জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিদ্যালয় পুনরায় খোলার নির্দেশিকা

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, বুধবার

কোভিড-১৯ মহামারি নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশ্বব্যাপী বিদ্যালয়সমূহের ন্যায় বাংলাদেশেও প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহ বন্ধ রয়েছে। এর ফলে শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাঘাতসহ শিশুর শিখন যোগ্যতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে প্রান্তিক শিক্ষার্থীরা যত বেশি সময় বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে, তাদের বিদ্যালয়ে ফেরার সম্ভাবনা ততই কমে যাবে। প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে ধনী শিশুদের তুলনায় দরিদ্র শিশুদের ঝরে পড়ার হার প্রায় ৫ গুণ বেশি। বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিশুদের মাঝে বাল্যবিবাহ, অপ্রাপ্ত বয়সে মাতৃত্ব, যৌন নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হওয়া ও অন্যান্য ঝুঁকির আশংকা বৃদ্ধি পায়।এছাড়াও দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বিদ্যালয় কেন্দ্রিক সেবা কার্যাবলী, যেমন- টিকাদান কর্মসূচি, একবেলা খাদ্য প্রদান কর্মসূচি এবং শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সহায়তা প্রদান বাধাগ্রস্ত হতে পারে। একইসাথে ব্যাহত রুটিন ব্যবস্থা ও সমবয়সীদের সাথে মিথস্ক্রিয়ার অভাবে শিশুদের মধ্যে মানসিক চাপ ও উদ্বিগ্নতা বাড়তে পারে। এছাড়াও প্রান্তিক শিশু যেমন- নৃ- গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও এতিম শিশুদের উপর এ ধরনের নেতিবাচক পরিস্থিতির প্রভাব উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি হয়।

তাই কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে পুনরায় বিদ্যালয় খোলার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে তার একটি নির্দেশিকা তৈরি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেখানে অন্তত ৩৫ টি নির্দেশ মানার কথা বলা হয়েছে। দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো খুলে গেলে শিক্ষক- শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনা করে একাধিক পালা বা সপ্তাহের একেক দিন একেক শ্রেণির পাঠদানের ব্যবস্থা রেখে পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। মঙ্গলবার গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সব বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকে কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিদ্যালয় পুনরায় চালুর নির্দেশিকা পাঠাতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকে অনুরোধ করেছে। বিদ্যালয় খোলার আগেই এই নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে। এ জন্য নির্দেশিকাটি বিদ্যালয় পর্যায়ে পাঠানোর জন্যও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

তবে বিদ্যালয় কবে খুলবে সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। জনস্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিষয়ক সামগ্রিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কখন বিদ্যালয় পুনরায় চালু করা যাবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার পর, সে অনুযায়ী জাতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সহায়তা করার উদ্যেশ্যে এই নির্দেশকটি প্রণীত হয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জারিকৃত নির্দেশনা এবং WHO, UNESCO, UNICEF, World bank, CDC(USA) এর গাইডলাইন অনুসরণ করা হয়েছে। তবে স্থানীয় বাস্তবতার সাথে সাদৃশ্য বিধান করতে এবং প্রতিটি শিশুর শিখন, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার চাহিদা পূরণ করতে এই নির্দেশিকাটি ক্রমাগত অভিযোজন ও প্রাসঙ্গীকরণ করা প্রয়োজন হবে।

