মেডিকেল কলেজের ৩য় বর্ষের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য..


এবছর যারা মেডিকেল কলেজে ৩য় বর্ষে উঠেছেন তাদের অভিনন্দন।
এই সময় থেকে ডাক্তার হবার স্বপ্নের অনেক কাছাকাছি যায় ছাত্র-ছাত্রীরা, কারন এই সময় থেকে ওয়ার্ডে ক্লাস হয়, রোগীদের কাছে যাওয়া শুরু হয়, রোগী দেখা হয়। আগে আমাদের সময় বলা হত থার্ড ইয়ার, ডোন্ট কেয়ার,থার্ড ইয়ার, হানিমুন ইয়ার ইত্যাদি। যাই হোক আমার কাছে সেটা কোন ভাবেই মনে হয় নাই। মেডিকেল সাইন্সকে যদি একটি বিল্ডিং এর সাথে তুলনা করা হয় তবে ১ম ও ২য় বর্ষ হচ্ছে পাইলিং, আর ৩য় বর্ষ হচ্ছে পিলার। যাদের পাইলিং আর পিলার মজবুত হবে তার বিল্ডিং তত মজবুত হবে। এই ৩য় বর্ষের সময় যেগুলো পড়ানো হবে সেগুলো আর কোনদিনও পড়ানো হবে না। এই সময় যা যা শিখতে হবে, পড়তে হবে তা লেখার চেষ্টা করছি।
১। সবার আগে রোগীর সাথে কথা বলা শিখতে হবে। রোগীর রোগের ইতিহাস নিতে হবে। এটাই সবচেয়ে কঠিন কাজ, কারন রোগী যদি মোটিভেটেড না হয় তবে তার রোগ সম্পর্কে সঠিক ইতিহাস দিবে না, আর ইতিহাস না দিলে আমরা রোগীর সমস্যা বুঝতে পারবো না। আর রোগীর সমস্যা যদি আমরা বুঝতে না পারি তবে সমাধান করতেও পারবো না। এসবের জন্য Communication skills for medical students ভালোভাবে পড়া উচিত।
২। রোগী তার সমস্যার কথা বলবে কিন্তু আমাদের রোগ নির্ণয়ের জন্য যে তথ্য গুলো জানা দরকার সেগুলো বলবে না। যেমন-রোগী বলবে আমার বুকে ব্যাথা, এখন সেটা কি ধরনের ব্যাথা-চাপ দেবার মত (IHD), জ্বলার মত (GERD), শ্বাসপ্রশ্বাসের সাথে বেড়ে যায় (pleurisy) ইত্যাদি। এসব আমাদেরকে শিখতে হবে। মোট কথা রোগী কি সমস্যা বললে আমরা কি কি তথ্য তার কাছ থেকে নেবো এবং কেনো নেবো সেগুলো জানতে হবে। এর জন্য History taking and symptom analysis or elaboration ভালোভাবে পড়তে হবে।
৩। রোগী কোন সমস্যা বললে সেটা কোন সিস্টেমের অসুখে হতে পারে, সেই সমস্যার আর কি কি কারন হতে পারে সেগুলো খুব ব্যাসিক ও জরুরী জিনিস। Presenting complaints of the diseases of the different system পড়লে এগুলো ক্লিয়ার হয়ে যাবে।
৪। রোগীকে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা করা খুব জরুরী। কারন রোগের ইতিহাস, পরীক্ষার তথ্য এবং ল্যাবরেটরি রেজাল্ট দিয়ে আমরা সাধারনত রোগ নির্ণয় করে থাকি। এবং এগুলোর মধ্যে রোগের ইতিহাস আর ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার তথ্য এ দুটিই বেশি অবদান রাখে। রোগী কোন সমস্যা নিয়ে আসলে আমরা কি ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা করব, কিভাবে করব, কেনো করব, কোন ফাইন্ডিং পেলে কোন রোগ হতে পারে এটা ভালোভাবে শিখতে হবে। এর জন্য General physical examination and systemic examination ভালোভাবে পড়তে হবে, প্রাকটিস করতে হবে।
৫। কোন সমস্যার জন্য কি কি ল্যাবরেটরি পরীক্ষা করতে হবে এটা জানতে হবে। তবে এই অংশটি সাধারণত ৪র্থ ও ৫ম বর্ষে শেখানো হয়।
সারাংশ হচ্ছে ৩য় বর্ষে-রোগীর সাথে কথা বলা, রোগের ইতিহাস নেয়া, রোগীকে পরীক্ষা করা শিখতে হবে। এগুলো শেখা ছাড়া মেডিকেল সাইন্সের সমুদ্রে ঝাপ দিয়ে কোন কূল-কিনারা খুঁজে পাওয়া যাবে না।

Dr. Ratindra Nath Mondal (Ratin),
MBBS, FCPS (Medicine)
Associate Professor
Department of Medicine
Rangpur Community Medical College, Bangladesh
Editor,
A Manual of History Taking and Clinical Examination

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

Next Post

MPH for clinicians

Sat Jul 21 , 2018
Many clinicians have a perception that MPH is a degree that should be studied by only those who intend to build their career in public health. Those who are determined to continue as clinicians do not need to study MPH at all. I will argue that this school of thought […]

সাম্প্রতিক পোষ্ট