মূল অংশে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের সঙ্গে থাকুন
সাবস্ক্রাইব করুন
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬১২ কার্তিক ১৪৩৩ · ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
প্রথম পাতা

পদ থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতি বঞ্চিত স্বাস্থ্য ক্যাডার

প্ল্যাটফর্ম কনট্রিবিউটরপ্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২০, ১:০৩ · ৩ মিনিটে পড়ুন
পদ থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতি বঞ্চিত স্বাস্থ্য ক্যাডার
লেখার আকার

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ২৮জুলাই, ২০২০, মঙ্গলবার 

ডা. রাসেল চৌধুরী, বিসিএস(স্বাস্থ্য), এমডি(শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ)

দৈনিক সমকালে প্রকাশিত, এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২৪ জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত সচিবের ১৩০ টি পদের বিপরীতে ৪৫৭ জন এবং যুগ্ম সচিবের ৪৫০ টি পদের বিপরীতে ৭৩৫ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। একইভাবে উপসচিবের এক হাজার ছয়টি পদের বিপরীতে রয়েছেন এক হাজার ৫৫৮ জন কর্মকর্তা। ফলে পদ না থাকার পরও পদোন্নতি পেয়ে কর্মকর্তাদের আগের পদেই (ইন সি টু) কাজ করতে হবে অথবা ওএসডি থাকতে হবে। প্রয়ােজনের তুলনায় অতিরিক্ত সচিব পদে বেশি লােকবল থাকার বিষয়টি স্বীকার করে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হােসেন সমকালকে বলেন , অভিজ্ঞতার কারণে সিনিয়রদের পদোন্নতি দেওয়া হয়। তবে ক্যারিয়ার প্ল্যানিং চূড়ান্ত হলে এমনটা আর হবে না।

উপরোক্ত তথ্য বিশ্লেষণে, এবার চিকিৎসক, প্রকৌশলী, কৃষিবিদদের নিজের বিশেষায়িত ক্যাডার ছেড়ে পররাষ্ট্র, প্রশাসন সহ অন্যান্য সাধারণ ক্যাডারে চাকরির আগ্রহের মূল কারণ খুঁজে পাবেন।

একজন চিকিৎসক স্বাস্থ্য ক্যাডারে বছরের পর বছর পদোন্নতিবঞ্চিত থাকেন। এমনকি পদ ফাঁকা থাকলেও বছরের পর বছর পদোন্নতির ফাইল আটকে থাকে। যোগ্য কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও এই মুহুর্তে স্বাস্থ্য ক্যাডারের হাজার হাজার পদ ফাঁকা পড়ে আছে। অথচ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বড় কাজই কিন্তু চিকিৎসকদের নিয়মিত পদোন্নতির কাজ সম্পন্ন করা ।

     ছবিঃ সংগৃহীত

অথচ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েরই প্রশাসন ক্যাডারের সদস্যরা পদ না থাকলেও একের পর এক পদোন্নতি পেতেই থাকেন। কখোনো কখোনো পদসংখ্যার দ্বিগুন তিনগুন কর্মকর্তাও পদোন্নতি পাচ্ছেন। নিজেরা পদোন্নতি নিচ্ছেন নিয়মিত, অথচ চিকিৎসকদের বহু বছর আগে পাওয়া পদোন্নতি আবেদনগুলো তাঁদের হাতেই তামাদি হয়ে যাচ্ছে।

প্রজাতন্ত্রের একই বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েও এই পদোন্নতি বিড়ম্বনাই চিকিৎসকদের ডাক্তারি করার চেয়ে এসি ল্যান্ড হতেই এখন বেশি উৎসাহ যোগাচ্ছে। কারণ অনেক চিকিৎসকই এখন প্রাইভেট প্র‍্যাকটিসের অমানবিক জীবনের চেয়ে চাকরির মাঝেই স্বাচ্ছন্দ্য খুঁজে পেতে চান।

ত্রিশ হাজারের অধিক সদস্যের ক্যাডারে সিনিয়র সচিব (সুপার গ্রেড) বা সচিব (গ্রেড -১) পদমর্যাদার সমান একটি পদ নেই। অথচ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রায় পঞ্চাশ জন প্রশাসন ক্যাডারের সদস্যদের মধ্যে ১০ জনই গ্রেড ২ ও গ্রেড ১ এর।

