মূল অংশে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের সঙ্গে থাকুন
সাবস্ক্রাইব করুন
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ · ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
গুনী মানুষ

মেজর জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন এর সাক্ষাৎকার: Meet the pioneer

জামিল সিদ্দিকীপ্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৯:২২ · ১০ মিনিটে পড়ুন
মেজর জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন এর সাক্ষাৎকার: Meet the pioneer
লেখার আকার
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
প্ল্যাটফর্ম ডেস্ক
মেজর জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন, একজন ডাক্তার, যিনি ২০১৯ সালে অবসর গ্রহণ করেছেন কারা মহাপরিদর্শক পদে তার দায়িত্ব সুচারুরুপে পালন শেষে। একজন ডাক্তার হিসেবে তার এই যাত্রাটা কখনোই সহজ ছিল না। অনেক বাধাবিপত্তি পেরিয়ে তার এই সফলতার গল্প ও ডাক্তারি পেশার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্ল্যাটফর্ম এর সাথে তিনি কথা বলেছিলেন কারা মহাপরিদর্শক হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায়। তার সেই সাক্ষাৎকার আজ তুলে ধরা হল-

• স্যার আপনার মেডিকেলে আসার গল্পটা কেমন ছিল?

আমি একটা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য। ইন্টারমিডিয়েটে পড়েছি সিলেটের এম সি কলেজে। সেখানে হোস্টেলে যাওয়ার পর নতুন বই কেনার সামর্থ্যও আমার ছিল না। বড় ভাইদের থেকে ধার করে বা কেউ তার পুরানো বইটা দিয়ে দিলে সেটা পড়তাম। কলেজটা শহর থেকে বেশ খানিকটা দুরে ছিল, শহরে আসার মত রিক্সা ভাড়াটাও আমার কাছে থাকতো না, বড় ভাইদের থেকে তাদের সাইকেলটা নিয়ে মাঝে মাঝে শহরে আসতাম। এরকম একটা সময় পার করেই একটা সময় ভর্তি হলাম সিলেট মেডিকেল কলেজে। তখনো বাসা থেকে যে টাকা দিতো তাতে সারা মাস যেত না। তখন থাকতাম মেসে এবং চেষ্টা করতাম মেস ম্যানেজার হওয়ার। কারন মেস ম্যানেজারদের খাবারটা ফ্রি ছিল। এভাবে টাকা জমাতাম। তখন তো এখনকার মত এতো খরচ ছিল না।

• পাশ করার পর আর্মিতে কিভাবে আসলেন?

পাশ করার পর আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে মেডিকেল অফিসার হিসেবে চাকরি শুরু করি। কিছু দিন পর পরীক্ষা দেই আর্মিতে এবং সেখানেও নির্বাচিত হই। চিন্তা করলাম এটা একটা ভালো সুযোগ তাই এটাকেই বেছে নিয়েছি। এখানে আসার আরেকটা কারন হচ্ছে আমি ব্যস্ত জীবন পছন্দ করি না। দুটা পর্যন্ত অফিস করে আবার রাতে চেম্বার করবো, এরকম কোন ইচ্ছা আমার ছিল না। এখানে যতটুকু বেতন পাই তার মধ্যেই চলার চেষ্টা করি। এখানে অফিসের পর বিকালে কিছুটা সময় নিজের জন্যেও দিতে পারি।

• বর্তমানে আমাদের প্রফেশনের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা কমে গিয়েছে — আপনার কাছে এটার কারন কি বলে মনে হয়?

