মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩, ১৬ রবিউস সানি ১৪৪৮
Sponsored
▶
ADVERTISEMENT
Image • Video • Banner Demo Area
সংবাদ

নিউরোসিস, স্ট্রেস রিলেটেড, ইটিং ও সোমাটোফর্ম ডিজঅর্ডার

◆ Neurosis
কেউ যদি বলে, ‘আমি পাগল!’ তাহলে সেটা neurosis। আর যদি বলে, ‘আমি কিসের পাগল? পাগল তুই!’ তাহলে সেটা psychosis! অর্থাৎ neurosis এ insight ঠিক থাকে। রোগী নিজেই বুঝে তার মানসিক সমস্যা আছে, ডাক্তার দেখানো প্রয়োজন। অন্যদিকে psychosis এ lack of insight থাকে, অর্থাৎ রোগী বুঝেনা যে তার সমস্যা আছে, তাকে ধরে বেঁধে অনেক সময় ডাক্তারের কাছে নিতে হয়। আজ প্রথমটা নিয়েই অল্পকিছু পড়াশোনা!

১। কিছু ভাল লাগে না।
২। কিছু ভাল লাগে না, আবার অনেক ভাল লাগে।
৩। চিন্তায় রাতে ঘুম আসে না।
৪। চিন্তায় রাতে ঘুম আসে না, দরজা মনে হয় খোলা। যাই দরজা লাগিয়ে আসি, কিন্তু দরজা তো বন্ধ! আবার চিন্তায় রাতে ঘুম আসে না, দরজা মনে হয় খোলা! যাই দরজা লাগিয়ে আসি, এভাবে একই কাজ বারবার চলতে থাকে!

প্রথম দুটো (১ ও ২) ভাল মন্দ লাগা বা mood এর সাথে জড়িত। তাই এ দুটো mood disorder.

প্রথমটার ক্ষেত্রে ভাল লাগে না কখনোই, mood একটাই, তাই এটা unipolar mood disorder, যাকে বলি Depression।
দ্বিতীয়টিতে ভাল না লাগার সাথে, ভাল লাগাও আছে, তাই এটা bipolar mood disorder। এখানে কিছু ভাল লাগে না মানে Depression, আর এই Depression এর পর ভাল লাগার যে সময়টুকু থাকে তা তীব্রতায় অনেক বেশি, যাকে বলে Mania।

পরের দুটো (৩ ও ৪) দুঃচিন্তার সাথে জড়িত। তাই এ দুটো Anxiety disorder.
তৃতীয় ক্ষেত্রে শুধুই দুঃচিন্তা, পুরোটা সময় জুড়ে দুঃশ্চিন্তা, চিন্তার পরে কোন কর্ম বা compulsion নাই। তাই এটা Generalized anxiety।
চতুর্থ ক্ষেত্রে দুঃচিন্তার সাথে, তার সমাধান হিসেবে দরজা বন্ধ করার কর্ম বা compulsion আছে। তাই এটা obsessive compulsive disorder (OCD)।

আরো দুটো anxiety disorder আছে – phobic anxiety এবং panic anxiety। দুটোই কাছাকাছি, এই সব anxiety এর কারণ ভয়। দুটোর মধ্যে সামান্য একটু পার্থক্য আছে।
phobic anxiety এর ক্ষেত্রে phobia মানে ভয়, এই ভয়ের কারণ থাকে। যেমন বাইরে গেলে গাড়ি চাপা পড়ে মরে যেতে পারে, তাই বাইরে যায় না। অন্যদিকে, আমি এখনই মারা যাবো, এই ঘরে বসেই মারা যাবো। কিভাবে মারা যাবো কোন কারণ নাই, আমি মারা যাবোই। মৃত্যু ভয়ে অস্বাভাবিক আচরণ করবে, এটা panic anxiety বা panic disorder।

সোজা ভাষায় এ চারটাকে একসাথে এক কথায় প্রকাশ করা হল। এবার চিকিৎসা!

চিকিৎসা
সব রোগের চিকিৎসায় কমন যেটা সেটা CBT (Cognitive behaviour therapy), counseling, অর্থাৎ কথা বলে বুঝাতে হবে। আর ওষুধ বলতে মূলত দুটো ক্যাটাগরির, anti-depressant ও anxiolytic.

