রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবিরের প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান জেকে লাইফস্টাইলের প্রেসক্রিপশন (ব্যবস্থাপত্র) মেনে চলে অনেক রোগীর জীবন সংকটাপন্ন হওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুবরণ করেছেন অনেকে। সামজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে এ নিয়ে চলছে ব্যাপক তোলপাড়, পক্ষে-বিপক্ষে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ডা. সওগাত এহসানের ‘সংক্ষিপ্ত ক্লিনিক্যাল প্রোফাইল’ শিরোনামে প্রকাশ করা এক পোস্টে এ বিষয়ে মিলেছে অকাট্য প্রমাণ। যেখানে জেকে লাইফস্টাইলের প্রেসক্রিপশনে দেখা গেছে অপচিকিৎসার নমুনা।
পোস্টে ডা. সওগাত এহসান বলেছেন, “সংক্ষিপ্ত ক্লিনিক্যাল প্রোফাইল –রোগীর বয়স: ৪০ বছর, লিঙ্গ: মহিলা।
রোগীর ক্লিনিক্যাল সামারিতে উল্লেখ করা হয়েছে–
* Newly diagnosed uncontrolled Type 2 Diabetes Mellitus (T2DM).
* HbA1c: 11.3% – অত্যন্ত অনিয়ন্ত্রিত (eAG ≈ 278 mg/dL)।
* Fasting Blood Glucose (FBG): 20.14 mmol/L (~363 mg/dL)।
* Fasting Insulin: 9.74 µIU/mL (স্বাভাবিক সীমায়)।
* HOMA-IR: 8.72 – উল্লেখযোগ্য Insulin Resistance নির্দেশ করে।
* C-peptide: 2.19 ng/mL – স্বাভাবিক, অর্থাৎ endogenous insulin secretion সংরক্ষিত।
* CBC: Hb 13.7 g/dL, WBC 10.98 ×10³/µL, Platelet 186 ×10³/µL – উল্লেখযোগ্য অস্বাভাবিকতা নেই।
* Serum Creatinine: 0.76 mg/dL – কিডনির কার্যকারিতা বর্তমানে স্বাভাবিক।
রোগীর ইম্প্রেশন –“Uncontrolled Type 2 Diabetes Mellitus with marked insulin resistance.”
পোস্টে ডা. সওগাত জানিয়েছেন– “কিন্তু তাকে (রোগীকে) Diabetes এর পুরো পৃথিবী জুড়ে যা স্বীকৃত; America , Europe এর সেই চিকিৎসা ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়া হলো। বন্ধ করে দেয়া হলো insulin আর ড্রাগ। শুরু করা হলো তার (জেকে লাইফস্টাইলের স্বত্বাধিকারী ডা. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবির) নিজস্ব আবিস্কার করা ওষুধ। যার দাম ৩০ হাজার টাকা।”
রোগীকে ব্যবস্থাপত্রে ডা.জাহাঙ্গীর কবির কী কী ওষুধ দিয়েছেন তা-ও পোস্টে সংযুক্ত করেছেন ডা. সওগাত।
তিনি আরো জানান, “লাগবে insulin দেয়া হয়েছে Empa। যেটার একটা Adverse effect হলো Ketoacidosis. আবার বলবো chat gpt তে সার্চ দিয়ে নিন।”
পোস্টে পৃথিবীর কোন দেশে Diabetes এর এই কন্ডিশনে চিকিৎসা তে যদি insulin ব্যবহার না করে এই ওষুধ ব্যবহার করা হয়, তাহলে নিজের সার্টিফিকেট ছিড়ে ফেলার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন ডা. সওগাত।
তিনি আরো লিখেন, “যাই হোক।রোগী Insulin আর Drug বাদ দিয়ে এই উদ্ভট ডিব্বা ওষুধ খাওয়া শুরু করে। যেহেতু তার আগের থেকেই Diabetes অত্যন্ত অনিয়ন্ত্রিত ছিল। জাহাঙ্গীর সাহেব রোগীকে Waterfasting করতে লিখেছেন। আপনারা যারা পাঠক আছেন। তারা Chat GPT বা বই থেকে বের করে একটু দেখবেন? Empa Fasting condition এ দেয়া যায় কিনা? এটা একটা হারাম।
