করোনা থেকে নিরাময় পরবর্তী পুনর্বাসন

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ২৩ অক্টোবর ২০২০,শুক্রবার 

ডা. খালিদ নুর মোহাম্মদ মাহবুব,
এমবিবিএস, ডিএ, এফসিপিএস

বাংলাদেশের সর্বপ্রথম করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা যায় মার্চ মাসে। ইতিমধ্যে সাত মাস অতিবাহিত হয়ে গেছে। অসংখ্য লোকজন আক্রান্ত হয়েছেন। অনেকেই ইতিমধ্যে সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হয়ে গেছেন। আবার অনেকে সুস্থ হওয়ার পরও বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক জটিলতায় ভুগছে।

সাধারণত বেশিরভাগ করোনা রোগীর কোন লক্ষণই থাকেনা অথবা অল্প লক্ষণ থাকে। এরা অল্পতেই সুস্থ হয়ে যায়। করোনা পরবর্তী কোনরকম জটিলতা সাধারণত হয়না। কিন্তু কিছু কিছু রোগীর আই সি ইউ, এইচ ডি ইউ, হাই ফ্লো অক্সিজেন, NIV অথবা ভেন্টিলেটর সাপোর্ট লাগে। এদের ফুসফুসের অবস্থা সাধারণত খুব খারাপ হয়ে থাকে এবং সাথে মাল্টি অর্গান ড্যামেজ হয়ে থাকে। অক্সিজেনের স্বল্পতার কারণে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্ষতি সাধন হয়ে থাকে। কারো কারো করোনার লক্ষণ গুলো লম্বা সময়ের জন্য রয়ে যায়। যাদেরকে সাধারণত এখন Long COVID হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এদের RT-PCR নেগেটিভ হয়ে গেলেও পরবর্তীতে এদের লম্বা সময়ের জন্য চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। যেহেতু এই করোনা একটি নতুন রোগ, তাই এর পরবর্তী চিকিৎসা প্রণালী কি হবে না হবে তা এখনো সঠিক ভাবে বলা যাচ্ছে না। এসব রোগীরা পরবর্তীতে লম্বা সময়ের জন্য অনেক রকম জটিলতায় ভুগতে থাকেন। এসব রোগীদের পরবর্তীতে বিভিন্ন পুনর্বাসন প্রক্রিয়া প্রয়োজন।

আজকে এখানে বলার উদ্দেশ্য হলো এটা জানা যে, করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার পর কি কি লক্ষণ গুলো লম্বা সময় জন্য থেকে যায়, কি কি জটিলতায় ভুগতে পারেন, তার লক্ষণ এবং তা থেকে পরিত্রান পাওয়ার জন্য কি কি করনীয়, করোনাকালীন সময় যেসব সাপোর্ট গুলো পেয়ে আসছিলেন কিভাবে সে সাপোর্ট থেকে রোগীকে মুক্ত করা যায় এবং সেই সাথে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া। যেহেতু এটা একটা নতুন রোগ তাই পুনর্বাসন প্রক্রিয়া কতদিন পরে শুরু করতে হবে সেই সম্বন্ধে সুনির্দিষ্টভাবে কোন কিছু এখনও বলা যাচ্ছে না। তবে সবাই এটাতে একমত যে চার থেকে ছয় সপ্তাহ পরে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া আস্তে আস্তে শুরু করা যেতে পারে।