১। Depression এর চিকিৎসায় anti-depressant।
২। Bipolar mood disorder, প্রথমে mood খারাপ depression তাই anti-depressant. পরে কিন্তু mood ভাল, আবার খারাপ। এই চক্র চলতে থাকে। এই mood swing প্রতিরোধ করতে mood stabilizer।
৩। Anxiety এর চিকিৎসায় anxiolytic। আর আমরা জানি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই anxiety is followed by depression, তাই সাথে anti-depressant।
৪। OCD এর চিকিৎসা কি? মনে হতে পারে, যেহেতু এটাও এক প্রকার anxiety disorder, তাই তার চিকিৎসায় anxiolytic ই দিবো! কিন্তু না। OCD তে রোগীকে বুঝাতে হবে, দরজা দেয়াই আছে, চাবির গোছা সাথেই আছে – বাড়িতে রেখে আসেনি। আর চিকিৎসা হিসেবে compulsion কমাতে দেয়া হয় anti-depressant.

◆ Stress related disorder
১। Acute stress disorder
এক্ষেত্রে বিভিন্ন stress এর কারণে রোগী anxiety তে থাকে। যেমন মন্টু মিয়া ঘুষ খেয়েছিল, দুদক আসবে ধরতে! সেই চিন্তায় তার ঘুম হারাম। ধরা খেলে চাকরী চলে যাবে, খাবে কি তখন, সে চিন্তায় সে কিছুটা হতাশও বটে! এখানে anxiety বেশি থাকে, depression কম থাকে। তাই anxiolytic যথেষ্ট। দুদকে ধরা খেয়ে চাকরী হারালো, depression, তখন anti-depressant!

২। Adjustment disorder
নাম শুনেই বুঝি adjustment এ অসুবিধা। মাখনলাল গ্রামের ছেলে, শহরে এসে ভর্তি হয়েছে। নতুন পরিবেশ, খাপ খেতে পারবে কিনা সেটা নিয়ে দুঃশ্চিন্তা। গাইয়া বলে কেউ কেউ খেপায়ও তাকে, তাই একটু হতাশও লাগে। অর্থাৎ উপরের মত প্রথমে anxiety, পরে depression হতে পারে। ট্রিটমেন্ট তাই আগের মত।

৩। Post traumatic stress disorder
মিতু বাসে একা ছিল। আর একটু হলেই বিপদে পড়তো। ভাগ্যিস লাফ দিয়ে বেঁচে গেছে। কিন্তু ঘটনাটা ভুলতে পারছে না। এই ঘটনা বার বার মনে পড়ে, ভয় পায় (phobic anxiety), তারপর চুপ হয়ে যায় কষ্ট আর হতাশায়। এই কষ্টকর হতাশাই দীর্ঘ সময় ধরে থাকে (depression). ভুলে যায়, মনে পরে, কষ্ট পায়। এই চক্র চলতে থাকে। চিকিৎসা হিসেবে কষ্ট কমাতে তাই anti-depressant দেয়া হয়।

◆ Eating disoder
সমস্যা খাওয়া নিয়ে!

১। Anorexia nervosa
নামে আছে anorexia, অর্থাৎ কিছু খাচ্ছে না মোটা হওয়ার ভয়ে। না খেতে খেতে রোগী তালপাতার সেপাই। যদিও সে বলবে এবং আয়নায় দেখবে সে সুমো কুস্তিগিরের মত মোটা!

২।Bulimia nervosa
খুব বেশি খাচ্ছে, খাওয়ার পর মনে হচ্ছে – হায় হায়, আমিতো মোটা হয়ে যাবো, তাই গলায় আঙুল দিয়ে আবার বমি করে ফেলছে। বারবার বমির জন্য দাঁত ক্ষয় হবে, আঙুলের নাকোলে ক্যালাস জমবে, প্যারোটিড গ্লান্ড বড় হয়ে যাবে।

চিকিৎসা
এসবের চিকিৎসায় ওষুধ প্রয়োজন হলে SSRI দেয়া যায়, এটা serotonin বাড়াবে যা hypothalamus এর appetite centre কে কন্ট্রোল করবে, খাওয়া ও মোটা হওয়া নিয়ে দুঃশ্চিন্তা কমবে!

◆ Somatoform disorder
মনের সমস্যার দেহে প্রকাশ,

১। Somatisation disorder
এ রোগী বিভিন্ন সমস্যা বা symptoms এর কথা বলবে। যেমন চোখে দেখে না, কানে শোনে না, বুকে ব্যাথা, পেটে ব্যাথা, ইত্যাদি। কিন্তু আদতে তার কোন সমস্যা নাই!