আমার মনে হয় আমাদের কারনেই এখন এই অবস্থা। একটা সময় এই পেশার জন্য স্বর্ণ যুগ ছিল। চিকিৎসকদেরকে মানুষ অনেক সম্মান করতো। এই সম্মান নষ্ট করার পেছনে অন্যদের সাথে আমাদেরও কিছু কারন আছে। আমরা মেডিকেলে কেন পড়ি? আমরা মনে করি অন্য কোন সাবজেক্টে পড়লে আমাদের চাকরির জন্য যুদ্ধ করতে হবে কিন্তু ডাক্তার হতে পারলে আমি চাকরি পাই না পাই কোথাও গিয়ে তো চেম্বার করতে পারবো। অর্থ উপার্জনের এই নিশ্চয়তার কারনেই আমরা কোন না কোন ভাবে পড়ে ডাক্তার হতে চাই। কিন্তু আমরা ভুলে যাই এটা একটা সেবাধর্মী পেশা। মানব সেবাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।
চিকিৎসকদের সম্মান কমে যাওয়ার আরেকটা কারন হল আমরা এখন অনেক বেশি আত্মকেন্দ্রিক। আমরা আমাদের প্রফেশনের আরেকজনের কথা ভাবি না। এটা আমাদের একদম উপজেলা লেভেল থেকেই চলে আসছে। আমরা ভাবি আরেকজনের দোষ ধরলে তার কাছে রোগী কম যাবে আর আমার কাছে বেশি আসবে। এরকম ধ্যান ধারনা থেকে আমরা বের হতে পারিনি। আরো একটা ব্যাপার হলো, আমাদের মধ্যে আত্মসম্মানবোধের অভাব রয়েছে, আমাদের কাছে আমাদের প্র‍্যাকটিসটাই গুরুত্বপূর্ণ। ফার্মাসীতে চেম্বার করছি, ফার্মাসীর মালিকের কথা শুনছি। ক্লিনিকে কাজ করলে ক্লিনিকের মালিকের কাছে নিজের ইচ্ছা, সম্মান সব বিকিয়ে দিচ্ছি। আমাদের নিজেদের মধ্যে সেই সৎসাহস নেই যে আমার ন্যায্য দাবি না মানলে আমি চাকরি ছেড়ে দিলাম।

• এই অবস্থা থেকে উন্নয়নের জন্য কি করা যেতে পারে?

আমাদের যদি এই পেশাটাকে ভালো করতে হয় তাহলে আমাদেরকেই সচেতন হতে হবে। আমাদের ডাক্তাররা প্রথমেই ভাবেন যে উনারা স্পেশালিষ্ট হবেন যার কারনে উনারা প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ গুলোতে যান না ফলে প্রশাসনিক ব্যাপার গুলো সম্পর্কে উনার কোন ধারনা থাকেন না। প্রশাসনে কাজ করতে হলে অনেক গুলো বিষয় জানতে হয়। আমাদের বিভিন্ন কাজ কিভাবে হয়, কোথায় থেকে ফান্ড আসে, কিভাবে সেগুলোকে কোন কোন খাতে খরচ করতে হবে এগুলো জানতে হয়। কিন্তু উনারা যখন ইউএইচএফপিও হন তখন উনি উপলব্ধি করেন যে উনি আসলে প্রশাসনিক কোন কাজই পারেন না। ফলে উনি কর্মচারী নির্ভর হয়ে পড়েন। উনার কর্মচারী ফাইল আনেন আর উনি না বুঝেই তাতে সাক্ষর করে দেন। যার কারনে দুদকে যত মামলা হয় সেটা তার বিরুদ্ধে হয়। কিন্তু উনি কি কোন দুর্নীতি করেছেন? উনি তো শুধু সাক্ষর করেছেন। তাই এই বিষয় গুলোতে আমাদেরকেই সচেতন হতে হবে। আমি যখন প্রথম এসেছি প্রতিটা ফাইল নিজে পড়ে সাক্ষর করেছি। এতো গুলো ফাইল না পড়ে সাক্ষর করলে হয়তো প্রতিদিন বিকাল ৫টাতেই বাসায় যেতে পারতাম কিন্তু তাতে আমার কর্মচারি মনে করতো স্যার তো আমার কথায় চলে। এখন আমি যখন কোন মিটিং এ যাই আমার কোন কাগজ পত্র বা কোন কর্মচারি সাথে লাগে না, আমি জানি আমার অফিসে কোথায় কি চলছে। আমাদের ডাক্তারদেরকেও তাদের নিজেদের প্রতি সচেতন হতে হবে।

• স্যার আপনার কর্মক্ষেত্রে কি আপনি কখনো এই ব্যাপার গুলোর সম্মুখীন হয়েছেন?

আমাদের উপর মাঝে মাঝেই এরকম প্রেশার আসে। একজনের বিরুদ্ধে আমি হয়তো শাস্তির ব্যবস্থা নিচ্ছি, তখন তার জন্য তদবির আসে। অথবা কারো বদলির জন্য তদবির আসে। অনেক বড় বড় মানুষের থেকে আসে, অনেক সিনিয়র থেকে আসে। কিন্তু আমি তো এগুলো শুনতে পারি না। আমি তাদের বলি স্যার আইনে তো এমন হয় না।

• স্যার আপনার এ শক্তিটা আছে, আপনার মত আমরা তো এই সাহসটা পাচ্ছি না, এটার কি কারন আপনার মনে হয়?

