বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস: হেপাটাইটিসমুক্ত ভবিষ্যৎ

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ২৮ জুলাই ২০২০, মঙ্গলবার

প্রতি বছর আজকের এই তারিখে পালিত হচ্ছে “বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস”। হেপাটাইটিস হচ্ছে হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি, ই ভাইরাস দ্বারা ঘটিত এক সংক্রামক রোগ, এবং বিশ্বব্যাপী ২৯০ মিলিয়ন মানুষ নিজের অজান্তেই ভাইরাল হেপাটাইটিস নিয়ে বেঁচে আছেন। যতদিন না এই অজ্ঞাত রোগীদের সংখ্যা নির্ণয় করা হবে এবং তাদের চিকিৎসার যথাযথ ব্যবস্থা করা হবে, লক্ষ লক্ষ লোক ক্ষতিগ্রস্থ হতে থাকবে এবং জীবন হারিয়ে যাবে। আর তাই সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে প্রতিবছর ২৮ শে জুলাই দিবসটি পালন করা হয়।

প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে অসংখ্য হেপাটাইটিস পজিটিভ ব্যক্তি এবং এর সমর্থকসহ হাজার হাজার মানুষ ২৮ জুলাই ইভেন্টগুলোতে অংশ নেয়। উল্লেখযোগ্যভাবে বলা যায় ২০১২ সালে একটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড তৈরি হয়, যখন ২০টি দেশের ১২,৫৮৮ জন মানুষ বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে “Three Wise Monkeys actions” ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেছিল।

১লা অক্টোবর, ২০০৪ সালে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক হেপাটাইটিস সি সচেতনতা দিবস পালন করা হয়। যা বিভিন্ন ইউরোপীয় এবং মধ্য প্রাচ্যের রোগীদের এবং বেবি মুরিয়ালের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, কিন্তু তখনও অনেক মানুষ ভিন্ন ভিন্ন তারিখে ‘হেপাটাইটিস দিবস’ পালন করতো। এই কারণে ২০০৮ সালে, বিশ্ব হেপাটাইটিস অ্যালায়েন্স রোগীদের সাথে সহযোগিতায় ১৯-শে মে বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। মূলত ‘হেপাটাইটিস দিবস’ ধারণাটির উদ্ভব হয়েছিল ওডিসার কৌটক-এ। শ্রীরাম চন্দ্র ভাঞ্জা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল(এসসিবি)-এর গ্যাস্ট্রোন্টারোলজির বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, অধ্যাপক এসপি সিং, এসসিবি কৌটক ইনস্টিটিউটে ২৮শে জুলাই হেপাটাইটিস দিবস পালনের প্রস্তাব করেছিলেন। ২০১০ সালের মে মাসে ৬৩ তম ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্ব্লির সময় একটি প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পরে, বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবসকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সচেতনতা-উত্থাপনের প্রচেষ্টার প্রাথমিক ফোকাস হিসাবে বিশ্বব্যাপী সমর্থন দেওয়া হয়েছিল এবং তারিখটি পরিবর্তন করে ২৮শে জুলাই (হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের আবিষ্কারক নোবেল বিজয়ী বারুচ স্যামুয়েল ব্লম্বার্গের সম্মানে যিনি এই তারিখে তাঁর জন্মদিন উদযাপন করেছিলেন) নির্ধারণ করা হয়।

প্রতি বছর হেপাটাইটিস দিবসের একটি নির্দিষ্ট থিম বা প্রতিপাদ্য থাকে। ২০২০ সালের প্রতিপাদ্য হলো:

“হেপাটাইটিস মুক্ত ভবিষ্যৎ”

উক্ত প্রতিপাদ্য বাস্তবায়নে অর্থাৎ, হেপাটাইটিস নির্মূলে হেপাটাইটিসের বিভিন্ন রূপ এবং সেগুলি কীভাবে সংক্রামিত হয় সে সম্পর্কে মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে হবে; ভাইরাল হেপাটাইটিস এবং এর সাথে সম্পর্কিত রোগগুলির প্রতিরোধ, স্ক্রিনিং এবং নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে হবে; হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিনের কভারেজ বৃদ্ধি এবং জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে সংহতকরণ; এবং হেপাটাইটিসের প্রতি বৈশ্বিক দ্বায়িত্ব সমন্বয় করতে হবে। তাহলেই কেবল হেপাটাইটিস মুক্ত ভবিষ্যৎ সম্ভব।

Omaima Akter Maria

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

Next Post

শেষ অবধি মৃত্যুর কাছে হার মানলেন নিউরোসার্জন ডা. রাজীব ভট্টাচার্য

Tue Jul 28 , 2020
প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ২৮ জুলাই ২০২০, মঙ্গলবার ডা. রাজীব ও ডা. অনূসূয়া দম্পতি রাজধানীর হাতিরপুল ইস্টার্ন প্লাজার পেছনের একটি বাড়ির তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন। ডা. রাজীব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ও তার স্ত্রী ডা. অনূসূয়া ভট্টাচার্য শ্যামলি ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেলের চক্ষু বিভাগের রেজিস্ট্রার। করোনা কালীন […]

সাম্প্রতিক পোষ্ট