দাঁত নিয়া চার বছর কী পড়!!!!”
এই প্রশ্ন না শুনে বাংলাদেশে আজ অবধি কেও “ডেন্টাল সার্জন” হয়নাই।
অবাক করার ব্যাপার হল এই প্রশ্নটা করে শিক্ষিত মহলের মানুষ।সেটা ভার্সিটি পড়ুয়া বন্ধুবান্ধব,কিংবা সিনিয়য়।আবার ভাল কোন প্রতিষ্ঠানের চাকুরে থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গরাও করে থাকেন।
দেখা যায় যে বন্ধুটা ‘কেমিস্ট্রি’ নিয়ে পড়ছে সে বলছে ‘দাঁত নিয়া চার বছর? ক্যাম্নে কী মাম্মা!!”
অথচ সে কেমিস্ট্রি নিয়ে চার বছর পড়ছে।এর মাঝে তাকে ‘ক্যালকুলাস’ করতে হয়,মাইক্রোবায়োলজি পড়তে হয়,কমিউনিকেটিভ ইংলিশ/পরিসংখ্যান সাবজেক্ট পড়তে হয়,মলিকুলার বায়োলজি ইত্যাদি ইত্যাদি পড়তে হয়।কেও তাকে জিজ্ঞেসও করে না ‘কেমিস্ট্রি’ নিয়া চার বছর কি মাম্মা?’
কারন প্রতিটি সাবজেক্ট একটা ফাউন্ডেশন এর উপর দাঁড়িয়ে থাকে।হুট করে কেমিস্ট্রি শুধুই ‘কেমিস্ট্রি’ হয়না,তেমনি ‘সোসিওলজি’ শুধুই সোসিওলজি নয়।
মুক্তিযুদ্ধ মানেই শুধু ‘১৯৭১’ নয়।৪৭ এর দেশভাগ,৫২ ভাষা আন্দোলন,৫৪ নির্বাচন,৬৯ এর গণ অভ্যুত্থান,৭০ এর নির্বাচন সহ আরো শয়ে শয়ে প্লটের উপর দাঁড়িয়ে থাকা এই মহান ‘১৯৭১’।
তেমনিভাবে মেডিকেল এর সকল চিকিৎসা শাখার বেসিক ফাউন্ডেশন এক।আপনি হার্ট নিয়ে কাজ করুন,স্কিন নিয়ে কাজ করুন আর দাঁত নিয়ে কাজ করুন আপনার বেসিক ফাউন্ডেশন এক।এর বেশি কথা হাজারে হাজার আছে যেটি অনুক্ত থাকায় ভাল।
এম বি বিএস পড়ে এত এত বিশেষজ্ঞ হওয়া যাচ্ছে তাইলে এইটা পড়ে দাঁত নয় কেন???
এইখানেই ‘ডেন্টিস্ট্রি’ নামক বিদ্যার বিশেষত্ব।এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ব্যাপকতা বেশি বলেই পুরো বিশ্বে এটি আলাদাভাবে পড়ানো হয়।সারা বিশ্বে এটি পাঁচ বছর হলেও আমাদের দেশে কোন এক ভৌতিক কারনে এটি চার বছরে জোর করে গেলানো হচ্ছিল।
অবশেষে এটি পাঁচ বছরে অনুমোদন পেয়েছে।২০১৭-১৮ সেশন থেকে এটি ‘দাঁত নিয়ে পাঁচ বছর!!’
ধন্যবাদ এই কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে,বিশেষ ধন্যবাদ ‘বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটি’ কে।
অনেক হয়েছে,আর নাহ।বাংলায়, ভূগোলো,পরিসংখ্যানে পড়ে,আরো ব্যাপকতর গুরুত্বের বিষয়ে পড়ে,এমনকি মেডিকেলে পড়েও,ভাল প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিবর্গ হয়েও ‘দাঁত নিয়ে চার বছর কী পড়?’ এই ধরণের প্রশ্ন করা তাই বোকামি।
হ্যাপি ডেন্টিস্ট্রি!!
…
লেখক:
Dr.Touhidur Rahman Touhid
2 thoughts on “দাঁত নিয়া চার বছর কী পড়! – মিথ ও বাস্তবতা”
আমার এক বন্ধু এরকম প্রশ্নের কথা আমাকে বলেছে. আমি বললাম এরপর কেউ জিগাইলে উত্তর দিবি “প্রতি বছর আট টা করে পড়ি, চার বছরে বত্রিশ টা হয়. দুধ দাত উঠে, তারপর পড়ে, এই প্রক্রিয়া শেষ হতেই তো চার বছরের বেশি লাগে. তাও ভালো আমরা ব্রিলিয়ান্ট দেখে চার বছরে শেষ করি. আপনি হলে তো দশ বছর লাগত…”
Ekhon to 5 botsor