এটার কারন একজন সিভিল সার্জন হিসেবে ভাবেন যে, যদি উনি এই তদবীর গুলো না রাখেন তাহলে তিনি আর তার পোস্টে থাকতে পারবো না। আমরা চাই আমাদের পোস্টিং যেন পরিবর্তন না হয়। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে এমন না, আমাকে যেখানেই পোস্টিং দেয়া হোক আমি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবেই থাকবো। ঢাকায় থাকলে যে সম্মান পাবো, রাজশাহীতেও একই সম্মান পাবো। আমাদের আর্মিতে আরেকটা জিনিস খুব মূল্যায়ন করা হয় যা হচ্ছে সততা। আমি যদি সৎ থাকি, আমার রেকর্ড যদি পরিষ্কার থাকে তাহলে আমার কিছু করতে পারবে না। এই জন্য আমরা জানি যে আমাদের কাজের মূল্যায়ন হবে। কিন্তু ঐ পরিমন্ডলে ব্যাপারটা এমন না, কাজের মূল্যায়ন হচ্ছে না, সেখানে অন্যান্য প্রভাব অনেক বেশি। যার কারনে তারা ভাবে ঢাকায় আছে, রংপুর পাঠায় দিলে কি হবে। এই বিষয় গুলোর কারনেই তারা প্রতিবাদ করতে পারছে না।

• বাসায় গিয়ে রোগীর চিকিৎসা করার ব্যাপারে আপনার কি মতামত?

এটার একটা সুনির্দিষ্ট নিয়ম থাকতে হবে। আমাদের আর্মিতে এটা আছে। আমি বাসায় যাবো নাকি যাবো না, কখন যাবো তা নির্দিষ্ট করা আছে। কোন রোগীর জন্য যদি লাইফ সাপোর্ট লাগে বা তাকে যদি স্যালাইন দিতে হয় তখন তাকে হাসপাতালে আসতে হবে কারন এগুলো তো তাকে বাসায় দেয়া যাবে না।

• ইদানীং দেখা যায় কর্মস্থলে ডাক্তারদেরকে নার্স বা ওয়ার্ড বয়রা সম্মান করছে না, তারা কিছু বললে গুরুত্ব সহকারে করছে না বা খারাপ ব্যাবহার করছে, এটার কারন কি হতে পারে আপনার মতে?

কর্মস্থলে পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ থাকা খুব জরুরী। আপনি যখন কোথাও কাজ করতে যাবেন, আপনার অধীনে থাকা মানুষেরা আপনাকে পর্যবেক্ষণ করবে। তারা যদি বুঝে যে আপনার জ্ঞান আছে, আপনি কাজ জানেন, আপনার একটা ব্যক্তিত্ব আছে তাহলে তারা আপনাকে সম্মান করবে। একজন ডাক্তারকে এটা জানতে হবে, কারন আপনি যখন ইমার্জেন্সী কলে কোন বাসায় যাবেন আপনাকেই তো এটা করতে হবে। এগুলোর জন্য তো আপনি আরেকজনকে সাথে নিয়ে যেতে পারবেন না।

• অনেকেই বলে তাদেরকে কাজ শেখানো হয় না, প্রফেসররা থাকেন না তাই শিখতে পারেন না। এই ব্যাপারটা আপনার কাছে কি মনে হয়?

কাজ তো শিখতে হবে সিস্টারদের কাছ থেকে। মেডিকেল কলেজে প্রফেসররা বা সিএ-রা তো সবসময় থাকবে না। তাদের ডিউটিতো সবসময়ের না। প্র্যাকটিকাল কাজ গুলো তারা করবেন না। I/V cannula করা তো সিস্টারদেরই কাজ। আমরা এগুলো কাজ শিখেছি তাদের থেকেই। তিনি হয়তো আমাকে যন্ত্রপাতি এগিয়ে দিয়েছেন আমি করেছি। এভাবেই কাজ শিখেছি।

• উপজেলা হেল্থ কমপ্লেক্সে ডাক্তারদের একটা অভিযোগ থাকে যে তারা তাদের প্রাপ্য সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন না, অনেক জায়গাতেই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকে না, থাকার জন্য ভালো জায়গা থাকে না, যার কারনে তারা গ্রামে থাকতে চাইলেও ব্যাপারটা কঠিন হয়ে যাচ্ছে, আপনার কাছে এটা কি মনে হয়?

