• প্রথম পাতা

July 5, 2017 9:22 pm

প্রকাশকঃ

প্রথম পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দ্বিতীয় পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন

Medicine and Allied রেসিডেন্সি ফেজ ‘এ’ তে অধিকাংশ ব্লক ফাইনালগুলোর clinical এবং OSPE পরীক্ষা Internal Medicine এর মতো হয়েছে । ফাইনাল পরীক্ষায় লগ বই বা পোর্টফোলিও প্রয়োজন হয়নি কিন্তু ব্লক ফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ। ব্লক ফাইনাল্গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।

Medical ethics, Poisoning , Psychiatry এগুলো থেকে মূলত লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে। তাই লিখিত পরীক্ষার জন্য এগুলোর প্রতি আলাদা নজর দিতে হবে। যেকোনো ক্ষেত্রেই সবার আগে প্রশ্ন ভালো করে বুঝে নিতে হবে। লিখিত পরীক্ষাতে প্রশ্ন এসেছে write the pathophysiology of anaemia of chronic kidney disease । কিন্তু এ ক্ষেত্রে খেয়ালের ভুলে anaemia of chronic disease লিখে আসার ঘটনা ঘটেছে। ফেজ ফাইনালে এই রকম ভুলের যন্ত্রণা , এই আফসোস শুধু ভুক্তভূগীই বুঝতে পারে! লিখিত পরীক্ষাতে প্রথম পত্রে প্রশ্নটা কখনো কখনো একটু পানসে হতে পারে। পরীক্ষার অন্তত ৬ মাস আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করতে পারলে ভালো । অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অকৃতকার্যতার কারন হয় লিখিত পরীক্ষা ।
সব ধরনের পরীক্ষার জন্য সহায়ক বই পাওয়া যায় । সেগুলো আগে আগে কিনতে পারলেই ভালো । সেখানে বিগত বছরের প্রশ্ন গুলো দেখলেই আপনার লিখিত এবং অস পি পরীক্ষা সম্পরকে ধারনা হয়ে যাবে। এগুলো একাধিক বার সমাধান করতে চেষ্টা করুন। অসপি বইতে Haemoglobin Electrophoresis, Plasma Protein Electrophoresis, Pedigree, Spirometry, ABG বিষয় গুলো ব্যাখ্যা করা আছে।
ক্লিনিক্যাল পরীক্ষাতে long case এ পরীক্ষকের খুব প্রিয় একটি বিষয় হচ্ছে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে রোগীর clinical feature of failure আছে কি না, যেমনঃ flapping tremor, bilateral plantar extensor বা liver failure এর ক্ষেত্র অতিরিক্ত হিসেবে constructional apraxia আছে কি না, পরীক্ষার্থী সেটা দেখেছে কি না?

ক্লিনিক্যাল পরিক্ষাতে কোন প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলে তাৎক্ষনিক আত্মসমর্পণ করাই ভালো অথবা বলতে হবে এ মুহূর্তে মনে পরতেছে না বা এটা আমার ভালো জানা নেই। এতে করে সময় নষ্ট হবে না। long case যে খাতাটি দেয়া হয় , সেটি প্রকৃত পক্ষে কখনোই পরীক্ষক দেখেন না। সেটা আপনি রোগীর নাম এবং বেক্তিগত তথ্যগুলো সংক্ষেপে লিখে রাখলে নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর মনে মনে রোগীর History সাজাতে কাজে লাগাবেন। এ ক্ষেত্রে দেখা যায় দু’জন পরীক্ষক আগে থেকেই কোনো একটি বিষয় ঠিক করে রাখেন যেটা আপনার ক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকলে আপনাকে পাস নাম্বার দেয়া হবে না। উদাহরন স্বরূপ, আপনি যদি কোন রোগীর Nephrotic Syndrome suspect করেন আর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রোগীকে heat coagulation test করার জন্য না বলেন বা ব্যবস্থা না করেন , সে ক্ষেত্রে আপনি পাস নাম্বার না পাওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট । এ ক্ষেত্রে সময় যথেষ্ট থাকে না বিধায় প্রথমে পাঁচ – সাত মিনিটের মধ্যে সংক্ষেপে History নিয়ে দ্রুত clinical exam ( generel and related systemic) শুরু করে দিন। History এর বাকি অংশ clinical exam এর সাথে সাথে নিবেন।

Short Case এ আপনাকে যে পরীক্ষা করতে বলা হবে সেটার কোনো পয়েন্ট বাদ রাখবেন না । আপনার examination method ঠিক থাকলে, আর কোন পয়েন্ট বাদ না পরলে আপনি সহজেই পাস করার আসা করতে পারেন। liver palpation করতে গেলে palpable হোক আর না হোক আপনি অবশ্যই upper border of liver dullness দেখবেন। abdomen examination করতে দিলে testicles দেখতে ভুলবেন না। lower limb neurological examination করতে দিলে vertibral column palpation/percussion করতে ভুলবেন না। Fundoscopy করতে দিলে red reflex এর কথা বলতে ভুলবেন না । respiratory exam from back করতে দিলে শেষ দিকে সামনে এসে position of trachea দেখতে ভুলবেন না। তেমনি precordium দেখতে দিলে শেষে প্রয়োজন বোধে base of lung দেখতে ভুলবেন না। কোন রোগীকে hypothyroid সন্দেহ করলে তার delayed relaxation of ankle jerk দেখতে এবং পরীক্ষকের সামনে বলতে ভুলবেন না। lymph node exam করার ক্ষেত্রে site, size, number, consistency, fixation, tenderness, discharging sinus ইত্যাদি সব উল্লেখ করতে হবে। পরীক্ষক কি কি investigation করবেন জানতে চাইলে, investigation বলার সাথে সাথে সেটার প্রত্যাশিত result নিজে থেকেই বলে দিতে চেষ্টা করবেন।

