মূল অংশে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের সঙ্গে থাকুন
সাবস্ক্রাইব করুন
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ · ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৮
ভাবনা

অলীক সুখ, চিকিৎসক এবং জীবনের গল্প! (মুভি রিভিউ)

ওয়েব টিমপ্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০১৪, ১:২৪ · ৫ মিনিটে পড়ুন
লেখার আকার

ছবির নাম ‘অলীক সুখ’৷ মূল রচনা সুচিত্রা ভট্টাচার্য৷ স্বপ্ন, স্বপ্নভঙ্গ, বিবেকের সংঘাত, সততার লড়াই৷ হাজারও এক স্তর রয়েছে এই গল্পে৷ তারপরেও সব কিছুকে ছাপিয়ে যায় অভিনয় প্রতিভা৷

প্রথমেই ডাউনলোড করার জন্য ডিভিডিরিপ লিংক দিচ্ছি। ডাউনলোড (মেগাফায়ার্জ লিংক) -Resume able

Alik_Sukh_poster

 

অলীক সুখ এবং বিপর্যয়

মূল প্লটের কেন্দ্রে রয়েছে একটি অলীক সুখ-ভাবনা৷ কিংশুক (দেবশঙ্কর হালদার) একজন সফল গাইনোকলজিস্ট সার্জেন৷ দিনে পাঁচটা চেম্বার, তিনটে অপারেশন, পঞ্চাশটা রোগী অ্যাটেন্ড করা তার কাজ৷ পাশাপাশি বারো বছরের পুরনো স্ত্রী রম্যাণি (ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত) আর এক পুত্র সন্তান, বাবা-মা নিয়ে তার সুখের সংসার৷ তেরো নম্বর বিবাহ বার্ষিকীতে সে চায় তার স্ত্রীকে কোটি টাকার ফ্ল্যাট উপহার দিতে৷ একজন সফল রোজগেরে স্বামীর পক্ষে খুবই বাস্তবিক চাহিদা৷ সে বউকে সুখে রাখতে চায়৷ এই সুখ কতটা অসার, কতটা অলীক- সেই গভীর সত্য কিংশুকের জানা নেই৷ ফলে, সে নার্সিংহোমের কাছ থেকে ঘন্টা তিনেকের ছুটি নিয়ে ফ্ল্যাট বুক করতে যায়, আর এই অবসরেই মারা যায় প্রথমবার সন্তানের জন্ম দিতে আসা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে কবিতা (সোহিনী সেনগুপ্ত)৷ কবিতা কিংশুকের তত্ত্বাবধানে থাকা রোগী৷

চিকিত্‍সকের অনুপস্থিতিতে চিকিত্‍সার অভাবে মারা যায় এক রোগী৷ আঙুল ওঠে কিংশুকের দিকে৷ এবারে কিংশুক কী করবে? সে কি এই বিপর্যয় রোধ করতে পারবে? সে কি এর পরেও স্ত্রীকে এনে দিতে পারবে সেই অলীক সুখের প্রতীক কোটি টাকার ফ্ল্যাট? বেশ চমত্‍কার কাহিনির সেট-আপ৷ হিরো ইন ডিসট্রেস৷ ঠিক এইরকম পরিস্থিতিতে কাহিনির মোড় ঘুরে যায়৷ এসে দাঁড়ায় বিবেক৷ গল্পের সেন্ট্রাল থিম হয়ে ওঠে ‘হিপোক্র্যাটিক ওথ’৷ তবু এই বিবেক জাগ্রতকারী গল্পও আমরা দেখে ফেলতে পারি শুধুমাত্র অভিনয়ের গুণে৷ ছবির জোর এইখানেই৷

বিবেক না, অশরীরী?

