatment.

২০১২ সালের পর আর কোন ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে হোমিওপ্যাথি কোর্স পড়ানো হয় না।
….
লিখেছেনঃ
ডা. আ. ন.ম. নাসিম ফেরদৌস,
ঢাকা মেডিকেল কলেজ

শেয়ার করুনঃ Facebook Google LinkedIn Print Email
পোষ্টট্যাগঃ

পাঠকদের মন্তব্যঃ ( 8)

  1. Hossain Ahmed.. vai ektu dekhen..

  2. Avijit Pratap Roy says:

    আমি একজন নন সায়েন্স বেকগ্রাউন্ডের মানুষ। এতো কিছু বুঝি না। তবে কিছু প্রশ্ন আছে আমার।
    আমার দাদু একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ছিলেন। উনার গ্রামে যখন হসপিটাল ছিল না তখন উনি এই পদ্ধতিতেই চিকিৎসা করেছেন। উনার হাতে কলেরা , আমাশয় টিউমার ইত্যাদি অনেক জটিল রোগ ভাল হয়েছে। উনার ডাক্তারী লাইফে সর্বমোট মৃতের সংখ্যা মাত্র ৬ জন।
    এবার আসি আমার দিদিমার কথায়। আমি সিলেট অঞ্চলের বাসিন্দা। সিলেট রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ একজন সাধু আর উনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। আমার দিদিমার এক্স-রে বলছিল উনার পাকস্থলীতে টিউমার হয়েছে। তাই ৩ দিনের মাঝে উনাকে অপারেশন টেবিলে নেয়া হয়েছিল। সেই মিশনের মহারাজ নিজে চ্যালেঞ্জ করে সেই রোগীকে অপারেশন ছাড়া সুস্থ করে তোলেন। মাত্র ৩ মাসের নিয়মিত ঔষধ সেবনে। এখন বলবেন এটাো কাতালীয়?
    আমার নিজের কথা বলি। আমার হাতের উপরের অংশে মেজ ছিল। আর তা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় সেরে যায়।
    এখন কথা হল আমেরিকা , WHO ইত্যাদির মেডিসিন ১৯৮৫ সালে জোর করে চাপ দিয়ে ভারতে আয়ুর্বেদ চিকিৎসা বন্ধ করায়। মিডিয়ায় প্রচার করা হয় মারিজুয়ানা খারাপ। ইত্যাদি অনেক কিছু। এদের পেছনের ব্যাবসায়িক উদ্দেশ্য প্রবল। যে মারিজুয়ানা ভারত সহ অন্যান্য দেশে নিষিদ্ধ সেই মারিজুয়ানা আমেরিকার ২৭ ষ্টেটে লিগ্যাল। আপনার রিসার্চের প্রশংসা করছি। অনেক পড়ালেখা করেছেন এই নিয়ে কনো সন্দেহ নেই। তবে আপনি যে প্রপাগান্ডায় পা দিচ্ছেন না তার কি গ্যারান্টি?
    পাশ্চাত্যের মিডিয়ার সাথে আমিও বলতে পারি আল কায়েদা সন্ত্রাসী। কিন্তু তা যে আমেরিকার সি.আই.এর সৃষ্টি তা কয়টা মিডিয়া বা এরকম পাশ্চাত্য মদদ পুষ্ট অর্গানাইজেশন স্বীকার করে?

  3. Dear friend!
    when u want to judge a science you must study abut that. Firstly study Organon of Medicine .
    and apply it on yourself(because u have enlisted a large proof that nothing in it) all answer may be found in your observation.

    my dear friend!
    Homoeopathy has action and reaction…..

    buy a sulpher 6, merc sol 6, and take daily 7 days and answer me about its no action.

    im prepareing an answer for you
    http://www.worldofhomeopathy.com/how-homeopathy-medicine-works/
    if homoeopathy has no action …
    how it cure … piles, asthma, tumor, haemorroige , menstrual deability, strelity and so on.
    there is no function on these of modern medicine.
    research your science but never search falt before study about homoeopathy.
    you r invited my chamber i will bring that ”Homoeopathi medicines works,,

  4. d says:

    fssee ssdfrf ssd ssfdd its a shitty design.




Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

Advertisement
Advertisement
.