সবাই বিশ্ব পরিবর্তন করতে চায়, কিন্তু নিজেকে কেউ পরিবর্তন করতে চায় না

চমৎকার এই লেখাটি লিখেছেন,ইউনাইটেড নেশনশ  (UN) এ চাকুরিরত সাদিয়া শবনম হেমা।
লেখাটি নিচে প্রকাশিত হলঃ

আমি ডাক্তার না আগেই বলে নিলাম। এখন আমি আমার মনে যা আছে তাই বলি।

সব পেশাতেই ভাল-খারাপ দুই ধরনের লোক আছে। আমরা সেটা সবাই জানি তাই ওই প্রসংগে না গিয়ে শুধু ফী এর প্রসংগে আসি। ডাক্তারি অবশ্যই সেবামূলক পেশা (সকল পেশাই আসলে কোন না কোন ভাবে সেবামূলক), তার মানে এই নয় সেইটা ফ্রী হবে; কারণ ডাক্তাররাও মানুষ, তাঁদের পরিবার আছে, খরচ আর সবার মতই আছে। অনেক কষ্ট ও খরচ করে একজন ডাক্তার হওয়া যায়।ডাক্তারের নাম-ডাক ও পজিশন (সিনিয়র-জুনিয়র ইত্যাদি) হিসেবে ফী নির্ধারিত হয়। স্কয়ারে একজন ডাক্তার ১০০০ টাকা ফী নেন কারন তার কিছু অংশ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও পান। সেটা তাঁরা পেতে পারেন কারন সেটা তাঁর ব্যাবসা, ব্যাবসা অর্থ এটা তার জীবিকা । সেবার বিনিময়েই কিন্তু তিনি তার মূল্য নিচ্ছেন, শুধুমাত্র বসে থেকে নয়। যার ১০০০টাকা দেওয়ার সমস্যা তিনি কিন্তু ইসলামিক হাসপাতালে বা অন্য সরকারি হাসপাতালে অল্প টাকায় সেবা নিতে পারেন। তার জন্য সেই অপ্সন আছে কাজেই ১০০০টাকা ফী নেওয়া ডাক্তারকে তার গালাগালি করার দরকার আছে কি? আমার চেনা প্রায় প্রতিটি ডাক্তারকে আমি কয়েকটা কাজ করতে দেখেছি। এক, তাঁরা নিজ গ্রাম বা এলাকায় মাসে একবার হলেও দল বেঁধে গিয়ে ফ্রী সার্ভিস দেন। দুই, কোন গরীব অসহায় রোগী আসলে নিজের কাছে থাকা কোন ওষুধ ফ্রীতে দিয়ে দেন, ফী কমিয়ে নেন, এবং পারলে উলটা কিছু টাকা হাতে ধরিয়ে দেন। আমি আমার বাচ্চাকে একটা জেনারেল হাসপাতালে দেখাই, সেই ডাক্তারকে আমি দেখেছি গরীব এক বাচ্চার চিকিৎসায় খরচ বেশি হয়ে যাচ্ছে বলে চিন্তিত ও বিমর্ষ হয়ে আছেন। ডাক্তাররা খারাপ, ডাক্তাররা চামার ইত্যাদি বলে যারা গলা ফাটাচ্ছেন তারাই আবার একটা হাঁচি দিলেও ডাক্তারের কাছে দৌড়াচ্ছেন। আমাদের দেশের ডাক্তাররা ভাল না এসব কথা বলে যারা বিদেশ যাচ্ছেন তাঁরা কি ফ্রি তে চিকিৎসা করে আসছেন? বাইরের দেশগুলোতে ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার পেইন সম্পর্কে জানেন? তাঁদের ফী যে আর সব পেশার লোকের চাইতে অনেক বেশী সরকারীভাবেই তা জানেন?