কবিতা মারা গিয়েছে৷ কিন্ত্ত এরপরে তার শরীর নিত্যসঙ্গী রম্যাণির৷ হতে পারে সেই কবিতা অশরীরী, কিংবা রম্যাণির বিবেক অথবা তার দ্বৈত সত্ত্বা৷ ঠিক স্পষ্ট নয়৷ না হলেও যে খুব একটা ক্ষতি হয়েছে তাতো নয়ই, বরং সোহিনী সেনগুপ্তর এক-মাত্রিক বাচিক এবং শারীরিক, বিশেষ করে চোখ এবং হাতের, অভিনয় চরিত্রটার প্রতি কৌতূহলী করে রাখে আমাদের৷ মূলত এই চরিত্রটির কাজ তখন রম্যাণি-কিংশুকের মধ্যে বিচিত্র নাটকীয় সংঘাত ঘটানো৷ চরিত্রটির ব্যাপারে দর্শকের এই কৌতূহল নির্মাণে ডিওপি শীর্ষ রায়ের কম্পোজিশনও অনেকটাই দায়ী৷ এই পর্বে ঋতুপর্ণাও অভিনয় করেন বেশ নীচু স্কেলে৷ এমনকী কখনও-কখনও তিনি লম্বা কোনও দৃশ্যে সম্পূর্ণ নির্বাক হয়েও বাঙ্ময়৷ কবিতার তুলনায় রম্যাণি চরিত্রটি অনেক বেশি মাল্টি-লেয়ারড৷ নানা রকম টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে চরিত্রটি ওঠা-নামা করতে থাকে৷ ফলে, সোহিনীর তুলনায় ঋতুপর্ণাকে দৃশ্যগতভাবে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জ নিতে হয়েছে৷ এবং তিনি সফল৷ কবিতা-রম্যাণির সংযোগে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে গিয়ে কিংশুক চরিত্রে দেবশঙ্কর হালদার কিছুটা যেন উচ্চকিত৷ লাউড৷ কিন্ত্ত কিংশুকের সাফল্যের আস্ফালনটাই তো একটি ‘লাউড’ ঘোষণা৷ সুতরাং দেবশঙ্করের এই অভিনয় যে চরিত্রের প্রয়োজনে তা আশা করাই যায়৷ সেই কারণেই ব্রড জেশ্চারের মাধ্যমে চরিত্রটির অসহায়তা প্রকাশ করতে দেখা যায় তাকে৷ সিনেমার এই দ্বিতীয় অঙ্কে এই তিনজনই প্রধান এবং এই অঙ্কের নাটকের মূল উদ্দেশ্য ক্রমশ কিংশুককে কোণায় ঠেলে নিয়ে যাওয়া৷ তার অসহায়তা যে মেকি, এবং সেটা যে দাঁড়িয়ে রয়েছে একটা ভুল কাজের ওপর, এই সত্যটা তাকে দিয়ে স্বীকার করিয়ে নেওয়া৷ কী করবে এখন কিংশুক? পারবে কি সে নিজের বিশ্বাসে স্থির থাকতে? এরপরেও পারবে কি সে স্ত্রীকে কোটি টাকার ফ্ল্যাট উপহার দিতে? এই রকম একটা টেনশন নিয়ে দ্বিতীয় অঙ্কের শেষ৷

সাব-প্লট এবং থার্ড অ্যাক্ট

মূল প্লটে বিবেক ঢুকে যাওয়ার পর কৌতূহলটা অনেক বেশি গড়ে ওঠে সাব-প্লট ঘিরে৷ সাব-প্লটের কুশীলব মৃতা কবিতার স্বামী (বিশ্বনাথ বসু) আর কবিতার বোন৷ মারা যাওয়ার আগে কবিতা জন্ম দিয়ে গিয়েছিল এক শিশুর৷ সেই শিশুর দেখভাল করে এখন কবিতার বোন (সায়নী ঘোষ)৷ ধীরে ধীরে এই শিশুটিকে ঘিরে এই দু’জনের মধ্যে গড়ে ওঠে একটা সম্পর্ক৷ মূল প্লটের মতো এই সাব-প্লটেও দর্শকের কৌতূহল থাকে শেষে কী হবে?

তৃতীয় বা শেষ অঙ্কে যখন ক্রমশ সমাধানের পথে এগোচ্ছে প্লট এবং সাব-প্লটের নাটকীয় প্রশ্ন, তখনই এক দুর্ঘটনায় পড়ে রম্যাণি৷ সে তখন সন্তান সম্ভবা৷ মফঃসলের এক নার্সিংহোমে সে ভর্তি৷ আর ঠিক তখনই টেবিলের তলায় ঘুষ দিয়ে কোর্টের বাইরে সেটলমেন্ট করে বেরিয়ে আসতে আসতে কিংশুক জানতে পারছে তার স্ত্রীর দুর্ঘটনা৷ এবার ঘটনাচক্রে কিংশুক নিজেই তৈরি করে সেই শুরুর সংঘাত, যে সংঘাতের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাকে নিজেকে কবিতার মৃত্যুতে৷ যে সংঘাত তৈরি করেছিল কবিতার স্বামী৷ একটা বৃত্ত যেন সম্পূর্ণ হয়৷ বিবেক তার ভূমিকায় সফল৷ তবে এখানেই ছবির শেষ নয়৷

