মূল অংশে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের সঙ্গে থাকুন
সাবস্ক্রাইব করুন
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬৪ কার্তিক ১৪৩৩ · ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
হেলথ টিপস

বাংলাদেশে প্রথম ৫ জন রোগীর মধ্যে রিও ভাইরাস শনাক্ত

Moin Uddin Ahmad Sibliপ্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৫, ৩:০৬ · ২ মিনিটে পড়ুন
বাংলাদেশে প্রথম ৫ জন রোগীর মধ্যে রিও ভাইরাস শনাক্ত
লেখার আকার

দেশে প্রথম বারে ৫ জন রোগীর রিও ভাইরাস শনাক্ত করা গেছে। এই ভাইরাস নিশ্চিত ভাবে শনাক্ত করেছে ইনস্টিটিউট অফ এপিডেমিওলোজি ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড রিসার্চ (আইইডিসিআর)। তবে তেমন কোনো জটিলতা সৃষ্টি হয় নি এবং রোগীরা নিশ্চিন্তে বাড়ি চলে গেছে। তবে আমাদের দেশে রিও ভাইরাস প্রথমবার শনাক্ত হওয়ায় আমরা জানবো এই ভাইরাসটি সম্পর্কে।

রিও ভাইরাস (Reovirus) হলো ডিএসআরএনএ (ডাবল-স্ট্র্যান্ডেড আরএনএ) ভাইরাসের একটি পরিবার, যা প্রাণী, উদ্ভিদ এবং ছত্রাকসহ বিভিন্ন জীবকে সংক্রমিত করতে পারে। “রিও” শব্দটি এসেছে “Respiratory Enteric Orphan” থেকে, যা নির্দেশ করে যে এই ভাইরাসগুলি শ্বাসযন্ত্র ও অন্ত্রের রোগ সৃষ্টি করতে পারে, তবে অনেক সময় তারা রোগ সৃষ্টি না করেও সংক্রমিত থাকে।

রিও ভাইরাসের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটির ডিএসআরএনএ জিনোম। এটি একটি সেগমেন্টেড জিনোম যা ১০টি সেগমেন্টে বিভক্ত। এদের কিউবিক আকৃতির ক্যাপসিড (প্রোটিন আবরণ) রয়েছে, যা ভাইরাসকে বিভিন্ন পরিবেশে টিকে থাকতে সাহায্য করে। রিও ভাইরাস সাধারণত উষ্ণ রক্তের প্রাণীদের মধ্যে পাওয়া যায় এবং খাদ্য, পানি কিংবা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়াতে পারে।

লক্ষণ

রিও ভাইরাস প্রাথমিকভাবে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল (পাকস্থলী ও অন্ত্র) এবং শ্বাসতন্ত্রকে আক্রান্ত করে। এটি মানবদেহে প্রবেশের পর অন্ত্রের কোষে বৃদ্ধি পায় এবং সংক্রমণ ঘটায়। যদিও অনেক সময় রিও ভাইরাস উপসর্গহীন থাকে, কিছু ক্ষেত্রে এটি ডায়রিয়া, জ্বর, শ্বাসকষ্ট এবং বমির মতো লক্ষণ সৃষ্টি করতে পারে। শিশু এবং দুর্বল ইমিউন সিস্টেমসম্পন্ন ব্যক্তিরা রিও ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকে।

চিকিৎসা ও প্রতিরোধ:

বর্তমানে রিও ভাইরাস সংক্রমণের জন্য নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। সাধারণত সংক্রমণ স্বাভাবিকভাবেই নিরাময় হয়। তবে, জটিল সংক্রমণের ক্ষেত্রে লক্ষণ নির্ভর চিকিৎসা (যেমন ডায়রিয়ার জন্য স্যালাইন দেওয়া) করা হয়। ভাইরাস প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নিরাপদ খাবার ও পানি গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রিও ভাইরাস একটি বহুমুখী ভাইরাস যা বিভিন্ন প্রজাতির জীবকে সংক্রমিত করতে সক্ষম। এটি সাধারণত গুরুতর রোগ সৃষ্টি করে না, তবে কিছু ক্ষেত্রে লক্ষণীয় স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। গবেষণায় এর ভূমিকা ভবিষ্যতে ক্যান্সার ও অন্যান্য রোগের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে। রিও ভাইরাস সম্পর্কে আরও গভীর গবেষণা ভাইরাসটির কার্যকারিতা এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

 

প্রতিবেদক: এস. এম. এম. মুসাব্বির উদ্দিন

খবরটি শেয়ার করুন

সম্পর্কিত খবর

স্ক্যাবিস: একটি চর্মরোগ

স্ক্যাবিস (Scabies) হলো একটি সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত বিরক্তিকর চর্মরোগ, যা Sarcoptes scabiei নামক ক্ষুদ্র আকারের পরজীবী মাইটের (mite) আক্রমণে হয়। এটি একটি সংক্রামক রোগ, যা সরাসরি শারীরিক সংস্পর্শ অথবা আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কাপড়, বিছানা বা তোয়ালে থেকে ছড়াতে পারে। স্ক্যাবিস…

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫বিস্তারিত পড়ুন

‘প্যারাসিটামল’ অনেক সময় পেটব্যথাজনিত সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

প্যারাসিটামল একটি বহুল ব্যবহৃত ওষুধ যা মূলত জ্বর এবং মৃদু থেকে মাঝারি ব্যথা নিরাময়ের জন্য ব্যবহার করা হয়। এটি একটি অ্যানালজেসিক ও অ্যান্টিপাইরেটিক ওষুধ হিসেবে পরিচিত। যদিও এটি সাধারণত নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়, তবুও অতিরিক্ত ব্যবহার বা দীর্ঘমেয়াদী সেবনে বিভিন্ন…

৫ জানুয়ারি ২০২৫বিস্তারিত পড়ুন

ফ্যাটি লিভার থেকে সাবধান!

ফ্যাটি লিভার হলো লিভার বা যকৃতে চর্বি বা ফ্যাট জমা থাকা। ফ্যাটি লিভারের আরেক নাম "হেপাটিক স্টোটোসিস"। আমাদের দেশে প্রায় ২৫% মানুষের মধ্যে এই রোগ আক্রান্ত। বিশ্বে প্রায় প্রতি হাজারে ৪৭ জন ফ্যাটি লিভারের আক্রান্ত হচ্ছে। ফ্যাটি লিভার ২ প্রকার।…

২৮ ডিসেম্বর ২০২৪বিস্তারিত পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘর পূরণ করা জরুরি।

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।
নোটিফিকেশন বর্তমানে বন্ধ।