জন্মনিয়ন্ত্রণ বা পরিবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই মূল দায়িত্বটি পালন করে আসছেন নারীরা। তবে এবার সেই ধারণায় পরিবর্তন আনতে চলেছেন গবেষকরা। কনডম বা অন্যান্য স্থায়ী পদ্ধতি ছাড়াও খুব দ্রুত পুরুষদের জন্য আসছে মুখে খাওয়ার জন্মনিয়ন্ত্রক বড়ি বা ‘মেল কনট্রাসেপটিভ পিল’।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েল কর্নেল ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এই নতুন ওষুধটি উদ্ভাবন করেছেন। তাদের দাবি, বিশেষ এই ট্যাবলেট খাওয়ার মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই পুরুষের শুক্রাণুর গতি সাময়িকভাবে থেমে যাবে। ফলে গর্ভধারণের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হবে।
নারীদের গর্ভনিরোধক বড়ির মতো এটি নিয়মিত খাওয়ার প্রয়োজন নেই। যৌনমিলনের ঠিক ৩০ মিনিট আগে পুরুষদের এই বড়ি খেতে হবে। ওষুধটি খাওয়ার পর টানা ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা এর কার্যকারিতা বজায় থাকবে।
গবেষকরা জানান, এই ওষুধটি খাওয়ার ফলে ‘এসএসি’ নামক একটি বিশেষ উৎসেচকের ক্ষরণ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণত এই উৎসেচকটির সাহায্যেই শুক্রাণু সাঁতার কেটে ডিম্বাণুর দিকে এগিয়ে যায়। উৎসেচকের কার্যকারিতা বন্ধ থাকায় শুক্রাণুগুলো নিজেদের গতিশীলতা হারিয়ে ফেলে এবং ডিম্বাণুর কাছে পৌঁছাতে পারে না।
পুরুষত্ব বা হরমোনে কোনো প্রভাব পড়বে কিনা?
নতুন এই জন্মনিয়ন্ত্রক বড়ি নিয়ে পুরুষদের মনে নানা শঙ্কা থাকা স্বাভাবিক। তবে গবেষকরা আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, এই ওষুধে পুরুষত্বের কোনো ক্ষতি হবে না। এটি শুক্রাণুর স্বাভাবিক উৎপাদনে বাধা দেয় না এবং পুরুষ হরমোন টেস্টোস্টেরনের ক্ষরণেও কোনো সমস্যা তৈরি করে না।
এর ফলে মিলনের স্বাভাবিক অনুভূতিতেও কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না। নির্দিষ্ট সময় পর ওষুধের প্রভাব কেটে গেলে প্রজননক্ষমতা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।
কার্যকারিতা ও বর্তমান পরিস্থিতি
আমেরিকার সরকারি গবেষণামূলক সংস্থা ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ’-এর অনুমোদন পাওয়ার পর বর্তমানে ওষুধটির হিউম্যান ট্রায়াল বা মানুষের শরীরে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, এটি প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই সফল হয়েছে।
যেহেতু বড়িটি হরমোনের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও অনেক কম, তাই চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ওষুধটি পুরোপুরি নিরাপদ ও উপযোগী করে সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছাতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
সংগৃহীত
তথ্যসূত্র : দৈনিক যুগান্তর