২০১৭ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ সকল মেডিকেল কলেজগুলোতে এমবিবিএস ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। মার্চ মাসের ২য় সপ্তাহের মাঝে পরীক্ষা নেওয়া শেষও হয়ে যায়।
এর মাঝে সমগ্র বাংলাদেশে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হয়ে গেল। বিগত ৪ ই মে সেই এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্টও দিয়ে দিয়েছে অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলের ফাইনাল পরীক্ষার রেজাল্ট এখনো দেয় নি।
সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজশাহী সকল বিশ্ববিদ্যালয় ঢাবির পরে ফাইনাল প্রফ পরীক্ষা নেওয়া শুরু এবং শেষ করলেও রেজাল্ট আগেই দিয়ে দিয়েছে। ঘুমন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে এসেও রেজাল্ট নিয়ে গড়িমসি করছে।
বিগত দুই বছর ১৪ই মে ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়ে দিলেও আজ পর্যন্ত রেজাল্ট কবে হবে এ বিষয়ে কোন সঠিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
সবাই জানেন একজন মেডিকেল পড়ুয়া শিক্ষার্থীর কাছে ফাইনাল প্রফ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। পাশ করলে ডাক্তার জীবন শুরু হবে অথবা আবারো পরীক্ষা দেবার প্রস্তুতি নিতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন আচরণ কতটুকু যুক্তিসংগত? শুধু তাই নয়, ডীন অফিসে রেজাল্ট আসার পরেও সেই একই গড়িমসি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
যথাসময়ে রেজাল্ট দিয়ে দিলে যারা খারাপ করবে তারা ভালভাবে পুনরায় প্রস্তুতি নেবার সুযোগ পেতে পারত। কিন্তু রেজাল্ট নিয়ে এমন গড়িমসি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরম সীমায় নিয়ে গেছে।
অপরদিকে বিগত কয়েকবছর ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু অসাধু কর্মচারী এই বিলম্বে রেজাল্ট দেওয়ার প্রবণতাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের কে টাকার বিনিময়ে রেজাল্ট জানিয়ে দেবার ব্যবসায় নেমেছে। অসহায় শিক্ষার্থী যারা জুলাইতে পরীক্ষায় বসতে হবে কিনা এই চিন্তায় এই অসাধু কর্মচারীদের হাতে জিম্মি হয়ে টাকা দিয়ে রেজাল্ট শুনতে আগ্রহী হচ্ছে।
রেজাল্ট প্রকাশ হতে এত দেরী হবার আমরা অবসান চাই। সামনের ব্যাচগুলো আমাদের মত যেন দুর্ভোগে না পড়ে আমরা তার নিশ্চয়তা চাই। অসাধু কর্মচারীদের দৌরাত্ম বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। এসএসসি, এইচএসসির মত এত বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থীদের রেজাল্ট দ্রুত প্রকাশ হলে, ঢাবি কেন তা পারবে না? সেই সাথে সবকিছুই যেখানে ডিজিটাল হয়ে যাচ্ছে সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েব সাইটে কেন রেজাল্ট প্রকাশের উদ্যোগ নিচ্ছে না?
ফাইনাল প্রফ সহ সকল প্রফের রেজাল্ট নির্ধারিত সময়ের মাঝে নির্দিষ্ট তারিখে ওয়েবসাইটে দেবার ব্যবস্থা করা হোক।
এইসব বিষয়ে কিভাবে সমাধান সম্ভব তা জানতে সকল দায়িত্বশীল শিক্ষক চিকিৎসকদের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
লেখক- Pritom Muztahid
2nd prof r result ki hoyesay???