আপনার কথা একদম সঠিক। অন্যান্য প্রফেশনের সরকারি কর্মকর্তারা যেখানেই যাবেন, তাদের থাকার জন্য ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু সরকারি ডাক্তাররা সেটা পান না। আমাদের যখন উপজেলা হেল্থ কমপ্লেক্সের প্ল্যান করা হয়, তখনি এই ব্যাপারটা নিয়ে ভাবা উচিৎ। আমি আমার এখানেও যখন কাজ করি ইঞ্জিনিয়ারদেরকে বলি যে আমার কি লাগবে, কিভাবে লাগবে। কারন আমার কাজ আমাকেই আদায় করে নিতে হবে। উপজেলা হেল্থ কমপ্লেক্সের প্ল্যান করার সময়ই একজন ডাক্তারকে সেখানে থাকতে হবে, যাতে কি কি লাগবে সেটা যেন সে জানাতে পারে। ইউনিয়ন বা সাবসেন্টার করার সময়ও এটা মাথায় রাখতে হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য যদি সার্কিট হাউস থাকে, তাহলে এখানে কেন থাকবে না। অন্ততপক্ষে একজন ডাক্তারের থাকার ব্যবস্থা সেখানে থাকতে হবে। তা না হলে সেখানে কাজ করতে যাওয়া ডাক্তাররা থাকবে কোথায়। এই বিষয়গুলো সিনিয়রদেরকে জানাতে হবে। এবং সিনিয়র লেভেল থেকেই এটা সরকারের কাছে চাইতে হবে। আমার জানামতে বিভিন্ন সরকারি চাকরিজীবীদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সম্মেলন হয়। যেমন ডিসি সম্মেলন। কিন্তু সিভিল সার্জনদের নিয়ে এরকম কিছু হয় না। আমার বক্তব্য তো আমাকে উপস্থাপন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে হবে যে আমি কি সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। সেটা তাকে না জানালে তো তিনি ব্যাপার গুলো বুঝবেন না। এখন উনি কি শুনেন? উনার কর্মকর্তারা উপজেলা থেকে এসে বলেন ডাক্তার নাই, ডাক্তাররা খারাপ ব্যাবহার করে। কিন্তু ডাক্তাররা কেন থাকেন না, তারা কি সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন সেই কথা গুলো উনার কাছে যাচ্ছে না। দুই পক্ষের কথা উনার কাছে গেলেই তো উনি বুঝতে পারবেন যে কি করা দরকার। যারা পলিসি লেভেলে কাজ করেন তাদেরকে এই ব্যাপার গুলো নিয়ে ভাবতে হবে। আর্মিতে যেটা হয়, একজন অফিসারকে একদম নিচের লেভেল থেকে উপরে উঠতে হয়। তাকে প্রথমেই ৬ মাস সৈনিকদের সাথে তাদের মেসে থাকতে হয়। ফলে কি হয় সে সৈনিক লেভেলের সমস্যাটা বুঝেন। প্রত্যেক টেবিলে কাজ করলেই আমি প্রতিটা টেবিলের নিয়ম জানবো। উপরের লেভেলের কর্মকর্তারাও যদি হেল্থ কমপ্লেক্সে থাকতো তাহলে উনারাও ঐ জায়গার সমস্যা গুলো নিয়ে সচেতন হতেন।

• সরকারি চাকরিজীবী ডাক্তারদের নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কেমন হওয়া উচিত?

আমাদের প্রায় ৩০ হাজার ডাক্তার উপজেলা লেভেলে কাজ করে। এতো মানুষের ক্যারিয়ারের পরিকল্পনা ডিজি হেল্থে বসে একজন করবে এটা তো সম্ভব না। এতো মানুষের ক্যারিয়ার প্ল্যান করার জন্য আমাদের জনবল বাড়াতে হবে। যে আজকে সাব সেন্টারে আছে তাকে যে কালকে হেল্থ কমপ্লেক্সে আনতে হবে সেই পরিকল্পনাটা কাউকে করতে হবে। তা না হলে তো ডাক্তাররা সারা জীবন এক জায়গাতেই থেকে যাবে। এই ব্যাপার গুলোর জন্য সিস্টেম তৈরী করতে হবে ডিজি হেল্থকে। তাদের অনেক কাজ, কিন্তু তাদের জনবল কম হয়ে যাচ্ছে। তারা দেশের জন্য উপকারি বিভিন্ন কার্যক্রম চালায়, কিন্তু জনবলের অভাবে সেগুলো সেভাবে প্রকাশিত হয় না।

• ডাক্তারদের জন্য আর্মিতে ক্যারিয়ার করার সুযোগ কিরকম?

