সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩, ২২ রবিউস সানি ১৪৪৮
Sponsored
▶
ADVERTISEMENT
Image • Video • Banner Demo Area
সংবাদ

মনের আক্ষেপ থেকে কিছু কথা বলি…?

যখন মেডিকেলে পড়তাম, অনেকেই আফসোস করতো … আহা রে! তোমাদের কত কত রোগের নাম মনে রাখতে হয়। কত ওষুধের নাম মনে রাখতে হয়! আচ্ছা, এমন হয় না যে, ভুলে অন্য ওষুধ দিয়ে দিয়েছ …?!

আসলে বলতে বাঁধা নেই, মেডিক্যালের পড়া অনেক বেশী, কিন্তু এতো জটিল না যেমন অনেকেই ভাবে। শতাব্দীর প্রাচীন কাল থেকে এই চিকিৎসা বিদ্যা চলে আসছে, বরং এটাই সবচেয়ে গুছানো বিদ্যা আমার মনে হয়। এখানে রোগের নাম- কার্যকারন শেখার একটা ধারাবাহিকতা আছে – যেন এলোমেলো না হয়। সবই মনে রাখা লাগে না, একটা ছকে ফেলা যায় অনেক কিছুই। একই ভাবে ওষুধের নাম গুলোও। শ্রেণী- উপ শ্রেণী- ধারা … অনেক রকমে ভাগ করে শেখানো হয়, যেন ডাক্তার নিজের নাম ভুলতে পারে, কিন্তু সে ওষুধের নাম ভুলবে না! তাই এক ওষুধের জায়গায় আরেক ওষুধ দেয়ার মতো ভুল হবার কোন অবকাশই নেই।

