শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩, ১৯ রবিউস সানি ১৪৪৮
Sponsored
▶
ADVERTISEMENT
Image • Video • Banner Demo Area
সংবাদ

ম্যাটস/ স্যাকমো- বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার এক ফ্রাঙ্কেস্টাইন

সবার জানা প্রয়োজন ম্যাটস কি কেন কিভাবে এবং কিভাবে ম্যাটস/স্যাকমো/মেডিকেল এসিস্ট্যান্টরা আজ চিকিৎসা ব্যবস্থার গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ম্যাটস কি?
ম্যাটস (MATS)- Medical Assistant Training School যা State Medical Faculty of Bangladesh এর অধীনে পরিচালিত হয়।

কেন ম্যাটস? 
ম্যাটসে মূলত এসএসসি পাশ করা একটা ছেলেকে মেডিক্যাল সায়েন্সের হাতে কলমে কাজ গুলোতে ট্রেইন আপ করা হয়। যাদের কাজই হল একজন চিকিৎসক কে চিকিৎসা কাজে সহযোগিতা করা। অনেকটা নার্সের আরেকটা সংস্করণ। তারপর ধরুন এম্বুলেন্স অফিসার হিসেবে কাজ করা, অর্থাৎ জরুরী রোগীকে এম্বুলেন্স আনতে গেলে তার সাথে থেকে হঠাৎ সমস্যা হলে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে করনীয়  কাজ করা। বিভিন্ন মিশন বা ক্যাম্পে চিকিৎসককে ক্যাম্প পরিচালনায় সহযোগিতা করা। বিভিন্ন প্রোগ্রাম যেমন হিম্যানিটারিয়ান ক্যাম্প/মিশন, টিকাদান, মহামারী রোগের বিরুদ্ধে ক্যাম্প ইত্যাদিতে ফিল্ড লেভেলে কাজ করতে যেয়ে চিকিৎসক টিমকে লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়া। চিকিৎসা উপকরণ ও যন্ত্রপাতির যথাযথ ভাবে সংরক্ষণ করা এবং চিকিৎসকের প্রদেয় চিকিৎসা ও পরামর্শ রোগীকে বুঝিয়ে দেওয়া (প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে)।

কেন ম্যাটস/স্যাকমোরা ভয়ঙ্কর হল?
এখানে সমস্যা হল সরকার তাদের তৈরি করলো  কিন্তু যথাযথ কাজে লাগালো না। যে যে কাজের উদ্দেশ্যে তাদের কোর্স সেই মত পোস্ট তৈরি হল না। চাকুরির ক্ষেত্র তৈরি করলো না- না সরকার, না বেসরকারি  হাসপাতাল। বেসরকারি হাসপাতাল/ক্লিনিক তো একবছরের নার্সকে দিয়ে মাঝে মাঝে ওটি এসিস্ট ও করায়। ফলে বিশেষ কাজে দক্ষ একটা জনবল হয়ে পড়ল বেকার। ফলে তারা কমিউনিটিতে ছড়িয়ে গেল। অল্প বিদ্যা বরাবরই ভয়ংকর। যে কারণে একজন এমবিবিএস ডাক্তার পাশ করেই রোগী দেখা শুরু করতে দ্বিধা করলেও তারা পাশ করার আগেই প্রাকটিস জুড়ে দেয়। ক্ষেত্র বিশেষে তারা এমবিবিএস দের চাইতে সফল কারণ তাদের শেখানোই হয় সিম্পটম্যাটিক চিকিৎসা। যেমন অল্প ব্যথা অমুক ওষুধ, বেশি ব্যথা অমুক। আর জ্বর বেশি হলেই এন্টিবায়োটিক- এই টাইপের প্রশিক্ষণ আর কি। ফলে যেখানে একজন এমবিবিএস পাশ চিকিৎসক নিশ্চিত রোগ নির্ণয় ছাড়া ওষুধ দিতে চান না। কারণ তিনি জানেন এই ওষুধের ম্যাকানিজম অফ একশন, সহ একশন, এফেক্ট, সাইড ইফেক্ট সব। ফলে যতক্ষণ না নিশ্চিত কোন ওষুধ প্রয়োজন হয় কোন এমবিবিএস ডাক্তার তা দেন না। কিন্তু তারা না জেনেই একটা দুটো ইন্ডিকেশন শুনেই দিয়ে দেয় চিকিৎসা। আর একারণেই তারা জনপ্রিয় হয় মূলত অশিক্ষিত অল্পশিক্ষিত মানুষের মাঝে, যারা এদেশের প্রধান অংশ। এছাড়া নবীন চিকিৎসকদের প্রাকটিস বিমুখিতাও বড় অংশে দায়ী এর জন্য। আর প্রশাসনের উদাসীনতা আর বিমাতাসুলভ নীতির জন্য তারা আরও প্রশ্রয় পায়। তবে সবচেয়ে বেশি প্রশ্রয় পায় মেরুদণ্ডহীন চিকিৎসক নেতৃত্ব ও কতিপয় ব্যক্তিত্বহীন সিনিয়র ব্যবসায়ী চিকিৎসকের কারণে। সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ ফ্রাংকেনস্টাইন তৈরি হয়ে গেছে ।