২। Hypochondrial disorder
উপরের সাথে এর পার্থক্য হল, ওটাতে শুধু symptoms বললেও, এটাতে বলবে রোগ! যেনতেন রোগ না, ক্যান্সার টিউমার ইত্যাদি, যে রোগে সে অল্প কদিনেই মারা যাবে, তাই নাকি তার তড়িৎ ট্রিটমেন্ট প্রয়োজন।

৩। Dissociative (conversion) disorder
উপরের দুটোর সাথে এর পার্থক্য হল, ওখানে শুধু বলেছে তার ওই symptoms বা সমস্যা আছে, আর এখানে সমস্যা শরীরে প্রকাশ পাবে। এটা যে সে ইচ্ছা করে করে তা কিন্তু না। যদি ইচ্ছা করে করে, তখন সেটা হবে Factitious disorder বা Malingering. কিন্তু এখানে যেমন তার খিঁচুনি হচ্ছে, যেটা সে নিজে ইচ্ছা করে করবে না, কোন মানসিক কারণে শরীর এই symptoms প্রকাশ করবে, কিন্তু পরীক্ষায় এর কোন শারীরিক কারণ খুঁজে পাওয়া যাবে না। কোন শারীরিক কারণ থাকে না বলে symptoms ও বেশিক্ষণ থাকে না, থাকে না central cyanosis ও tongue bite. কিছুক্ষণ পর এমনিতেই আবার ভাল হয়ে যায়।

চিকিৎসা
CBT, counseling এগুলোই যথেষ্ট।

সকলের মানসিক সুস্বাস্থ্য কামনায়।
ডা. কাওসার উদ্দীন
ঢামেক, কে-৬৫

সাম্প্রতিক সংবাদ

[bd_prayer_times]

সম্পর্কিত সংবাদ

ফাইল ছবি
আন্দোলন

বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ করা ও নতুন পে-স্কেলের আলোকে ভাতা বৃদ্ধিসহ ৫ দফা দাবিতে চিকিৎসকদের মানববন্ধন

বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ নির্ধারণ করে ঘোষিত ৫১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সংশোধিত সার্কুলার জারি, নতুন পে-স্কেলের সমন্বয়পূর্বক রেসিডেন্সি, এফসিপিএস, ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের ভাতা বৃদ্ধিসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকগণ এবং ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিস (ডিএমজে)। আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে এ দাবি

বিস্তারিত পড়ুন
রোগ বিষয়ক তথ্য

বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট আমদানি বন্ধ, তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি গ্লাইফোসেট নিয়ে

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট গ্রুপের আমদানি, নতুন নিবন্ধন ও লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বালাইনাশক কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি। দেশে মজুত থাকা প্যারাকোয়াট গ্রুপের বালাইনাশক ছয় মাসের মধ্যে শূণ্য করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে গ্লাইফোসেট নিয়ে তেমন কোনো সিদ্ধান্ত আসি নি। চলুন আমরা জানি প্যারাকোয়াট নিষিদ্ধ

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিনামুল্যে ৬ টি সফল লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন, প্রস্তুত আরও ৪ টি

২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার, ২০২৬ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হস্পিটালে বিনামূল্যে ছয়টি লিভার (যকৃত) প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত এই জটিল অস্ত্রোপচার করা হবে। বছরে অন্তত ২৪টি লিভার প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এফ এম

বিস্তারিত পড়ুন
ডেঙ্গু

ঢাকা শহর ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত, মানুষ সচেতন হলে ঢাকা শহর সুস্থ হবে

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ঢাকা শহরে ডেঙ্গু এখন আর শুধু একটি মৌসুম নয়, এটি একটি জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা ও বর্ষা পরবর্তী সময়ে রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা ঘনত্ব বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগর পরিকল্পনা, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জমে থাকা পানিতে এডিস

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন করলো বিএমইউ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতার মাধ্যমে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ)। এর মধ্য দিয়ে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএমইউতে

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

মুমূর্ষু রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেলের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক, নার্সদের ওপর হামলা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ মুমূর্ষু রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভাঙচুর এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর স্বজনদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতের দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে হাসপাতালের নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা এবং পরে স্থানীয় থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা

বিস্তারিত পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।