ছবির শেষ

জানা গেল কবিতার স্বামী এবং বোন বিয়ে করবে সেটলমেন্টের টাকা পেয়ে৷ দেখা গেল নার্সিংহোমে স্ত্রীর কাছে কিংশুক স্বীকার করছে তার অপরাধ৷ কেবল জানা গেল না কোটি টাকার ফ্ল্যাটটা নিয়ে শেষ পর্যন্ত কিংশুক কী ভাবছে? যেটা নিয়ে ‘অলীক সুখ’-এর শুরু, সেই মূল প্রশ্নের কোনও উত্তর শেষ পর্যন্ত চিত্রনাট্যে নেই৷ এটা দুর্বলতা ভেবে নিলে, দুর্বলতা৷

দেখবেন কি?

প্রতিটি চরিত্রের অভিনয় ভালো৷ এমনকী একটি অত্যন্ত ছোট চরিত্রে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি কোন মাপের অভিনেতা৷ আসলে অভিনয় জীবনের একটা পর্যায়ে পৌঁছে, কয়েক জনের ক্ষেত্রে, স্ক্রিন প্রেজেন্স-এর সময় কতটা, তার বোধহয় আর অর্থ থাকে না৷ যেটা বলার, তা হল, ‘হিপোক্রিটিক ওথ’, সুখের সন্ধান, ওসব জটিল প্রশ্নের মধ্যে না ঢুকতে চাইলেও, শুধুমাত্র অভিনয়ের গুণেই এ ছবি দেখা যায়৷ অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় নিজে গিটার হাতে ‘এমবিবিএস’ গানটি পর্দায় জমিয়ে গেয়েছেন৷ ছবির এটাও একটা অতিরিক্ত আকর্ষণ৷

(এইসময়)

I am an MBBS-

 

উইকিপিডিয়া লিংক

টাইমস অফ ইন্ডিয়া রিভিউ

আইএমডিবি রেটিং  7.7/10

ইউটিউবে-

খবরটি শেয়ার করুন

সম্পর্কিত খবর

শিশুদের কথা বলা শেখানো || পর্ব-০১

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ২৫ মে, ২০২১, বুধবার ডা. সওকত আরা বীথি মিনেসোটা, ইউ এস এ। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে শিশুরা তো এমনিতেই কথা বলা শিখে যায়। এদের আবার কথা বলা শেখাবার প্রয়োজন কিসের? কথা তো বনের পাখিদের শেখাবার দরকার হয়। একথা…

নিরাপদ চিকিৎসা কর্মস্থল নিয়ে চিকিৎসকদের অভিমত

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ৩০ নভেম্বর ২০২০, সোমবার আজ ৩০ নভেম্বর ২০২০ "চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মস্থল দিবস"। ২০১৯ সাল থেকে এই দিনটিকে "নিরাপদ চিকিৎসা কর্মস্থল দিবস" হিসেবে পালন করা হয়। এই দিবসটি পালন করার পিছনে রয়েছে অনেক মর্মান্তিক ইতিহাস। ৩০ নভেম্বর ২০১২ সালের…

৩০ নভেম্বর ২০২০বিস্তারিত পড়ুন

সন্তানের সঠিক বিকাশের জন্য প্রয়োজন নিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতা

প্ল্যাটফর্ম নিউজ, ২২ অক্টোবর ২০২০, বৃহস্পতিবার ডা. আজাদ হাসান সিওমেক ২১ ব্যাচ টিন এইজড কিডসদের সঠিক ভাবে গড়ে তুলতে পারাটা আসলে বর্তমানে অভিভাবকগণের জন্য রীতিমতো চ্যালেঞ্জিং বা খুব দূরূহ ব্যাপার। কিশোর-কিশোরীদের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বেশ জটিল সমীকরণের বিষয়। এই বয়সের ছেলেমেয়েরা…

২২ অক্টোবর ২০২০বিস্তারিত পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘর পূরণ করা জরুরি।

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।
নোটিফিকেশন বর্তমানে বন্ধ।