শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩, ২০ রবিউস সানি ১৪৪৮
Sponsored
▶
ADVERTISEMENT
Image • Video • Banner Demo Area
সংবাদ

রক্তের “ফুল”!

ডা. আশরাফুল হক
ট্রান্সফিউশন মেডিসিন স্পেশালিস্ট
Cord blood banking 3

নিকটাত্মীয়ের বাচ্চা হবার সংবাদে গিয়ে ভালো মন্দ দেখে শুনে ফিরে আসার সময় নাভিদের মনে খচখচ করতে লাগলো। তার নিজের বাচ্চার চিকিৎসা নিয়ে আলাপের সময় ডাক্তার সাহেব এক অভিনব চিকিৎসা পদ্ধতির কথা বলেছিলেন। অভিনব, কারণ নাভিদ আগে কখনো এমন চিকিৎসার কথা শোনেনি। কেউ বলেনি। মূল থিমটা হলো, বাচ্চার নিজের শরীরের স্টেম সেল পরবর্তীতে সুবিধাজনক সময়ে নিজের শরীরে প্রতিস্থাপন করা। স্টেম সেল কি? কোথায় পাবে? বাচ্চার শরীরে? কিভাবে রক্ত নিবে? কতদিন এই রক্ত রাখা যায়? কার্যকর থাকে? বাচ্চার রক্ত নিলে দুর্বল হয়ে পড়বে না? শিলা-নাভিদের ক্রমাগত প্রশ্নের মুখে একটুও অপ্রস্তুত না হয়ে স্মিত হেসে ডাক্তার সাহেব শুরু করলেন –
এই জীবনে কত রকমের ফুল দেখেছেন? নিশ্চয়ই বহু রকমের। নানান রঙের ফুল। ঘ্রাণ ভিন্ন, কোনোটার ঘ্রাণ নেই। কোনোটার কাঁটা আছে। কোনোটা দুর্লভ, সহজে ফোটে না। কোনোটা সব জায়গায় হয় না। আবার আছে নানান ব্যবহার – প্রেমের ফুল, বিয়ের ফুল, অভ্যর্থনা, সংবর্ধনায় ফুল। শহীদ মিনারের ফুল। কোনটা সবচে দামি?
এমন সিরিয়াস চিকিৎসা বিষয়ক আলাপে ফুল নিয়ে এসব কথাবার্তায় ভিতরে ভিতরে অস্থির হয়ে পড়েছে শিলা।

উনি বলে চলেছেন। সবদিক বিবেচনায় সবচেয়ে দামি, সবচেয়ে আরাধ্য, বিশেষ করে আপনাদের জন্য – সে হলো গর্ভের ফুল! ফুল বললে হয়তো ভুল হয়, কিন্তু প্রচলিত কথার সূত্রে একে গর্ভের ফুলই বলা হয়। বাবা মায়ের শুক্রাণু-ডিম্বানুর মিলনে যে কোষের উৎপত্তি, তা থেকেই ভ্রূণ ও গর্ভের ফুল তৈরি হয়। মায়ের জরায়ুর ভিতরে জরায়ুর গায়ে ফুল আঁকড়ে থাকে। ভ্রূণ বড় হতে থাকে জরায়ুর ভিতর। বাচ্চা তার সমস্ত পুষ্টি পায় ফুলের মাধ্যমে। ফুল ও বাচ্চার যোগাযোগ রক্ষা করে নাড়ি বা নাভিরজ্জু (umbilical cord)। গর্ভের ফুলের বিশেষত্ব হলো এখানে প্রচুর স্টেম সেল থাকে। সেই যে প্রথম দুটি কোষ থেকে বাচ্চার চোখ মুখ হাত পা বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ হচ্ছে, তা এই স্টেম সেল থেকেই। একই কোষ, বিভিন্ন ধরনের কোষ উৎপাদনের বিস্ময়কর ক্ষমতা সম্পন্ন।
নাভিদ সাহেব, আপনাদের বাচ্চার জন্য প্রয়োজনীয় এই স্টেম সেল গর্ভের ফুল (প্লাসেন্টা) ও নাড়ি/নাভিরজ্জু ( umbilical cord) থেকেই পাওয়া যাবে। বাচ্চার শরীরের জন্য সবচে উপযোগী এই রক্ত বাচ্চার শরীর থেকে নিতে হবে না। এজন্য গর্ভের ফুলই যথেষ্ট। বলুন তো, ফুলটি দামি কিনা?