উল্লেখ্য বিদ্যালয় পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন রাখা এবং জীবাণুমুক্তকরণ, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, হাতা ধোয়া, হাঁচি-কাশি বিষয়ক শিষ্টাচার, সুরক্ষা সরঞ্জামের ব্যবহার, অসুস্থদের জন্য করণীয় এবং নিরাপদ খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুত করার অভ্যাস গড়ে তুলতে নির্দেশনা সংবলিত পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ করতে বলা হয়েছে এই নির্দেশনায়। এ ছাড়া শিশুদের বিদ্যালয়ে আনার জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। হাত ধোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে নিরাপদ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথক শৌচাগার স্থাপন বা সম্প্রসারণ করতে হবে। মেয়ে শিশুদের ঋতুকালীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখতে হবে। বিদ্যালয় খোলার আগে অবশ্যই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণসহ শ্রেণিকক্ষ, অফিসকক্ষ ও টয়লেটগুলো স্বাস্থ্যসম্মত ও জীবাণুমুক্ত করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় জীবাণুনাশক, সাবানসহ অন্যান্য পরিচ্ছন্নতা উপকরণ সংগ্রহ করতে হবে। প্রতিদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চত্বরের আবর্জনা পরিষ্কার ও আবর্জনা সংরক্ষণকারী পাত্র জীবাণুমুক্ত করতে হবে। আর পাঠ পরিকল্পনায় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, অসুস্থ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী এবং সন্তান সম্ভবা নারী শিক্ষককে বিদ্যালয় আসতে হবে না। বিদ্যালয় কার্যক্রমের শুরু, শেষ এবং মিড ডে মিলের কর্মসূচি এমনভাবে সাজিয়ে নিতে হবে, যাতে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের জটলা তৈরি না হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থী এবং বহিরাগতদের তাপমাত্রা মাপতে হবে। এ জন্য বিদ্যালয় খোলার আগেই প্রয়োজনীয়সংখ্যক নন-কন্টাক থার্মোমিটার সংগ্রহ করতে হবে। যাদের তাপমাত্রা বেশি পাওয়া যাবে তাদের বিদ্যালয়ে প্রবেশ থেকে বিরত রাখতে হবে। স্বাভাবিক অবস্থা না আসা পর্যন্ত কোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ জমায়েত আয়োজন করা যাবে না। বিদ্যালয় চলাকালীন অত্যাবশ্যক না হলে কেউ বাইরেও যাবে না। এ ছাড়া কারও মধ্যে কোভিড-১৯ এর সন্দেহভাজন উপসর্গ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে এবং যারা তার সংস্পর্শে এসেছেন তাদের দ্রুত শনাক্ত করে কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রত্যেক উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ে তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে, যাতে অভিভাবকসহ স্থানীয় মানুষ প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারে।

উল্লেখ্য, বিদ্যালয়সমূহ পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে ৬ টি মাত্রা: নীতি নির্ধারন, অর্থসংস্থান, নিরাপদে কার্যকম পরিচালনা, শিখন, সর্বাধিক প্রান্তিক জনগোষ্ঠী পর্যন্ত পৌছানো নিশ্চিতকরণ এবং সুস্থতা/ সুরক্ষা ব্যবস্থা বিবেচনা করে এ নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। নীতি নির্ধারণ ও অর্থায়ন – এই মাএা দুটি সমন্তিত ও উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে যা অন্য মাএাগুলার জন্য সহায়ক হবে।

Silvia Mim

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

Next Post

বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কোভিড ডেডিকেটেড ১২ হাসপাতাল!

Thu Sep 17 , 2020
প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসের রোগী না পাওয়ায় ১২টি হাসপাতালে কোভিড-১৯ কার্যক্রম বন্ধ করে দিচ্ছে সরকার। দেশে কোভিড সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এ বছরের এপ্রিল মাসে বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত কয়েকটি হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। চুক্তি অনুযায়ী এসব হাসপাতাল কোভিড-১৯ সংক্রমিতদের চিকিৎসা দেবে। […]

ব্রেকিং নিউজ

Platform of Medical & Dental Society

Platform is a non-profit voluntary group of Bangladeshi doctors, medical and dental students, working to preserve doctors right and help them about career and other sectors by bringing out the positives, prospects & opportunities regarding health sector. It is a voluntary effort to build a positive Bangladesh by improving our health sector and motivating the doctors through positive thinking and doing. Platform started its journey on September 26, 2013.

Organization portfolio:
Click here for details
Platform Logo