মূল অংশে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের সঙ্গে থাকুন
সাবস্ক্রাইব করুন
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬৫ কার্তিক ১৪৩৩ · ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
নির্বাচিত লেখা

আইসিইউ রোগীর নিকটাত্মীয়দের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ,কিছু বিভ্রান্তি এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা

প্ল্যাটফর্ম কনট্রিবিউটরপ্রকাশ: ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১১:৩৬ · ৪ মিনিটে পড়ুন
আইসিইউ রোগীর নিকটাত্মীয়দের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ,কিছু বিভ্রান্তি এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা
লেখার আকার

 

প্রশ্ন ১ 

‘ স্যার আমার রোগী লাইফ সাপোর্ট মেশিনে আছেন ….. কিন্তু রোগীতো নড়াচড়া করেনা ! আমার তো মনে হয় রোগী আর বেঁচে নেই ! ‘

উত্তর :
খুব সতর্কতার সাথে লক্ষ্য করুন ঃ

একজন রোগী যখন নিজে নিজে আর কোন অবস্হাতেই শ্বাস নিতে পারেন না অথবা রোগীর ধমনীর রক্ত পরীক্ষা ( arterial blood gas analysis ) করে যখন দেখা যায় যে , রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতির পরিমাণ এতোটাই বেশি যে অক্সিজেনের এই ঘাটতি জনিত কারণে রোগীর মস্তিষ্ক , হৃৎপিন্ড , কিডনী সহ সংবেদনশীল অংগগুলো যে কোন মুহূর্তেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে – তখন একজন আইসিইউ বিশেষজ্ঞ / চিকিৎসক রোগীর শ্বাসনালি দিয়ে একটি নল ঢুকিয়ে ( Endotracheal tube ) দেন এবং রোগীকে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস মেশিনের সাথে সংযুক্ত করেন l রোগীর শরীরের অক্সিজেনের এই ঘাটতি , ventilator নামক মেশিনটি পূরণ করার চেষ্টা করে l এক্ষেত্রে চিকিৎসকগণ রোগীর ফুসফুস সহ পুরো শরীর কে অবশ / paralyzed করে দেন এবং রোগী যাতে ঘুমন্ত অবস্হায় থাকেন এজন্য কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ প্রয়োগ করেন l এসব ওষুধ রোগীকে মানসিক চাপমুক্ত রাখে , রোগীকে নিস্তেজ রেখে ফুসফুসের অক্সিজেন প্রবাহ নিশ্চিত করে এবং রোগীকে ব্যাথামুক্ত রাখে l
এই সময় রোগী নড়াচড়া করতে পারেনা ।ডাকলেও সাড়া দেয়না।
কতক্ষণ রোগী এভাবে নিস্তেজ থাকবে তা রোগীর ফুসফুসের উন্নতি সহ অনেক গুরুত্ববপূর্ণ বিষয়ের উপর নির্ভরশীল ।
এসময় রোগীর আত্মীয় স্বজনদের অনেকেরই ভুল ধারণা জন্মায় ‘ যেহেতু রোগী আর নড়ছে না , ডাকলেও শুনছে না , রোগী মৃত।

avea-ventilator_4_RC_11-AVEA_0777-2

আশা করি বিষয়টা নিয়ে কিছুটা ধারণা দিতে পেরেছি ।
বাস্তবিক অর্থে ভেন্টিলেটর মেশিন বা কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস মেশিনের বিভিন্ন mode /প্রয়োগ কৌশল অনেক জটিল বিষয় ।

প্রশ্ন : 2

‘ আমার রোগীর হাত পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে গেছে ,শরীর কালো হয়ে গেছে ।আর আপনারা ওনার গলায় ছিদ্র করেছেন  / বগলে ছিদ্র করেছেন  / বুকের উপরে ছিদ্র করেছেন ! আমি নিশ্চিত আমার রোগী মৃত !

উত্তর :

একজন রোগী যখন blood pressure / শরীরের রক্তচাপ নিজে নিজে আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না, ( due to shock of any cause ) তখন রোগীর মস্তিষ্কের রক্তপ্রবাহও কমতে থাকে । রোগী আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে যায়, হৃৎপিণ্ডের রক্ত সঞ্চালন বা pumping ক্ষমতাও হ্রাস পেতে থাকে ,শরীরের শিরা উপশিরা সংকুচিত হয়ে আসে ( peripheral vesoconstriction ) । এমতাবস্থায় রোগীর হাত পায়ের শিরা উপশিরায় যদি ছিদ্র করা হয় ইনজেকশন বা জরুরী ওষুধ দেয়ার জন্য , অধিকাংশ সময়েই শিরায় রক্ত পাওয়া যায়না ( শিরার সংকোচনজনিত কারণে ) ।
একারণেই রোগীকে বাঁচানোর জন্য চিকিৎসকরা রোগীর বগলে , গলার ডান বা বাঁ পাশে , বুকের উপরাংশে , উরুতে ছিদ্র করেন । কারণ এখানকার শিরাগুলো রোগীর blood pressure অনেক কমে গেলেও সহজে সংকুচিত হয়না।