“সবচেয়ে দামি ডাক্তার সাহেব, সবচে দামি, এর চেয়ে দামি ফুল আর হতে পারে না। এ আমার বাবুর জন্য শ্রেষ্ঠ ফুল, সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে উপহার!”, শিলার চোখে মুখে স্বস্তির ছাপ। মনের গহীনে চেপে রাখা হাহাকার বাঁধভাঙা অশ্রুজলে স্বস্তি হয়ে ঝরে পড়ছে। দু’কুল ছাপানো নদী যেমন বয়ে আনে পলিমাটি।

আর হ্যাঁ, এই ফুলটি যেন সবচেয়ে কার্যকর হয় সেজন্য আপনাদের কিছু প্রস্তুতি দরকার আছে। আপনার বাচ্চার জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহারের জন্য কিছু প্রস্তুতি তো নিতে হবে, পারবেন না আপা?
পারবো, অবশ্যই পারবো। পারতে আমাকে হবেই। চোখের জলে চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় মায়ের পবিত্র চেহারা দেখার সৌভাগ্য সবার হয় না।

এই নিন, এটা পড়ে দেখবেন। কিছু বুঝতে অসুবিধা হলে আবার আসবেন।
লিফলেট টা হাতে নিয়ে ভিজিট ও কাউন্সেলিং ফি দিয়ে বেরিয়ে এলো নাভিদ-শিলা। পড়তে শুরু করলো –

কর্ড ব্লাড নিয়ে গবেষণা প্রতিনিয়ত হচ্ছে,সেই গবেষণার আলোকে –

কারা কর্ড ব্লাড দিতে পারবে/কাদের কর্ড ব্লাড বেশি কাজের?

১। মায়ের বয়সঃ
গবেষণায় দেখা গেছে সাধারণত ২৫-৩৫ বছর, এই বয়সটাই বেশি কার্যকর সন্তান ধারণের জন্য। আর তাই এই বয়সটাই বেশি ভালো কর্ড ব্লাড দাতার জন্য।

২। গর্ভধারণ সংখ্যাঃ
প্রথম বাচ্চার গর্ভধারণে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ক্রমান্বয়ে ২য়,৩য়,৪র্থ বাচ্চার ক্ষেত্রে কার্যকারিতা কমে যায়।

৩। গর্ভকালীন শারীরিক অবস্থাঃ
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকা,
রক্তে সুগারের পরিমাণ ঠিক থাকা,
মানসিক অবস্থা স্বাভাবিক থাকা,
খিঁচুনির ঝুঁকি না থাকা/ পূর্ববর্তী খিঁচুনির ইতিহাস না থাকা বাঞ্ছনীয়।

কোন পদ্ধিতিতে কর্ড ব্লাড কালেকশন বেশি কার্যকরী?

গবেষণায় দেখা গেছে সিজারের মাধ্যমে কর্ড ব্লাডের পরিমাণ বেশি সংগ্রহ করা যায় স্বাভাবিক ডেলিভারির চেয়ে। আবার স্বাভাবিক ডেলিভারিতে Total nucleated cell(যা দিয়ে কর্ড ব্লাডের কর্মক্ষমতা দেখা যায়) বেশি থাকে সিজারের চেয়ে। কর্ড ব্লাড বাচ্চা বের হবার পর জরায়ুর সাথে লেগে থাকা অবস্থায় সংগ্রহ করা যায় আবার আলাদা করে ফেলার পরও যায়।জরায়ুর সাথে লেগে থাকা অবস্থায় সংগ্রহ করতে পারলে তাতে পরিমাণ বেশি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

মায়ের এবং বাচ্চার কোন অবস্থার কারণে কর্ড সংগ্রহের পরও সরক্ষণ করা উচিত নয়?

