মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩, ১৬ রবিউস সানি ১৪৪৮
Sponsored
▶
ADVERTISEMENT
Image • Video • Banner Demo Area
সংবাদ

কানাডায় চিকিৎসকদের অভিবাসন ২ : বিকল্প মাধ্যম

এর আগের কিস্তিতে লিখেছিলাম যে কানাডায় চিকিৎসকেরা এলে , নিজ পেশায় থাকতে কি কি সমস্যায় পড়েন, বাস্তবতা কি, এসব বিষয় নিয়ে। আজকে লিখব ঘুরপথে এই সিস্টেমে ঢোকার কিছু উপায় নিয়ে। বিভিন্ন মানুষ এই উপায় ব্যবহার করেছেন। ১০০ ভাগ নিরাপদ নয় তবে, সুযোগ আছে।

এদেশে নন প্র্যাক্টিসিং বলে কোন কথা নেই । সবাই নির্দিষ্ট ফি এর বিনিময়ে তার সেবা দিয়ে থাকেন। যে সমস্ত এলাকায় চিকিৎসক পাওয়া যায় না সেখানে নির্দিষ্ট আয় সীমা বা সেশনাল ফি এর ব্যবস্থা আছে। সেশনাল ফি অর্থ হচ্ছে একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্দিষ্ট ফি। তা ওই সময়ে তিনি যে কয়টি রোগী দেখেন না কেন, তিনি ওই নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পাবেন।

আগের কিস্তিতে লেখা ছিল এদেশে এলে কিভাবে এদের হেলথ সিস্টেমে ঢোকা যায়। আজ বিদেশের কোন ডিগ্রি নিয়ে এলে কিভাবে এই সিস্টেমে ঢোকা যাবে তাঁর বিস্তারিত।
আমাদের ভাষায় যারা জিপি এখানে তাদের নাম ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান। মেডিকেলের কলেজের চার বছর পড়াশোনা করার পরে দুই বছরের রেসিডেন্সি করতে হয়। ট্রেনিং শেষে ফ্যামিলি ফিজিশিয়ানদের কলেজ থেকে ফেলোশিপ পরীক্ষা পাশ করলে তারপর ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান হিসেবে কাজ পাওয়া যায়। যারা স্পেশালাইজেশান করবেন তাদের একই পদ্ধতিতে চার অথবা পাঁচ বছরের রেসিডেন্সি করতে হয়। কানাডায় এসে স্পেশালাইজেশান করাটা ভীষণ ঝক্কির।
কানাডা এখনও শাসনতান্ত্রিকভাবে ভাবে ব্রিটেনের রানীর নামে শাসিত। তাই ব্রিটেনের সাবেক কলোনি গুলোর “কলেজ” থেকে যারা পাশ করে আসেন তাদের রেজিস্ত্রেশন পাওয়া সহজ। এই সাবেক কলোনির মধ্যে কেউ যদি ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ড থেকে রেসিডেন্সি করেন , তাদের কানাডায় আসার সম্ভাবনা কম। কারণ সেই ফেলোশিপের সুবাদেই তারা সেই সমস্ত দেশে স্থায়ী হতে পারেন। বাকি থাকে সাউথ আফ্রিকা। সাউথ আফ্রিকা থেকে করা ডিগ্রি/ফেলোশিপ দিয়ে এখানে চাকরি পাওয়া যায়। শর্ত থাকে যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কানাডার কলেজ পরীক্ষায় পাশ করতে হবে। মনে রাখা দরকার যে, আগে যে LMCC পরীক্ষার কথা বলেছি সেটাও করতে হবে।

সাউথ আফ্রিকা থেকে ফ্যামিলি ফিজিশিয়ানের ট্রেনিং করে এসে এখানে চাকরি করেছে বেশ কিছু বাংলাদেশি চিকিৎসক। কিছু দিন আগেও সরাসরি চাকরি পাওয়া যেত, এখন একজনের অধীনে কাজ করতে হয় পাশ না করা পর্যন্ত। পরিক্কখায় পাশ করলেই, সেই “সুপারভিশন” শেষ হয়ে যায়। আমি শেষ খবর শুনেছি ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার বাইরে এই সুযোগ এখনো চালু আছে। তাই যারা অভিবাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে আছেন তারা এটা ভেবে দেখতে পারেন। সাউথ আফ্রিকা থেকে অন্য বিষয়ে ফেলোশিপ করে এলে একই অবস্থা। এখন ব্রিটিশ কলাম্বিয়াতে শতকরা পনের ভাগ্যের বেশি চিকিৎসক হয় সাউথ আফ্রিকা থেকে পাশ করা বিদেশি অথবা ওখানকার স্থানীয় চিকিৎসক যারা কানাডাতে অভিবাসন নিয়েছেন। সুতরাং যারা এখানে (কানাডাতে) বছরের পর বছর চেষ্টা না করে সাউথ আফ্রিকা ঘুরে এখানে আসতে চান, তাদের সেই উদ্যোগ ফলপ্রসূ হতে পারে।