কি হবে যদি ‘ভুল ওষুধ’ দেয়া হয়!?
বেশির ভাগ জনগনের ধারনা, একেক রোগের ওষুধ সম্পূর্ণ একেক রকম। এবং একটার ওষুধ একটায় দিলেই, কেল্লা ফতে!! রোগীর মৃত্যু!!
ব্যাপারটা ৯৯.৯৯% ক্ষেত্রে তা নয় মোটেই। যেকোনো প্রেসক্রিপশন নিয়ে দেখেন, রোগ একটা হলেও মিনিমাম ৩/৪টা ওষুধ দিয়ে সেটা ভালো করা হয়। তারমানে একক একটিই ওষুধ দিলেই রোগটা সেরে যেত সেটা ভাবা যেমন ভুল ধারনা, তেমনি একক একটি ওষুধ ‘ভুল করে’ দেয়ার কারনেই রোগী মরে গেলো, সেটাও বিরাট ভুল ধারনা!
যে কোন ওষুধ গবেষণাগার থেকে মানবের উপর ব্যবহার হবার আগে বছরের পর বছর পরীক্ষা পেরিয়ে আসে। ওষুধটা কতটা কার্যকর, তা বিবেচনার চাইতেও বেশী সময় দেয়া হয় ওষুধটা অন্য রোগের জন্য কতটা বিপদজনক সেটা বিবেচনা করতে। একটা মানদণ্ড রাখা হয় এ ক্ষেত্রে, সেটা হলঃ ওই ওষুধটা কি পরিমান দিলে রোগ ভালো হবে, বনাম কি পরিমান দিলে বিষের মতো কাজ করবে সেটার তুলনা। ৯৯.৯৯% ক্ষেত্রে, অনেক অনেক অনেক বেশী পরিমানে দিলে বিষে পরিনত হয়, এমন ঔষধই গবেষনা থেকে চিকিৎসা বিদ্যায় উঠে আসে। তাই ভুল করে একটা ওষুধ খেয়ে ফেললে আমি- আপনি- ওরা কেউই মরে যাবো না!!
অনেক সময় পেপারে পড়েন, “ ভুল ইঞ্জেকশনে রোগীর মৃত্যু” … সেদিন মনে মনে একটু প্রশ্ন করবেন, এমন তো কোন সহজে পাওয়া যাওয়া ইঞ্জেকশন নেই, যেটা ‘ভুল করে দিলেও’ রোগীর সাথে সাথে মৃত্যু হবে। তাহলে নিশ্চয়ই রোগীটা ওই সময়ে এমনিতেই মারা যাচ্ছিলেন, ইনজেকশনটার জন্য নয়। কিন্তু বেশির ভাগ রোগীর লোক এই সহজ কথাটা মানতে চায় না। তারা ডাক্তারকে ডলা দিয়ে দেয় একটা!!
একটু ভাবলে কি হয়, রোগীটা ইচ্ছা করে মেরে ডাক্তার কি পাবেন?!!
-রোগীর জায়গা জমি? সহায় সম্পদ?! নাকি ‘পিতার হত্যার বদলা’ নিবেন?!!
নাকি ভাববেন, ডাক্তার গবেট?!
-আরে, বললাম তো, ডাক্তারি পড়ে আপনিও বলবেন, ডাক্তার নিজের নাম ভুলতে পারে, কিন্তু ওষুধের নাম ভুলবেনা!
নাকি ভাববেন, ‘ভুল ইঞ্জেকশন’ দিয়েছে?!
-বললাম তো, এমন ওষুধ দুনিয়ায় হাতে গোনা কয়েকটাই আছে। ৯৯.৯৯% ক্ষেত্রে এমন ভয়ঙ্কর ওষুধ হাতের কাছে, ফার্মেসীতে, ডাক্তারের ব্যাগে কোনদিনই পাবেন না। এগুলো ব্যবহারের নিয়ম আছে – সময় আছে – অবস্থা আছে।
পেপার খুললেই প্রতিদিন চিকিৎসক নিগ্রহের খবর শুনি। আজাইরা কাজে দৌড় মেরে বড় বড় পাঁচ তারা হাসপাতালে যেয়ে, গাদা গাদা টেস্ট করে, ফাইভ স্টার হোটেলের মতো থেকে – খেয়ে আপনারা পকেট ভরেছেন রাঘব- বোয়াল ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের; অথচ কসাই বলেন তাদের বেতন ভুক প্রফেসর ডাক্তারকে ; আর ‘ভুল চিকিৎসার’ ধুয়া তুলে মাইর দিয়ে মনের ঝাঁজ মেটান গ্রামে – গঞ্জে – শহরে – বন্দরে চুপচাপ জনসেবা করে যাওয়া নিরীহ ডাক্তারদের।
১ বছর উপজেলায় ডাক্তারি করেছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, নিজের অর্জিত জ্ঞান দিয়ে অনেক রুগীকে উপজেলাতেই ভালো করে ফেলতে পারতাম। কিন্তু আপনারা বুঝে- না বুঝে গায়ে হাত দিবেন – ডাক্তারের কলার চেপে ধরবেন, সে জন্য কিছু অলিখিত নিয়ম ছিল আমাদের।

১। বেশী বুঝে এমন আত্মীয়ওয়ালা রুগীকে হালকা চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত জেলা হাসপাতালে রেফার করুন! জেলা হাসপাতালও তাদের মেডিক্যাল কলেজে রেফার করে। মেডিক্যাল কলেজ ঢাকায় পাঠিয়ে দেয় … কারন, কিছু একটা অনাকাঙ্খিত হলে, কে বুঝাবে এতো বুঝদার আবালদের!!
২। মরনাপন্ন রোগীকে কখনো শেষ চেষ্টা করবেন না। শেষ সময়ে কোন ইঞ্জেকশন দিয়ে – বুকের উপর চাপ দিয়ে হার্টকে সচল করে – এমনকি ভালো রুগীকেও ক্যাথেটার- ক্যানুলা করতেও সাবধান!! কারন রুগী হয়ত এমনিতেই মারা যাচ্ছেন, কিন্তু দোষ পরবে “ ওই ভুল ইঞ্জেকশনের!” “ওই যে ডাক্তার বুকে চাপাচাপি করলো তাই!” “ওই যে ক্যাথেতার দিল তাই!!”
৩। রোগী মরতে নিলে তাকে বিনা কারনে অক্সিজেন দিয়ে রাখুন ( এতে খুব উপকার হয় বলে রোগীর বিজ্ঞ আত্মীয় স্বজনের ধারনা!), বিনা দরকারে দুই তিন বার করে প্রেশার মাপুন ( মরার পথে রুগী এতে কষ্ট পেলেও কিছু করার নেই, কারন প্রেশার মাপাই এদেশে আসল যত্ন নেয়া!) এবং সবচেয়ে জরুরি, আগে ভাগেই বলে রাখুন রোগী বাঁচবে না!! ( কারন শেষমেশ বাঁচিয়ে দিলে সেটা আল্লাহ্‌র কুদরত অবশ্যই, কিন্তু মরে গেলে সেটা আল্লাহর কুদরত নয়! সেটা ডাক্তার কসাই এর কাজ! রোগী তো নাহয় ভালই ছিল!!)