সাধারণ পুনর্বাসন প্রক্রিয়াঃ

  •  প্রয়োজন ব্যতীত ঘরের বাইরে বেশি বের না হওয়া।
  •  ঘরের বাইরে গেলে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করা।
  •  খুব টাইট মাস্ক লম্বা সময়ের জন্য পরিধান করে না থাকাই ভালো। বিশেষ করে n95 মাস্ক। এতে হাইপোক্সিযইয়া (অক্সিজেনের স্বল্পতা) হয়ে রক্তের ঘনত্ব বেড়ে গিয়ে আরো জটিলতা তৈরি করতে পারে।
  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম করা।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে খাওয়া দাওয়া করা।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খাওয়া।
  • রোগী যদি অক্সিজেনের সাপোর্ট পেয়ে থাকে তাহলে অক্সিজেন এর মাত্রা আস্তে আস্তে কমিয়ে নিয়ে আসতে হবে।
  •  আস্তে আস্তে অল্প অল্প করে শারীরিক ব্যায়াম করতে হবে। তবে এটা অবশ্যই শরীরের সহনীয় মাত্রায় হতে হবে। আস্তে আস্তে শারীরিক ব্যায়াম এর মাত্রা বাড়াতে হবে।
  • রেগুলার অক্সিজেন স্যাচুরেশন, পালস এবং ব্লাড প্রেসার পরিমাপ করা।
  • সবসময় একজন চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে থাকা। প্রয়োজনে টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে হলেও পর্যবেক্ষণে থাকা।

বিশেষ পুনর্বাসন প্রক্রিয়াঃ

১. Respiratory system (ফুসফুসের পুনর্বাসন)-

  •  বাসায় অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা রাখা উচিত।
  •  করোনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর জটিলতা হয় ফুসফুসের। Acute Respiratory Distress Syndrome-ARDS হল প্রধান কারণ। যার কারণে ফুসফুস ঠিকমতো অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে না এবং অক্সিজেন সাপোর্ট দিতে হয়। ARDS এর মাএা যখন খুব বেশি বেড়ে যায় তখন হাই ফ্লো অক্সিজেন নিতে হয়, আবার কাউকে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস যন্ত্রের সাহায্যে শ্বাস প্রশ্বাস নিতে হয় । ARDS থেকে সুস্থ হওয়ার সময় একটি মারাত্মক কম্প্লিকেশন হয়, যাকে Pulmonary Fibrosis। এটা রোগীকে অনেক ভোগায়। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব Anti Fibrotic Drug শুরু করা উচিত।

Breathing Exercise করা উচিত-

> Diaphragmatic breathing,

> Pursed-lip breathing

> Bronchial hygiene

> Breath hold exercise

> Lung expansion techniques (positive expiratory pressure)

> Incentive spirometry( Respiratory meter)

> Manual mobilisation of the ribcage,

> Respiratory muscle training

> Aerobic exercise

এগুলো সাধারণত চার থেকে ছয় সপ্তাহ পরে শুরু করা উচিত।

  • Tracheostomy করা থাকলে তার যত্ন নেয়া উচিত।
  • কারো কারো লম্বা সময় ধরে খুসখুসে কাশি থাকতে পারে। সেই ক্ষেত্রেও প্রয়জনীয় চিকিৎসা নিতে হবে।

২. Cardiac Rehabilitation (হৃদযন্ত্রের পুনর্বাসন)-

  •  করোনার কারণে অনেকের Myocarditis হয়ে থাকে, সাথে Myocardial Infarction হয়ে থাকে। হার্টের পাম্পিং ক্যাপাসিটি অনেকের কমে যায়। অনেকের হার্টফেল ডেভলপ করে। এনজিওগ্রাম  করলে আবার দেখা যায় যে normal Findings। তাই অবশ্যই একজন কার্ডিওলজিস্ট এর পর্যবেক্ষণে  থাকতে হবে এবং যথাযথভাবে রোগ নিরূপণ করতে হবে।
  •  অনেকের আবার হার্ট রেট বেড়ে যায এবং কারো কারো হার্ট রেট কমে যায়। সুতরাং যথাযথভাবে রোগ নির্ণয় করে তার চিকিৎসা করতে হবে।
  • কারো কারো Arrhythmia হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে Anti- arrhythmic drug দিতে হবে।
  • শরীরে লবণের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে কিনা সেটা পরীক্ষা করে দেখে তার চিকিৎসা করতে হবে।