আমি এমন অনেককে চিনি যারা সঠিক সময়ে ডাক্তারের কাছে যান না। রোগ পুষে রেখে যখন তা নিরাময়ের উর্দ্ধে যায় বা কমপ্লিকেটেড হয়ে যায়, তখন গিয়ে ভাল না হতে পারলে ডাক্তারের গুষ্টি তুলে গালাগালি করেন। আবার অনেকে আছেন ডাক্তারের দেওয়া চিকিৎসার উপর আবার নিজেরা ডাক্তারি করেন, ওষুধের মাত্রা নিজেরাই ইচ্ছামত কমান বাড়ান তারপর ভাল না হলে ডাক্তার খারাপ। ডাক্তারের খারাপ আচরন নিয়ে অনেক লেখালেখি চেঁচামেঁচি হয়, আমরা নিজেরা গিয়ে কোন টোনে কিভাবে ডাক্তারের সাথে বা ডাক্তারের সহকারির সাথে কথা বলছি, সিরিয়াল আগে নেওয়ার জন্য অন্যায়ভাবে চিল্লাচিল্লি করছি, তার কথা চেপে যাই।

ডাক্তাররা গলা কেটে আমাদের সব টাকা নিয়ে গিয়ে কোটিপতি হয়ে যাচ্ছে এটা আমরা সবাই বলতে ভালবাসি। ডাক্তারের যে সরকারি হাসপাতালে একটা বসার জায়গাও নাই, অসুস্থ লাগলে রেস্ট নেওয়ার ব্যবস্থা নাই, বাথরুমের ব্যবস্থা নাই, ভালভাবে খাওয়ার জায়গা নাই, পলিটিক্যাল কুটকাচালিতে প্যাঁচে পড়ার অভাব নাই; তারপরেও যে সেখানে ডাক্তারকে পাওয়া যায়, তারপরেও যে সেখানে অনেকেই সফলতার সাথে চিকিৎসা পেয়ে সুস্থ হয়ে ফেরত আসেন, সাকসেস্ফুল অপারেশন হয়, যে ফেলে দেওয়া বাচ্চার ৩ কূলে কেউ নাই সেও সেবা পায় ও জীবন ফিরে পায়- সেগুলোর কথা আমাদের বলা দূরে থাক, ভাবতেও কষ্ট লাগে!

কারন আমরা বাংগালী। আমরা নিজে কি করি, কি করি না এসব নিয়ে চিন্তা করার চাইতে অন্যদের খারাপ কি আছে তা নিয়ে গল্প করতে ভালবাসি। চারদিকে ভাল কি হচ্ছে, তা দেখার চাইতে কি হলনা তাই নিয়ে উজ্জীবিত হতে ভালবাসি; তবে কেন হলনা তা ভাবি না।

একটা বানী দিয়ে লেখা শেষ করি (বাণী আমার না)ঃ সবাই বিশ্ব পরিবর্তনের জন্য অনেক কাজ করতে চায়, কিন্তু নিজেকে কেউ পরিবর্তন করতে চায় না।

Ishrat Jahan Mouri

Institution : University dental college Working as feature writer bdnews24.com Memeber at DOridro charity foundation

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

Next Post

ইব্রাহিম মেডিকেলে কলেজে অনুষ্ঠিত হলো থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা ও বাহক নির্ণয় কর্মসূচি

Fri Mar 18 , 2016
ঢাকার প্রাণকেন্দ্র শাহবাগে অবস্থিত ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজে গত ১৩ই মার্চ অনুষ্ঠিত হয়ে গেল থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা ও বাহক নির্ণয় কর্মসূচি। কলেজের সোশাল ওয়েলফেয়ার ক্লাবের আয়োজনে অনুষ্টিত এই কর্মসুচির সার্বিক সহযোগীতায় ছিল বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া হাসপাতাল। সকাল ১০ টায় কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা: জালালউদ্দিন আশরাফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রথম পর্বে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে […]

সাম্প্রতিক পোষ্ট