কোয়াক হান্ট সম্পর্কে!

বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে যে সব কোয়াক, হাতুড়ে বা UNAUTHORIZED ব্যক্তি যারা ডাক্তার নাম ব্যবহার করে অপচিকিৎসা দিচ্ছে ,তাদের একটা ইমেজ ডাটাবেইজ তৈরি করতে প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে ফেসবুকে একটি ইভেন্ট করা হয়েছে। কোয়াক হান্ট।

DMF, RMP, EKMF, LMAF, DMS, DEP, PDMS, VDRMP, RMAFP, MCCসহ হাজারো ডিগ্রী শোভা পাচ্ছে বাংলাদেশের গ্রামে গঞ্জে, খোদ রাজধানীর ওলিগলিতে সাইনবোর্ডে, ভিজিটিং কার্ডে, প্রেস্ক্রিপশনে । ওষুধের দোকানদার, ওষুধ কোম্পানীর বিপননকর্মী, দাঁতের ডাক্তারের সহকারী, গ্রাম্য কবিরাজের ছেলে, চিকিৎসা সহকারী অথবা সরকারী হাসপাতালের আয়া,ঝাড়ুদার- দুতিনটা ব্যথার ওষুধ, কিছু এন্টিবায়োটিক আর ভিটামিন ক্যালসিয়ামের নাম জেনে সবাই এখন ডাক্তার । এসব ‘ডা.’ নামধারী ব্যাক্তি প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় অনেক ওষুধ, এমনকি সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ওষুধ এবং অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষার নাম ব্যবস্থাপত্রে লিখছেন। ভুল চিকিৎসা-অপচিকিৎসার জন্য দায়ী এরা, ক্লিনিকের দালালী যেমন করে, আবার দামি এন্টিবায়োটিকের বিক্রি বাড়াতে ওষুধ কোম্পানির সম্মানিত ক্লায়েন্ট এরাই । তাদের কাছে আপনার আত্মীয় পরিজন যেরকম নিরাপদ নয়, এন্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্সের জন্য আমরাও পরোক্ষভাবে মৃত্যু ঝুঁকির সম্মুখীন ।

জমিতে আগাছা থাকলে দূর থেকে ক্ষেতকে বেশ ভরপুর আর সবুজ দেখায় ঠিকই, কিন্তু তা প্রকৃত ফসলের ক্ষতি করে। তেমনি গ্রামে মফস্বল শহরে এই “আগাছা” আমাদের স্বাস্থ্য সেবার প্রকৃত চিত্র কে আড়াল করে রাখে । সরকার আর আমজনতার নির্যাসটুকু এরা শুষে নিয়ে আমাদের ভবিষ্যৎকে এক অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে! তথাকথিত সুশীল সমাজের নিত্যদিনের আলাপে এই বিষয় উঠে আসেনা, আসবেওনা। কিন্তু, আমরা সেই “ক্ষেত” এর অংশ বলেই জানি, কিভাবে তা দিন দিন পতিত জমিতে পরিণত হচ্ছে। তাই আমাদের জমিকে আমাদেরই ফিরিয়ে আনতে হবে, সমাজের যেকোনো পেশাজীবীদের চেয়ে আমাদের দায়িত্ব বেশি।

নব নিয়োগ প্রাপ্ত ৩৩ তম বিসিএসের সকল চিকিৎসক, মেডিকেল-ডেন্টাল শিক্ষার্থী, সর্বোপরি সমাজের সকল বিবেকবান মানুষের কাছে এই আহবান করছি-এসকল ভুয়া চিকিৎসকদের ভিজিটিং কার্ড, প্রেসক্রিপশন প্যাড, সাইনবোর্ডের ছবি, নাম, ফোন নাম্বার, ঠিকানা সংগ্রহ করুন । আপনার মোবাইলে ছবি তুলে রাখুন । চিকিৎসকদের প্রথম পত্রিকা “প্ল্যাটফর্ম” এর পক্ষ থেকে এই ডাটাবেইস তৈরি করে যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করা হবে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য । জনমত , জনসচেতনতা এবং ডাটাবেইস তৈরিতে এ ইভেন্ট খোলা হল । সকলকে অনুরোধ করছি কোয়াক হান্টে অংশগ্রহন করতে নিজের অস্তিত্বের তাগিদে, মোট নিবন্ধিত চিকিৎসকের ২০% কোয়াকের ডাটাবেইস তৈরি হলে পরবর্তি পদক্ষেপ নেয়া হবে ।
আপনাদের ছবি বা যে কোন তথ্য শেয়ার করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে,https://www.facebook.com/groups/platform.bd/ ( শুধু মাত্র মেডিকেল/ডেন্টাল স্টুডেন্ট এবং চিকিৎসকদের জন্য)

Advertisement
Advertisement