রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩, ১৪ রবিউস সানি ১৪৪৮
Sponsored
▶
ADVERTISEMENT
Image • Video • Banner Demo Area
সংবাদ

হলুদ সাংবাদিকতার শিকার ডা. নাদিরা বেগম, চিকিৎসক সমাজের ক্ষোভ

প্ল্যাটফর্ম নিউজ,

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২০

সিলেটের প্রথিতযশা প্রসূতি ও গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. নাদিরা বেগমকে হেয় করে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় চিকিৎসকদের মাঝে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পোস্টে এ নিয়ে কথা বলেছেন। অধ্যাপক ডা. নাদিরা বেগম অত্যন্ত সম্মানিত চিকিৎসক। তিনি যত্ন নিয়ে রোগী দেখেন এবং রোগী সন্তুষ্ট। তাঁর রোগীরা তাঁকে হেয় করে সংবাদ প্রকাশ করা স্বাভাবিকভাবে নিচ্ছেন না। সিলেটের স্থানীয় নিউজ পোর্টাল অনলাইনে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তাঁর ফি নিয়ে সমালোচনা করে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করে। করোনা দুর্যোগে যখন সবাইকে ঘরে অবস্থান করতে বলা হচ্ছে, তখন গর্ভবতী মায়েদের সতর্কতা অবলম্বন ও ঘরে বসে চিকিৎসা পরামর্শ নেয়ার সুবিধার্থে তিনি অনলাইনে চিকিৎসা পরামর্শ দেয়া শুরু করেন। এতে যেমন ঘর থেকে বের হয়ে, চেম্বারে আসার ঝক্কি পোহাতে হয় না। আবার যানবাহন সংকটে রোগীর হয়রানি হতে হয় না। ঘরে বসেই চিকিৎসা পাওয়ায়, যাতায়াত খরচও বেঁচে যায়। স্বেচ্ছায় রোগীরা ফি দিয়ে তাঁর পরামর্শ নেন। কারো জন্যেই বাধ্যতামূলক নয়। এমনকি কেউ কেউ আর্থিক সমস্যায় আছেন, টের পেলেই অধ্যাপক নাদিরা বেগম তাঁর ফি ফিরিয়ে দেন। রোগী যেখানে সন্তুষ্ট, সেখানে একজন সম্মানিত চিকিৎসক কে প্রকাশ্যে সামাজিক ভাবে হেয় করা হলে, সারাদেশে কোনো চিকিৎসকই আর অনলাইনে চিকিৎসা দেয়ায় আগ্রহী হবেন না। জরুরি রোগীর হাসপাতালে চিকিৎসা ডাক্তাররাই দিয়ে থাকেন। এমন অপারেশন করতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে অনেক চিকিৎসক কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের নেয়া এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানানো উচিত বলে সমাজের সচেতন মহল মনে করেন। অধ্যাপক ডা. নাদিরা বেগমের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে দেয়া হল-

“আমি সাধারনত লেখালেখি করি না, কিন্তু আজকে একটি বিশেষ কারনে লিখতে বাধ্য হচ্ছি। এই লেখাটি শুধুমাত্র আমার সহকর্মী ডাক্তার এবং ছাত্র-ছাত্রী যারা কিনা আমার পরিবার সমতুল্য তাদেরকে উদ্দেশ্যে করা দেওয়া, যাতে করে অন্তত তারা আমার সম্পর্কে কোনো ভুল ধারনা পোষন না করেন। প্রথমে আসি, কেন আমি অনলাইনে বা ভিডিও কলের মাধ্যমে চিকিৎসা প্রদান করছি?

১। করোনা পরিস্থিতিতে সারাসরি রোগীদের বিশেষ করে গর্ভবতী রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া বিপদজনক। এতে করে অনেকে করোনা আক্রান্ত হওয়ার (community transmission) সম্ভাবনা থাকে। অন্যদিকে নিরাপত্তা সরঞ্জামের অপ্রতুলতা থাকায়, সিলেটের অন্যান্য ডাক্তারদের মত আমি চেম্বার বন্ধ রাখি। এক্ষেত্রে রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য আমি অনলাইন বা ভিডিও কলের সহায়তা নেই।

২। চেম্বার বন্ধ রাখার কারনে যেসব পুরাতন রোগী ফলোআপ এর জন্য কথা বলতে চান এবং রিপোর্ট দেখাতে চান, তাদের সাথে ভিডিও কলের মাধ্যমে সংযুক্ত হই। বিশেষ উল্লেখ্য যে, ইমার্জেন্সি রোগীদের বা যাদেরকে সরাসরি দেখা প্রয়োজন, তাদের হাসপাতালে ভর্তি হতে বলি এবং আমি সশরীরে হাসপাতালে গিয়ে দেখে আসি।

