বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩, ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮
Sponsored
▶
ADVERTISEMENT
Image • Video • Banner Demo Area
সংবাদ

একজন মেডিকেল শিক্ষার্থীর চলার পথ কতোটা কণ্টকাকীর্ণ

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২০

 

মঈনুল ইসলাম
চট্টগ্রাম মা ও শিশু হসপিটাল মেডিকেল কলেজ।
সেশন ২০১৭-১৮

 

যেদিন মেডিকেলে প্রথম এপ্রোণ জড়িয়ে ক্লাস করতে গেলাম, শীতকালের সকাল। হাঁড় কাপাঁনো শীতকে উপেক্ষা করে আমার মাঝে ভর করেছে প্রচন্ড উত্তেজনা। সাদা এপ্রোণটাকে সব থেকে পবিত্র কাপড় মনে হয়েছিলো আমার সেদিন। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বুকটা ফুলিয়ে আম্মুকে বলেছিলাম, “আম্মু দোয়া করে দেন, যাতে সারাটাজীবন মানুষের সেবা করে যাইতে পারি!”

আব্বু আম্মুর দোয়া নিয়ে শুরু করি আমার মেডিকেল জীবন।

তারপর আমার ক্লাস ভালোভাবেই শুরু হয়ে গেলো।একটানা সকাল আটটা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। মাঝে একটা ব্রেক থাকে, মাত্র ৩০ মিনিটের। এই ৩০ মিনিটের মধ্যে ক্লাসের লেকচারেই চলে যায় আরো ১৫ মিনিট। বাকি ১৫ মিনিটে কোনমতে খাবার গোগ্রাসে গিলে আমরা আবার ক্লাসে ঢুকি।মেডিকেলের শুরুতে প্রচন্ড ভয়, ইংরেজিতে সবগুলো বই, আইটেমকে মনে হতো পৃথিবীর সবথেকে ভয়ংকর ব্যাপার। স্টার্নাম (বুকের মাঝের হাড্ডি) আইটেমের দিন সারাটারাত আমি ঘুমাইনি, ভয়ে শুধু কাঁপছিলাম, স্যারকে কালকে গিয়ে কি পড়া দিবো!

তারপর আসলো লাংস, হার্ট। প্রতিটা রাতে আমি দুঃস্বপ্ন দেখতাম। মনে হতো আমি আর পারছিনা।রাত ২টায় ঘুমিয়ে আবার সাড়ে চারটায় উঠে ঠান্ডা পানিটা চোখে লাগাতে যে আজাব আমার শরীরে নেমে আসতো, সেটা আমি একজন মেডিকেল স্টুডেন্ট হয়েই বলতে পারবো শুধু। আমার পাশের রুমে আমার বাপ নাক ডেকে ঘুমাতো। আমি এতো জোড়ে জোড়ে হার্টের রাইট করোনারী আর্টারী কোন দিক দিয়ে গিয়ে কোথায় গিয়ে শেষ হয়েছে, রাইট এট্রিয়ামে কি কি ফিচার পাওয়া যায় পড়ছিলাম।আমার পড়ার চিৎকারে মাঝে মাঝে আব্বার ঘুম ভেঙে যেতো।

আমার এখনো মনে আছে, সারাদিন ক্লাস করে, কোচিং করাতে যেতাম। এসে যখন নিজের পড়া পড়তে বসেছি, গভীর রাত, আমার বায়োকেমিস্ট্রির প্র‍্যাক্টিক্যাল লিখে ফেলেছিলাম ঘুমের ঘোরে ফিজিওলজির খাতায়। এতোটাই পাগলের মতো হয়ে গিয়েছিলাম প্রেশারে। তারপর ঈদের আগে আমার জন্ডিস ধরা পড়লো। দীর্ঘ দুই মাস মেডিকেলে পিছিয়ে থেকে সব পড়া টেনেছিলাম। সবগুলো টার্ম আমার আনকম্পলিট ছিলো। স্যার ম্যামরা অনেক সাহায্য করার পরও খুব কষ্ট হচ্ছিলো পড়া টানতে।খুব দুঃখে একবার সেকেন্ড টার্মে কিছু পারিনি বলে বাথরুমে গিয়ে সে কি কান্না আমার!

ফার্স্ট প্রফের মতো বিভীষিকা সবার জীবনে কম আসবে। আমার বাবা-মা আমার থেকে অনেক দূরে, আমি পিছিয়ে আছি পড়া থেকে। এই সময়টায় রাতের ঘুম কখনোই কম্পলিট হতোনা আমার। নানান আজেবাজে দুঃস্বপ্ন দেখতাম। ফেইল করেছি, বকা খেয়েছি- মাথায় এগুলো ঘুরতো। আমি জানি, মানসিক ভাবে আমি সুস্থ থাকার প্রচন্ড চেষ্টা করে যাচ্ছি তখনো। প্রফ এলো তারপর, আমাদের প্রত্যেকটা স্টুডেন্ট পরীক্ষার আগের রাতে কষ্টে, প্রেশারে চোখের পানি ফেলেছি। পুরোটা রাত একটা ফোটা না ঘুমিয়ে পরীক্ষার হলে মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে কারো কারো। এই হচ্ছে আমাদের প্রফেশনাল এক্সাম!