৩. Neurological Rehabilitation ( স্নায়ু তন্ত্রের পুনর্বাসন)-

  •  আই সি ইউ তে লম্বা সময় থাকার কারণে অনেকের মাংসপেশি দুর্বলতা বা Myopathy হতে পারে। অনেকের আবার মাংস পেশী শুকিয়ে যায়। এজন্য করোনা পরবর্তী ফিজিওথেরাপি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাথে অবশ্যই পুষ্টিগত দিক খেয়াল রাখতে হবে।
  •  ICU তে লম্বা সময় থাকার জন্য রোগীর স্নায়ু দুর্বলতা বা Neuropathy হতে পারে। এজন্য রোগীর পায়ে় অনেক সময় ক্ষত তৈরি হতে পারে। অনেক সময় জটিলতা হিসেবে ডায়াবেটিক ফুট এ পরিণত হয়। পরবর্তীতে পা কাটতে হতে পারে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না করলে ইনফেকশন হতে পারে। এর জন্য ফিজিওথেরাপির ভূমিকা অনন্য।
  • অনেকেই বলে থাকে যে তাদের খুব দুর্বল লাগে। অল্পকিছু পরিশ্রম করলেই খুব টায়ার্ড হয়ে যায়। এই সমস্যা সাধারণত দুই থেকে তিন মাস থাকতে পারে । এর পরে আস্তে আস্তে এটা স্বাভাবিক হয়ে যায়। তাই পরিশ্রম এর মাত্রা আস্তে আস্তে বাড়াতে হবে।
  • অনেকের আবার আই সি ইউ তে থাকার কারণে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস দেয়া হয়ে থাকে। যার জন্য গলাতে একটা টিউব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এর জন্য রোগীর গলাব্যথা থাকতে পারে এবং সেইসাথে ঢোক গিলতে সমস্যা ও খাওয়া-দাওয়া বাঁধাগ্রস্ত হতে পারে। এটার জন্য দরকার হলে Nasogastric tube দিয়ে খাবার খাওয়াতে হবে অথবা Percutaneous Gastrostomy করে টিউব দিয়ে রোগীকে খাওয়ানো লাগতে পারে।
  •  ফিজিওথেরাপি– ICU পরবর্তী রোগীকে অনেক ধরনের ফিজিওথেরাপি দেয়া লাগতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো স্পিচ থেরাপি, ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি এবং কমিউনিটি রেহাবিলিটেশন।

৪. Psychological Rehabilitation ( মানসিক পুনর্বাসন) –

  • করোনা পরবর্তী অনেক রোগীরই বিভিন্ন ধরনের মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো হতাশা বা ডিপ্রেশন, দুশ্চিন্তা, স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া বা ডিমেনশিয়া, নিদ্রাহীনতা, পোস্ট আইসিইউ সাইকোসিস।
  •  রোগীকে মানসিক সাপোর্ট দেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেইসাথে সাহস দেওয়া যাতে করে রোগী মানসিকভাবে ভেঙ্গে না পড়ে।
  • সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসা রাখা এবং অগাধ বিশ্বাস তৈরি করা। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা। সৃষ্টিকর্তাকে বেশি বেশি স্মরণ করা।
  • রোগীকে একঘরে করে রাখবেন না।  RT- PCR যদি নেগেটিভ আসে তাহলে রোগীর সাথে যথাসম্ভব স্বাভাবিক আচরণ করুন। রোগী যেন কোনোভাবেই মনে না করে যে তাকে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে।
  • রোগীর কুশলাদি ও খোঁজখবর নিন এবং অবশ্যই কমনসেন্স বজায় রেখে রোগীকে কথাবার্তা বলবেন। এমন কোনো কথা বলবেন না বা কাজ করবেন না যাতে রোগী আরো আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে যায়।
  • রোগীর অনুমতি ব্যতীত তার রোগের ব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার না করাই ভালো। এটা রোগীকে আরও বিব্রতকর অবস্থায ফেলে় এবং আতঙ্কগ্রস্ত করে খুলে।
  • রোগীকে স্বাভাবিক জীবন-যাপনে ফিরে আসতে সহযোগিতা করুন।
  • মানসিক সমস্যার জন্য প্রয়োজনে একজন Psychiatrist এর সাথে পরামর্শ করতে পারেন।
  • নিদ্রাহীনতা জন্য ডাক্তারের পরামর্শ ক্রমে ঘুমের ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।
  • করোনা পরবর্তী অনেকের মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। অল্পতেই রেগে যাওয়া বা চটে যাওয়া প্রবণতা বেড়ে যায়। পারিপার্শ্বিক লোকজনদেরকে এই বিষয়টি সদয় দৃষ্টিতে দেখতে হবে।