৫ম গ্রেড থেকেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা গাড়ি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকার সুদমুক্ত ঋণ ও মাসে ৫০ হাজার টাকা মেইনটেইনেন্স খরচ পান। অথচ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপকরা ৩য় গ্রেডের কর্মকর্তা হয়েও সেটা পান না।

কিন্তু দেশের ১৮ কোটি মানুষের চিকিৎসা সেবা দেয়ার দায়িত্ব কাদের? চিকিৎসকদের নাকি মন্ত্রণালয়ের নন ডাক্তার কর্মকর্তাদের ?

ডেংগুতে বা করোনায় কিছু ব্যর্থতার দায়ভার যেমন ডাক্তারদের, তেমনি সফলতার প্রায় শতভাগ দাবিদারও কিন্তু ডাক্তাররাই। ব্যর্থতার জন্য যৌক্তিক সমালোচনা হউক কিন্তু চাকরিতে ন্যায্য সুবিধা না পেলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দক্ষ আমলা পেলেও হাসপাতালগুলোতে দক্ষ ডাক্তার পাওয়াটা দুরুহই হয়ে যাবে। কোনটি বেশি দরকার আপনারাই ভেবে সিদ্ধান্ত দিন।

আমরা প্রশাসন ক্যাডারের সদস্যদের সুযোগ সুবিধাকে অন্তঃকরণ দিয়ে সমর্থন করি। কারণ সাম্প্রতিক কালে প্রশাসন ক্যাডারের চাকরির প্রতি এতো মোহের বড় কারণই হলো, এই পেশায় জীবনমানের উন্নয়নের জন্য নেয়া যুগান্তকারী সব পদক্ষেপ। চাকরিকে উপভোগ করার মত উপকরণ না থাকলে সেবার মান নিশ্চিতভাবেই বাধাগ্রস্ত হয়।

আমাদের চাওয়া, স্বাস্থ্য ক্যাডারের চিকিৎসকরাও যেনো নিয়মতি পদোন্নতি ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা রাষ্ট্রীয়ভাবে পান, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

১৮ কোটি মানুষের স্বাস্থ্য সেবার কাংখিত মান উন্নয়নে চিকিৎসকদের পেশাগত ও জীবন মান উন্নয়নও যুগপৎভাবে জরুরি।

রাষ্ট্রের সামর্থ্য পুরোপুরিই আছে। প্রয়োজন শুধু একটু সদিচ্ছা ও সংস্কার। ডেংগু আর করোনা মোকাবেলায় চিকিৎসকদের কঠিন যুদ্ধের চেয়ে সেটা অনেক বেশিই সহজ।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর কথা ধরেই বলি, ক্যারিয়ার প্ল্যানিং করে নিয়মিত পদোন্নতি ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের জন্য যতখানি দরকার, স্বাস্থ্য ক্যাডারের চিকিৎসকদের জন্যও সেটা ততখানিই দরকার। বরং করোনার শিক্ষা বলে, চিকিৎসকদের জন্য সেটা আরো একটু বেশিই দরকার।

খবরটি শেয়ার করুন

সম্পর্কিত খবর

বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিনামুল্যে ৬ টি সফল লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন, প্রস্তুত আরও ৪ টি

২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার, ২০২৬ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হস্পিটালে বিনামূল্যে ছয়টি লিভার (যকৃত) প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত এই জটিল অস্ত্রোপচার করা হবে। বছরে অন্তত ২৪টি লিভার প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ মঙ্গলবার এক…

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন

দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন করলো বিএমইউ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতার মাধ্যমে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ)। এর মধ্য দিয়ে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য…

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন

মুমূর্ষু রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেলের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক, নার্সদের ওপর হামলা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ মুমূর্ষু রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভাঙচুর এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর স্বজনদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতের দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে…

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘর পূরণ করা জরুরি।

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।
নোটিফিকেশন বর্তমানে বন্ধ।