মূল অংশে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের সঙ্গে থাকুন
সাবস্ক্রাইব করুন
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬৯ কার্তিক ১৪৩৩ · ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
রিসার্চ

ক্যান্সার কোষকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানোর প্রযুক্তি আবিষ্কারের দাবি দক্ষিণ কোরিয়ার

Moin Uddin Ahmad Sibliপ্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ৪:৪১ · ৩ মিনিটে পড়ুন
ক্যান্সার কোষকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানোর প্রযুক্তি আবিষ্কারের দাবি দক্ষিণ কোরিয়ার
লেখার আকার

সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৪

ক্যান্সার চিকিৎসায় একটি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষকেরা। এই প্রযুক্তিতে ক্যান্সার কোষগুলোকে মেরে ফেলার পরিবর্তে সেগুলোকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারবে বলে দাবি করেছেন তারা।

কোরিয়ান বায়োমেডিকল রিভিউ’র বরাতে জানা যায়, গত সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) কোরিয়া অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (কেএআইএসটি) জানিয়েছে, “কেমিক্যাল এবং ব্রেন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক চো কাং-হিউনের নেতৃত্বে একটি গবেষক দল নতুন একটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। এই প্রযুক্তি কোলন ক্যান্সারের কোষগুলোকে মেরে ফেলার পরিবর্তে তাদের অবস্থা পরিবর্তন করে কোলন কোষগুলোকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসবে।”

বর্তমানে প্রায় সকল ক্যান্সার চিকিৎসায় রেডিওথেরাপির মাধ্যমে ক্যান্সার কোষগুলোকে ধ্বংস করা হয়। তবে এই প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল— ক্যান্সার কোষগুলো প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করতে পারে এবং একইসাথে স্বাভাবিক সুস্থ কোষও ধ্বংস হতে পারে।

ক্যান্সার কোষ স্বাভাবিক কোষের মতোই থাকে। তবে এদের বৃদ্ধি এবং বিভাজন ঘটে অনিয়ন্ত্রিতভাবে। মানুষের শরীর অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত, যেগুলো নির্দিষ্ট সময় পর মারা যায় এবং পুরোনো কোষের জায়গায় নতুন কোষের জন্ম হয়। সাধারণত কোষগুলো একটি নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে নতুন কোষ তৈরি করে। তবে ক্যান্সারের ক্ষেত্রে এই কোষগুলোর বিভাজন ঘটে অনিয়ন্ত্রিতভাবে, যার ফলে শরীরে টিউমার বা মাংসপিণ্ড সৃষ্টি হয়। এগুলো ত্বকের নিচে একটি চাকা আকারে দেখা যায়।

আবিষ্কৃত প্রযুক্তিটি ক্যানসার রিভার্স থেরাপির একটি নতুন ধারণা হিসেবে পরিচিতি লাভ করছে।

গবেষক দলটির দাবি – তাদের গবেষণায় উঠে এসেছে স্বাভাবিক কোষগুলো ক্যান্সার হওয়ার প্রক্রিয়ায় তাদের স্বাভাবিক ডিফারেনশিয়েশন ট্র্যাজেক্টরি (কোষের বৃদ্ধির প্রাকৃতিক ধারা) থেকে বিপরীত দিকে চলে যায়।

এই ধারণা থেকে তারা একটি ‘ডিজিটাল টুইন’ তৈরি করেছেন, যা একটি ভার্চুয়াল মডেল বা সিমুলেশন। এই মডেলটি স্বাভাবিক কোষ ডিফারেনশিয়েশন ট্র্যাজেক্টরির জেন নেটওয়ার্ক (জিনের মিথস্ক্রিয়া ও তাদের পরিবর্তন শৃঙ্খলা) এর একটি অনুলিপি। অর্থাৎ এটি কোষগুলোর স্বাভাবিক বিকাশের পুরো প্রক্রিয়াটিকে সঠিকভাবে চিত্রিত করে।

পরে, তারা এই ডিজিটাল টুইন বা মডেলটি ব্যবহার করে সেলের ডিফারেনশিয়েশন বা বৃদ্ধির প্রক্রিয়াটি সিমুলেট এবং বিশ্লেষণ করেছেন। এর মাধ্যমে ক্যান্সারের বিকাশে কী কী নির্দিষ্ট পরিবর্তন ঘটছে তা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারেন তারা। এর মাধ্যমে তারা এমন উপাদান বা ফ্যাক্টর চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছেন, যা ক্যান্সারের কোষগুলোকে স্বাভাবিক সেলে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রভাবিত করতে পারে।