৫. Gastrointestinal Rehabilitation (পরিপাকতন্ত্রের পুনর্বাসন)

  •  অনেকের লম্বা সময় ধরে ডায়রিযা়, আমাশয় অথবা IBS এর মত লক্ষণ থেকে থাকে। ঘন ঘন পায়খানা হতে থাকে। কোন ওষুধে এটা কমতে চায়না। এটা নিয়ে এত চিন্তিত হওয়ার কিছু নাই। চিন্তিত হলে আরো বেশি বেশি হতে পারে। এটি সাধারণত দুই তিন মাস থাকতে পারে। এরপর আস্তে আস্তে এমনিতেই কমে যাবে। তবে এটা যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
  • অনেকের Liver Failure হতে পারে। তাদের লিভার এনজাইমগুলো সবসময়ই একটু বেশি থাকে। এর থেকে পরিত্রান পেতে হলে অতিরিক্ত ওষুধের পরিমাণ কমিয়ে ফেলতে হবে। Liver Failure এর অন্যতম একটি কারণ Polypharmacy । তাছাড়া যেসকল ওষুধ লিভারের এনজাইম কে বাড়িয়ে দেয় সেগুলোকে বন্ধ করে দিতে হবে। তার পরেও যদি লিভার এনজাইমের মাত্রা না কমে তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

৬. Endocrine Rehabilitation (হরমোন জনিত রোগের পুনর্বাসন)-

  •  ডায়াবেটিস রোগীদের করোনা পরবর্তীতে ইনসুলিনের প্রয়োজনীয়তা অতিমাত্রায় বেড়ে যায়। Blood Sugar বেড়ে যায়। রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। ধারণা করা হয় যে করোনাভাইরাস অগ্ন্যাশয় এর বিটা সেলগুলো কে ডেমেজ করে ইনসুলিন উৎপাদন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। যার ফলে ইনসুলিন গ্রহনের প্রয়োজনীয়তা অত্যাধিক বৃদ্ধি পায়।

আবার কিছু কিছু রোগী ARDS জন্য স্টেরয়েড পেয়ে থাকেন যা ব্লাড সুগার এর মাত্রাকে বাড়িয়ে দেয়। এটাও ইনসুলিন গ্রহনের প্রয়োজনীয়তা বাড়ার অন্যতম কারণ।

৭. Haematological Rehabilitation ( রক্ততন্ত্রের পুনর্বাসন) –

  • অনেকের CBC তে HCT Level বেড়ে যায়। এটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে বেশি করে পানি অথবা তরল জাতীয় খাবার খেতে হবে।
  • অনেকের রক্তের d-dimer Level বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে ।

৮. Electrolyte Imbalance correction (লবণের ভারসাম্য প্রতিকার করা) –

  •  অনেকের প্রায়শই এটা হয়ে থাকে। শরীরে লবণের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। তাই কিছুদিন পর পর শরীরের লবণ এর সমতা বজায় আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে এবং সেই অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে।

