‘চিকিৎসকদের অনৈতিকতা-কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হোক’।আজকের কালের কন্ঠের সম্পাদকীয়।
পত্রিকাটিতে চিকিৎসকদের নিয়ে আজ নিউজ চারটি।একটি সম্পাদকীয় বাকী গুলো নিউজ।তিনটি নিউজের একটি হচ্ছে ‘রাজশাহী মেডিক্যাল হাসপাতাল-সমস্যা হাত ভাংগার,পরীক্ষা কিডনির!(খিয়াল কইর্যা, আশ্চর্য বো্ধক চিহ্ন সহ)।
আরেকটি নিউজ হচ্ছে এরকম,ভুল চিকিৎসায় অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যুর অভিযোগ-শিক্ষকের মৃত্যু
রামপুরায় বিক্ষোভ।
একই দিনে চারটি নিউজ!একই পত্রিকায়।চিকিৎসক হিসেবে পাতলা লজ্জার চামড়া যেহেতু এখনও বর্তমান তাই চুপ থাকতে পারলাম না।অথচ যারা সরব থাকলে এর একটা পরিত্রান পাওয়া যেতো তারা কানে শিমুল তূলা দিয়ে চোখে কালো চশমা পরে থাকবেন এটাই স্বাভাবিক।
…..’সরকারী হাসপাতালে বা ক্লিনিকের চিকিৎসকদের নির্দিষ্ট সময় জুড়ে সেখানে পাওয়া রীতিমত
অকল্পনীয়’।সম্পাদকীয় শুরুর লাইনটা এরকম।
হা হা।
কথাটা কতটা মনগড়া তার একটা প্রমান দিচ্ছি।সম্পাদক সাহেব এখানে সময় উল্লেখ করেন নি।উনি লিখেছেন ‘নির্দিষ্ট সময় জুড়ে’…
আসলে তিনি সরকারী হাসপাতালের অফিস টাইমই জানেন না।’নির্দিষ্ট সময় জুড়ে’ বলে হাওয়ার উপর একটা সময় বেঁধে দিয়েছেন।চিকিৎসকদের পাওয়া নাকি রীতিমত অকল্পনীয়।
চিকিৎসকরা কল্পনার আকাশে ভেসে বেড়ালে রোগীদের চিকিৎসা করেন কে?
জ্বীন,পরী নাকি সাংবাদিক?
এরপর আসি এই লাইনের আরেকটি অংশে
ক্লিনিকের চিকিৎসকদেরও নাকি সময় মতো পাওয়া যায় না।
হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে গেছে।
সম্পাদক সাহেব কি খেয়ে এই সম্পাদকীয় লিখেছেন আমার পেটে কিংবা মাথায় আসছে না।তবে এটা নিশ্চিত তিনি সেহেরী খেয়ে লিখেন নি।
ক্লিনিকের মালিক হচ্ছে বেসরকারী লোকজন।সেখানে একজন চিকিৎসক টাইম মতো ডিউটি করবেন না সেটা ভাবা অকল্পনীয়।একদিন দেরীতে গেলে এরপর দিন চাক্রি নট।প্রাইভেট ফার্মের চাক্রি কি জিনিস সেটা সম্পাদক সাহেবের ভালো করেই জানার কথা।আমার জানামতে তিনিও প্রাইভেট ফার্মে চাক্রি করে থাকেন।
যে সম্পাদকীয়ের প্রথম লাইনটিতেই এমন গাঁজা-খুরিতা এরপরের লাইনগুলোতে আপনি কি আসা করবেন।তারপরও চলুন দ্বিতীয় লাইনটির ভাব সম্প্রসারন করি।
…শহরে যদিও কিছু সময়ের জন্য তাঁরা হাসপাতালে যান,মফস্বলের ক্লিনিকে কিংবা হাসপাতালে তাও দেখা যায় না।
হা হা।মফস্বলের ক্লিনিকের মালিক কারা?
সরকার না হয় আপনাকে বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াবে,ক্লিনিকের মালিক?
উনারা কি ডাক্তার সাহেবের সম্মানিত শ্বশুর?
ক্লিনিক-জামাই।
আচ্ছা ডাক্তার সাহেবরা সরকার নির্ধারিত আটটা দুইটা অফিস করলো।
ইভিনিং ডিউটি কে করবে?
নাইট-শিফট।
কেউ যদি তিন দিন নাইট শিফটে ডিউটি করে তাকে যদি সম্পাদক সাহেব সকালে না পান তবে তাকে কি বলবেন?
কাজে ফাঁকি?
এরপরের লাইনগুলো শুধু গাঁজাখুরিই নয়।স্পর্ধাহীনও বটে।ডাক্তারদের শুধু চাকুরিচ্যুতিই নয় বিচারের মুখোমুখি করার কথাও বলেছেন সম্পাদক সাহেব।এধরনের সম্পাদকীয় তিনি বাংলাদেশের কোনো বাহিনী নিয়ে লিখলে আস্ত ডিম টা কোন দিক দিয়ে ঢুকতো আল্লা মালুম।
সম্পাদকীয়তে বার বার লিখেছেন চিকিৎসক সমাজ।ঢালাও ভাবে চিকিৎসকদের যা বলেছেন সেটা অত্যন্ত গর্হিত।কতিপয় চিকিৎসক আর চিকিৎসক সমাজ এক জিনিস নয়।
…কমিশনের সামান্য টাকার জন্য গরীব রোগীদের পরীক্ষা নিরীক্ষা করান,নির্দিষ্ট ঔষধ কোম্পানীর কাছে বিশেষ সুবিধা নিয়ে কেবল তাদের ব্রান্ডের ঔষধ লিখে থাকেন আমাদের চিকিৎসক সমাজ…
হা হা ।শুনলে হাসি পায়।একবার বলছেন ডাক্তাররা হাসপাতালে থাকেন না।আবার বলছেন।পরীক্ষা নিরীক্ষা লিখেন ঔষধ লিখেন।এটা কিভাবে সম্ভব?
উনাদের দাবী অর্থের জন্য ঘৃনিত সব পথের আশ্রয় নিচ্ছে দেশের চিকিৎসক সমাজ।ইট ইজ ‘অরগাইনাইজেশনাল ব্লেম’।কতিপয় সাধু এবং কতিপয় অসাধু আর সমগ্র চিকিৎসক সমাজ এক কথা না।আমরা চিকিৎসক সমাজ এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
ডা. সেলিম শাহেদ ।
আমরা কি এই সংবাদ দেখেই যাবো?? নাকি প্রতিবাদের কোন উদ্যোগ নেওয়া হবে?? আর কতদিন চুপ থাকবেন ভদ্র ডাক্তার সমাজ???