আর্মিতে এখন বেশ কিছু মেডিকেল হয়েছে। সেখানে মেডিকেল অফিসার ও অন্যান্য পদে ডাক্তার দরকার। এখানে ক্যারিয়ার করাটা আকর্ষণীয় কারন এখানে যোগ্যতাটাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। এখানে যাদেরকে নিয়োগ দেয়া হয় সেটা সম্পূর্ণ তাদের যোগ্যতার ভিত্তিতে। আমাদের এখানে পারষ্পারিক সম্মানবোধ অনেক বেশি। কিন্তু এই মূহুর্তে সিভিল স্বাস্থ্য সার্ভিসে এটার অভাব আছে। যার ফলে নতুন ডাক্তারদের বিভিন্ন রকম সমস্যার সম্মুখীন হয়।

• প্ল্যাটফর্ম সম্পর্কে আপনার মতামত –
প্ল্যাটফর্ম আমি দেখি। প্লাটফর্ম একটা ভালো উদ্দেশ্যে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। পরিবর্তন আনার উদ্দেশ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। পলিসি মেকার থেকে ইমপ্লিমেন্টেশন লেভেলে যদি সবার নজরে নিয়ে আসা এবং কাউকে আক্রমণ না করে আত্মসমালোচনার মাধ্যমে যদি আমরা নিজেকে শুধরাতে পারি তাহলে একটা সময়ে আমাদের অবস্থান ভালো হবে। সবসময় সাংবাদিকদের দোষারোপ করলে হবে না। তাদেরকেও কিছু খবর দিতে হয়। মনে করেন আপনি একটা উপজেলা হেল্থ কমপ্লেক্সে আছেন, আপনার কাছে যদি কোন সাংবাদিক রোগী নিয়ে আসেন এবং আপনি তাকে একটু ভালোভাবে দেখে দিলেন। সে কিন্তু তখন আপনার বিরুদ্ধে আর লিখবে না। আমরা আমাদের এখানে তাই করি। সাংবাদিকরা আসলে তাদের একটু ভালো আপ্যায়ন করি। এখন খারাপ কথা বলতে গেলে সবার বিপক্ষেই বলা যায়। অন্যদের ক্ষেত্রে বলছে না কারন তারা সেটা সেভাবেই মেইনটেইন করে। ডাক্তাররা বোধহয় সেটা করতে পারছে না। এটাই আমাদের করতে শিখতে হবে।

 

https://www.platform-med.org/%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%9c%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a7%80-%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0/

খবরটি শেয়ার করুন
জামিল সিদ্দিকী

A dreamer who want to bring positive changes in health sector in Bangladesh.

সম্পর্কিত খবর

কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধে পুরস্কার পেলেন ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১, রবিবার কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধে অনন্য অবদান রাখায় ‘কোভিড হিরো’ পুরস্কার পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক প্রফেসর ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ। গত শুক্রবার রোটারি ইন্টারন্যাশনাল স্বাস্থ্যবিধি মেনে হোটেল শেরাটনে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে রোটারি…

১২ সেপ্টেম্বর ২০২১বিস্তারিত পড়ুন

উপমহাদেশের প্রথম নারী চিকিৎসক কাদম্বিনী গাঙ্গুলীর জন্মদিনে বিশেষ গুগল ডুডল

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ১৮ জুলাই ২০২১, রোজ রবিবার বাঙ্গালীর গর্ব মহীয়সী নারী উপমহাদেশের প্রথম নারী চিকিৎসক কাদম্বিনী গাঙ্গুলীর ১৬০ তম জন্মদিন আজ। তাঁর এই বিশেষ দিনে বিশ্ব টেক জায়ান্ট গুগল বিশেষ ডুডল তৈরির মাধ্যমে সম্মাননা জানিয়েছে তাঁকে। সংসার সুখের হয় রমণীর…

১৮ জুলাই ২০২১বিস্তারিত পড়ুন

এবার সমাজসেবায় স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন অধ্যাপক ডা. এম আমজাদ হোসেন

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, শনিবার, ২২ মে, ২০২১ সমাজসেবা/ জনসেবায় জাতীয় পর্যায়ে অসাধারণ কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এ বছর স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন অধ্যাপক ডা. এম আমজাদ হোসেন। গত বৃহস্পতিবার (২০ মে) গণভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে এ…

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘর পূরণ করা জরুরি।

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।
নোটিফিকেশন বর্তমানে বন্ধ।