৩। এর পাশাপাশি আগের মত অনেক রোগীরাই প্রায়শই ফোন করেন এবং এক্ষেত্রে যদি সংক্ষেপে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়, তখন বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়ে দেই। আর যদি রোগীর সাথে দীর্ঘসময় আলাপ করার প্রয়োজন হয় বা রিপোর্ট দেখার দরকার হয় তখন সিরিয়াল নিতে বলি।

এখন আসি, আমি কোন প্রক্রিয়ায় রোগীদের চিকিৎসা পরামর্শ দিচ্ছিঃ

১। ভিডিও কলের মাধ্যমে রোগীর সাথে সংযুক্ত হওয়া।

২। রোগীর কমপ্লেইন শোনা।

৩। আগের ব্যবস্থাপত্র (Previous prescription) এবং অন্য ডাক্তারদের ব্যবস্থাপত্র (prescription) বিশেষত যাদের অন্য রোগ (other co-morbidity) আছে, এই বিষয়গুলো সময় নিয়ে দেখি।

৪। এরপর রোগীকে মৌখিকভাবে পরামর্শ দেই ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা (relevant investigation) করতে বলি । এরপর প্রেসক্রিপশন (prescription) লিখে সাথেসাথে ছবি তুলে পাঠাই।

৫। প্রেসক্রিপশন দেখার পর রোগীর যদি আরো প্রশ্ন থাকে তাহলে ধৈর্য্য সহকারে উত্তর দেই। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, উক্ত প্রক্রিয়ায় একজন রোগীকে চিকিৎসা দিতে ২০-২৫ মিনিট সময় লেগে যায়।

৬। পরবর্তী রিপোর্ট দেখার তারিখ দেই এবং বিনামুল্যে রিপোর্ট দেখে দেই। তখন যাদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া জরুরী বলে মনে করি, তাদের ভর্তি হতে বলি। এখন আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন, বর্তমান পরিস্থিতিতে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য আমার এই পদক্ষেপটি অন্যায় কিনা? আমাকে যেভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় অপমানিত করা হচ্ছে এইটা কি মেনে নেওয়ার মত? আমি আমার মনের কথাগুলো নিজের ভাষায় আপনাদের জানালাম। আশা করি আপনারা চিন্তা ভাবনা করে দেখবেন।”

স্টাফ রিপোর্টার/ শরিফ শাহরিয়ার।

সাম্প্রতিক সংবাদ

[bd_prayer_times]

সম্পর্কিত সংবাদ

প্রথম পাতা

বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিনামুল্যে ৬ টি সফল লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন, প্রস্তুত আরও ৪ টি

২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার, ২০২৬ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হস্পিটালে বিনামূল্যে ছয়টি লিভার (যকৃত) প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত এই জটিল অস্ত্রোপচার করা হবে। বছরে অন্তত ২৪টি লিভার প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এফ এম

বিস্তারিত পড়ুন
ডেঙ্গু

ঢাকা শহর ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত, মানুষ সচেতন হলে ঢাকা শহর সুস্থ হবে

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ঢাকা শহরে ডেঙ্গু এখন আর শুধু একটি মৌসুম নয়, এটি একটি জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা ও বর্ষা পরবর্তী সময়ে রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা ঘনত্ব বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগর পরিকল্পনা, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জমে থাকা পানিতে এডিস

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন করলো বিএমইউ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতার মাধ্যমে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ)। এর মধ্য দিয়ে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএমইউতে

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

মুমূর্ষু রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেলের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক, নার্সদের ওপর হামলা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ মুমূর্ষু রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভাঙচুর এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর স্বজনদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতের দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে হাসপাতালের নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা এবং পরে স্থানীয় থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা

বিস্তারিত পড়ুন
প্রথম পাতা

ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য চাহিদা মোকাবিলায় প্রচলিত চিকিৎসা নিয়ে আরও গবেষণার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ তাদের স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে প্রচলিত, পরিপূরক ও সমন্বিত চিকিৎসা (Traditional, Complementary and Integrative Medicine – TCIM) ব্যবহার করেন। অথচ এসব চিকিৎসা পদ্ধতি কোথায় নিরাপদ, কার্যকর এবং উপযুক্ত, তা বোঝার জন্য বৈশ্বিক স্বাস্থ্য গবেষণা তহবিলের ১ শতাংশেরও কম ব্যয় করা হয়। এমন সময়ে,

বিস্তারিত পড়ুন
ঢাকা মেডিকেল কলেজ

ঢাকা মেডিকেল কলেজে ইন্টারনাল মেডিসিন ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ অনুষ্ঠিত

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ “Inspiring the Future of Internal Medicine” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঢাকা মেডিকেল কলেজে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ইন্টারনাল মেডিসিন ফেস্টিভ্যাল ২০২৬। ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজের শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলন অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে Dhaka Medical College Internal Medicine Interest Group

বিস্তারিত পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

🔔 নোটিফিকেশন
নতুন খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।