Diabetes এর অন্যতম বড় একটা Complication হলো মৃত্যুর দুয়ারে নিয়ে যাওয়া Diabetic Ketoacidosis. দুর্ভাগ্যক্রমে রোগী ৫ দিন পর মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা হারাতে থাকলো। Blood pressure কমতে শুরু করলো। প্রথমে নেয়া হলো Dhaka medical এ। কিন্তু তাকে সাপোর্ট দেয়ার মতো সিচুয়েশন তখন ঢাকা মেডিকেলে ছিলো না। ICU available ছিলো না।
তারপর তাকে মালিবাগ A1 Hospital এ ICU তে ভর্তি করা হলো।
A1 hospital এর ব্যবস্থা পত্রে দেখবেন। আমি লাল চিহ্ন দিয়ে রেখেছি Inj Sodib দেয়া হয়েছে। যাকে আমরা বলি Sodium Bi carbonate. যেটা একটা ক্ষার। আচ্ছা ক্ষার কাকে প্রশমিত করে? Acid কে। জ্বী ঠিকই ধরেছেন।
মাত্র ৪০ বছর Miss মুক্তি পারভীন Diabetes এর জীবন ঘাতি complication Diabetic ketoacidosis এ চলে যায়। এখানে catalyst হিসেবে কাজ করে Empa . যেটার জনপ্রিয় একটা Adverse effect হলো Diabetic Ketoacidosis. আবার না হয় একটু চেক করে নেন info টা ভুল দিলাম কিনা।
এরপরে Shock Develop করে। এবং তিনি তার ছোট ছোট সন্তানদের রেখে ১৫ তারিখ আল্লাহের ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যান। এখানে (পোস্টে) A1 hospital এর Documents আছে। যাদের দরকার Death certificate নিয়ে নিবেন। নীচে সব Documents দেয়া হলো।
জাহাঙ্গীর সাহেব আপনি জিতে যাবেন। কারন আমাদের দেশের মানুষ রা ইসলামের লেবাস কে সম্মান করে।
হাসি মাখা সুন্নাতি মুখের উপর বিশ্বাস রাখে। ১০০ জনের মধ্যে একজন কে সামনে এনে মার্কেটিং করবেন বাকি রা অনেকে পা হারাবে। কেউ ৪০ বছর বয়সে Diabetes এর ওষুধ বন্ধ করে দেয়ার জন্য প্রাণ হারাবে। সন্তানেরা ইয়াতিম হবে। আমি জানি আপনি এসব যুক্তি ও বাইপাস করবেন। বলবেন, উনি ঠিক মতো আপনার উদ্ভট ওষুধ খান নি। এখন মরা মানুষ কে কাঠগড়ায় দাড়াই কি করে?
ভয় নেই, আমি বিত্তশালী ও না যে এই পোস্ট আপনার মতো Boost মারবো।
আমি সর্বশক্তিমান আল্লাহ কে সাক্ষী রেখে বলছি। যদি এখানে আমার ভুল থাকে, যেন তিনি আমাকে শাস্তি দেন মিথ্যাচারের জন্য।
আর যদি উনার এই চিকিৎসার কারণে সন্তানেরা মা হারা হয়ে থাকে। যে চিকিৎসা পৃথিবীর কোথাও নাই। তার যেন সন্তানের অভিশাপে বিচার হয়।”
এ বিষয়ে জানতে প্ল্যাটফর্ম টুডের পক্ষ থেকে জেকে লাইফস্টাইল, আল্টিমেট অর্গানিক লাইফের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য যে, ডা. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবিরের প্রতিষ্ঠান ‘জেকে লাইফস্টাইল’ (আল্টিমেট অর্গানিক লাইফ)-কে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কর্তৃক সাড়ে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। লেবেল ছাড়া পণ্য বিক্রি, ভুয়া লেবেলিং এবং বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স না থাকার কারণে ২০২২ সালের ২৬ অক্টোবরে এই জরিমানা করা হয়।