থার্ড ইয়ারে উঠে গেলাম ওয়ার্ডে। পুরো দুই ঘন্টা আপনি একটানা দাঁড়িয়ে থাকবেন বেডের পাশে, কথা বলবেন, প্রশ্ন করবেন রোগীকে। দুই ঘন্টার মাঝে কতোবার যে মনে হয়েছে গ্লুকোজ লেভেল কমে গেলো, ঘেমে যাচ্ছি খুব, কষ্ট হচ্ছে এতোক্ষন দাঁড়াতে। ওয়ার্ডের পরেই আইটেম, একদিকে ওয়ার্ড করছি আরেকদিকে পাগলের মতো পড়ে যাচ্ছি আইটেমের পড়া। শরীর কাঁপছে, না পারলে আজও আইটেমে!

বিকেল বেলায় আবার ইভেনিং ওয়ার্ড। খেয়ে না খেয়ে সবাই বসে থাকে, ওয়ার্ড হবে, তারপর বাসায় যাবে রাতে। সকালে পরে আসা ধবধবে সাদা এপ্রোনে ঘাম জমে যায়, দেখতে দেখতে আমাদের এপ্রোন চোখের পলকে ধূসর রূপ ধারণ করে।

এই সিনারিওটা শুধু আমার না, প্রতিবছর বাংলাদেশে ভর্তি হওয়া নয় হাজার মেডিকেল স্টুডেন্ট এর প্রতিদিনের গল্প। আমাদের গল্পগুলো এপ্রোণের আড়ালে চাপা পড়ে যায়। আসলে আমরা চাপা দিয়ে রাখি! শুধুমাত্র আমাদের আশেপাশের মানুষগুলোকে সেবা দিবো বলে, তাদের উপকার করবো বলে! প্রতিটা ডাক্তার এভাবেই অসহ্য কষ্ট যন্ত্রনায় ভেতর দিয়ে তৈরি হয়, খুব কমই ফাকিবাজি করে এই পথটা পার হওয়া যায়।

এতো কষ্ট করে গড়ে ওঠা একটা ডাক্তার শপথ নেয় রোগীদের সেবায় নিজেকে বিলানোর। কিন্তু তাঁকেই মেরে ফেলা! সারাটাজীবন সেবা দিয়ে রোগীদের হাতে লাঞ্চিত হওয়াই কি একজন ডাক্তারের প্রাপ্য?মানুষের অকথ্য গালাগালে ভরা কমেন্টই কি আশা করে একটা ডাক্তার? তাকে খুন করে ফেলার নিউজে ‘খুব ভালো হয়েছে’ এমন কথা কি মানানসই? ‘কসাই’ শব্দটাই কি এই সাদা এপ্রোনে ঢাকা মানুষগুলো ডিজার্ভ করে?

প্রশ্ন রেখে গেলাম সাধারণ মানুষের কাছেই। কারো যদি তাও লিখাটা অযৌক্তিক মনে হয় তাহলে উপর থেকে আবার পড়ুন।

সাম্প্রতিক সংবাদ

[bd_prayer_times]

সম্পর্কিত সংবাদ

World Health Organization

কলেরা, মেনিনজাইটিস ও প্লেগের সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রবণতা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

প্ল্যাটফর্ম প্রতিবেদক: এস এম এম মুসাব্বির উদ্দিন বিশ্ব  স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী কলেরায় মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে প্রতিবেদন করা কলেরা আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। সর্বশেষ Weekly Epidemiological Record-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কলেরায় মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে

বিস্তারিত পড়ুন
ফাইল ছবি
আন্দোলন

বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ করা ও নতুন পে-স্কেলের আলোকে ভাতা বৃদ্ধিসহ ৫ দফা দাবিতে চিকিৎসকদের মানববন্ধন

বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ নির্ধারণ করে ঘোষিত ৫১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সংশোধিত সার্কুলার জারি, নতুন পে-স্কেলের সমন্বয়পূর্বক রেসিডেন্সি, এফসিপিএস, ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের ভাতা বৃদ্ধিসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকগণ এবং ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিস (ডিএমজে)। আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে এ দাবি

বিস্তারিত পড়ুন
রোগ বিষয়ক তথ্য

বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট আমদানি বন্ধ, তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি গ্লাইফোসেট নিয়ে

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট গ্রুপের আমদানি, নতুন নিবন্ধন ও লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বালাইনাশক কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি। দেশে মজুত থাকা প্যারাকোয়াট গ্রুপের বালাইনাশক ছয় মাসের মধ্যে শূণ্য করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে গ্লাইফোসেট নিয়ে তেমন কোনো সিদ্ধান্ত আসি নি। চলুন আমরা জানি প্যারাকোয়াট নিষিদ্ধ

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিনামুল্যে ৬ টি সফল লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন, প্রস্তুত আরও ৪ টি

২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার, ২০২৬ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হস্পিটালে বিনামূল্যে ছয়টি লিভার (যকৃত) প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত এই জটিল অস্ত্রোপচার করা হবে। বছরে অন্তত ২৪টি লিভার প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এফ এম

বিস্তারিত পড়ুন
ডেঙ্গু

ঢাকা শহর ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত, মানুষ সচেতন হলে ঢাকা শহর সুস্থ হবে

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ঢাকা শহরে ডেঙ্গু এখন আর শুধু একটি মৌসুম নয়, এটি একটি জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা ও বর্ষা পরবর্তী সময়ে রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা ঘনত্ব বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগর পরিকল্পনা, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জমে থাকা পানিতে এডিস

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন করলো বিএমইউ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতার মাধ্যমে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ)। এর মধ্য দিয়ে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএমইউতে

বিস্তারিত পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।