১। ডেলিভারির ১২ ঘণ্টা আগে জরায়ুর পর্দা ছিঁড়ে গেলে।
২। মায়ের জ্বর হলে। শরীরের তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রী সেলসিয়াসের বেশি থাকলে।
৩। খুব দ্রুত প্লাসেন্টা বের হয়ে গেলে।
৩। Dystocia, Pre-eclampsia, abruptio placenta ইত্যাদি Medical condition থাকলে।
৪। APGAR score কম থাকলে(১ম মিনিটে ৭ এর নিচে, ৫ম মিনিটে ৫ এর নিচে)
৫। বাচ্চার ওজন ২৫০০ গ্রামের কম হলে।
৬। জন্মগত ত্রুটি থাকলে।

ল্যাবরেটরি রিপোর্ট কেমন থাকলে কর্ড ফেলে দিতে হয়?

১। সেলের পরিমাণ কম থাকলে
২। কর্ড ব্লাড ব্যাগের ওজন ৮০ গ্রামের কম হলে।
৩। কর্ড ব্লাড ব্যাগ ক্ষতিগ্রস্ত হলে।
৪। কর্ড ব্লাড সংগ্রহের সময় জীবাণু আক্রান্ত হলে।

সাম্প্রতিক সংবাদ

[bd_prayer_times]

সম্পর্কিত সংবাদ

World Health Organization

কলেরা, মেনিনজাইটিস ও প্লেগের সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রবণতা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

প্ল্যাটফর্ম প্রতিবেদক: এস এম এম মুসাব্বির উদ্দিন বিশ্ব  স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী কলেরায় মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে প্রতিবেদন করা কলেরা আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। সর্বশেষ Weekly Epidemiological Record-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কলেরায় মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে

বিস্তারিত পড়ুন
ফাইল ছবি
আন্দোলন

বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ করা ও নতুন পে-স্কেলের আলোকে ভাতা বৃদ্ধিসহ ৫ দফা দাবিতে চিকিৎসকদের মানববন্ধন

বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ নির্ধারণ করে ঘোষিত ৫১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সংশোধিত সার্কুলার জারি, নতুন পে-স্কেলের সমন্বয়পূর্বক রেসিডেন্সি, এফসিপিএস, ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের ভাতা বৃদ্ধিসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকগণ এবং ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিস (ডিএমজে)। আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে এ দাবি

বিস্তারিত পড়ুন
রোগ বিষয়ক তথ্য

বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট আমদানি বন্ধ, তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি গ্লাইফোসেট নিয়ে

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট গ্রুপের আমদানি, নতুন নিবন্ধন ও লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বালাইনাশক কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি। দেশে মজুত থাকা প্যারাকোয়াট গ্রুপের বালাইনাশক ছয় মাসের মধ্যে শূণ্য করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে গ্লাইফোসেট নিয়ে তেমন কোনো সিদ্ধান্ত আসি নি। চলুন আমরা জানি প্যারাকোয়াট নিষিদ্ধ

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিনামুল্যে ৬ টি সফল লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন, প্রস্তুত আরও ৪ টি

২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার, ২০২৬ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হস্পিটালে বিনামূল্যে ছয়টি লিভার (যকৃত) প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত এই জটিল অস্ত্রোপচার করা হবে। বছরে অন্তত ২৪টি লিভার প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এফ এম

বিস্তারিত পড়ুন
ডেঙ্গু

ঢাকা শহর ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত, মানুষ সচেতন হলে ঢাকা শহর সুস্থ হবে

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ঢাকা শহরে ডেঙ্গু এখন আর শুধু একটি মৌসুম নয়, এটি একটি জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা ও বর্ষা পরবর্তী সময়ে রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা ঘনত্ব বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগর পরিকল্পনা, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জমে থাকা পানিতে এডিস

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন করলো বিএমইউ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতার মাধ্যমে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ)। এর মধ্য দিয়ে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএমইউতে

বিস্তারিত পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।