শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল, ২০২৬
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগে ঢুকে কর্তব্যরত চিকিৎসকের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।

গত ৩১ মার্চ রাত প্রায় ১১টা ৫৬ মিনিটে পারিবারিক কলহে আহত এক রোগীকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ মফিজুর রহমান রোগীর চিকিৎসা শুরু করে অবস্থার অবনতি দেখে দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
ঠিক সেই সময়ই ঘটনাস্থলে হাজির হন মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও একাধিক পুলিশ সদস্য। অভিযোগে বলা হয়েছে, পুলিশ সদস্যরা চিকিৎসা কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করেন এবং চিকিৎসককে চাপ প্রয়োগ করেন। একপর্যায়ে তারা অশালীন ভাষায় কথা বলেন এবং প্রকাশ্যে হুমকি দেন।
শুধু তাই নয়, চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ‘সরকারি ওষুধ বাইরে বিক্রি’ করার মতো গুরুতর অভিযোগও তোলেন তারা—যা পরে তদন্তে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে।
ঘটনার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. প্রিয়াঙ্কা চক্রবর্তী তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। হাসপাতালের কর্মীদের জবানবন্দি এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কমিটি নিশ্চিত হয়—চিকিৎসকদের সঙ্গে পুলিশের অশোভন আচরণ ঘটেছে।
পুলিশ চিকিৎসা কার্যক্রমে অযাচিত হস্তক্ষেপ করেছে চিকিৎসকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি
প্রতিবেদনে এসব আচরণকে “চরম অসহনীয় ও পেশাগত পরিবেশবিরোধী” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক চাপে রয়েছেন। এ ধরনের ঘটনা চিকিৎসা সেবার পরিবেশ নষ্ট করছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