… তো এভাবেই, আসল চিকিৎসার সুযোগ না পেয়ে বাধ্য হয়ে আমাদের আউফাউ কাজ করতে হত। অথচ জনসাধারণ একটু বুঝ ওয়ালা হলে আমরা আমাদের সবটা উজাড় করে দিতে পারতাম।
৬ বছর ধরে আমাদের শিখিয়েছে জমে টানাটানি করে কিভাবে মানুষকে জীবনে ফেরাতে হয় …
কিন্তু আফসোস, কেউ ডাক্তারদের বিশ্বাস করে না। বরং তাকেই জমের দুয়ারে পৌঁছে দেয়!! এতে কার কি লাভ হচ্ছে জানি না। আপনারা জানেন?!!

লিখেছেন: ডা. তাহসিনা আফরিন

এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি-আফ্রিকা উইং, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

রেডিয়েশন অনকোলজি (এমডি-পার্ট ২), জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনিস্টিটিউট ও হাসপাতাল

পরিমার্জনা: বনফুল

সাম্প্রতিক সংবাদ

[bd_prayer_times]

সম্পর্কিত সংবাদ

World Health Organization

কলেরা, মেনিনজাইটিস ও প্লেগের সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রবণতা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

প্ল্যাটফর্ম প্রতিবেদক: এস এম এম মুসাব্বির উদ্দিন বিশ্ব  স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী কলেরায় মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে প্রতিবেদন করা কলেরা আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। সর্বশেষ Weekly Epidemiological Record-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কলেরায় মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে

বিস্তারিত পড়ুন
ফাইল ছবি
আন্দোলন

বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ করা ও নতুন পে-স্কেলের আলোকে ভাতা বৃদ্ধিসহ ৫ দফা দাবিতে চিকিৎসকদের মানববন্ধন

বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ নির্ধারণ করে ঘোষিত ৫১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সংশোধিত সার্কুলার জারি, নতুন পে-স্কেলের সমন্বয়পূর্বক রেসিডেন্সি, এফসিপিএস, ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের ভাতা বৃদ্ধিসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকগণ এবং ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিস (ডিএমজে)। আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে এ দাবি

বিস্তারিত পড়ুন
রোগ বিষয়ক তথ্য

বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট আমদানি বন্ধ, তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি গ্লাইফোসেট নিয়ে

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট গ্রুপের আমদানি, নতুন নিবন্ধন ও লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বালাইনাশক কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি। দেশে মজুত থাকা প্যারাকোয়াট গ্রুপের বালাইনাশক ছয় মাসের মধ্যে শূণ্য করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে গ্লাইফোসেট নিয়ে তেমন কোনো সিদ্ধান্ত আসি নি। চলুন আমরা জানি প্যারাকোয়াট নিষিদ্ধ

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিনামুল্যে ৬ টি সফল লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন, প্রস্তুত আরও ৪ টি

২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার, ২০২৬ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হস্পিটালে বিনামূল্যে ছয়টি লিভার (যকৃত) প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত এই জটিল অস্ত্রোপচার করা হবে। বছরে অন্তত ২৪টি লিভার প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এফ এম

বিস্তারিত পড়ুন
ডেঙ্গু

ঢাকা শহর ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত, মানুষ সচেতন হলে ঢাকা শহর সুস্থ হবে

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ঢাকা শহরে ডেঙ্গু এখন আর শুধু একটি মৌসুম নয়, এটি একটি জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা ও বর্ষা পরবর্তী সময়ে রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা ঘনত্ব বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগর পরিকল্পনা, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জমে থাকা পানিতে এডিস

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন করলো বিএমইউ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতার মাধ্যমে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ)। এর মধ্য দিয়ে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএমইউতে

বিস্তারিত পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।