৯. Nutritional Rehabilitation (পুষ্টি পুনর্বাসন) –

  •  করোনা হলে অনেক বেশিরভাগ সময় খাবারে রুচি থাকে না। যার কারণে শরীর দুর্বল হয়ে যায়।
  •  রোগীকে বেশি করে পুষ্টিকর খাদ্য খেতে হবে। প্রোটিন জাতীয় খাবার বেশি করে খেতে হবে। ডিম মুরগি মাছ এগুলো বেশি বেশি করে খাওয়া যেতে পারে।
  •  প্রচুর পরিমাণে টাটকা তাজা শাকসবজি ফলমূল খেতে হবে।
  • যেগুলো খাবারে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি আছে সেগুলি বেশি করে খেতে হবে।
  • প্রয়োজনে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি, জিংক ট্যাবলেট খেতে হবে।
  •  নিউরোপ্যাথির জন্য ভিটামিন বি-১, বি-৬, এবং বি-১২ এর কম্বিনেশনটা দেয়া যেতে পারে।
  •  করোণা পরবর্তী অনেকের চুল পড়ে যায়। এক্ষেত্রেও সঠিক চিকিৎসা নিতে হবে।

১০. Reinfection prevention (পুনঃসংক্রমণ প্রতিরোধ) –

করোনা থেকে সুস্থ হওয়া ব্যক্তি পরবর্তীতে যেন পুনরায় করানোয় আক্রান্ত না হয় সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

  •  স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
  •  সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।
  • মাস্ক পরিধান করতে হবে।
  •  অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাফেরা বন্ধ করতে হবে।
  •  হাত ধুতে হবে ।
  •  হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে।

মনে রাখতে হবে পরবর্তীতে পুনরায় করোনায় আক্রান্ত হলে তার পরিণতি প্রথমবারের চেয়ে ভয়াবহ হতে পারে।

১১. Follow-up-

অনেকেই প্রায়ই় জিজ্ঞেস করে থাকেন করোনা পরবর্তী ফলোআপ কিভাবে করতে হয়। সাধারণত নিম্নবর্ণিত ইনভেস্টিগেশন গুলি করে আমরা করোনার ফলোআপ করতে পারি।

Follow-up investigation :

  • CBC
  •  LFT (Liver Function Test)
  • S. Electrolyte
  •  S. creatinine
  • LDH
  • S. Ferritine
  • D- daimer
  • Chest X-ray

ফলোআপে জন্য চিকিৎসকের কাছে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে তা কিন্তু নয়। প্রয়োজনে পরীক্ষা করে টেলিমেডিসিনের মাধ্যমেও ফলোআপ করতে পারেন।

বিশ্বের অনেক দেশেই ইতিমধ্যেই সেকেন্ড ওয়েব শুরু হয়ে গেছে। বাংলাদেশেও সেকেন্ড ওয়েবের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। সুতরাং আগাম ভয়াবহতার কথা বিবেচনা করে আগে থেকেই সতর্ক হোন।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। নিজে সুস্থ থাকুন অন্যকে সুস্থ রাখুন।

ধন্যবাদ।

Firdaus Alam

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

Next Post

আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে অনুষ্ঠিত হলো ব্যাসিক লাইফ সাপোর্ট (BLS) ট্রেইনিং

Fri Oct 23 , 2020
প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ২৩ অক্টোবর ২০২০, শুক্রবার  গত ১৯ অক্টোবার ২০২০, রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত, আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটাল (AWMCH) এর ‘প্রফেসর ডা. ইব্রাহিম লেকচার থিয়েটার’ এ অনুষ্ঠিত হলো ব্যাসিক লাইফ সাপোর্ট (BLS) ট্রেইনিং। ইন্টার্ন ডাক্তার, মেডিকেল অফিসার, সিনিয়ার স্টাফ নার্স এবং ওয়ার্ড-ইন-চার্জ নার্সদের জন্য আয়োজিত অনুষ্ঠানটি শুরু হয় বিকাল […]

ব্রেকিং নিউজ

Platform of Medical & Dental Society

Platform is a non-profit voluntary group of Bangladeshi doctors, medical and dental students, working to preserve doctors right and help them about career and other sectors by bringing out the positives, prospects & opportunities regarding health sector. It is a voluntary effort to build a positive Bangladesh by improving our health sector and motivating the doctors through positive thinking and doing. Platform started its journey on September 26, 2013.

Organization portfolio:
Click here for details
Platform Logo