রোগীর প্রেসার বা রক্তচাপ কমে গেলে হাত পায়ের শিরার দ্রুত সংকোচন ( vesoconstriction ) জনিত কারণে রোগীর শরীর মৃতের শরীরের মতোই ঠান্ডা হয়ে যায় ।
অন্যদিকে রোগীর হৃৎপিন্ড , মস্তিষ্ক , কিডনী , লিভার সহ গুরুত্বপূর্ণ অংগের প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য চিকিৎসকরা dopamine , adrenaline, noradrenaline , vesopressine জাতীয় ওষুধ প্রয়োগ করেন ।
জীবনরক্ষাকারী এসব ওষুধ শরীরের হাত পায়ের রক্ত প্রবাহ কমিয়ে হৃৎপিণ্ড সহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংগকে বাঁচানোর প্রচেষ্টা করে । এক্ষেত্রে রোগীর গায়ে হাত দিলে খুবই শীতল মনে হয় , শরীর ফ্যাকাসে হয়ে যায় । রোগীর আত্মীয় স্বজন রোগীর শরীরের এই শীতলতা ও বর্ণহীনতাকে মৃতের শরীরের সাথে তুলনা করে ভুল করেন ।

 

 

একথা বুকে হাত রেখে সকল চিকিৎসকই দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলার মানসিকতা রাখেন ।
‘ আমরা কখনোই চাইনা রোগী আমাদের চোখের সামনে মৃত্যুর কাছে পরাজিত হউক । আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টাই করি, করবো।
এতে রোগীর বুকে , গলায় বা বগলে ছিদ্র করে IV access ( জরুরী ওষুধ প্রয়োগের জন্য রাস্তা তৈরি ) করাটাই মূখ্য , রোগীর জীবন বাঁচানোর জন্য শরীরের শীতলতা কখনোই মূখ্য বিষয় হতে পারেনা ।

আস্থা রাখুন –
মনের যে কোনো প্রশ্ন চিকিৎসককে বলুন।
( বি: দ্র:- আমি অত্যন্ত সহজ ও সাবলীলভাবে দুটি বিষয় বোঝানোর চেষ্টা করেছি এবং ব্যাখ্যা দিয়েছি l বাস্তবিকপক্ষে আইসিইউর চিকিৎসা প্রণালীর বিষয়গুলো অত্যন্ত জটিল ।)

লেখক ঃ ডা. Asif Soikot,( Registrar Critical care Dept – Apollo Hospitals Dhaka )

ট্যাগ:icuআইসিইউ
খবরটি শেয়ার করুন

সম্পর্কিত খবর

অনুদান নির্ভর নয়, স্বনির্ভর হোক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা – মুজিববর্ষে ‘হাসিখুশি’র দৃপ্ত উচ্চারণ

  প্ল্যাটফর্ম নিউজ, সোমবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৬ ডিসেম্বর ২০২১, বাংলাদেশের বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী। একই বছর স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকার বছরটিকে 'মুজিববর্ষ' ঘোষণা করেছেন।   এই বিশেষ দিনে 'হাসিখুশি' পালন করে ২য়…

২০ ডিসেম্বর ২০২১বিস্তারিত পড়ুন

ওমিক্রনঃ আতংক ও প্রতিরোধ

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ৬ ডিসেম্বর ২০২১, সোমবার করোনা ভাইরাস ২০১৯ এর ডিসেম্বর থেকে এখন অবধি তার রুপ দেখিয়ে চলেছে। সময়ের সাথে সাথে অন্য সব ভাইরাসের মতো করোনা ভাইরাসের পরিবর্তন বা মিউটেশন হয়েছে। WHO করোনার ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন (VOC) হিসেবে এখন পর্যন্ত…

৬ ডিসেম্বর ২০২১বিস্তারিত পড়ুন

শিশুর মানসিক বিকাশে চাই সুষম খাবার

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ২০ আগস্ট ২০২১, শুক্রবার ডা. মোহাম্মদ নেয়ামত হোসেন রিপন সহকারী অধ্যাপক (নিওনেটোলজী) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ, ফরিদপুর। #Early_Childhood_Development: আমাদের বাচ্চাদের ব্রেইনের ৯৫% গঠন হয় প্রথম ৫ বছরে। বাকি ৫% গঠন হয় পরের ৩ বছরে। তাই প্রথম ৮…

২০ আগস্ট ২০২১বিস্তারিত পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘর পূরণ করা জরুরি।

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।
নোটিফিকেশন বর্তমানে বন্ধ।