ঢাকায় ৯৮ শতাংশ শিশুর রক্তেই উচ্চমাত্রার সিসার উপস্থিতি, দায়ী অটোরিক্সার লেড ব্যাটারি!

মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬

ঢাকায় ৯৮ শতাংশ শিশুর রক্তেই উচ্চমাত্রার সিসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এজন্য করা হয়েছে দায়ী অটোরিক্সায় ব্যবহৃত লেড ব্যাটারিকে।

আইসিডিডিআরবির ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ঢাকায় প্রায় ৫০০ জন ২-৪ বছর বয়সী শিশুদের ওপর পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ৯৮% শিশুর রক্তে সিসার মাত্রা নির্ধারিত সীমার (৩৫ মাইক্রোগ্রাম/লিটার) চেয়ে বেশি। বিবিএস ও ইউনিসেফ-এর তথ্যমতে, সারাদেশে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ৩৮% এবং ঢাকার ক্ষেত্রে ৬৫% শিশুর রক্তে উচ্চমাত্রার সিসা পাওয়া গেছে।

রক্তে সীসার কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। মায়ের শরীর থেকে গর্ভস্থ শিশু বা বুকের দুধের মাধ্যমে সন্তানের দেহে সিসা পৌঁছাতে পারে। এটি শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে, বুদ্ধি (IQ) কমিয়ে দেয়, শেখার ক্ষমতা নষ্ট করে এবং স্থায়ী অবসাদ ও রক্তশূন্যতা তৈরি করে। বড়দের ক্ষেত্রে এটি হৃদরোগ, স্নায়বিক সমস্যা এবং প্রজনন জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়। যতদিনে এসব সমস্যার লক্ষণ ধরা পড়ে ততদিনে শরীরের স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যায়। এই বিপদের পেছনে একটি বড় কারণ হিসেবে ব্যাটারিচালিত রিক্সা এবং অবৈধ ব্যাটারি রিসাইক্লিংকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিটিআরসি’র অনুমান, দেশে প্রায় ৬০ লাখ এবং শুধুমাত্র ঢাকাতেই ১০ থেকে ১২ লাখ ব্যাটারিচালিত রিক্সা চলছে। এই রিক্সাগুলোতে ব্যবহৃত লেড-অ্যাসিড ব্যাটারিগুলো মাত্র এক থেকে দেড় বছর টেকে। প্রতি বছর প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টন ব্যাটারি বর্জ্য তৈরি হয়, যার প্রায় ৭০% ব্যাটারি অনানুষ্ঠানিক বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ভাঙা হয়। উন্নত দেশগুলোতে লেড-অ্যাসিড ব্যাটারির প্রায় ৯৯% নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে অ্যাসিড নিষ্ক্রিয় করে সিসা ও প্লাস্টিক পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করা হয়। কিন্তু, বাংলাদেশের কর্মীরা খালি হাতেই ব্যাটারি ভেঙে সিসা বের করে। যার ফলে প্রায় ১৫% বিষাক্ত উপাদান সরাসরি মাটি ও বাতাসে মিশে যায়।

সরকারি উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ অসম্ভব। সিসার পরিবর্তে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করা যেতে পারে, কারণ এগুলো দীর্ঘস্থায়ী (৬-৭ বছর) এবং এতে লেড পলিউশনের ঝুঁকি নেই। তবে এর দাম অনেক বেশি এবং বাংলাদেশে এগুলো রিসাইক্লিং করার ব্যবস্থা এখনো গড়ে ওঠেনি।

যেহেতু রিক্সা আমাদের জাতীয় জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই, রিক্সা সংক্রান্ত সকল সমস্যার সমাধান অতীব জরুরি।

 

প্ল্যাটফর্ম কনট্রিবিউটর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

Next Post

তত্ত্বাবধায়কের নাম দিয়ে ‘ভিত্তিহীন ও বানোয়াট’ বক্তব্য প্রকাশের প্রতিবাদ

Tue Jan 13 , 2026
মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল সুনামগঞ্জের তত্ত্বাবধায়কের নাম দিয়ে ‘ভিত্তিহীন ও বানোয়াট’ বক্তব্য প্রকাশের প্রতিবাদ করেছে তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয়। মঙ্গলবার তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোঃ মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে – “ডক্টর মুভমেন্ট ফর জাস্টিস সংগঠনটির অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে স্ক্রিনশট-এ দেখতে পাই, কালের কণ্ঠ ই-পেপার পত্রিকায় প্রকাশিত […]

Platform of Medical & Dental Society

Platform is a non-profit voluntary group of Bangladeshi doctors, medical and dental students, working to preserve doctors right and help them about career and other sectors by bringing out the positives, prospects & opportunities regarding health sector. It is a voluntary effort to build a positive Bangladesh by improving our health sector and motivating the doctors through positive thinking and doing. Platform started its journey on September 26, 2013.

Organization portfolio:
Click here for details
Platform Logo