সৃষ্টিকর্তার পর কেবল ডাক্তারই পারেন, আস্থা রাখুন

বোমায় আহত মাইয়েশার ইমার্জেন্সি সিজার করা হলো। ডান হাত, ডান পায়ে ফ্র‍্যাকচার, পেটে বোমার স্প্লিন্টার বিধেঁ রক্তাক্ত। চিকিৎসকেরা মনে করেছিলেন তাঁর গর্ভের সন্তান বেঁচে নেই। তবুও রক্তে ভেসে যাওয়া তলপেট থেকে মাইয়েশার সন্তানকে বের করে আনলেন চিকিৎসকেরা।

কান্নাহীন নবজাতকের তাকিয়ে সহকর্মীকে একজন চিকিৎসক জানতে চাইলেন: হৃদস্পন্দন আছে?
নিঃস্পৃহ উত্তর: দুঃখিত, নেই।

চিকিৎসকেরা তবু চেষ্টা চালিয়ে গেলেন। হৃদযন্ত্র ও শ্বাসপ্রশ্বাস চালু করতে বুকে একটানা চাপ(সিপিআর-কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) এবং নাক মুখের উপর আম্বু ব্যাগ চাপতে থাকলেন। শ্বাসনালী পরিষ্কার করা হলো। রক্তশূন্য নিথর শরীরের পাশে মায়ের অপারেশন তখনো চলছে। এভাবে ২০ মিনিট, চিকিৎসকেরা হাল ছাড়েননি।

হঠাৎ নবজাতকের নাড়ি নড়ে উঠলো -প্রাণের চিহ্ন। চিকিৎসকেরা মরিয়া হয়ে উঠলেন এবার। নবজাতকের নাড়ি দিয়ে ইঞ্জেকশন দেয়া হলো, বুকে পিঠে চাপড়ে তাকে উদ্দীপিত করতে থাকলো চিকিৎসকেরা। অবশেষে শিশুটি চোখ মেলে তাকালো, ক্লান্ত তবু অতি আকাংখিত কান্না। জীবনের কান্না, বেঁচে থাকার কান্না।

সিরিয়ার আলেপ্পো শহরে প্রসব বেদনা উঠার পর মাইয়েশা হাসপাতালে যাবার পথে বিমান হামলার শিকার হয় গত জুলাইতে। তাঁর এবং গর্ভের শিশুর জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসকদের এই লড়াই ধরা পড়ে ওয়াদ আল কাতিয়াবের ক্যামেরা। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের চ্যানেল ফোর, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএনে প্রচারিত হলে সারা পৃথিবীব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়। অপারেশনটি করেন ডা আহমেদ।

পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ মানুষ দৃশ্যটি দেখে আবেগে আপ্লুত হয়, সৃষ্টিকর্তার মহানুভবতা কৃতজ্ঞতাসহ স্মরণ করে। যেমনটি হয়েছিল বাংলাদেশে মায়ের পেটে গুলিবিদ্ধ নবজাতকের ক্ষেত্রে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের চিকিৎসায় গুলিবিদ্ধ নাজমা বেগমের নবজাতকের সুস্থ হওয়ার ঘটনা।

ভিডিও নেই, রোগীর লোক এমনকি রোগীও জানে না এরকম হাজারো ঘটনা প্রতিদিন পৃথিবী ব্যাপী ঘটছে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে, জরুরী বিভাগে, ওয়ার্ডে, ক্লিনিকে বা ব্যক্তিগত চেম্বারে। বাংলাদেশের মত দেশে যেখানে চিকিৎসক এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা অপ্রতুল সেখানে এরকম ঘটনা হরহামেশাই চিকিৎসকদের মুখোমুখি হতে হয়। চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্বটি এরকম তাই এসবের জন্য আলাদা করে বাহবা নেয়ার কিছু নেই, কিন্তু বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যবস্থা ধ্বংসের জন্য সিংগাপুর, ব্যাংকক, কলকাতা কি মাদ্রাজের কাছে বিবেক বেচা দালাল মিডিয়া চিকিৎসক ও দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা নষ্টে যে নোংরা খেলা খেলছে বাংলাদেশী চিকিৎসক হিসেবে আমরা আপনাদের জন্য কতটুকু কি করি সেটা জানানোর জন্য ভিডিওটি আপনাদের কাছে পৌঁছে দেয়া।

ডাঃ মোহিব নীরব,
চিকিৎসক ও উন্নয়নকর্মী

video: https://youtu.be/Be7jJLZAJiQ
platform1

ডক্টরস ডেস্ক

One thought on “সৃষ্টিকর্তার পর কেবল ডাক্তারই পারেন, আস্থা রাখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

Next Post

ত্বক ফর্সা ও ময়েশ্চারাইজিং ক্রিমের নামে আত্নঘাতী বিষ মাখছেন না তো??

Sun Nov 20 , 2016
এই শীতে বিভিন্ন চটকদারি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে হাজারো নামিদামি কোম্পানি ত্বক ফর্সা ও ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম বলে মন মাতানো বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। আসলে তাদের ক্রিমের বিভিন্ন উপাদানে কিন্তু মরন সৃষ্টিকারি উপাদান বিদ্যমান। দেখা যাক কোন উপাদান কতটা ক্ষতিকর, Hydroquinone: ত্বক সাদা করার জন্য সবথেকে বেশি ব্যবহৃত হয় হাইড্রো কুইনন। Hydroquinone ক্যান্সার সৃষ্টি করে, […]

Platform of Medical & Dental Society

Platform is a non-profit voluntary group of Bangladeshi doctors, medical and dental students, working to preserve doctors right and help them about career and other sectors by bringing out the positives, prospects & opportunities regarding health sector. It is a voluntary effort to build a positive Bangladesh by improving our health sector and motivating the doctors through positive thinking and doing. Platform started its journey on September 26, 2013.

Organization portfolio:
Click here for details
Platform Logo