ক্লিনিক্যাল পরীক্ষাতে আপনাকে বুদ্ধিমত্তার সাথে/ উপযুক্ত ক্ষেত্রে less likely, more likely, point in favour , point against, it is common/ uncommon in our country ইত্যাদি শব্দগুলোর ব্যাবহার শিখতে হবে। ক্লিনিক্যাল পরীক্ষাতে আগে থেকে case জানার চেস্টা করলে বরং অকৃতকার্য হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে ।
পরীক্ষার হলে বয়োকনিষ্ঠ রোগীকে আদর করে ‘তুমি’ বলতে যাবেন না। এটা আপনার বিরুদ্ধে যেতে পারে। সব রোগীকে ‘আপনি’ করে বলুন।
রোগীকে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা করার মুহূর্তে আপনার এবং রোগীর উভয়ের comfortable position অত্যাবশ্যকীয় ।

introduction, greeting, consent, right side, proper exposure, female attendent (if needed), adequet day light, temperature of your hand (specially in cold season) ইত্যাদির ব্যাপারে ভুলবেন না । পরীক্ষার আগে রোগী দেখার জন্য NICVD, NIDCH, NINS যাওয়া উচিত। সেখানে একসাথে বিভিন্ন রোগীর বিভিন্ন findings গুলো তুলনা করে সহজে শেখা যায় । ওয়ার্ডে রোগী দেখার সময় DD, confirmatory test, Rx, prognosis, poor or good prognostic factors, complications, sequele, indication of surgery (eg in ulcerative colitis, liver abscess), contra indication of surgery (eg bronchogenic carcinoma) , what to do if surgery contraindicated (eg in ca head of pancreas) আলোচনা করে নিতে চেষ্টা করবেন।
ওয়ার্ডে আপনি রোগীর সঠিক চিকিৎসার প্রতি নিজের মন থেকে যত বেশি গুরুত্ব দিবেন , আপনি তত বেশি দক্ষ হতে পারবেন। academic corner এর programme গুলিতে নিয়মিত অংশগ্রহন করবেন।

বার বার রোগী দেখুন। গাইতে গাইতে গায়েন । সাফল্যের সংক্ষিপ্ত কোন পথ নেই। তিলে তিলেই দক্ষতা অর্জন করতে হবে। মনে রাখবেন, পরিশ্রম করার পর দুর্ভাগ্যের আশংকা করা যায়, কিন্তু পরিশ্রম না করে সৌভাগ্যের আশা করাটা বোকামি এবং অন্যায়।
কেউ কেউ জানতে চান রেসিডেন্সি কোর্স না কি আরো কঠিন করা হচ্ছে ? যে কোনো কোর্স সময়ের সাথে আপডেট করাটাই স্বাভাবিক । সে নিয়ে চিন্তা করলে হবে কিভাবে? যত গর্জে তত বর্ষে না। আপনি নিজে পরিশ্রম করতে থাকুন। সাফল্য আপনার পায়ে এসে ধরা দিবে।
কদাচিৎ কেউ কেউ আলোচনা করে, আমরা এই মেডিক্যালের পরীক্ষার্থীরা ওই মেডিক্যালে পরীক্ষা দিতে গেলে ওখানকার পরীক্ষকেরা আমাদের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরন করবে না তো ? মূলত এ ধরনের আশংকা অযৌক্তিক। বরং একজন পরীক্ষার্থীর উচিত নিজেকে দক্ষ করে প্রস্তুত করা। নিজের optimum knowledge, skill, attitude থাকলে মঙ্গল গ্রহে গিয়ে পরীক্ষা দিলে এবং সেখানে পরিচিত কোন শিক্ষক কেউ না থাকলেও পরীক্ষার্থী পাস করবেন।

কেউ যদি বিদেশে post graduation করতে চান, তাহলে এমবিবিএস পাস করা মাত্র সে ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করুন। যতদূর জানা গেছে , এমবিবিএস পাসের পর একটা নির্দিষ্ট সময় পার (কয়েক বছর) হয়ে গেলে US USA, UK তে এ ব্যাপারে আর সুযোগ থাকে না। এ ব্যাপারে সময়মতো নিশ্চিত তথ্য নিজ দায়িত্বে জেনে নিন। যে কোনো প্রয়োজনে পরিচিত সিনিয়র ভাই/ আপুর পরামর্শ নিন। আপনার নিজের ব্যাপারে আপনার নিজের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত । মত পার্থক্য থাকতে পারে। সব কিছুতেই ব্যতিক্রম আছে। ব্যতিক্রম কখনোই উদাহরন নয়।

লিখেছেন:
ডাঃ মোঃ মাকসুদ উল্যাহ
রেসিডেন্ট ফেজ বি (নেফ্রোলোজি)
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

শেয়ার করুনঃ Facebook Google LinkedIn Print Email
পোষ্টট্যাগঃ ইন্টার্ন চিকিৎসক, ইন্টার্ন ডাক্তার, এমবিবিএস, নতুন ডাক্তারদের জন্য কিছু কথা,

পাঠকদের মন্তব্যঃ ( 0)




Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

Advertisement
Advertisement
.