এই গবেষণার মাধ্যমে তারা সেসব গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক উপাদান চিহ্নিত করেছেন, যা স্বাভাবিক সেল ডিফারেনশিয়েশন ট্র্যাজেক্টরির নিয়ন্ত্রণ করে। পরবর্তী সময়ে তারা কোলন ক্যান্সার সেলে এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করে প্রমাণ করেছেন যে, এই প্রযুক্তি ক্যান্সার সেলের অবস্থা স্বাভাবিক সেলে রূপান্তরিত করতে সক্ষম।

এ বিষয়ে অধ্যাপক চো কাং-হিউন বলেন, ‘এটি অত্যন্ত আশ্চর্যজনক যে, ক্যান্সার সেলগুলোকে স্বাভাবিক সেলে রূপান্তরিত করা সম্ভব। আমাদের গবেষণায়, প্রথমবারের মতো ক্যান্সার সেলগুলোকে স্বাভাবিক সেলে ফিরিয়ে আনার থেরাপির ধারণাটি উপস্থাপন করেছে। এর মাধ্যমে আমরা একটি মৌলিক প্রযুক্তি তৈরি করেছি যা স্বাভাবিক সেল ডিফারেনশিয়েশন ট্র্যাজেক্টরির বিশ্লেষণ করে ক্যান্সার রিভার্স থেরাপির জন্য লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করবে।’

এই গবেষণার ফলাফলটি এখন ‘বায়োরিভার্ট’ কোম্পানিতে স্থানান্তরিত হবে এবং এটি ব্যবহার করে ক্যান্সার রিভার্স থেরাপির উন্নয়নের কাজ শুরু হবে।

আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘অ্যাডভান্সড সায়েন্স’ এর অনলাইন সংস্করণে গত ১১ ডিসেম্বর গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। এই গবেষণায় কেএআইএসটি–এর ডঃ গং জেং-রেওল, পিএইচডি ছাত্ররা লি চান-কিয়ং, কিম হন-মিন এবং কিম জু-হি অংশগ্রহণ করেছেন।

প্ল্যাটফর্ম/

খবরটি শেয়ার করুন

সম্পর্কিত খবর

দৈনিক ১ ঘণ্টা স্মার্টফোন ব্যবহার বাড়ায় মায়োপিয়ার ঝুঁকি – গবেষণা

সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ মোবাইল বা কোনো স্ক্রিনের সামনে দীর্ঘক্ষণ সময় কাটানো ব্যক্তিদের জন্য দেয়া হয়েছে সতর্কবার্তা। গবেষণা বলছে, দিনে মাত্র ১ ঘণ্টা স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট ব্যবহারের ফলে মায়োপিয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। মায়োপিয়ার সমস্যায় মানুষ কাছের জিনিস স্পষ্ট…

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫বিস্তারিত পড়ুন

বয়স থামানোর প্রোটিন আবিষ্কারের দাবি জাপানি গবেষকদের!

শনিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৪ বয়সজনিত রোগের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এমন এক ধরনের প্রোটিন আবিষ্কার করেছেন গবেষকেরা। প্রোটিনটির নাম হলো—হেক্সোকাইনেজ ডোমেন কনটেইনিং ১ (এইচকেডিসি১)। বার্ধক্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কোষীয় অঙ্গানুগুলোকে পরিষ্কার করতে সাহায্য করবে এ প্রোটিন। এসব কোষীয় অঙ্গানুগুলো ভেতরে থেকে…

২৮ ডিসেম্বর ২০২৪বিস্তারিত পড়ুন

চিকিৎসাবিজ্ঞান ও শরীরতত্ত্বে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী ভিক্টর এ্যাম্ব্রোস ও গ্যারি রুভকুন

সোমবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৪ চিকিৎসাবিজ্ঞান ও শরীরতত্ত্বে ২০২৪ সালে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী ভিক্টর এ্যাম্ব্রোস ও গ্যারি রুভকুন। মাইক্রো আরএনএ আবিষ্কারের জন্য এই পুরস্কার পেলেন তাঁরা। বাংলাদেশ সময় সোমবার (০৭ অক্টোবর) বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে সুইডেনের স্টকহোম থেকে…

৭ অক্টোবর ২০২৪বিস্তারিত পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘর পূরণ করা জরুরি।

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।
নোটিফিকেশন বর্তমানে বন্ধ।