এখানে দেশের বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে ফেলোশিপ দেওয়া হয়। এটা পরীক্ষার ফেলোশিপ নয়, ট্রেনিং এর ফেলোশিপ। সাধারণত এক বছরের। যারা এই ফেলোশিপ নিয়ে আসেন তারা হাসপাতালে চিকিৎসা এবং গবেষণা দুইই করেন। এদের মধ্যে যাদের সাথে বিভাগীয় প্রধানদের সুসম্পর্ক গড়ে উঠে , তারা সাধারণত আরও এক দুই টার্ম এক্সটেনশন পান। এই সময়ে রয়েল কলেজের কাছে আবেদন করলে কানাডার ট্রেনিং এর ভিত্তিতে রয়েল কলেজের পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি পাওয়া যায়। এবং পরীক্ষা দিয়ে পাশ করলে সেই চিকিৎসকের সাথে কানাডায় পড়াশোনা করা চিকিৎসকের মর্যাদা সমান।
অনেক সময় ইউনিভারসিটি স্পেশাল রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করে দেয়। সাধারণত ফেলোশিপের সময়ে যোগ্যতা দেখাতে পারলে প্রভিন্সিয়াল রেজিস্ট্রেশন ছাড়াও চাকুরী করা যায়। তবে অসুবিধা এই, ওই ইউনিভারসিটির বাইরে কাজ করার সুযোগ নেই। অথবা কর্তৃপক্ষের সাথে কোন কারণে মতান্তর হলে সেই চাকরিটিও চলে যেতে পারে। আরেক টি অসুবিধা হল যে এই চাকরিতে আয় সীমাবদ্ধ। আপনার আয় করা বাড়তি টাকা চলে যাবে ইউনিভারসিটির কোষাগারে।
কানাডার প্রায় প্রত্যেকটা ইউনিভারসিটি তে ফেলোশিপ প্রোগ্রাম আছে। সেখানে আবেদন করলে ক্ষতি নেই, বরঞ্চ সুযোগ পাওয়া গেলে সম্ভবনার দরজা খুলে যেতে পারে।বেশ কিছু ভারতীয় চিকিৎসক এভাবে কাজ করছেন বিশ্বখ্যাত McMaster বিশ্ববিদ্যালয়ে। এদের কেউ কেউ আমেরিকা অথবা কানাডা থেকে আগে একটা মাস্টার্স করে তারপরে ফেলোশিপে ঢুকেছেন।

সুতরাং সাউথ আফ্রিকার ডিগ্রি নিয়ে বা ফেলোশিপে ঢুকে এখানে চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার সুযোগ আছে। যারা UK থেকে MRCP/MRCS/FRCA বা সমমানের ডিগ্রি করেছেন কিন্তু এখনো স্পেশালিষ্ট রেজিস্ত্রার হিসেবে ট্রেনিঙে ঢুকতে পারেননি, তারা এখানে ফেলোশিপ নিয়ে এসে দেখতে পারেন।
অভিবাসন প্রত্যাশীদের জন্য রইল শুভ কামনা।
লেখক ঃ ডা. অসিত বর্ধন
কানাডা প্রবাসী এনেস্থেটিস্ট । bdemr.com এর স্থাপক

সাম্প্রতিক সংবাদ

[bd_prayer_times]

সম্পর্কিত সংবাদ

ফাইল ছবি
আন্দোলন

বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ করা ও নতুন পে-স্কেলের আলোকে ভাতা বৃদ্ধিসহ ৫ দফা দাবিতে চিকিৎসকদের মানববন্ধন

বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ নির্ধারণ করে ঘোষিত ৫১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সংশোধিত সার্কুলার জারি, নতুন পে-স্কেলের সমন্বয়পূর্বক রেসিডেন্সি, এফসিপিএস, ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের ভাতা বৃদ্ধিসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকগণ এবং ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিস (ডিএমজে)। আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে এ দাবি

বিস্তারিত পড়ুন
রোগ বিষয়ক তথ্য

বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট আমদানি বন্ধ, তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি গ্লাইফোসেট নিয়ে

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট গ্রুপের আমদানি, নতুন নিবন্ধন ও লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বালাইনাশক কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি। দেশে মজুত থাকা প্যারাকোয়াট গ্রুপের বালাইনাশক ছয় মাসের মধ্যে শূণ্য করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে গ্লাইফোসেট নিয়ে তেমন কোনো সিদ্ধান্ত আসি নি। চলুন আমরা জানি প্যারাকোয়াট নিষিদ্ধ

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিনামুল্যে ৬ টি সফল লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন, প্রস্তুত আরও ৪ টি

২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার, ২০২৬ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হস্পিটালে বিনামূল্যে ছয়টি লিভার (যকৃত) প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত এই জটিল অস্ত্রোপচার করা হবে। বছরে অন্তত ২৪টি লিভার প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এফ এম

বিস্তারিত পড়ুন
ডেঙ্গু

ঢাকা শহর ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত, মানুষ সচেতন হলে ঢাকা শহর সুস্থ হবে

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ঢাকা শহরে ডেঙ্গু এখন আর শুধু একটি মৌসুম নয়, এটি একটি জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা ও বর্ষা পরবর্তী সময়ে রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা ঘনত্ব বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগর পরিকল্পনা, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জমে থাকা পানিতে এডিস

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন করলো বিএমইউ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতার মাধ্যমে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ)। এর মধ্য দিয়ে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএমইউতে

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

মুমূর্ষু রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেলের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক, নার্সদের ওপর হামলা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ মুমূর্ষু রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভাঙচুর এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর স্বজনদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতের দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে হাসপাতালের নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা এবং পরে স্থানীয় থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা

বিস্তারিত পড়ুন

3 thoughts on “কানাডায় চিকিৎসকদের অভিবাসন ২ : বিকল্প মাধ্যম”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।