বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬
রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের চরম গাফিলতি এবং নার্সের অপেশাদারির কারণে প্রাণ গেল ৭ বছরের হাবিবার। মঙ্গলবার হাসপাতালের ৪নং সার্জারি ওয়ার্ডে বিদ্যুস্পৃষ্টে সামান্য বাঁকা হওয়া আঙুল সোজা করতে এসে তাকে ফিরতে হয়েছে লাশ হয়ে। এরপর থেকেই অভিযুক্ত সিনিয়র স্টাফ নার্স ইয়াসিন পলাতক রয়েছেন।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও নিহতের স্বজনদের দাবি, অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) যে ইঞ্জেকশন দেওয়ার কথা ছিল, সেটি নিয়মবহির্ভূতভাবে সাধারণ ওয়ার্ডেই পুশ করেন ইয়াছিন আলী। ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরমুহূর্তে হাবিবা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
সন্তানের আকস্মিক মৃত্যুতে রাজবাড়ীর বাসিন্দা কামরুজ্জামান ও তার স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। শোকবিহ্বল কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমার সুস্থসবল মেয়েটার আঙুলের সামান্য সমস্যার চিকিৎসা করাতে হাসপাতালে নিয়ে এলাম। কিন্তু কলিজার টুকরা মেয়ে সেই হাসপাতালের বেডেই লাশ হয়ে পড়ে আছে! তিনি বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ওর (মেয়ে হাবিবা) একটা আঙুল একটু বাঁকা হয়ে গিয়েছিল। সেটা সোজা করতেই ১৭ জানুয়ারি এখানে (সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল) ভর্তি করেছিলাম। আজ সকাল ৯টায় অপারেশন (অস্ত্রোপচার) হওয়ার কথা ছিল। সাধারণত ওটিতে নেওয়ার পর অস্ত্রোপচারের রোগীকে অ্যানেসথেশিয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক (অবেদনবিদ) ইঞ্জেকশন দিয়ে সার্জারির জায়গা অবশ করে থাকেন। কিন্তু মেয়েকে ওটিতে নেওয়ার আগেই ওয়ার্ডে থাকা অবস্থায় একজন নার্স ইঞ্জেকশন দেয়। এর পরপরই আমার মেয়েটা চোখের সামনে শেষ হয়ে গেল!’
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাবিবা অধ্যাপক ডা. নুরুল্লাহর অধীনে চিকিৎসাধীন ছিল। অস্ত্রোপচারের আগে সিনিয়র স্টাফ নার্স ইয়াসিন প্রোটোকল ভেঙে ওয়ার্ডের মধ্যেই ইঞ্জেকশন পুশ করেন। ঠিক কী ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো অন্ধকারে।
ঘটনার ভয়াবহতা স্বীকার করে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শিহাব যুগান্তরকে বলেন, ‘এটি স্পষ্টতই একটি অপরাধ (ক্রাইম)। নার্সের ভুল ইঞ্জেকশনের কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। অপারেশন থিয়েটারের ইঞ্জেকশন কেন ওয়ার্ডে দেওয়া হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং নার্সকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্ত নার্সকে পাওয়া গেলেই জানা যাবে তিনি আসলে কোন বিষাক্ত উপাদান পুশ করেছিলেন। তদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার আইনি পদক্ষেপ নিলে তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। তিনি জানান, বিকালে স্বজনরা শিশুটির লাশ বাড়ি নিয়ে গেছেন।
এদিকে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে গণমাধ্যমে বলেন, শিশুর বাবা থানায় এসেছিলেন এবং আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। অভিযুক্ত নার্সকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।
প্ল্যাটফর্ম/