ফলাফলঃ
ব্যবসায়ী শ্রেণি বরাবরই অল্পে বেশি লাভের ধান্ধা খোঁজে। আর সরকারের উদাসীনতা আর প্রশাসনের দুর্নীতির সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা নেমে পড়ল চিকিৎসা ব্যবসায়ে। যেহেতু চিকিৎসকবৃন্দ জ্ঞান ও নৈতিকতার বন্ধনে আবদ্ধ তাই সহজে তাদের দিয়ে অনৈতিক ব্যবসা/অপারেশন, ওষুধ বিক্রি করানো যাবে না, অতএব ব্যবসায়ীরা তাদের প্যাট্রোনাইজ করলো । ফলাফল, আজ দেশের অধিকাংশ এন্টিবায়োটিক কাজ করে না। একজন আমেরিকান চিকিৎসক যখন দেড় টাকার এমোক্সাসিলিন দিয়ে রোগী সারায় সেখানে আমাদের থার্ড জেনারেশন এন্টিবায়োটিকও অকার্যকর হয়ে যায়। যত্রতত্র চিকিৎসা নিয়ে (পড়ুন অপচিকিতসা) অধিকাংশ রোগীই তার জীবনী শক্তি প্রায় নিশ্চিহ্ন করে তবেই আসে সঠিক চিকিৎসকের কাছে। ফলশ্রুতিতে চিকিৎসা সঠিক দিলেও তা আর কাজ করে না। এছাড়া ভুল ও অতিরিক্ত ওষুধের প্রভাবে কিডনি/লিভার/হার্ট প্রভৃতি প্রত্যঙ্গের নানা জটিল অসুখ সৃষ্টি করে ফেলে। অসুস্থতা  দীর্ঘায়িত হয়, নষ্ট হয় জীবন মান। অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিশাল ক্ষতির শিকার হয় দেশ ও জাতি।
কিন্তু সমস্যা হল- আমরা তাৎক্ষণিক সমাধানে মহাব্যস্ত এবং খুশিও- দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী সমাধানের চিন্তাও করি না। একারণেই জাতি হিসেবে আমরা পিছিয়ে আছি এবং পিছিয়ে যাচ্ছিও দ্রুতবেগে।

লিখেছেন:
ডা. অনুপম দাস, জনস্বাস্থ্য গবেষণা চিকিৎসক

সাম্প্রতিক সংবাদ

[bd_prayer_times]

সম্পর্কিত সংবাদ

World Health Organization

কলেরা, মেনিনজাইটিস ও প্লেগের সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রবণতা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

প্ল্যাটফর্ম প্রতিবেদক: এস এম এম মুসাব্বির উদ্দিন বিশ্ব  স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী কলেরায় মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে প্রতিবেদন করা কলেরা আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। সর্বশেষ Weekly Epidemiological Record-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কলেরায় মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে

বিস্তারিত পড়ুন
ফাইল ছবি
আন্দোলন

বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ করা ও নতুন পে-স্কেলের আলোকে ভাতা বৃদ্ধিসহ ৫ দফা দাবিতে চিকিৎসকদের মানববন্ধন

বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ নির্ধারণ করে ঘোষিত ৫১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সংশোধিত সার্কুলার জারি, নতুন পে-স্কেলের সমন্বয়পূর্বক রেসিডেন্সি, এফসিপিএস, ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের ভাতা বৃদ্ধিসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকগণ এবং ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিস (ডিএমজে)। আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে এ দাবি

বিস্তারিত পড়ুন
রোগ বিষয়ক তথ্য

বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট আমদানি বন্ধ, তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি গ্লাইফোসেট নিয়ে

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট গ্রুপের আমদানি, নতুন নিবন্ধন ও লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বালাইনাশক কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি। দেশে মজুত থাকা প্যারাকোয়াট গ্রুপের বালাইনাশক ছয় মাসের মধ্যে শূণ্য করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে গ্লাইফোসেট নিয়ে তেমন কোনো সিদ্ধান্ত আসি নি। চলুন আমরা জানি প্যারাকোয়াট নিষিদ্ধ

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিনামুল্যে ৬ টি সফল লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন, প্রস্তুত আরও ৪ টি

২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার, ২০২৬ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হস্পিটালে বিনামূল্যে ছয়টি লিভার (যকৃত) প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত এই জটিল অস্ত্রোপচার করা হবে। বছরে অন্তত ২৪টি লিভার প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এফ এম

বিস্তারিত পড়ুন
ডেঙ্গু

ঢাকা শহর ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত, মানুষ সচেতন হলে ঢাকা শহর সুস্থ হবে

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ঢাকা শহরে ডেঙ্গু এখন আর শুধু একটি মৌসুম নয়, এটি একটি জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা ও বর্ষা পরবর্তী সময়ে রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা ঘনত্ব বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগর পরিকল্পনা, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জমে থাকা পানিতে এডিস

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন করলো বিএমইউ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতার মাধ্যমে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ)। এর মধ্য দিয়ে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএমইউতে

বিস্তারিত পড়ুন

7 thoughts on “ম্যাটস/ স্যাকমো- বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার এক ফ্রাঙ্কেস্টাইন”

    1. BMDC registration je dei seta write na,toder moto bustard jnne country ai obbsta,practice jomaite paros na aijnne DMF mitth kta liksos bangla jongon jane what is SACMO..

  1. আর এর জন্য আপনারাই দায়ী কারন গ্রাম্য এলাকাতে ত আপনাদের লেজের নাগালই পাওয়া যায়না,তাই মানুষ বাধ্য হয় SACMO দের কাছে যেতে।আপনারা ত আবার অনেক বড় ডাক্তার তাই গ্রামে থাকলে লোকে যদি অন্য কিছু ভাবে আর তাদের কাছ থেকে ত আর বড় টাকা আশা করা যায়না এই ভাবনায় কি আপনাদের চন্দ্রমুখ গ্রামে দেখা যায়না??? নিজে ঠিক হন দেখবেন সব ঠিক হয়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।